| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোনামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ অনার্সে রসায়নের ফাইনাল বর্ষের ছাত্রী ৷
আজ ১৬ ডিসেম্বর মোনামীর বিয়ে কিন্তু সে মোটেও আনন্দে নেই ৷ তার মন প্রচন্ড আঘাতে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ৷ তার কাছে এ বিয়েটা নিছক একটা খেলা মাত্র ৷ সে বিয়েটা করতে যাচ্ছে শুধু প্রতিশোধ নিবে বলে ৷ মোনামীর বাবা রাসিদুজ্জামান সাহেব ৷ তিনি দেশের অন্যতম ধণী একজন ৷ উনি ভ্রমণ পিপাসু ৷ ভ্রমণকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন ৷ একবার ভ্রমণ কালে পরিচয় হয় আরেক ভ্রমণ পিপাসু হাসান সাহেবের সাথে ৷ হাসান সাহেবের এতটাকা আছে যে প্রত্যেক মাসেই একটি করে দ্বীপ তিনি কিনতে পারবেন ৷ তারা উভয়েই ভ্রমণ পিপাসু হওয়ায় তাদের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে ৷
হাসান সাহেবের একমাত্র ছেলে শিহাব ৷ ধণী বাবার বিগড়ে যাওয়া ছেলে ৷ কিন্তু তার খারাপ রূপটাকে কেউ জানেনা ৷ তার ভালো রূপটাকেই সবাই চিনি ৷ এই শিহাবের সাথেই মোনামীর বাবা তার বিয়ে ঠিক করে ৷ কিন্তু তিনি জানতেন না যে, হাসান সাহেবের সবই অবৈধ পথে অর্জিত ৷ শিহাবের এই বিয়েতে প্রথমে অমত থাকলেও, মোনামীকে দেখার পর বিয়েতে রাজ্বি হয়ে যায় ৷ মোনামীও প্রথমে এই বিয়েতে রাজ্বি ছিল না ৷ কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে ৷ সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ মোনামী আর শিহাবের এ্যাংগেজমেন্ট হয় আর তিনমাস পর তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয় ৷ এরই মাঝে, এ্যাংগেজমেন্টের ২৮ দিন পর গাড়ি এক্সিডেন্ট করে শিহাবের বাবা-মা মারা যায় ৷ তাই, রাসিদুজ্জামান সাহেবই বিয়ের সব আয়োজন করেন ৷
বিশাল আয়োজন করেন একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা ৷ আজ তাই মোনামীর বিয়ে হচ্ছে ৷ বিয়েতে অনেক লোকজন এসেছে ৷ এর মাঝে আরেকজন লোক এসেছে যাকে কেউই চিনেনা ৷ লোকটাও অদ্ভুদ ৷ চোখে কালো চশমা, মুখে নকল দাড়ি-গোঁফ লাগানো, আর গাঁয়ে একটা কালো শাল জড়ানো ৷ যদিও তেমন ঠান্ডা এখনো পড়ে নি ৷ তবে মোনামী লোকটাকে চিনে ৷ লোকটা সারাটা সময় মোনামীর দিকেই চেয়েছিল ৷ অবশেষে বিয়ের সব কাজ শেষ হলো ৷ এখন, বিদায়ের পালা ৷ বিদায় বেলায় সেই লোকটি সবার অগোচরে মোনামীর হাতে একটি চিরকুট ধরিয়ে দেয় ৷ চিরকুটে একটা হাসির ইমু আঁকা ছিল ৷
মোনামী এখন শিহাবের রূমে ৷ তার এখানে দম বন্ধ হয়ে আসছে ৷ তবু যে করেই হোক একটি বছর পার করতেই হবে ৷ তাই, সে শিহাবের সাথে আদর্শ স্ত্রীর মতই আচোরণ করতে থাকে ৷ শিহাব তার বাবার ব্যাবসা বুঝে নেয় ৷ সে তার বাবার থেকেও ভয়ানক হয়ে উঠে ৷ মানুষের জীবন তার কাছে কিছুই নয় ৷ বিয়ের ১৫ দিন পর তারা সুইজারল্যান্ডে ঘুরতে যায় ৷ আর সেখানেই শুরু হয় শিহাবের মৃত্যু ঘন্টা ৷ সেখানে তারা ১ মাস থাকে ৷ মোনামী সুইস এ থাকাকালীন শিহাবের জন্য এক জোড়া জুতো কিনে ৷ জুতোর দাম যদিও ছিল ১৭ হাজার টাকা কিন্তু এই জুতো বানাতে খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা ৷ যা মোনামী নিজে অর্ডার দিয়ে বানিয়েছে ৷ বড়ই অদ্ভুদ ব্যাপার ৷ তারা দেশে ফিরে আসে ৷ সব কিছুই ঠিকমত চলতে থাকে ৷ শিহাব যখন এই জুতো জোড়া পড়ে, তার গায়ে অন্যরকম এক অনুভূতি হয় ৷ সে এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নেয় ৷ মোনামী-শিহাবের জন্য যে জুতো জোড়া এনেছিল সেটা বিশেষভাবে তৈরী ছিল ৷ জুতোটা পড়ার পর জুতার পিছন দিকটা গোড়ালির চাপ লেগে কিছুটা নিচে নেমে যেত ৷ আর পিছন দিকটায় অদ্ভুদ ডিজাইন করে একেবারে সুক্ষ্ম ৬টি ছিদ্র ছিল ৷ যা খালি চোখে বুঝা অসম্ভব ৷ শিহাবও এটা বুঝতে পারে নি ৷ এই জুতোর পিছনে সাপের বিশ ছিল যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে কাজ করত ৷ জুতাটা পড়ার পর গোড়ালির চাপ লেগে সেই তরল বিশটা বের হয়ে পায়ে লেগে যেতো আর তা সারা শরীরে প্রভাহিত হতো ৷
এভাবে প্রায় ৬ মাস কেটে যায় ৷ এর মাঝে মোনামী একবার প্রেগনেন্ট হয়ে পড় ৷ কিন্তু শিহাবকে না জানিয়েই এবোরশান করে ফলে ৷ একদিন শিহাব-মোনামী এক পার্টিতে যায় ৷ সেখানে, শিহাব সেন্সলেস হয়ে পড়ে ৷ তাকে দ্রুত হসপিটালে নেয়া হয় ৷ ডক্টররা শিহাবকে বিশ্রামে থাকতে বলে ৷ তেমন কিছুই ধরা পড়ে না কিন্তু মোনামী জানে বিষ তার কাজ করা শুরু করে দিয়েছে ৷
এভাবে আরো দু'মাস কেটে যায় ৷ শিহাব হঠাত আরেকদিন সেন্সলেস হয়ে পড়ে ৷ কিন্তু তার সেন্স আর ফিরে নি ৷ খবর পেয়ে মোনামী দ্রুত সেখানে ছুটে যায় ৷ আর সাথে নেয় ঐ জুতো জোড়ার মত আরো এক জোড় জুতো ৷ সে হসপিটালে পৌঁছে বিশমিশ্রিত জুতো খুলে ওই রকমের নরমাল জুতোটা পড়িয়ে দেয় ৷ আর পায়ের থেকে বিশের দাগও মুছে দেয় ৷ ডক্টরা শিহাবের নরমাল মৃত্যু ঘোষণা করে ৷ শিহাবের মৃত্যুর পর তার সব কিছুর মালিক হয় মোনামী ৷ কিন্তু সে এক কানা করিও নেয় নি ৷ সব কিছু দান করে দেয় ৷ মোনামী আজ তার উদ্দেশ্যে সফল ৷ সে তার প্রতিশোধ নিতে পেরেছে ৷ কিন্তু শিহাবের কি দোষ ছিল ? কেনইবা তার এমন করুণ মৃত্যু হলো ? আর মোনামীর প্রতিশোধের কারণটাই কি ?
তো মোনামীর প্রতিশোধের কারণ জানতে চলে যাওয়া যাক ১১ মাস আগে ৷ মোনামীর একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল ৷ ছেলেটির নাম হলো রাহুল ৷ ছেলেটির এই পৃথিবীতে কেও ছিল না ৷ মোনামীই ছিল তার সব ৷ আর রাহুলও ছিল মোনামীর জীবন ৷ শিহাবের সাথে মোনামীর বিয়ের দিন যে অদ্ভদ লোকটি এসেছিল, সেই হলো রাহুল ৷ কিন্তু সে এভাবে কেনো এসেছিল ? শিহাবের সাথে মোনামীর বিয়ে ঠিক হওয়ায়, মোনামী ঠিক করে রাহুলের সাথে পালাবে ৷ একদিন শিহাব, রাহুল আর মোনামীকে পার্কে দেখে ফেলে ৷
এরপর সব খুঁজ খবর নিয়ে রাহুল আর মোনামীর ৩ বছরের সম্পর্কের কথা জেনে যায় ৷ এরপর, শিহাব, রাহুলকে কিডনাপ করে ৷ ১০ দিন ধরে রাহুলের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না ৷ এদিকে মোনামী কোথাও রাহুলের খোঁজ না পেয়ে চিন্তায় অস্থির ৷ ১১ তম দিনে রাহুলকে রাস্তায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায় ৷ লোকজন তাকে হসপিটালে নিয়ে যায় ৷ ৫ দিন পর রাহুলের সেন্স ফিরে ৷ এদিকে মোনামীর অবস্থা শেষ প্রায় ৷ ডক্টররা রাহুলের পকেট থেকে একটি নম্বর লেখা চিরকুট পায় ৷ নম্বরটি ছিল মোনামীর ৷ কল করে মোনামীকে সব জানায় ৷
মোনামী দ্রুত হসপিটালে ছুটে যায় ৷ গিয়ে সম্পূর্ণ হতবিম্ব হয়ে যায় রাহুলকে দেখে ৷ যে ছেলেটা নেশা কি তাই জানতো, সেই ছেলেটাই ড্রাগ নেয়ার জন্য চিতকার করছে ! ! ! আর মুখেই বা এতো কাটার দাগ কেনো? এভাবে, আরো ৫ দিন কেটে যায় ৷ এরপর, রাহুল কিছুটা স্বাভাবিক হয় ৷ আর মোনামীকে তার এই অবস্থার কথা জানায় ৷ রাহুলের কথার সারমর্ম ছিলো, বাসায় ফেরার পথে কিছু লোক তাকে কিডনাপ করে কোথাও নিয়ে যায় ৷ সেখানে, একটি ছেলে ছিল, যে নিজেকে শিহাব বলে পরিচয় দেয়, আর মোনামীর সাথে তার বিয়ের কথা বলে ৷ এরপর, শিহাব, তাকে অধিক পরিমানে ড্রাগস দিতে থাকে ৷ আর মুখে ধাঁরালো ছুড়ি দিয়ে কাটতে থাকে ৷ এভাবে ১০ দিন অত্যাচার করার পর তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে দেয় ৷ এসব কিছু শুনে, মোনামী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ৷ আর তখনই ঠিক করে, শিহাবকে তার প্রাপ্য শাস্তি দিবে ৷ আর মোনামী সফলও হয়েছে ৷ মোনামীর বিয়ের পর দিনই সে রাহুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফ্রান্সে পাঠিয়ে দেয় ৷ এরপর, ৩ বছর কেটে যায় ৷ এর মাঝে মোনামীকে তার মা-বাবা আবার বিয়ে দিতে চায় কিন্তু মোনামীর এক কথা সে বিয়ে করবেনা ৷
আজ, ৪ বছর পর রাহুল দেশে ফিরছে ৷ ফ্রান্সে উন্নত চিকিতসার ফলে রাহুল আজ সুস্থ ৷ তার মুখ সার্জারির মাধ্যমে আগের মত হয়ে গিয়েছে ৷ তবু ঐ দিন গুলোর কথা মনে করে তার মন আতকে উঠে ৷
মোনামী আগে থেকেই এয়ারপোর্টে রাহুলের জন্য অপেক্ষা করছে ৷ আজ যে তার পরম সুখের দিন ৷ ঐতো রাহুলকে আসতে দেখা যাচ্ছে ৷ মোনামী দৌড়ে গিয়ে রাহুলের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৷ তার চোখ গিয়ে অশ্রু ঝড়তে শুরু করে ৷ রাহুলও আজ অনেক খুশি ৷
এরপর, রাহুল-মোনামীর বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় ৷ আর মোনামীও যেহেতু রাজি, তাই রাসিদুজ্জামান সাহেব তাদের বিয়ে দিয়ে দেন ৷ রাহুল আর মোনামী সব কিছু ভূলে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করে ৷
সেই পুরানো ভালবাসা
সেই পুরানো অনুভূতি,
সেই পুরানো গানের সুর
তবুও নতুন করে চলা,
নতুন জীবনে তোমাকে
নতুন করে পাওয়া ৷
এভাবেই পাশে থেকো সারাটি জীবন
করে রেখো আমাকে আপন ৷
(সমাপ্ত
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪২
কালীদাস বলেছেন: লেখার প্লটটা খুব আনকমন না এবং আপনার লেখনিটাও দুর্বল ছিল প্লটটাকে আরও শার্পলি প্রকাশ করার জন্য।
ব্যাপার না, বেটার বি নেক্সট টাইম