| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্তরের বাগান;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরন ০০৬
পূর্বের পর্বের পর থেকে,(পূর্বের পর্ব পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো)
বড় বড় কিছু নফসানি রোগব্যাধি নিন্মরুপ,
১।শিরক; ২। অহংকার; ৩। হিংসা বা হাসাদ ;৪।রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত ; ৫।দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক আসক্তি বা লোভ ; ৬।ক্রোধ ;৭। অলসতা ;৮।বদগুমানি বা কীনা।
৯।কৃপনতা ; ১০।ভালোবাসার অপব্যাবহার বা অপাত্রে ভালোবাসা।
এখন আমি প্রতিটা ধাপের সরূপ,এবং প্রতিকার নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি।
১। শিরক
শিরক রুহানী রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় রোগ।এই রোগ এতটাই ভয়ংকর যে,যাকে পেয়ে বসে তার দুনিয়া আখিরাত দুটোই বরবাদ নষ্ট করে দেয়।তদুপরি এই লোক অন্যদেরকে বিভ্রান্ত ও করতে পারে,তখন তা আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে যায়।
শিরকের সরূপ
ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক :
রব্বুল আলামিন ব্যাতিত অন্য কারো ইবাদত করা শিরক। অন্যকে সিজদা দেওয়া,অন্যের নামে,কোনো পীর বুযুর্গের নামে মান্নত করা,পশু জবাই করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।রব্বুল আলামিন ব্যাতিত অন্যকে হাজির নাজির মনে করা,অন্য কেউ গায়িব জানে বলে বিশ্বাস করা শিরক।ইলহাম অথবা অহীর মাধ্যেমে কোনো জ্ঞান প্রাপ্ত হলে ইহা গায়িব জানা নয়।রব্বুল আলামিন ব্যাতিত অন্য কেউ গায়িব জানে না।কোনো নবী রসূল ও নয় অলী আউলীয়ারা ও নয়।তবে তারা অহী অথবা ইলহামের মাধ্যমে গায়িবে কোনো অংশ (পুরো গায়িব নয়,অংশ বিশেষ) জানতে পারেন।
গুনাবলীর ক্ষেত্রে শিরক
গুনাবলীর ক্ষত্রে শিরক হলো,যেসমস্ত সিফাত বা গুনাবলী শুধুমাত্র রব্বুল আলামিনেরই রয়েছে,সেই গুনাবলী অন্যের আছে বলে বিশ্বাস করা শিরক এবং মহা অপরাধের অন্তরভুক্ত। যেমন অন্য কেউ মানুষ বানাইতে পারে অথবা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্বাস করা শিরক।তারপর অন্য কেউ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন ও করতে পারে না,অবশ্য আল্লাহ তায়ালা কাউকে দিয়ে এমন কিছু কাজ করালে তার প্রকৃত কর্তা আল্লাহ তায়ালাই।
তারপর, অন্য কেউ রোগব্যাধি সারিয়ে দিে পারে অসুস্থকে সুস্থ করতে পারে বলে বিশ্বাস করাও শিরকে আকবারের অন্তরভুক্ত
শিরক দুই প্রকার: ১। শিরকে আকবার,২।শিরকে আসগর।
উপরে যা বর্ণনা করা হলো তা শিরকে আকবারের অন্তর্ভুক্ত।
শিরকে আকবার আবার দুই প্রকার, ১।শিরকে জলি বা প্রকাশ্য শিরক,২।শিরকে খফি, বা গোপন শিরক(ইহা পরে আলোচনা করবো)
এখন শিরকে আসগরের(তুলনামূলক ছোট কিন্তু পরিত্যাজ্য, অপছন্দনীয় শিরক) আলোচনা করা যাক—
১।ভালোবাসার ক্ষেত্রে শিরক।
ভালোবাসার ক্ষেত্রে শিরক হলো রব্বুল আলামিনের জন্য ছাড়া প্রবৃত্তি বা স্বার্থের খাতিরে ভালোবাসা।এই ভালোবাসা এক সময় যন্ত্রনার কারন হবে।সৃষ্টিকে ভালোবাসা নিষিদ্ধ নয়,তবে তা স্বার্থের খাতিরে বা প্রবৃত্তির তারনায় হইলে আধ্যাতিিকতার পথে ক্ষতিকর হয়ে থাকে।
প্রাথমিক সময়ে সকলেই এই ভালোবাসায় বন্দি থাকে,ইহাকে ইশকে মাজাজি বা রুপক প্রেম বলা হয়।বড় বড় অলী, আউলিয়ারাও প্রাথমিক সময়ে এই ভালোবাসায় বন্দি ছিলেন।উদাহারন সরূপ লাইলি মজনুর কাহীনি, বা ইউসুফ -জোলেখার কাহীনি।যা পরপবর্তিতে হাকীকি এশক বা ভালোবাসায় পরিবর্তন হয় গিয়েছিলো।তবে ইশকে মাজাজিকে ইশকে হাকিকিতে পরিবর্তন করা অনেক সাধনার ব্যাপার।
২।শিরকে আসগরের মধ্যে ঐ সমস্ত শিরক ও রয়েছে,যা আমরা কথায় কথায় বলে ফেলি।
কিছু উদাহরন—
১।আল্লাও লাগে ইল্যাও লাগে (অপছন্দনীয় কথা,মহিলাদের মুখে বেশি শোনা যায়)
২।ইলাহী কান্ড ঘটিয়েছেন।
এমন আরো অনেক আছে,কিন্তু মনে পরছে না।
শিরকে খফি
রিয়াউন্নাস তথা লোকদেখানো ইবাদত শিরকে খফির অন্তর্ভূক্ত।
করনীয় বা প্রতিকার
হিম্মত বা সৎসাহস থাকলে শিরকের মূলোৎপাটন সম্ভব।শিরক সাধারনত অজ্ঞতা এবং মুর্খতার বহিঃপ্রকাশ।সুতরাং শিরক সম্পর্কে জ্ঞানী হতে হবে।শিরক না করলে কত উপকার এবং কল্যান রয়েছে এবং শিরক কতটা ক্ষতিকর তা চিন্তা করলে শিরক থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হবে।
©somewhere in net ltd.