| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—এ দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মানচিত্রের কেন্দ্র, জাতির বিবেকের প্রতীক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ কেবল একটি প্রশাসনিক চেয়ার নয়; এটি নৈতিক দৃঢ়তা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। সেই জায়গা থেকেই প্রশ্ন ওঠে—রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে কোনো দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে এমন সাক্ষাৎ কি আদৌ প্রয়োজন ছিল?
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘স্থিতিশীলতা’ ও ‘নিরাপত্তা’র কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা কখনো রাজনৈতিক দরবারে গিয়ে রক্ষা করা হয়নি। বরং বারবার তা রক্ষা হয়েছে উপাচার্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে। পাকিস্তান আমলে লৌহমানব খ্যাত আইয়ুব খানের দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি—কারণ তিনি জানতেন, ক্ষমতার কাছে মাথা নত করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।
আজ সেই মেরুদণ্ড আরও শক্ত হওয়ার কথা ছিল। শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন প্রকল্প বা ডাকসু—এসব বিষয়ে আলোচনা কি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই, প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে হতে পারত না? রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে ‘পরামর্শ ও সহযোগিতা’ চাওয়ার বার্তা শিক্ষার্থীদের কাছে কী সংকেত দেয়? এতে কি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমান্তরাল অংশীজন হিসেবে হাজির করছে না?
আরও বিস্ময় জাগায়—খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত কর্মসূচির বিবরণ রাজনৈতিক নেতাকে জানানো। শোক ও স্মরণ যদি প্রাতিষ্ঠানিক হয়, তবে তার বৈধতা রাজনৈতিক স্বীকৃতির ওপর কেন নির্ভর করবে?
এই দেশ বারবার প্রমাণ পেয়েছে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ত দিয়েই রাষ্ট্রের বাঁকবদল হয়েছে। কিন্তু রক্ত দেওয়ার দায়িত্ব কি কেবল ছাত্রদেরই? জাতির মেরুদণ্ড গড়ার ভার যাদের ওপর, তাদের কি আরও শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সময় আসেনি?
এভাবে চললে সত্যিই মনে হয়—এ দেশের কিছু হবে না। আমাদের ছেলেমেয়েদের শুধু রক্ত দেওয়াই সার।
©somewhere in net ltd.