নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যে মানুষ জীবনের মূল্য দিতে জানে, জীবন কখনো তাকে নিরাশ করে না।

জীবন আল্লাহর দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। তুমি তার মূল্য দেও, সেও তোমাকে মূল্য দিবে।

হাইড্রোজেন

কিছু বলার নাই।

হাইড্রোজেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

:D :D :D চিরুনী তৈরীর ইতিকথা :D :D :D :D

২৭ শে মে, ২০১২ রাত ৮:১২

আমার ইতিহাস পর্বের প্রথম লিখা। সঠিক ইতিহাস খুঁজে বের করা এবং সকলের সাথে শেয়ার করা ই লক্ষ্য। চলুন প্রথম এ জানি প্রতিদিন ব্যাবহার করা, চিরুনী তৈরীর ইতিকথা.।।।



প্রথম চিরুনি তৈরি করেছিলেন মিসরের মানুষ, ঐতিহাসিকভাবে এটাই সত্য। চিরুনি যতদিন মানুষের হাতে আসেনি, ততদিন জটাধারী মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল, সন্দেহ নেই। চিরুনির অভাবে প্রাচীন মানুষের মাথায় পোকা জন্মে রোগ হতো এবং মৃত্যুও ঘটতো-এগুলো জানা কথা। মিসরে চিরুনির আবিষ্কার হয়েছিল খ্রিস্ট জন্মের অনেক আগে এবং ভারতে সেই চিরুনি এসেছিল তারও কিছু পরে। মোটামুটি খ্রিস্ট জন্মের ৫০০ থেকে ৭০০ বছর আগে। কিন্তু সেই চিরুনির সঙ্গে বর্তমান চিরুনির কোনো সম্পর্ক নেই। মোটামুটি ব্যবহারযোগ্য, ভারস্থ চিরুনি উপমহাদেশে এসেছিল ব্রিটিশ শাসনের আগে। সেগুলো ছিল কাঠ, পশুর হাড়, মোষের সিং, হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোলা ও পিতলের তৈরি। আর সেগুলো ছিল রাজা-উজিরদের ব্যবহারের জন্য। অষ্টাদশ শতাব্দীতে কলকাতা ও ঢাকায় পশুর হাড় থেকে সামগ্রী তৈরির কারিগরেরা চিরুনি বানাতো। কিন্তু তখনো চিরুনি শিল্প হিসেবে উঠে আসেনি। ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ রসায়নবিদ লাইন সাহেব ইংল্যান্ডে প্রথম রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে চিরুনি তৈরি করেন। সেই চিরুনি ১৯ শতকের মাঝামাঝি অবিভক্ত ভারতে আসে। তবে সেই সময় জার্মানির গাটাপার্চারের চিরুনি সারাবিশ্বে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। ১৯ শতকের শেষের দিকে সেলুলয়েডের চিরুনি জাপানে কুটিরশিল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরে তা ছড়িয়ে পড়ে চীন ও ইউরোপের দেশগুলোতে। তখনো ভারতীয় উপমহাদেশে চিরুনিশিল্প গড়ে ওঠেনি। অন্তত ইতিহাসে এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। চিরুনিশিল্পের সঙ্গে যে মানুষটির নাম জড়িয়ে আছে, তিনি হলেন মন্মথনাথ ঘোষ। যশোরের ঝিনাইদহের মথুরাপুরের মন্মথবাবু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে কারিগরি বিদ্যা শিখে স্বদেশী কারখানা গঙার স্বপ্ন নিয়ে ১৯০৬ সালে জাপানে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রর রায়ের পরামর্শ নিয়েছিলেন। বহু কষ্টে তিনি সেখানে চিরুনি তৈরির কৌশল শিখে ১৯০৯ সালে দেশে ফিরে যশোর শহরে ১৯১০ সালের মাঝামাঝিতে প্রথম চিরুনি কারখানা স্থাপন করেন। এই কারখানার সব যন্ত্রাদি এসেছিল জাপান থেকে। এই কাজে তাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন যশোরের জমিদার প্রমথভূষণ দেবরায়, কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্ররচন্দ্রর নন্দা ও বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাপ বাহাদুর মহাশয়। কারখানার নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘যশোর কম্ব বাটন অ্যান্ড ম্যাট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’।



এলাকার প্রচুর যুবককে এ কাজে তিনি নিয়োগ করেছিলেন। এই চিরুনি সারাবাংলা, সারাদেশে জনপ্রিয়তা পায়। সেই সঙ্গে বিদেশের চিরুনি বিক্রি কমে যায়। মন্মথবাবু কলকাতা, হাওড়াতে পরিচিত বন্ধুদের চিরুনি কারখানা গড়ায় উৎসাহ দিতে থাকেন। কিন্তু তার এই স্বদেশী কাজকে সহ্য করতে পারেননি দেশের অনেকেই। তার জাত গিয়েছে বলে, তাকে একঘরেও করা হয়েছিল তখন। ব্রিটিশ পুলিশও পিছনে লেগেছিল তার। শেষ পর্যন্ত ১৯১৯ সালে তিনি তার চিরুনি কারখানা নিজের ভাই ফনীভূষণের হাতে সঁপে দিয়ে কলকাতায় গড়পাড় রোডে চলে যান। কলকাতায় গিয়ে তিনি চিরুনি তৈরির মেশিন বানানোর কারখানা গড়েছিলেন। কিন্তু সেই কারখানায় উৎপাদন শুরুর আগেই তিনি ১৯৪৪ সালে প্রয়াত হন।

তার সেই কারখানা আজো আছে মানিকতলার খালপাড়ে। আগামী ২০ মার্চ ভারত, বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের চিরুনিশিল্পের জনক মন্মথনাথ ঘোষের ৬৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। একজন প্রচারের আলোয় না থাকা শিল্পদ্যোগীর মৃত্যুদিনকে মনে রেখে উভয় দেশের সরকার, চিরুনিশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা সম্মিলিতভাবে ভাবুন, এই শিল্পকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায়। আর সেটাই হবে মন্মথ বাবুর প্রতি সবার শ্রদ্ধার্ঘ্য।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.