নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আত্মশুদ্ধির অভিযান এক দুর্দান্ত অভিযান।ইহা এক মহাসাধনা

সুলাইমান হোসেন

আমাদের কাজ শুধু আমল করতে থাকা

সুলাইমান হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্তরের বাগান;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরণ ০১৪

২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


ক্রোধ:পরিচয় এবং দমন

ক্রোধ কি?
ক্রোধ নফসানি এক ভয়ংকর রোগ।এই রোগ জ্ঞান বুদ্ধিকে লোপ করে দেয়।যখন মানুষ ক্রোধের শিকার হয় তখন যা মন চায় তাই করতে পারে।শয়তান ক্রোধকে উসকে দেয়।ক্রোধ অনেক দুঃসাহসিক কাজের কারন হয়।
কেন ক্রোধকে মানুষের প্রবৃত্তির সাথে যুক্ত করা হলো?
ক্রোধকে সম্ভবত এজন্য মানুষের প্রবৃত্তিকে যুক্ত করা হয়েছে,যেন মানুষ অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে পারে।যদি ক্রোধ না থাকত তাহলে মানুষ শত্রুর উপর আক্রমন করতে পারতনা,বিজয়ী হতে পারত না।প্রতিশোধ নিতে পারতোনা।

"ক্রোধকে সৎকাজে ব্যায় করো,অন্যায়ের প্রতিশোধ নাও,
অন্যায় দেখেও যার ক্রোধের উদ্রেক ঘটেনা সে মানুষ নয়,
জেনে রাখো,সে হলো শয়তান।"

ক্রোধকে আমরা দুইপ্রকারে ভাগ করতে পারি,
১।অযথা ক্রোধ,বা মুর্খতাজনিত ক্রোধ,
২।ন্যয়সংগত ক্রোধ।
অযথা ক্রোধ নিষিদ্ধ ক্রোধ বা রাগের অন্তর্বুক্ত।এই ক্রোধ ক্ষতিকর ক্রোধ ট্যাগে চিন্হিত করা যেতে পারো।জাহেল বা মুর্খ মানুষদের ক্রোধ এই শ্রেনির অন্তর্ভুক্ত।
কিতাবে আছে,ক্রোধ শয়তান থেকে আসে,আর শয়তান আগুনের তৈরি।যখন তোমাদের কারো ক্রোধ আসে,তখন সে জেন ঠান্ডা পানি দিয়ে অযু করে,অথবা গোসল করে।"
"আরো নির্দেশনা রয়েছে,(অযথা বা ক্ষতিকর) ক্রোধের উদ্রেক ঘটলে সে যেন বসে পড়ে অথবা শুয়ে পড়ে"
ক্রোধের সঠিক ব্যাবহার কোনটি?
ক্রোধকে বিবেকের অনুগত রাখাই সঠিক ব্যাবহার।শয়তান অযথাই ক্রোধকে উঁসকে দিতে পারে,সুতরাং ধৈর্যের সাথে চিন্তা করা আবশ্যক।

"গর্হিত এবং ধর্মবিরোধী কাজ দেখেও যার ক্রোধের উদ্রেক হয়না সে মানুষ নয়,সে তো শয়তান।"
কিতাবে আছে,নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম নিজের জন্য কারো প্রতি রাগ করতেন না,কিন্তু ইসলামের খাতিরে রাগ করতেন।এই রাগ সৃষ্টিকর্তার জন্য হয়, নিজের জন্য নয়।
"জ্ঞানীগন নিজের জন্য অনেক কিছুই মাফ করে দেন,রাগ করেননা,কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ভালবাসা এবং পরিচয় জ্ঞান তাদের অন্তরে থাকার কারনে,ধর্মবিদ্বেষী কজকর্ম দেখলে প্রচন্ড রাগ করেন,তখন তাদের রাগের পরিশীমা মাঁপা কঠিন।"
"শয়তানের উপরেরও জ্ঞানীগন প্রচন্ড রাগান্বিত থাকেন।এর অবশ্য অনেক কারন আছে।তরিকতের সালিকরা শয়তানের প্রতি সীমাহীন রাগ রাখেন।কারন তারা অন্তরদৃষ্টিতে দেখতে পান শয়তান কিভাবে মানুষকে বিপথগামী করে বিভ্রান্ত করে।"

"হে ভ্রাতা,যদি তুমি শয়তানদেরকে প্রকাশ্যে দেখতে চাও,
তাদেরকে একনজর দেখে নিও,যারা,সৃষ্টিকর্তার শরিক সাবাস্ত করে,মদ পান করে,জুয়া খেলে,অনর্থক বেহুদা কাজ করে,সম্পদ সহ প্রয়োজনীয় জিনিসের অপচয় করতে অভ্যস্ত।জেনে রাখো এরা মানুষ নয় এরাই শয়তান।যদি তুমি এমন কোনো মানুষ দেখ তাহলে তার উপর তোমার সমস্ত রাগকে ঝেরে ফেলো।"
অর্থাৎ পারলে তাদেরকে শক্তি দিয়ে বাঁধা দাও,এতে ফিতনার আশংকা থাকলে মনে মনে তাদের প্রতি রাগ রাখো।
(এতক্ষন ক্রোধ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলাম,এখন কাম প্রবৃত্তি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা দরকার)

কাম প্রবৃত্তি কি?এবং কেন মানবপ্রবৃত্তিতে এটা সংযুক্ত করা হলো।

ক্রোধের যেমন ক্ষতিকর এবং উপকারি দিক রয়েছে,অনুরুপ কামের ও ক্ষতিকর এবং উপকারি দিক রয়েছে।
একজন সুবিবেচক এবং জ্ঞানী লোক ক্ষতিকর দিক বর্জন করেন এবং উপকারি দিককে গ্রহন করেন।অন্যথা করলে দুনিয়া আখিরাতে লজ্জিত হতে হবে।

বিবাহের মাধ্যমে কামপ্রবৃত্তির বৈধ চাহিদা পূর্ণ করা হয়।
বিবাহ বহির্ভূত কামপ্রবৃত্তিজনিত যাবতীয় সম্পর্ক হারাম এবং নিষিদ্ধ।এবং তা মানুষের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে এবং ক্ষতির কারন হয়ে থাকে।

সংযম সাধনা:
প্রাথমিক আত্মশুদ্ধির ইচ্ছাপোষনকারী সালিক বা মুরিদদের জন্য বিবাহ ক্ষতিকর হয়ে থাকে,তাহলে তারা কি করবে?
হ্যা!সালিকদের জন্য প্রাথমিক সময়ে বিবাহ ক্ষতির কারন হয়ে থাকে।ইমাম গাজ্জালী রহ.বলেছেন,কারো কারো জন্য বিবাহ করাই উত্তম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.