| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অন্তরের বাগান ;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরন
(পূর্বের পর্বের পর থেকে,পূর্বের পর্বগুলো পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো)
পূর্বের পর্বে জ্ঞান থেকে উদ্ভূত অহংকারের জ্ঞানমূলক প্রতিষেধক আলোচনা করা হয়েছিলো ,এই পর্বে আলোচনা করা হবে জ্ঞান থেকে উদ্ভূত অহংকারের এমন চিকিৎসা যা কার্যের মাধ্যমে করা হয়।
এক কিতাবে পড়েছিলাম,অনেক উঁচু মকামের সাহাবী লাকড়ির বোঝা মাথায় নিয়ে বাজারে যেতেন,নিজের নফসকে পরিক্ষা করতেন।
সুলাইমান আলাইহিসসালাম নিজের নফসকে পরিক্ষা করার জন্য বাদশাহী চেয়ে নিয়েছিলেন।
বর্ণিত আছে সুলাইমান আলাইহিস সালাম বাতাশকে যা আদেশ করতেন বাতাশ তা ই শুনতো।বাতাশ তার সিংহাসনকে উড়িয়ে নিয়ে সেখানেই পৌঁছে দিত যেখানে তিনি চাইতেন।তবুও তার অন্তরে বিন্দুমাত্র অহংকার আসেনি।
অনেক সালিক মসজিদে মুসল্লিদের জুতো সোজা করে দিতেন,অহংকার দূর করার জন্য।রোগ যতদিন থাকে ঔষুধও ততদিন খেতে হয়।
কিভাবে বুঝতে পারবো, অহংকার অন্তর থেকে দূর হয়েছে।
অহংকার অন্তর থেকে দূর হয়েছে কিনা,তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই,প্রত্যেকে নিজেই তা অনুভব করতে পারে।
অহংকার দূর করা অনেক জটিল এবং কঠিন একটি বিষয়।সহজে এই রোগ দূর হয়না।সারাজীবন ও কাউকে কাউকে সাধনা করতে হয়।অথচ অহংকার দূর না হলে পবিত্র জগতের দিকে রাস্তা খুলে না।
২।ধনসম্পদের অহংকার।
জ্ঞান যেহেতু ধনসম্পদের থেকে উত্তম,এজন্য জ্ঞানী লোককে সম্পদশালী লোকদের উপর অহংকার করকে দেখা যায়।
"অনেক জ্ঞানী লোক নিরহংকার এবং বিনয়ী আছে,
আবার অনেক সম্পদশালী লোক আছে নিরিহ ধাঁচের।"
আসলে সৃষ্টিগতভাবেই অনেকে বিনয়ী হয়ে থাকে,রব্বুল আলামিন কাউকে কাউকে সাধনা ছাড়াই নেয়ামত দান করেন,কাউকে তো প্রচুর সাধনা করতে হয়।
তবে সৃষ্টিগতভাবেই যে ব্যাক্তি উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান, সে ঐ ব্যাক্তির সমান হতে পারবে না যে ব্যাক্তি অনেক সাধনা করে, রিয়াজত মুজাহিদা করে চরিত্রবান হয়।
"আল্লাহর দয়ার দৃষ্টি যার উপর পতিত হয়,
অনেক রিয়াজত ছাড়াই সে ভাগ্যবান হয়।
" হে ভ্রাতা!পৃথিবীর অধিকাংশ সম্পদশালী ব্যাক্তিরাই অহংকারে পতিত হয়,
সুতরাং সম্পদের ফিতনা থেকে পলায়ন করো।
"অহংকার কেয়ামতের দিন ভয়ংকর অন্ধকার এবং বিপদের কারন হবে,
হে ভাই, যদি পারো এই আপদ থেকে দূরে পলায়ন করো।
" কেয়ামতের দিন সম্পদশালীরা তাদের সমস্থ সম্পদ দিয়ে দিতে, মহা বিপদ থেকে বাঁচার জন্য,যদি তৎসঙ্গে সারা দুনিয়া থাকে তবে তাও দিয়ে দিতে চাইবে"
" প্রতিটা অহংকার তোমাকে গর্তে নিক্ষেপ করে,
আর প্রতিটা বিনয় তোমাকে উঁচু মকামে নিয়ে যায়।"
ধন সম্পদ থেকে কেন অহংকারের সৃষ্টি হয়?
সম্পদশালী ব্যাক্তি ফকিরের উপর অহংকার করে।সকলেই যদি ধনসম্পদে সমান থাকত তাহলে সম্পদের অহংকার থাকতো না।এটাই একটা পরিক্ষ।সম্পদশালী ব্যাক্তি ফকির ব্যাক্তিকে নিজের থেকে কম এবং ছোট মনে করে। অথচ রব্বুল আলামিনের নিকট ছোট -বড় সম্পদ দিয়ে যাচাই করা হয়না,যাচাই করা হয় অন্তরের ভয় এবং তাক্বওয়া দিয়ে।ফকির ব্যাক্তি সম্পদশালী ব্যাক্তির থেকে ধনি হতে পারে অন্তরের দিক দিয়ে।তখন কেয়ামতের দিন দুনিয়ার ধনি ব্যাক্তি ফকিরের নিকট লাঞ্চিত হবে।
"হে ভাই।অন্তরের সম্পদশালী প্রকৃত সম্পদশালী,
কবে তুমি এই কথা বুঝিতে পারিবে এবং উপলব্ধি করিবে।"
"জ্ঞানী গন বলেন,মানুষ সম্পদের জন্য নয়,
বরং সম্পদই তো মানুষের জন্য।"
সম্পদের অহংকারের জ্ঞানমূলক এবং কার্যসম্পাদন মূলক প্রতিষেধক
জ্ঞানমূলক প্রতিষেধক
প্রথমেই চিন্তা করবে রব্বুল আলামিন যে আমাকে এত সম্পদ দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন,অবশ্যই পরিক্ষা করার জন্য।আমার তো এতো সম্পদের প্রয়োজন নাই,আমি কি করবো,এত সম্পদ দিয়ে।যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু রাখি, বাদ বাকি সম্পদ যাকাত দেই এবং দান সদকা করে দেই।
তারপর চিন্তা করবে,সম্পদের হাকিকত বা রহস্য কি?এগুলো তো মানুষের প্রয়োজনের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে,প্রয়োজন পূর্ণ হলে বাদবাকি সম্পদ কোনো কাজের না।তাছাড়া আমাকে অচিরেই মরতে হবে,অন্ধকার গহীন কবরের মধ্যে যাইতে হবে।তখন তো ধনসম্পদ আমার রুহের জন্য বিপদের কারন হবে।সাপ বানিয়ে আমাকে পেঁচিয়ে ধরবে এই সম্পদ।আমাকে পিঠে কপালে তাপ দেওয়া হবে।
তাছাড়া সমরপদের সাথে আমার রুহের কোনো সম্পর্ক নেই,আমাকে সম্পদ দিয়ে দুনিয়াতে পাঠানো হয়নাই,আবার আমাকে খালি হাতেই কবরে যাইতে হবে,সম্পদ নিয়ে যেতে পারবো না।তাহলে এই সম্পদের সাথে আমার কোনো নেসবত রাখা উচিত নয়,এগুলো আমার থেকে দূরে থাকুক।তবে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু থাকুক,মুমিন মুসলমানদের থেকে প্রয়োজন পরিমান সম্পদের হিসাব নেওয়া না ও দেওয়া লাগতে পারে।
কার্য সম্পাদিত চিকিৎসা
সম্পদশালী ব্যাক্তি মন না চাইলেও, মনের উপর জোড় দিয়ে গরিব এবং ফকিরদের খেদমত করবে।সৎকাজে সম্পদ খরচ করবে। তবে খোটা দিবে না,এবং মানষিক কোনো আঘাত দিবে না।এমন আশংকা থাকলে দান না করাই ভালো।
অন্যকে দিয়ে দান না করে নিজের হাতে দান করা উত্তম।এতে অন্তরে বিনয় পয়দা হয়।
দানশীল প্রশস্ত মনের ব্যাক্তি কেয়ামতের দিন ঈর্ষনীয় মর্যাদায় অধিষ্ঠত হবে।
হাদীসে আছে, যদি হিংসা করা জায়েয হতো, তাহলে দুই ব্যাক্তির উপর তা জায়েয হতো—
এক,যাকে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের জ্ঞান দান করেেছেন,অন্যকেও সে তা শিক্ষা দেয়।
দুই,যাকে আল্লাহ তায়ালা প্রচুর সম্পদ দান করেছেন , সে ব্যাক্তি সেই সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করতে থাকে।
রব্বুল আলামিন আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।
এই পর্ব শেষ করার আগে কিছু শের দিয়ে শেষ করছি,ইনশাআল্লাহ
"ঐ ব্যাক্তিই দুনিয়া আখিরাতে প্রকৃত সম্পদশালী,
যে তার জীবনকে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছে।"
"ঐ ব্যাক্তি ই বুদ্ধিমানদের নেতা হওয়ার যোগ্য,
যে ব্যাক্তি দুনিয়ার থেকে পরের জীবনকে বেশি ভালোবাসে।"
"যদি তুমি চাও তোমার রুহ প্রসস্থ হোক,
তাহলে সৎআমল করো,এবং দান করো।"
"হে অলস নফস,তুমি তো আমাকে বিপদে ফেলেছো,
আসমান জমিনের মধ্যখানে ঝুলিয়ে দিয়েছো।
"হে অসভ্য নফস!দুনিয়াতে নিকৃষ্ট দেরই বেশি সম্পদ,
তুমি ভিন্ন কিছু করো,সম্পদকে পাগলদের হাতে ছেড়ে দাও।"
©somewhere in net ltd.