নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালবাসি মা, মাটি আর মানুষকে...

গুটলু মিয়া

স্বপনচারী মানুষ..... আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে।....... এ আমার অহংকার অহংকার সমস্ত মানুষের হয়ে।

গুটলু মিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুইজন নারী।

১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১৩

দুইটা ছোট্ট ঘটনা... এবং সত্যি ঘটনা। হয়ত জীবনের সংজ্ঞা এক একজনের এক এক রকম...



প্রথম ঘটনাঃ

আমাদের বাসার পাশে একটা গৃহস্থবাড়ি ছিল... মোটামুটি সচ্ছল পরিবার... স্বামী-স্ত্রী আর তাদের তিন মেয়ে... একদিন এই পরিবার ফেলে বাড়ীর পুরুষ মানুষটা উধাও হয়ে যায়... গেল তো গেল... আর ফিরে আসলো না টাইপ... দিন যায়, মাস যায়... আস্তে আস্তে সংসারে অভাব চলে আসে...

তখন অনেক ছোট ছিলাম... এত কিছু বুঝতাম না... একদিন খুব অবাক হলাম যখন দেখি ঐ বাড়ীর মহিলা ব্যাক্তি যেই চাচিকে আগে কখনো বাড়ির বাইরে দেখি নাই সংসারের হাল ধরার তাগিদে সে এসে কাজ নেয় আমাদের বাসায়... যেইটা কোনদিন কল্পনাতেও ছিল না আমাদের কারো... আমার আম্মা তখন তার বড় দুই মেয়েকে একটা সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্রে ভর্তি করায় দেন... বাবা পুলিশের কাছে কেস করেন ঐ লোকের বিরুদ্ধে... আস্তে আস্তে দিন পার হয়... কিন্তু অদ্ভুত রকমভাবে পুলিশও কোন কুলকিনারা করতে পারে না...!



বহু বছর পরে এমন সময়, ততদিনে চাচী তার তিন মেয়েকে মানুষ করছেন, ভাল জায়গায় বিয়ে দিছেন... তিনমেয়ে চাকরী করতেছে... স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে আছে, সচ্ছল আছে... হঠাত খোজ পাওয়া গেল সেই লোকের!!!!! জানা গেল, বহু বছর আগে কোন এক ভবের পাগলের পাল্লায় পড়ে ঘর ছাড়ে সে... চোরাইপথে চলে যায় ইন্ডিয়ায়... এর পর দেশে ফেরে তাও বহু বছর হয়ে গেছে... সাতক্ষীরাতে নতুন করে সংসার পাতে...





আরেকটা ঘটনাঃ



দেশের খুব বিত্তবান পরিবারের মেয়ে... পছন্দ করে বিয়ে করে ভালবাসার মানুষটাকে... সেও হাই-ফাই ফ্যামিলির ছেলে... আস্তে আস্তে দিন যায়... দুই ছেলের পিতা-মাতাও হয়... সুখী দম্পতি... কিন্তু হঠাত করেই খোঁজ পায় যে স্বামী অন্য রমনীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে... পরকীয়ায় আসক্ত... ফলাফল আত্নহত্যা করে সেই মেয়ে... নিজের সন্তান, পিতামাতা, আত্নীয় স্বজন, অর্থসম্পদ সব কিছুকে ছেড়ে চলে যায়...



এখন বলেন তো... উপরের এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে কে আসলে সত্যিকারের মানুষ..??? কার মনে ছিল? জানি না সামনের দিনটাতে কি হবে কিন্তু আমাকে বাচতে হবে... কিছু মানুষের মুখের দিকে চেয়ে হলেও... আরেকটা প্রশ্ন, বলেন তো কে সুখী একজন মানুষ...? যার চলার মত কিছু ছিল না, কিন্তু প্রবল ইচ্ছা শক্তি ছিল, নাকি যার অঢেল সম্পত্তি, সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সামনে আগানোর সাহস ছিল না?





মন্তব্য ১০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:১৮

রোহান খান বলেছেন: ভাই আসেন গলা জড়ায়ে ধইরা কান্দি, খাড়ান টিস্যু বক্সটা লইয়া আহি.......

১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:২১

গুটলু মিয়া বলেছেন: কান্নাকাটির কিছু নাই ভাই :| :|

২| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:২২

রাতজাগাপাখি বলেছেন: এটা এক একজনের দৃষ্টিভঙ্গী। আমি কারওটাকেই খাটো করতে পারছিনা। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে, সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে জীবন পার করে দেয়া যায়। হয়ত, চোখের সামনে থেকে স্বামী অন্য কারও সাথে পরকীয়া করে বেড়াচ্ছে, সেটা সহ্য করার ক্ষমতা সবার থাকে না। তবে হ্যা, কিছু পুরুষ থাকে, যারা ভীতু ধরনের। তার ভুল জেনেও যখন তাকে ক্ষমা করে দেয়, তখন সে ভয়ে আর মুখ দেয়াতে চায়না ক্ষমাকারীকে।

যাহোক, যা মনে হল বললাম। ভালো থাকবেন।

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:২৮

গুটলু মিয়া বলেছেন: হুম :)

৩| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:২৭

সেমিবস বলেছেন: সুখ নাইরে মনা সুখ নাই

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:২৯

গুটলু মিয়া বলেছেন: আসলেই সুখ নাই রে ভাই :(

৪| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১১:০১

সোহানী বলেছেন: হা দুটি ঘটনাই বাস্তবতা..... এটা নির্ভর করে মানসিক শক্তির উপর। কারো মানসিক শক্তি অনেক ভালো.. কারো থাকে না। তবে এক্ষেত্রে দরকার পরিবারের মানসিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং। গুরুত্বপূর্ন পোস্ট.......

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:৩২

গুটলু মিয়া বলেছেন: মাঝে মাঝে পরিবারের মানুষ গুলোর প্রতি অনীহা চলে আসে! মানুষ নিজেই ভুলে যায় তার অবস্থান, খুব খেয়াল করে দেখেন বর্তমানে পরিবার ভাঙ্গন, আত্নহত্যা এইগুলা খুব বেশী বেড়ে গেছে!

এর মূল কারন কি? হয়ত অনেক কারন ও প্রতিকার বের হয়, কিন্তু এপ্লাই কি হয়?

৫| ১০ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১১:২২

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: মানসিক শক্তি এবং কাউন্সেলিং দুইটাই খুব ই প্রয়োজনীয়।

এবং দুইটা ঘটনা ই অনেক বাস্তব কিন্তু দুইটা ভিন্ন বলে মনে হলো। একটার সাথে আরেকটা কে তুলনা করা যায় না।

আমাদের দেশের মানুষ মেডিসিন ডাক্তারের কাছে ই রেগুলার চেক আপ এর জন্য যান না। সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে যাওয়ার কথা ছেড়েই দিলাম।।

আমার মনে হয়, যারা মানসিক ভাবে দুর্বল, প্রচন্ড ডিপ্রেশন এ ভোগে, তাদের কে আরো ডিপ্রেসড না করে বরং তাদের কে কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপীর আন্ডারে আনা উচিত। suicidal ideation খারাপ জিনিস। এগুলাতে emergency basis এ ব্যবস্থা নিতে হয়।

আমাদের দেশে অনেক কিছু করার ছিল। কিন্তু কেন যেন গত কয়েক মাস ধরে চলা ঘটনাবলীতে অনেক আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি ধীরে ধীরে। এমনটা হচ্ছে আমার পরিচিত অনেক উদ্যোমী যুবক যুবতী তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রেও।

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:৩৫

গুটলু মিয়া বলেছেন: সহমত :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.