নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভিন্নতার জগতে স্বাগতম.....

মুনতাসির জিও

আমি জিও। কুয়েটে পড়াশোনা করছি, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ । লেখা লেখি খুব বেশি করিনি কখন। এই পথে তাই আমি নতুন। ভাল লাগে বই পড়তে, মুভি দেখতে । নতুন নতুন লেখার চেষ্টা করছি, তাই কেউ পড়ে দু-একটা ভুল বের করে দিলে খুশি হব। অপেক্ষায় রইলাম কারো গঠনমূলক সমালচনার জন্যে। ধন্যবাদ।

মুনতাসির জিও › বিস্তারিত পোস্টঃ

যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০২




“সভ্যতার চাকা ঘোরায় যন্ত্র আর যন্ত্রের চালিকাশক্তি হল যন্ত্রপ্রকৌশলী”-এমন মজার মজার বিভিন্ন উক্তি প্রকৌশল জগতে বেশ প্রচলিত । কমবেশি তা সত্যও বটে । আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থীর সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের প্যাশন, ইচ্ছা, পছন্দ অনুযায়ী বিষয়ে পড়ার । প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট । তাই বেশিরভাগ সময়েই হুট করে পেয়ে বসা কোন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিকভাবে না জেনেই তারা এইসব বিষয়ে পড়া শুরু করে দেয় । ফলাফল? একটি অপার সম্ভবনার মৃত্যু । প্রাপ্তি? একটি হতাশ প্রজন্ম । বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশল সাবজেক্ট পেয়েছে , এমন সংখ্যা নেহাত কম নয় ।তাই যারা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকরিক্ষেত্র সম্পর্কে একদমই জানে না, তাদের একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব । এখানে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন । মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকরিক্ষেত্র এতটাই বিস্তৃত যে এই একটি পোষ্টে সব কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর সুযোগ থাকে না । তাই একদম বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে ।
প্রথমে কিছু মিথ দূর করা প্রয়োজন । আমাদের দেশে কেন জানি লোকমুখে এটা প্রচলিত যে মেকানিকালের নাকি কোন চাকরি নাই । কিভাবে এই কিংবদন্তি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ল ; সেটা জানা নাই, তবে বাস্তব পরিস্থিতি একদমই এমন না । যারা এমনটা বলেন তারা হয়ত কোন রকম তথ্য- উপাত্ত না ঘেঁটেই এমন মনগড়া কথা বলেন ।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় মিথ সম্পর্কে । অনেকেই বলবে মেকানিক্যালে নাকি পড়াশোনা বেশি করা লাগে ।এটা কিছুটা সত্যি । এর কারন হচ্ছে মেকানিক্যালের পড়াশোনার ব্যাপ্তি অনেক বেশি । এই বিষয়ের ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট এত বেশি হবার জন্যেই চাকরির বাজারে এর এতো ভিন্নতা । তাই এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য কষ্ট একটু বেশি করাই লাগবে , এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না ।
অনেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সরাসরি চাকরিতে ঢুকে যায় , আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য যায় । আমরা আমাদের আলোচনার ব্যাপ্তি শুধু চাকরিক্ষেত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখব ।
আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকরিগুলোকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায় ।
১। সরকারি চাকরি
২। প্রাইভেট / বেসরকারি চাকরি
১। সরকারি চাকরিঃ
এখনকার দিনে সদ্য পাসকৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । এর পেছনের কারন হল ভালো স্যালারি রেঞ্জ , চাকরি নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্মান । জাতীয় বেতন স্কেলের অষ্টম সংশোধনীর মধ্যে দিয়ে একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে । ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার বেতন হয় অনেকটা এরকমঃ
গ্রেড পরিমাণ (টাকা)
০১ ৭৮,০০০
০২ ৬৬,০০০
০৩ ৫৬,০০০
০৪ ৫০,০০০
০৫ ৪৩,০০০
০৬ ৩৫,০০০
০৭ ২৯,০০০
০৮ ২৩,০০০
০৯ ২২,০০০

সরকারি চাকরিকে আবার দুইটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে । একটি হচ্ছে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি পাওয়ার প্লান্ট অথবা সরকারি মালিকানাধিন কলকারখানা অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ যে কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরি । এই চাকরিগুলোর ক্যারিয়ার সেফটি যথেষ্ট ভালো । তাই এইসব চাকরিতে ঢুকে চাকরি শঙ্কায় পড়তে হয় না কখনই ।
২। প্রাইভেট/ বেসরকারি চাকরিঃ
সরকারি চাকরিতে যাদের অনীহা তাদের মধ্যে বেসরকারি বা প্রাইভেট চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় । বড় অঙ্কের স্যালারির পাশাপাশি চাকচিক্যে ভরপুর অফিস , স্যুটেড-বুটেড কর্পোরেট লাইফ কে না চায়? সরকারি চাকরির মতো প্রাইভেট জব সেক্টরটি কেও দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় ।
প্রথমটিকে ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ চাকরি বলা যেতে পারে ।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইসব প্রতিষ্ঠান ব্যাক্তি মালিকানায় অথবা কোন সংস্থার দ্বারা গড়ে ওঠে ।অটোমোবাইল সেক্টরে রানার মোটর, উত্তরা মোটর, এসিআই মোটর, নিলয় মোটর, আফতাব অটোমোবাইল, রহিমা আফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের মতো ভালো মানের কিছু কোম্পানি আছে । অটোমোবাইল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এইসব কোম্পানিতে মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বেশ ভালো সুযোগ থাকে । ফার্মাসিটিক্যাল সেক্টরে বেক্সিমকো, স্কয়ার , রেনাটা, বেকন, একমি, রেডিএনট, ইন্সেপটার মতো ভালো ভালো কোম্পানি রয়েছে যারা প্রতিবছর অনেক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয় । সেই সাথে কিছু সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ার প্লান্টও আছে যেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয় । এছাড়া টেক্সটাইল সেক্টর, আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস) সেক্টরে চাকরি করার সুযোগ অনেক । আবার হোম অ্যাপ্লায়েন্স নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বিরাট একটি ক্ষেত্র রয়েছে ।
দুইটি ভাগের দ্বিতীয়টি কে মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিভিত্তিক কোম্পানি বলা যেতে পারে । মূলত যে কোম্পানি গুলোর পন্যের বাজারের ব্যাপ্তি পুরো বিশ্বজুড়ে থাকে তাদেরই মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিভিত্তিক কোম্পানি বলা হয়ে থাকে । এই চাকরিগুলোও অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে । বহু আকাঙ্খিত কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হল ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্যাট (ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো) বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা শু’স , নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, আরএকে পেইন্টস, বারজার পেইন্টস, শেভ্রন বাংলাদেশ ইত্যাদি ।

কারো শিক্ষক হবার ইচ্ছা থাকলে সে ইচ্ছা পূরণের সুযোগও রয়েছে । তবে এক্ষেত্রে সিজিপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড । বেশ ভালো সিজিপিএ ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই শিক্ষকতার জন্য আবেদন করা যায় না । এক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রথম সারির ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে ব্যাতিক্রমও লক্ষ্য করা যায় ।

এছাড়াও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও চাকরি করার সুযোগ রয়েছে । অনেকে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রাজুয়েশন শেষ করে এমবিএ করে । একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সাথে এমবিএ-র কম্বিনেশনকে অনেকক্ষেত্রে বেশ ভালো রকম অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ।এছাড়া ব্যাংক সেক্টরে চাকরির সুযোগ থাকে , অথবা বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করে (যেটি আবার কিনা একটি সরকারি চাকরি) একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার পাশাপাশি একজন মিলিটারি সদস্য হবার গৌরব অর্জন করা যায় ।
আমাদের দেশে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর চাকরির ক্ষেত্র প্রায় এগুলই । এর বাইরে যে থাকতে পারে না , এমনটি নয় । তবে একদম প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।


মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: দিন শেষে যোগ্যরাই টিকে থাকবে।

২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩১

মুনতাসির জিও বলেছেন: অবশ্যই, যোগ্যতা, দক্ষতা, জ্ঞান না থাকলে শুধু সাবজেক্টের কারনে কেউ টিকে থাকতে পারবে না ।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.