নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মশুদ্ধির অভিযান এক দুর্দান্ত অভিযান।ইহা এক মহাসাধনা

সুলাইমান হোসেন

আমাদের কাজ শুধু আমল করতে থাকা

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্তরের বাগান : মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরন ০১০

১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:০০

পদ-পদবির অহংকার এবং প্রতিকার

প্রতিটা রোগের চিকিৎসা এটাই যে প্রথমত রোগটিকে সনাক্ত করতে হবে।তারপর চিকিতসার ইচ্ছা থাকতে হবে।চিকিৎসক যদি রোগ সনাক্ত করতে না পারে তাহলে চিকিৎসা সম্ভব নয়।

"আর শয়তান বলেছিলো আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেননা।"(কুরআন)
" শয়তান আরো বলেছে,"আমি তাদের নিকট আসব সামনে থেকে,পিছন থেকে,ডানদিক, থেকে এবং বামদিক থেকে।আর আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেননা।"(কুরআন)

যারা পদ পদবির অহংকার করে,ওরা শয়তান কতৃক ধোঁকা গ্রস্ত এবং বড়ই অকৃতজ্ঞ।আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে এই অহংকার থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

কিছু শের

পদ-পদবি কয়দিনের?মাত্র দুইদিনের!
যেদিন এগুলো থাকবেনা,সেদিন কি করবে।

"ফেরাউন রাজত্বের কারনে কতইনা অহংকার করেছিলো,
কিন্তু একন দেখো,তার কি পরিনতি হয়েছে।"

"কোথায় গেলো,ফারাওদের জাঁকজমকপূর্ণ রাজত্ব,
আর সবুজ শ্যামল বাগান আজ মরুভূমি হয়েছে।"

"সেখানেে আজ কিছু পিরামিড পড়ে আছে,
আর পিরামিডের মধ্যে কিছু লাশ রয়েছে।"
"ফেরাউন তার মৃত্যুর সময় ইমান এনেছিলো,
কিন্তু তার সেই ইমান তার কি কাজে লেগেছিলো?"
"হে ভ্রাতা!জীবন নদীর স্রোতের মতো,
আর নদীর স্রোত সদা একদিকে চলেনা।"
"সকালবেলা সম্পদশালী,সন্ধাবেলা ফকির,
মৃত্যুর পরে কেই নেই পাশে,কার করেছো যিকির।"

পদ -পদবীর অহংকারের জ্ঞানমূলক প্রতিশেষক
পদ-পদবী তো হাজার হাজার।কেউ শিক্ষক, কেউ প্রধান শিক্ষক,কেউ সরকারি উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তা,আবার কেউ ইঞ্জিনিয়ার,কেউ ডাক্তার ইত্যাদি।
আবার রাজনীতির ময়দানেও পদ পদবী অগনিত।কেউ রাষ্ট্রপতি,কেউ প্রধানমন্ত্রী,এমপি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক,থানা প্রশাসক,চেয়ারম্যান মেম্বার তৃণমূল পর্যন্ত অগনিত পদ পদবী রয়েছে।

এখন আমি যে জ্ঞানমূলক প্রতিশেষধক আলোচনা করব,তা শুধু মুসলমানদের জন্যই।আর যে আত্মশুদ্ধি করতে চায় তার জন্য।অন্য কেউ এই লেখা থেকে উপকৃত হবেনা।
আর মুসলমান ব্যাতিত অন্য কারো জন্য আত্মশুদ্ধির নেয়ামত অর্জন করা সম্ভব নয়।
কিছু শের,
"হে ভাই, এই নেয়ামত শুধু মুসলমানদের জন্যই,
কাফিরগন তো এসবের খবর রাখেনা। "
"এই নূর তাজাল্লী শুধু বন্ধুদের জন্য,
শত্রুরা এই নূর পাওয়ার যোগ্য নয়।"
"হে শ্রোতা!দিলের কান খুলো,কি বলছি শোনো,
অন্তরের কান ব্যাতিত ইহা বুঝিতে পারিবেনা।"
"যার অন্তরের কানে আবরন রয়েছে,
সে বাতেনি জগত থেকে বেখবর হয়েছে।"
"বাহ্যিক কান তো ছাগলের ও আছে,
তবে কি ছাগল সৎউপদেশ শোনে।"

চাকরির ক্ষেত্রে যারা উঁচু পদে রয়েছে তাদের এলাজ,
নিচু পর্যায়ের শ্রমিক এবং কর্মিদেরকে আপন ছোটভাই মনে করিবে।এবং তাদের উপকার এবং কল্যানচিন্তা করিবে,স্নেহের দৃষ্টিতে দেখিবে।
হাদিসে আছে,যে আমাদের বড়দেরকে শ্রদ্ধা করেনা,আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করেনা,সে আমাদের অন্তরভুক্ত নয়।

"হাদিসে আরোও আছে,সেই ব্যাক্তি পূর্ণ ইমানদার হতে পারবেনা,যে ব্যাক্তি নিজের জন্য যা পছন্দ করে তা অন্যের জন্য পছন্দ না করে।"

"আরোও আছে,শুনে রাখো,তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান,আর প্রত্যেককে স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে।"

রাজনৈতিকদের অহংকারের এলাজ
নফসের তারণায় রাজনীতি করবেনা,এবং সেচ্ছায় কোনো উঁচু পদ গ্রহন করবেনা।

হাদিসে আছে,"যে ব্যাক্তি নিজে থেকে কোনো পদ চেয়ে নিলো,সে যেন ছুড়ি ছাড়াই জবাই হয়ে গেলো।"
এখানে নফসের তারনায় কোনো পদ গ্রহন করার নিন্দা করা হয়েছে।

ভোট চাওয়া কি ঠিক?
না!ভোট চাওয়া মানে নিজে থেকে কোনো পদ কামনা করা বা চাওয়া।নিজে চেয়ে নিয়ে কোনো পদ গ্রহন করলে,ধ্বংস হওয়ার আশংকা রয়েছে,এবং ছুড়ি ছাড়াই জবাই হয়ে যেতে পারে।

তাহলে ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম,কেন নিজের জন্য পদ চেয়ে নিলেন।
ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারটা ভিন্ন ছিলো, কারন ইতিপূর্বে তার অগনিত পরিক্ষা হয়েছে।এবং নফসের তারনায় তিনি পদ চেয়ে নেননি।তাছাড়া নবীরা সাধারনত আল্লাহর অনুমতিতেই কোনো পদ চেয়ে নেন।তাদের সাথে সাধারন মানুষকে তুলনা দেওয়া যাবেনা।সাধারন মানুষ প্রবৃত্তি বা নফসের লালসায় পদ চেয়ে থাকে।সাধারন মানুষকে শয়তান সহজেই ধোঁকায় ফেলে দিতে পারে।কিন্তু নবী রসূলরা শয়তানি এবং নফসানি ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকেন।

যদি আপনি মনে করেন আমি নফসের উপর শক্তিশালী,নফস আমাকে বিপদে ফেলতে পারবেনা,তাহলে নিজে থেকে কোনো পদ চেয়ে নিতে পারেন।কিন্তু এটা সহজসাধ্য কোনো ব্যাপার নয়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.