| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজকাল ছেলে মেয়েরা জন্ম নেয়ার পর থকেে বাংলা ভাষার পরিবর্তে হিন্দী কথা বলা শুরু কর হিন্দী সরিয়িাল দেখতে দেখতে বাংলা ভাষার যে আলাদা কোন ভার্বাথ আছ,সেটা বাঙ্গালী জাতি ভুলে যতেে বসেছে । এখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরে দেখলে মনে হয়, হিন্দী ভাষা বলতে না পারলে যেন তাদরে জীবনটাই বৃথা। সন্ধার পরে নব্বই ভাগ বাংগালীর ঘরে জ্বি বাংলা, স্টার জলসা, স্টার প্লাস চ্যানলেরে সামনে মহিলারা বুঁদ হয়ে বসে থাকে। সন্ধা ৭ টা থকেে শুরু করে রাত ১২ টা র্পযন্ত একটার পর একটা সিরিয়াল চলতইে থাক।নিজেরে সংসারের সব কাজর্কম বাদ দিয়ে রাশি,মেঘলা, ময়না, পাখি (সিরিয়ালের নায়িকা) দের সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজের পতী সারাদিন পরিশ্রম করে বাসায় এসে কি খাবে, নিজের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করছে কিনি, সেদিকে কোন খেয়াল নইে। বেশীরভাগ সিরিয়ালেই দেখা যায় মহিলারা বাজারের সবচেয়ে দামী দামী শাড়ীগুলো পড়ে বই-শাশুরীর সাথে,ভাবী-ননদের সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া করে এবং যত ধরনের দুস্টু বুদ্ধি আছে এগুলো বের করে। আরো দেখা যায় পরকীয়া প্রেমের খারাপ দৃশ্য। এই সিরিয়াল আসক্তিটক্ষ এখন ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে । গ্রামের অনেক বাড়ীতে দেখা যায় দুই বেলা দুই মুঠো খেতে পারেনা কিন্তু সিরিয়াল উপভোগ করার জন্য টিভি কেনা হয়ে গেছে । এই সিরিয়াল এর শক্ত প্রভাব টা পড়ছেে আজকে প্রতিটি বাংগালীর ঘরে ঘরে । সিরিয়াল দেখার পর স্ত্রীরা স্বামীদের কাছে নতুন নতুন বায়না করে, সিরিয়াল অনুকরণ করতে গিয়ে সারাক্ষণ স্বামীর সাথে,অন্যান্য সদস্যদরে সাথে কুটচালে মত্ত থাক।গত কয়কে ঈদে দখেলাম বাজারে বিক্রি হচ্ছে রাশি শাড়ী, মেঘলা লেহেঙ্গা, পাখি ড্রেস এবং এগুলো মালিকরা দেদারছে বিক্রি করছে । আরো অবাক লাগে এই সিরিয়ালগুলো দেখার পর পাগলা দর্শকদরে ভাব ভঙ্গিমা দেখে । কেউ কেউ মন খারাপ করে অশ্রু বিসর্জন দয়ে। সিরিয়াল এর কোন নায়ক কিংবা নায়িকার করুণ পরিনতি দেখে বেদনার শেষ নেই। একদিন পত্রিকায় একটি খবর দেখলাম কোন এক জায়গায় বন্যার পানিতে হাটু পরমিাণ জমেছে।কিন্তু দেখা গেছে টেবিল এর উপরে বসে মহিলারা সিরিয়াল উপভোগ করছেন। কোন একটা জাতিকে ধ্বংস করতে হলে নাকি প্রথমে তার সংস্কৃতিকে ধ্বংশ করতে হয়। আমাদের সংস্কৃতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আমরা মুখে বড় করে মুক্তিযিুদ্ধের চেতনার কথা বলি,ভাষার ইতিহাসের গৌরবের কথা বলি,বাংলা সংস্কৃতি এবং ঐতহ্যিরে কথা বলি।কিন্তু তা শুধু ২৬ শে র্মাচ, ২১ শে ফেব্রেয়ারী, ১৬ ই ডিসেম্বর এবং ১লা বৈশাখ এর জন্য বরাদ্দ। প্রকৃত পক্ষে আমরা ভারতীয় এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে এমন ভাবে আষ্টে-পৃষ্ঠে ধারণ করেছি, এখান থকেে বের হওয়ার কোন উপায় নেই। র্দীঘ ৯ মাস সংগ্রামের পর অনেক বীর শহীদের রক্তের বিনিময়ে যদিও আমরা স্বাধীন হয়ছেি কিন্তু মনের অজান্তে আমরা আরেকটা দেশের পেটের ভিতর ঢুকে গেছি।এখন এন্ড্রুকশিোর, সাবনিা ইয়াসমনি, রুনা লায়লা, আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল হাদীদের চেয়ে অরজিৎ সিং, হানি সিং, মিকা সিং, জিৎ গাঙ্গুলি আর বাপ্পি লাহিড়িরা বশেী জনপ্রিয়। এখন বলউিডে কোন সিনিমে মুক্তি পাওয়ার আগেই এর ব্যবসা কতটুকু ভাল হবে, শাহরুখ, সালমান, আমির, অক্ষয় কি রকম ঝলক দেখাবে ? কারিনা, ক্যাটরিনা, দিপীকা কি কাপড় পড়বে তা নিয়ে বাদানুবাদ করতে গিয়ে পেটের ভাত হজম করে ফেলি । কিছু দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম ভাষা দিবস উপলক্ষে ১টা বহু তারকা হোটলেে র্অধ নগ্ন মহিলাদের নিয়ে ফ্যাশন শো এর আয়োজন করা হয়ছেে এবং তার সাথে নাকি বাজানো হয়ছেে হিন্দী হিট গান গুলি। এই সংস্কৃতির প্রভাবটা সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু স্তরে র্সবত্র ছড়িয়ে পড়ছে । গত বৎসর বাঙ্গালী জাতি অবাক বিস্ময়ে উপভোগ করেছে বাংলাদেশে প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এ ভারত থকেে আমদানী কৃত র্অধ নগ্ন মহিলাদের অশ্লীল নৃত্য এবং বলিউডের হিট নায়ক নায়িকাদের পদচারনা। এবং এই অনুষ্ঠান সাধারণ জাতির সাথে উপভোগ করছেনে মন্ত্রী সাংসদ থকেে শুরু করে সরকাররে র্সবােচ্চ আমলারা র্পযন্ত। আমদানী কৃত অতিথিদের জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশের সবচয়েে অভিজাত হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে আর আনুষাঙ্গিক খরচের কথা বাদই দিলাম। আর যদি ঠিক উল্টো পিঠে চিন্তা করি ,ভারতে বাংলাদেশের কোন চ্যানেল পাত্তাই পায়না, কোন অনুষ্ঠানে আমাদের দেশের প্রতিথযশা ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়না। আমরা মহান জাতি হিসাবে তাদের সব অবহেলা পায়ে ঠেলে দিয়ে সব কিছু উজার করে তাদের কে আহবান করছি,সত্যিই আমরা মহান ! এই জাতি মুক্তির দিশা আর খুজে পাবে বলে মনে হয়না, যতদিন আমাদরে দেশের তথাকথতি বুদ্ধিজীবি,সংস্কৃতি প্রেমি আর সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোন নির্দিষ্ট দলের লেজুড়বৃত্তি না করে সাদা কালো র্পাথক্য করতে পারবে,ন্যায় অন্যায়ের র্পাথক্য টা বুঝতে পারবে। এই রাহুর করাল গ্রাস থকেে মুক্তি পাওয়া সম্ভব যদি দেশের প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, কোন একটা বিশেষ গুষ্টির পক্ষাবলাম্বন না করে বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে হবে,হিন্দী এবং কলকাতা বাংলা সিরিয়ালের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে হব। শিশু, মহিলা এবং সর্বােপরি সাধারণ জনগণকে সুন্দর, রুচিশীল এবং সাবলীল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে হবে । দল মত নির্বিশেষে সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলেই এর পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে ।।।
©somewhere in net ltd.