| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাড্ডা
নাম:- ইকবাল জিল্লুল মজিদপেশা:- চাকুরী ও চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িতহবি:- সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজে নিয়মিত অংশ নেওয়া, প্রতিদিন কিছু বিষয় ভিত্তিক লিখা,নিয়মীত মেডিটেশন করা
বিশ্ব আজ যেখানটায় দাঁড়িয়ে তা কোনো একক ব্যক্তি, একক প্রতিষ্ঠান বা একক চিন্তার ফসল নয়; বরং এটি বহুমাত্রিক জ্ঞান, সমন্বিত গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দীর্ঘ যাত্রার ফল। ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহ, অস্ট্রেলিয়া কিংবা এশিয়ার অগ্রসর দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে তারা জ্ঞানকে কখনোই একক মালিকানার বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং সেটিকে একটি “collective intellectual ecosystem” হিসেবে গড়ে তুলেছে।
বিশেষ করে মেডিকেল সায়েন্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখানে কোনো একক “authority” নেই। বরং এখানে রয়েছে evidence-based practice, peer review system, multidisciplinary collaboration এবং continuous learning-এর এক শক্তিশালী কাঠামো।
একজন চিকিৎসক, গবেষক বা শিক্ষক কখনোই দাবি করেন না যে তিনি একাই একটি জ্ঞানের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করছেন। বরং তিনি নিজেকে একটি বৃহত্তর জ্ঞানচক্রের অংশ হিসেবে দেখেন, যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য, নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন গবেষণা যুক্ত হচ্ছে।
কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় প্রায়ই একটি ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আমরা যখন কোনো নতুন উদ্যোগ, শিক্ষা পদ্ধতি বা চিকিৎসা চর্চা শুরু করতে চাই, তখন কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের সেই ক্ষেত্রের “sole agent” বা একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই মানসিকতা শুধু সীমাবদ্ধতা তৈরি করে না, বরং জ্ঞানের স্বাভাবিক প্রবাহকেও বাধাগ্রস্ত করে।
একটি মৌলিক সত্য এখানে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে | জ্ঞান কখনোই ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি একটি evolving continuum. যেখানে জ্ঞানকে একক কর্তৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, সেখানে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা কমে যায়, নতুন চিন্তার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাটিই stagnation-এর দিকে চলে যায়। অন্যদিকে যেখানে জ্ঞানকে ভাগাভাগি করা হয়, বিতর্ক ও সংলাপের মাধ্যমে উন্নত করা হয়, সেখানে innovation স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। অতএব, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
“আমি একাই জানি” এই ধারণা থেকে বের হয়ে “আমরা একসাথে শিখছি” এই বোধে আসতে হবে। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক সততা | কারণ, যে ব্যক্তি জানে সে একা সব জানে না সেই প্রকৃতপক্ষে শেখার জন্য প্রস্তুত। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যারা নিজেদের একমাত্র “সোল এজেন্ট” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাদের জন্য বিনয়ের সাথে একটি দৃঢ় বার্তা প্রযোজ্য
একক আধিপত্য দিয়ে জ্ঞানকে আটকে রাখা যায়, কিন্তু উন্নত করা যায় না। বিশ্ব এগিয়ে গেছে কারণ তারা জ্ঞানকে মুক্ত করেছে, ভাগ করেছে, এবং সম্মিলিতভাবে উন্নত করেছে। আমরাও যদি এগোতে চাই, তাহলে আমাদের এই পথেই হাঁটতে হবে। কারণ, জ্ঞানের ভবিষ্যৎ কোনো একার নয় এটি সবার।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১০:৩২
নূর আলম হিরণ বলেছেন: জ্ঞান, শিক্ষা এগুলো ভাগ করলে বৃদ্ধি পায়, সম্বৃদ্ধ হয়।