| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দুঃখীর আলিঙ্গন, ইনসাফের প্রত্যাশা
ফেনীর সেই দৃশ্যটি ছিল হঠাৎ, অপ্রস্তুত—কিন্তু ভীষণ মানবিক। একজন শহীদমাতা আমীরে জামাত ডা. শফিকুর রহমানকে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। আবেগে ভেঙে পড়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছেন। মুহূর্তটুকুতে কোনো রাজনীতি ছিল না, কোনো কৌশল ছিল না—ছিল কেবল একজন সন্তানের শূন্যতায় পাগল হয়ে যাওয়া মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ। দৃশ্যটি অনেকের চোখ ভিজিয়েছে। আমীরে জামাত নিজেও অশ্রুসিক্ত হয়েছেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আদর্শ নয়—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু শরীয়ত নিজেই বলে, চরম আবেগ, মানসিক বিপর্যয় ও অসহ্য কষ্টের মুহূর্তে মানুষের স্বাভাবিক বিবেচনা লোপ পেতে পারে। তখন দায় আর নিয়মকে এক পাল্লায় মাপা যায় না। ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল না, পরিস্থিতিটিও এমন ছিল না যে আমীরে জামাত সহজে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন।
কিন্তু এটাও নিশ্চিত—এই দৃশ্যকে ঘিরে নোংরা রাজনীতি হবে। আমীরে জামাতকে ভিলিফাই করতে গিয়ে শহীদের মাকেও টেনে আনা হবে। এটিই সবচেয়ে নির্মম দিক। যে মা সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছেন, বিচারহীনতার ভার বইছেন প্রতিদিন—তাকে নিয়েও কাদা ছোড়ার রাজনীতি হবে।
বাস্তবতা হলো, জুলাই গণহত্যার বিচার আজও হয়নি। শহীদ পরিবার ও গাজীরা ক্লান্ত, ক্ষতবিক্ষত। তারা নতুন করে কাউকে খুঁজছে—যিনি অন্তত আশার কথা বলবেন, ইনসাফের কথা বলবেন। সেই জায়গায় ডা. শফিকুর রহমান এই শহীদমাতার চোখে একজন ত্রাতা। কেউ ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে নয়, বরং ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয় হিসেবে।
সন্তানহারা মা দুনিয়ার সবচেয়ে দুঃখী মানুষ। তার কাছে প্রতিটি বিচারহীন দিন বিষের মতো, প্রতিটি রাত পাথরের মতো ভারী। সেই মায়ের চোখে যে ব্যক্তি ইনসাফ কায়েম করবে, সে-ই রাজা—ক্ষমতার নয়, নৈতিকতার রাজা।
কবি আল মাহমুদের পঙ্ক্তি মনে পড়ে—
“আল্লার সেপাই তিনি, দুঃখীদের রাজা।”
ডা. শফিকুর রহমান, এই উপাধি কোনো স্লোগান নয়—এ এক ভারী দায়িত্ব। ধাতস্থ হতে হবে, শক্ত হতে হবে। এই মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে শপথ করতে হবে—ইনসাফ থেকে পিছু হটবেন না। গণহত্যাকারীদের বিচারে ভয় নয়, নৈতিক সাহসই হবে পথচিহ্ন।
এই লড়াই বন্দুকের নয়—এ লড়াই ন্যায়, স্মৃতি আর বিবেকের। আর সেই লড়াইয়ে শহীদমাতার দোয়া সবচেয়ে বড় শক্তি।
©somewhere in net ltd.