| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তরিকত কি?
=তরিকত হলো একটি পথ,যে পথ রব্বুল আলামিন পর্যন্ত গিয়েছে।রব্বুল আলামিন পর্যন্ত যাওয়া মানে তার সন্তুষ্টি এবং ভালোবাসা পর্যন্ত যাওয়া।
"হে অনন্ত পথের পথযাত্রী,চলার পথে থেমে যেওনা।
কারন যত যাবে,ততই নতুন নতুন পথ খুলে যাবে।"
শরিয়তের পথটাই মূলত তরিকতের পথ।শরিয়ত হলো বাহ্যিক আদব,আর তরিকত হলো অভ্যান্তরিন আদব।
"হে ভাই! পুরো তরিকত আদব এবং ধৈর্যের উপর প্রতিষ্ঠিত,
সুতরাং আদবহীন এবং ধৈর্যহীন কাজকর্ম থেকে বিরত থাকাই তরিকত।"
"শরিয়ত হলো বাহ্যিক কাঠামো,আর তরিকত হলো সেই কাঠামোর মধ্যে ফুৎকার করা রুহ।"
"শরিয়তের আমলগুলো তরিকতে প্রবেশের রাজপথ,যে শরিয়ত অনুসরন করে না সে তরিকতের সুঘ্রান পাবেনা।"
শরিয়তের যেমন অনেক আমল আছে,তেমনি তরিকতের ও অনেক আমল আছে।
শরিয়তের আমলগুলো সবারই কমবেশি জানা,কিন্তু তরিকতের আমলগুলো অনেকের নিকট অপ্রসিদ্ধ।
তরিকত হলো তাযকিয়ায়ে নফস তথা আত্মশুদ্ধির রাস্তা।এই পথের কিছু কাজ চিন্তা ফিকিরের সাথে সম্পর্কিত আর কিছু কাজ আমলের সাথে সম্পর্কিত।
চিন্তা ফিকিরের সাথে সম্পর্কিত কাজগুরো নিন্মরুপ,
১।মারিফত (সৃষ্টিকর্তার পরিচয় অন্বেষন করা)
২।হাকিকত (এসমে আযম,পবিত্র সত্তার গুনাবলীর রহস্য সমূহ উন্মোচিত হওয়া)
৩।মুরাকাবা (মারিফত এবং হাকিকতের চাবী)
৪।মুহাসাবা৷ (জীবনের/প্রতিদিনের হিসাব গ্রহন করা)
তরিকতের কিছু কাজ রয়েছে,যা আমলের সাথে সম্পর্কিত,
১।শরিয়তের আমলগুলো (নামাজ,রোজা,হজ্জ,যাকাত ইত্যাদি)
২।যিকির (তরিকতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল,মাশায়িখ গন যিকিরের প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব দেন।
৩।লেনদেন।
৪।জাগতিক কাজকর্ম(সালিকদের জন্য জাগতিক কাজকর্ম ও তরিকতের অন্তভূক্ত)
এখন আমি উক্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি।
১।মারিফত (সৃষ্টিকর্তার পরিচয় অন্বষন)
একজন সালিককে সারাজীবন মারেফত অন্বষনের কাজ করে যেতে হয়।এর জন্য প্রাথমিক কাজ হলো আত্মশুদ্ধি।ইমাম গাজ্জালী রহ.এর কিমিয়ায়ে সায়াদাতে আছে,আত্মশুদ্ধি করে নেওয়া হলো তরিকতের পথে অযু করে নেওয়ার মতো।যার আত্মা শুদ্ধ নয় তার অন্তরে মারিফতের আলো প্রবেশ করবে না। সুতরাং মারিফতের আলোচনার আগে আত্মশুদ্ধির আলোচনা করে নেওয়া দরকার।
আত্মশুদ্ধি হলো আন্তরিক রোগব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ করা,অথবা রোগব্যধীকে দাবিয়ে রাখা।কারন মাশায়িখগন বলেন,পুরোপুরি আত্মশুদ্ধি দুনিয়াতে সম্ভব নয়,(কেয়ামতের দিন আত্মশুদ্ধির পূর্ণতা অর্জন হবে,কিন্তু শুরু করতে হবে দুনিয়া থেকেই।)কিছু রোগব্যাধি আছে,সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব নয়,সম্পূর্ণ দূর করলে উল্টো ক্ষতিও হতে পারে।যেমন,কামপ্রবৃত্তি যদি পুরোপুরি দূরীভূত হয়,তাহলে মানব বংশবিস্তার করতে পারবে না। অনুরুপ ক্রোধ প্রবৃত্তি যদি পুরোপুরি দূরীভূত হয়, তাহলে শত্রুর উপর বিজয়ী হওয়া যাবেনা।
অন্তরের রোগ সমূহ নিন্মরুপ।
অন্তরের রোগ তো অনেক , তার মধ্যে থেকে বড় বড় কিছু রোগ দূর করলে ছোট গুলো সহজেই দূর হয়ে যায়।
বড় বড় কিছু রোগ হলো, ১।শিরক,২।অহংকার,৩।হিংসা বা হাসাদ, ৪।রিয়া
©somewhere in net ltd.