| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুনতাসির জিও
আমি জিও। কুয়েটে পড়াশোনা করছি, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ । লেখা লেখি খুব বেশি করিনি কখন। এই পথে তাই আমি নতুন। ভাল লাগে বই পড়তে, মুভি দেখতে । নতুন নতুন লেখার চেষ্টা করছি, তাই কেউ পড়ে দু-একটা ভুল বের করে দিলে খুশি হব। অপেক্ষায় রইলাম কারো গঠনমূলক সমালচনার জন্যে। ধন্যবাদ।
গতরাত থেকে রহিম অনেক ব্যস্ত সময় পার করছে । সন্ধ্যায় জব্বার ভাইএর সাথে দেখা হইছিল। ভাই তাকে রেডি হয়ে থাকতে বলেছে । জব্বার ভাই এলাকার নেতা আব্দুল কুদ্দুসের খুব কাছের লোক। ভাই বলছেন কাল সকালে নাকি ম্যালা মাইনশের দরকার হবে । ছাত্ররা নাকি নিরাপদ সড়কের আন্দলোন না কি যেনো করতেছে । সেখানে বাচ্চা পোলাপানদের ঠাণ্ডা করতে হবে । কিন্তু বাইরে থেকে কেউ এসে এই বাচ্চাদের গায়ে হাত তুল্লে নাকি সরকারের ক্ষতি হবে , তাই ভাই বলছে কোন একখান স্কুল অথবা কলেজের জামা যোগাড় করে নিতে । তার পরপরই সে বাইর হয়ে গেছে গাউছিয়ায় । সেখানে ৬০ টাকা দরে ২.৫ গজ সাদা কাপড় কিনছে । তারপর সেইটা বস্তির এক দর্জির কাছে দিয়ে মাপ দিয়ে আসছে ।বলছে কোনো একখান কলেজ ড্রেস বানায় দিতে। সেখানেও আবার ১০০ টাকা খরচ হইছে। অবশ্য খরচ ব্যাপার না। ভাই বলছে কাল সারাদিন কাজ করলে ১০০০ টাকা দেবে। সাথে দুইবেলা বিরানি ফ্রি । আর সাথে আরও ৫ জন নিয়ে যাইতে পারলে আরও ৫০০ টাকা। তাই সে এখন পোলাপান খুজতে বেরইসে। এরপর আরও ঝামেলা রইছে। আবার স্কুল ব্যাগ যোগাড় করতে হবে। সে নিজে কনদিন স্কুলে যায় নাই । পাশের বাসার বাচ্চা পোলার ব্যাগটা ধার নেওয়া যাইত। কিন্তু বদমাইশ হালায়ও আন্দোলনে গেছে। ভাই বলছে কাইল ৫-৭ টা লাশ ফালাইতে পারলে তার নেতারে ধইরা পার্টি কমিটিতে একটা জায়গা কইরে দেবে।
রাতে বিছানায় সুয়ে পড়ছে রহিম। ঘুম আসছে না। এর আগেও সে জব্বার ভাইয়ের কথায় এমন কাজ করেছে। কিন্তু এবারটা এক্টু ভিন্ন, এবার সব স্কুল-কলেজের পোলাপানদের “ঠাণ্ডা” করতে হবে। ঘুম আসছে না দেখে সে উঠে পড়ল । মেশিনটা আগেই জায়গা থেকে বের করে রেখেছিল। এখন মনে হচ্ছে একটু পরিষ্কার করা দরকার।প্রায় ২-৩ মাস ব্যবহার করা হয় না। শেষবার যখন ছাত্রদের আর একটা কি আন্দোলন হল, ভার্সিটির ছেলেপেলে চাকরিতে কোটা নিয়ে না কি নিয়ে আন্দোলন করল , তখন ভালো কাজে দিসিল । এই মেশিনটা অবশ্য ভাইই আনায় দিসিল ।সে অনেক আগের কথা । ৫-৬ বছর আগে শাহবাগে কি নিয়ে আবার জনতা ক্ষেপছিল। যখন তখন খালি “তুই রাজাকার”,”তুই রাজাকার” বইলা শ্লোগান দিতেছিল। তখন রামদা দিয়া বেশ ভালো সার্ভিস দেওয়াতেই জব্বার ভাই খুশি হইয়া এইটা আনায় দিছিল। বিলিতি মাল একদম। তাক কইরা ধইরা ঘোড়াটা একবার টিপে দিলেই খালাস। যাক গা সেসব কথা। এখন ঘুম আসছে ।
সকালে উঠে গোসল করে খেয়ে দেয়ে বের হয়ে পড়ে রহিম। ১৫০ টাকা দিয়ে কেনা স্কুল ব্যাগ টায় বই এর বদলে “জিনিসটি” ঢুকিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে । আজ যে করেই হোক জব্বার ভাইকে খুশি করতেই হবে।
©somewhere in net ltd.