নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মশুদ্ধির অভিযান এক দুর্দান্ত অভিযান।ইহা এক মহাসাধনা

সুলাইমান হোসেন

আমাদের কাজ শুধু আমল করতে থাকা

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্তরের বাগান;মারিফতের সবুজ বাগানে পরিভ্রমন ০০৩

১১ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪৯


কু চিন্তা এবং কু নজর

কু নজর থেকে কু চিন্তার উদ্রেক ঘটে।যে ব্যক্তি নজরের হেফাজত করে,এদিক ওদিক অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টি দেয় না, তার চিন্তা সর্বাধিক বিশুদ্ধ হয়।এমন ব্যক্তি একাগ্রতার নেয়ামত হাসিল করতে পারে,আর একাগ্রতা এবং মোরাকাবা হলো আরশের দিকে রাস্তা পাওয়ার চাবী কাঠি।

কু নজর অন্তর অপবিত্র হওয়ার বড় কারন,আর অপবিত্র অন্তরে জ্ঞানের আলো প্রবেশ করেনা

"এদিক সেদিক দৃষ্টি নিক্ষেপ পরিহার করো,
এদিক সেদিকের কথা কোনায় নিক্ষেপ করো।"

"হে অন্তর,একাগ্র হও,সতর্কতার সাথে ডাইভ করো,
কারন ঐ ডাইভার দুর্ঘটনার শিকার হয়,
যে সীমা লঙ্ঘন করে।"

শয়তান কিন্তু বসে থাকেনা,সে পিপীলিকা র মতো খুবই কর্মতৎপর,এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করায় খুবই পটু,এবং অভিজ্ঞ।
সে সুকৌশলে মানুষকে নেক সূরতেও ধোঁকা দিতে পারে।এজন্য অন্তরের দিকে কড়া নজর রাখা,এবং শয়তানের ধোঁকার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া,প্রত্যেক সালিক এবং নামাজিদের অন্যতম প্রধান কাজ।

মানুষরুপি ও শয়তানের সংখ্যাও পৃথিবীতে কম নয়।বরং ভালো মানুষের থেকে শয়তান টাইপ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

"হে শ্রোতা।পৃথিবীতে লবনাক্ত পানী অথৈ,
অথচ মিঠাপানির পানির পরিমান অল্প।"

"লবনাক্ত পানিতে তৃষ্ণা মিটে না,
শয়তানের সঙ্গে আত্মতৃপ্তি জুটেনা।"


আসলে নারীরা ফিতনা নয়,আসলে পুরুষ এবং নারীর কার্যাবলীর মাধ্যমে ফিতনা প্রকাশিত হয়।তাছাড়া নারীরা খুবই পবিত্র জিনিস যদি তাদেরকে বৈধভাবে গ্রহন করা হয়।নারীরা হলো সৌন্দর্য এবং ভালোবাসার প্রতিক।

কখন নারীরা ফিতনার কারন হয়?

যখন নারীরা রাস্তা ঘাটে এমন ভাবে বের হয় এবং চলাফেরা করে,যে কোনো পুরুষের দৃষ্টিতে পরে গেলে অধৈধ আকর্ষন সৃষ্টি হয়।তখনই নারীরা ফেতনার কারন হয়।শরিয়তে অনিচ্ছাকৃত প্রথম দৃষ্টিতে গুনাহ নেই,কিন্তু দ্বীতিয়বার দৃষ্টি দিলে গুনাহ লেখা হয়।কারন দ্বীতিয়বার সাধারনত স্বাদ এবং অবৈধ মজা পাওয়ার নিয়তে দেখা হয়।

নারীদের দ্বারা মূলত তাক্বওয়ার পরিক্ষা নেওয়া হয়।আধ্যাতিক সাধনায় সাধককে লক্ষ লক্ষ পরিক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।এসমস্ত পরিক্ষা নেওয়ার সময় নারীদের পরিক্ষাও তার সামনে আসে।নারীদের পরিক্ষা,সবচেয়ে ভয়ংকর এবং কঠিন পরিক্ষাগুলোর একটি।

আধ্যতিক সাধকের কামনা এবং প্রবৃত্তি সাধারন মানুষের থেকেও অত্যাধিক প্রবল এবং শক্তিশালী থাকে।এজন্য তাদের পরিক্ষা আরো কঠিন হয়ে যায়।সহিশুদ্ধ ভাবে নামাজ পড়া ব্যাক্তিও আধ্যাতিক সাধকের কাতারে রয়েছে,শর্ত হলো,হালাল খাইতে হবে,পরনারীর দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাবে না।মনে মনে পরনারীকে নিয়ে কুচিন্তা করা যাবে না।নির্দিষ্টি সময়ে যিকির এবং মোরাকাবায় গুরুত্ব দিতে হবে,তবে সেও আধ্যাতিক সাধকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।


আত্মিক সফর রত ব্যাক্তিদের কামনা প্রবৃত্তি কেন অন্যদের থেকে অত্যাধিক শক্তিশালী থাকে?

হ্যা।আধ্যাতিক সাধকদের পেছনে সদা শয়তান এবং নফস লেগে থাকে।সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মানুষের ভিতরকার নফস।এটা সুক্ষ্ণ একটি লতিফা।এই লতিফার হেডকোয়ার্টার নাভীর নিকটে রয়েছে।এখান থেকেই নফস ক্বলব এবং অন্যান্য লতিফার উপর প্রভাব বিস্তার করে।এক লতিফার সাথে আরেক লতিফার সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে,যেন তারা দূরে থেকে পরষ্পর সংযুক্ত মনে হয়।

যে ব্যাক্তি মৌচাকে ঢিল মারে,মৌমাছি তো তাকে আক্রমন করবেই।অনুরুপ নফসের বিরোধী কাজকর্ম করা মানে নফসকে উত্তেজিত করা।আধ্যাতিক সাধক নফসের বিরোধীতা করে,নফসকে আরো বেশি উত্তেজিত করে,এজন্য নফসও তাদেরকে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমন করে,এজন্য তাদের কামনা অত্যাধিক শক্তিশালী হয়।

বর্তমানে কি সত্যি নারীদের ফিতনা থেকে বাঁচা কঠিন?
না। মোটেও না।যে ব্যাক্তির সৎসাহস রয়েছে এবং মেয়েদের ফিতনা থেকে বাঁচতে চায় তারজন্য মোটেও কঠিন কিছু না।তদুপরি যদি রব্বুল আলামিনের সাহায্য থাকে,এবং বিশেষ সময়ে দোয়াও অব্যাহত থাকে তাহলে নারীদের ফিতনা থেকে বাঁচা খুবই সহজ।সঠিক সময়ে বিয়ে করার দ্বারা নারীদের ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।

যে ব্যাক্তি বিভিন্ন সমস্যার কারনে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারেনা, সে কি করবে?

তার করনীয় হলো কষ্টের বিনিময়ে সওয়াবের পরিপূর্ন বিশ্বাস রাখতে।যার যত কষ্ট, তার সওয়াবও তত বেশি,শর্ত হলো মুমিন মুসলমান হতে হয়ে।তাছাড়া নারীদেরকে কাছে না পাওয়ার কষ্টও একটা আধ্যাতিক সাধনা।সে চিন্তা করবে, হয়ত এই কষ্টের বিনিময়ে রব্বুল আলামিন আমাকে এমন কিছু দিবেন,যা অন্যরা পাবে না।তাছাড়া যত দ্রুত সম্ভব হয় বিয়ে করে ফেলাটাই উত্তম,যদি আত্মশুদ্ধি,মোরাকাবায় খুব বেশি লিপ্ত নন থাকে।

অবিবাহিতদের জন্য কয়েকটি আমল—উপকারি হতে পারে,

বেশি বেশি নফল রোজা রাখবে।

অধিকাংশ সময় নামাজে লিপ্ত থাকবে।
দৈনিক রুটিং অনুসরন করবে।
যিকির এবং মোরাকাবায় লিপ্ত থাকবে।
উপকারি জ্ঞান অর্জনে,এবং লেখালিখিতে লিপ্ত থাকবে।


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.