নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাসাদ: চোখের আড়ালের বিষ

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০২


আমরা সাধারণত বদনজরকে ভয় পাই। মনে করি—কারও চোখ লাগলেই বুঝি সব নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বদনজরের চেয়েও ভয়ংকর, আরও গভীর ও আরও ধ্বংসাত্মক একটি ব্যাধি আছে—তার নাম হাসাদ।

হাসাদ (Hasad) একটি আরবি শব্দ। অর্থ—হিংসা, ঈর্ষা। তবে এটি শুধু হিংসা নয়; এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে অন্যের ভালো দেখে নিজের ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে। অন্যের সুখ, সফলতা, শান্তি—সবকিছুই অসহ্য মনে হয়। শুধু নিজের জন্য তা কামনা করাই নয়, বরং চাওয়া হয়—অন্যের ভালোটা যেন নষ্ট হয়ে যায়, সে যেন কষ্ট পায়।

বদনজর অনেক সময় অজান্তেই হয়। কিন্তু হাসাদ হয় ইচ্ছাকৃতভাবে।
হাসাদ এমন এক বিষ, যা হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

এই মানুষগুলো আপনার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে—
“তুমি তো দারুণ করছ!”
কিন্তু সেই প্রশংসার ভেতরেই থাকবে অদ্ভুত এক কটাক্ষ। অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত প্রশংসা—যেন কথার ভারেই আপনার ভালোটা চাপা পড়ে যায়।

আপনি একটু ভালো কিছু করলেই তারা অস্থির হয়ে ওঠে। আপনার সাফল্য তাদের অনুপ্রাণিত করে না, বরং অস্বস্তিতে ফেলে। তখনই তারা চেষ্টা করে—আপনার চেয়ে ভালো কিছু দেখানোর, আপনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার। আপনার আনন্দ যেন তাদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা।

আপনার যেকোনো অর্জনে তারা এমন ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া দেয়—
“এ আর এমন কী!”
যেন আপনার পরিশ্রম, ত্যাগ বা সংগ্রামের কোনো মূল্যই নেই।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—আপনি ভালো কিছু করলেও তারা ত্রুটি খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। কোথায় ভুল করলেন, কোথায় একটু কম হলো—সেটাই যেন তাদের আনন্দের উৎস। আপনার উন্নতির গল্পে তারা আশীর্বাদ নয়, প্রশ্নচিহ্ন বসায়।

এই মানুষগুলো সামনে বন্ধুর মতো আচরণ করে, কিন্তু পেছনে ব্যাকবাইটিং করে। আপনার নাম উচ্চারণ হয় সমালোচনার সুরে। আপনার যেকোনো কাজে ছোট করার চেষ্টা চলে। ভেতরে ভেতরে একটাই ভয়—
“সে যদি আরও এগিয়ে যায়!”

সবচেয়ে দুঃখজনক সত্য হলো—এই ধরনের মানুষ খুব দূরে থাকে না।
তারা আমাদের আশেপাশেই থাকে। আত্মীয়, পরিচিত, সহকর্মী, এমনকি কাছের মানুষও হতে পারে।
তাদের চাওয়া—
“ওর এটা নষ্ট হয়ে যাক।”
“ওর ক্ষতি হোক।”
“ও ভালো না থাকুক।”

এই নেগেটিভ চাওয়াই একধরনের অদৃশ্য শক্তি। অনেক সময় এই শক্তিই আমাদের জীবনের ভালো জিনিসগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়—মনোবল, শান্তি, আত্মবিশ্বাস।

এই কারণেই হাসাদ এত ভয়ংকর, যে আল্লাহ তাআলা এটাকে হারাম করেছেন।
পবিত্র কুরআনের সূরা ফালাক-এ আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন এই হাসাদ থেকে আশ্রয় চাইতে—

“ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ”
অর্থ: “এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—হাসাদ শুধু মানুষের দুর্বলতা নয়, এটি এক ধরনের অনিষ্ট, যার প্রভাব আত্মা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

তাই প্রয়োজন আত্মসচেতনতা।
কারা আমাদের শান্তি নষ্ট করতে চায়, কারা আমাদের ভালো দেখতে পারে না—এটা বোঝার বুদ্ধি।
একই সাথে নিজের মনকেও পরিশুদ্ধ রাখা—যেন আমরা কারও ভালো দেখে হাসাদে আক্রান্ত না হই।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ভয়ংকর হাসাদ থেকে হেফাজত করুন।
আমাদের অন্তরকে পবিত্র করুন।
এবং সেই সব মানুষদের থেকে দূরে রাখুন, যারা আমাদের শান্তি সহ্য করতে পারে না।

আমিন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.