নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মশুদ্ধির অভিযান এক দুর্দান্ত অভিযান।ইহা এক মহাসাধনা

সুলাইমান হোসেন

আমাদের কাজ শুধু আমল করতে থাকা

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্তরের বাগান;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরন ০০৭

১৪ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

অহংকার এবং প্রতিকার

(পূর্বের পর্বের পর থেকে,পূর্বের পর্ব পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো)

শিরকের পর অহংকার ই সবচেয়ে মারাত্মক এবং ভয়ংকর রোগ।অহংকার হলো অন্যের থেকে নিজেকে বড় মনে করা, অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা অপমান করা।

"হে ভাই,অহংকার এবং তার উপকরন হইতে যথাসাধ্য পলায়ন করো,
শয়তান অহংকারের কারনে লাঞ্চিত হয়েছিলো।"

"যদি তুমি অহংকার না করো,তোমার রুহ উুঁচু মর্যাদা লাভ করবে,
আসমান ও যেই মর্যাদা দেখে ঈর্ষা করে"

ইবনে আদহাম রহ.বলেন,"আমাদের কাছে যা আছে,দুনিয়ার বাদশারা তা জনতে পারলে আমাদের সাথে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করত,সেই জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য।"

"ইবরাহীম রহ.বাদশা ছিলেন,সেচ্ছায় বাদশাহী ছেড়ে ফকিরি অবলম্বন করলেন।অহংকারকে পিষ্ট করলেন,এবং আসমান জমীনকে নূরের আলোয় ভরিয়ে দিলেন।"

"হে ভাই,তুমিও অহংকার হইতে পলায়ন করে দূরে চলে যাও,তোমার উুঁচু মর্যাদা দেখে ফেরেশতারাও ঈর্ষা করবে।"

"ধনসম্পদ কেয়ামতের দিন লাঞ্চনার কারন হবে,আর ফকিরি কেয়ামতের দিন উুঁচু মর্যাদার কারন হবে।"

"তোমরা যাদেরকে কুলিন এবং অভিজাত মনে করো,তারা মূলত অভিজাত নয়।অভিজাত তো ঐ ব্যাক্তি যে অধিক তাক্বওয়া অবললম্বন করে।"

"ধনসম্পদ কিভাবে সম্মানিত বস্তুু হতে পারে,এগুলোতো, রুহের জন্য আজাব সরুন,প্রকৃত সম্পদশালী ঐ ব্যাক্তি যে তার রুহকে বিশুদ্ধ করে,এবং মহাজাগতিক জীবন লাভ করে।"

"প্রতি ওয়াক্ত নামাজ তোমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যায়,যেই জায়গা দুনিয়া থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে"

"নামাজের দ্বারা নফসের অহংকার চূর্ণ হয়,নামাজের দ্বারা পুলসিরাত বিদ্যুৎ গতিতে পাড় হয়।"


অহংকার মূলত কি?

অহংকার এক মহাবিপদ।যা মানুষকে অন্ধকারের গভীর তলায় নিয়ে নিক্ষেপ করে।অহংকার নফসের সবচাইতে বড় আপদ।

অহংকার নফসের মধ্যে কেন আসে?

পরিক্ষা করার জন্য নফসের মধ্যে অহংকার দেওয়া হয়েছে,রব্বুল আলামিন দেখবেন যে মানুষ কি করে,অহংকার কে দাবিয়ে রাখে, দূর করার চেষ্টা করে নাকি প্রশ্রয় দেই।ইহা এক মহাসাধনা!

নফস মূলত কি?

সুফিদের পরিভাষায় নফস এক প্রকার লতিফা,অন্যান্য লতিফার থেকে নফস কম সুক্ষ্ণ।বিদ্যুত তরঙ্গ আকারে প্রত্যেকেই তা অনুভব করতে পারে।ক্বলব লতিফা তুলনামূলক বেশি সুক্ষ্ণ,সুক্ষ্ণদর্শীরা ক্বলব লতিফা অনুবভ করতে পারে,অধিক পরিমানে যিকির কারীগনও ক্বলব অনুভব করতে পারে।অন্যান্য লতিফা আরো দূরে এবং আরো বেশি সুক্ষ্ণ যা সকলেই অনুভব করতে পারে না।নফস লতিফা থেকেই সালিক বা মুরিদগন আধ্যাতিক ভ্রমন বা সফর শুরু করেন,এবং এই সফরের কোনো শেষ সীমা নেই।ইহা এক গুপ্ত মহাকাশ।ইহা সেই আসমান যেই আসমানের খবর এই বাহীরের আসমানও জানেনা।

আসমানকে আমানত দিতে চেয়েছিলেন রব্বুল আলামিন,সে যদি সেই আমানত গ্রহন করত তাহলে সেও গোপন আসমানের সংবাদ পেত। ইহার আলোচনা এক মহা সমুদ্র।

অহংকারের কারন এবং প্রতিকার

অহংকারের কারন

অহংকারের অনেক কারন রয়েছে,এর মধ্যে বড় বড় কিছু কারন নিন্মরুপ—

১।জ্ঞান ;২।ধনসম্পদ ;৩।সৌন্দর্য ৪।বংশ মর্যাদা, আভিজাত্য ; ৫।পদ মর্যাদা।

আরো অনেক কারন থাকতে পারে,আপাততঃ এই পাঁচটি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি।

কেন অহংকার আসে এবং তার প্রতিকার কি?

"হে ভাই,যদি তুমি অহংকার না করো নেককার ওলি আউলিয়া এবং সলেহিনদেন বন্ধু হতে পারবে,আর জেনে রাখো তারা সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু।তারা হলো রফিকে আ'লা।

অহংকার কেন আসে তা আগেই বলা হয়েছে,এখন প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা যাক,

" (আমি এই গুলো শিখেছি,ইমাম গাজ্জালীর কিমিয়ায়ে সায়াদাত এবং এহইয়াউল উলুমুদ্দিন কিতাব থেকে।)"

সুতরাং আমি সেই প্রসেস অনুসরন করছি,

ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,অহংকারের দুই প্রকার প্রতিষেধক রয়েছে।

১।জ্ঞানগত প্রতিশেধক,
২।আমলি প্রতিশেধক।যা কর্মের মাধ্যমে করতে হয়।

জ্ঞান থেকে উদ্ভুত অহংকারের জ্ঞানমূলক প্রতিশেধক—

চিন্তা করবে জ্ঞান মূলত কি?মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষ মূুলত কোনোকিছুই জানতনা।এখনো যতটুকু জানে,তা জ্ঞানের মহাসমুদ্র থেকে এক বিন্দু বারিসম মাত্র।তাহলে কি নিয়ে এত অহংকার। আমরা তো একখো অনেক কিছুই জানিনা।সৃষ্টিকর্তার রহস্য হাকিকত কিছুই জানিনা,শুধু জানি তিনি আছেন।তাও অন্তরে হেদায়েত না দিলে তিনি জানিয়ে না দিলে সৃষ্টিকর্তার অস্থিত্ব সম্পর্কে ও কেউ কিছু জানতে পারে না পারার কথাও নয়।তাহলে কোন জ্ঞান নিয়ে এত অহংকার।

আরোও চিন্তা করা উচিত,আমি যে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে,ইহা কেয়ামতের দিন নাজাতের উসিলা হবেনা,বরং নাজাতের উসিলা হবে আমল,এবং রব্বুল আলামিনের দয়া এবং অনুগ্রহ।

আমার এই জ্ঞান আজাবেরও কারন হতে পারে,যদি আমি সেই অনুযায়ী আমল না করি।

তারপরও যদি জ্ঞানের অহংকার না যায়,অন্তর থেকে,নিচের শেরগুলো পাঠ করবে,ইনশা আল্লাহ অহংকার চলে যাবে।



"হে জ্ঞান,তুমি আবার কে এবং কোন আপদ।
আমিতো তোমাকে চাই না,রব্বুল আলামিনকে চাই।"

"হে জ্ঞান, তুমি শোকরে পরিবর্তন হও,নয়ত চলে যাও,
তুমি আমার রুহের জন্য আপদের কারন না হও।"

"হে জ্ঞান।তোমার তো কোনো হাকিকত নেই,
মূল হাকিকত তো রব্বুল আলামিনের ই।

" যেই জ্ঞান রব্বুল আলামিনের দিকে রাস্তা দেখায়না,
সেই জ্ঞান,জ্ঞান নয়।মুর্খতা!মুর্খতা!মুর্খতা।

"হে প্রিয়!কেন জ্ঞানের অহংকার করো,
জেনে নাও,মাওলার সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়ো।"

জ্ঞান থেকে উদ্ভুত অহংকারের আমলি চিকিৎসা

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.