নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মশুদ্ধির অভিযান এক দুর্দান্ত অভিযান।ইহা এক মহাসাধনা

সুলাইমান হোসেন

আমাদের কাজ শুধু আমল করতে থাকা

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্তরের বাগান ;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরণ ০১২

১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:১৯

(পূর্বের পর্বগুলো পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো, বিশেষ করে পাঁচ এবং ছয় নং পর্ব)

রিয়া ;লোক দেখানো ইবাদত:পরিচয় এবং প্রতিকার।

মুনাফিকদের পরিচয় সূরা মাঊনের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,"আর তারা নামাজ পড়ে, লোক দেরকে দেখানোর জন্য।"(দেখুন সূরা মাঊন)

কোনো মুমিন কখোনো লোক দেখানোর জন্য কোনো কাজ করতে পারে না, এই কাজ তো অবিশ্বাসী কাফের এবং মুনাফিকদের কাজ।যদি কোনো মুনিনের দ্বারা কাফির মুনাফিকদের কাজ ঘটে,এতে করে সেই মুমিন কাফের মুনাফিক হয়ে না গেলেও,কাজ টা বড়ই অপছন্দনীয় হয়ে থাকে।
রিয়া কি?
শাব্দিক অর্থে 'রিয়া'অর্থ দেখানো,কিন্তু পরিভাষায় রিয়া বলা হয় কোনো মানুষের উদ্যেশে নেক আমল করা, যেখানে উদ্যেশ্য শুধুমাত্র মানুষই থাকে।যেমন কেউ এই উদ্যেশে নামাজ পড়লো যে মানুষ আমাকে নামাজি,পরহেজগার,মুত্তাকী বলবে,কেউ এই উদ্যেশ্য ধীরে ধীরে চলে,মাথা নিচু করে থাকে,হাতে তাছবির ছড়া রাখে,ভাবগম্ভীর হয়ে৷ থাকে লোকজন তাকে বড় মাপের দরবেশ মনে করবে,ইজ্জত করবে,সম্মান করবে।
"হে দরবেশ!তোমার সম্মান জমীনে নয়, আসমানে,
আর কতকাল কাটার খোঁচা খেতে থাকবে।।"
"আসো!আমরা মারিফতের আসমানে উড়াল দেই,
কিিন্তু কিভাবে উড়বে,উড়ার ডানা কই?
" হে ফকির,মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কম করো,
মানুষের সঙ্গ তোমাকে পবিত্র বন্ধন ছিন্ন করে দিবে।"

রিয়া কত প্রকার এবং কি কি?
রিয়া দুই প্রকার,দুনিয়াবি কাজে রিয়া,আর ধর্মীয় কাজে রিয়া।উভয় রিয়াই নিকৃষ্ট, তবে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো ধর্মীয় কাজে রিয়া কিভাবে হয় এবং এর প্রতিকার কি?

একজন লোক রিয়া করতে চায়না,কিন্তু অনিচ্ছাকৃত রিয়ার ধোকা এবং অসঅসা আসে,মানুষ নামাজি বললে,ভালো লাগে,ভালো বললে মনে প্রশান্তি আসে,আর খারাপ বললে মনে বিরক্তি আসে।যদি কেউ প্রশংসা করে ভালো নামাজি পরহেজগার বলে তাহলে সে বন্ধু হয়ে যায়।আর কেউ খারাপ বললে,সম্মান না করলে,সে মন থেকে শত্রু হয়ে যায় এগুলোকি রিয়া।

=প্রশ্নটা আসলে খুবই গভীর। বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার।তাছাড়া এগুলো বুজতে পারা কঠিন।
জ্ঞানীগন বলেন,প্রত্যেককেই রিয়ার ঘাটি অতিক্রম করতে হয়েছে।অর্থাৎ রিয়ার সম্মুখীন হয়নি এমন কোনো মানুষ নেই পৃথিবীতে।তবে রিয়া একসময় এখলাসে পরিবর্তন হয়ে যায়।একজন লোক রিয়া করতে চায়না তারপরও রিয়া আসে,এটা মূলত শয়তানি ধোঁকা এবং অসঅসা রিয়া নয়।শয়তান বিভিন্নভাবে মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলতে চায়।এগুলোর দিকে কোনো পরওয়া করতে নেই। রিয়া আসুক বা না আসুক আমল করতে থাকবে।
"একটি হাস্যকর ঘটনা,আমার নিজের একটি অবস্তা বা হাল বলছি," প্রাথমিক সময়ে শয়তান সবাইকেই নানা ধরনের কষ্ট এবং মুছিবতের মধ্যে ফেলে দেয়।যখন আমি নামাজে দাড়াতাম, শয়তান মনে এমন অসঅসা দিতো,তুমি তো রিয়া করছো।তখন আমি আরো বেশি করে রিয়া করতাম,এবং মনে মনে শয়তানকে বলতাম রিয়া করলে আমি আরো দুই তিন গুন বেশি সওয়াব পাবো।যত বেশি রিয়া করবো ততবেশি সওয়াব পাবো।তখন মনের অসঅসা বন্ধ হয়ে যেত।
হযরত হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,যখন রিয়ার অসঅসা আসে,তখন আরো বেশি করে আমল বাড়িয়ে দিবে(অর্থাৎ বেশি করে রিয়া করবে)এতে বেশি আমল অভ্যাসে,এবং অভ্যাস এখলাসে পরিবর্তন হয়ে যাবে।(তরবিয়াতুস সালিক)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.