| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তব অভিজ্ঞতা, ইতিহাসের স্পর্শ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়াকে কাছ থেকে দেখার মধ্য দিয়েও একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটে। সেই উপলব্ধি থেকেই দেবিদ্বার উপজেলার বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা সফরের, যা তাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণার দুয়ার উন্মোচন করেছে।
মাননীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর একান্ত উদ্যোগে সম্প্রতি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৫২ জন মেধাবী শিক্ষার্থী এই শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামরিক সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সরাসরি জানার সুযোগ পায়।
সফরের প্রথম গন্তব্য ছিল জাতীয় সামরিক জাদুঘর। সেখানে প্রবেশ করেই শিক্ষার্থীরা যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গৌরবময় অভিযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সমরাস্ত্র তাদের মুগ্ধ করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের মনে জন্ম নেয় দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং সাহসিকতার নতুন উপলব্ধি।
এরপর তারা যায় দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র মহান জাতীয় সংসদ ভবনে। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই অনন্য স্থাপত্যকর্ম ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়। সংসদ ভবনের আর্কাইভ, গ্রন্থাগার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিদর্শনের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার নানা দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
তবে সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল সংসদের গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যদের আলোচনা, মতবিনিময় এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। অনেকের কাছেই এটি ছিল জীবনের প্রথম সংসদ দর্শন, যা তাদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
দিনের শেষভাগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক আড্ডায় মিলিত হন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনেন এবং মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ উৎসাহব্যঞ্জক উপহার তুলে দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সম্মাননা প্রদান করেন।
এই শিক্ষা সফর শুধু একটি ভ্রমণ নয়; এটি ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাস, দেশপ্রেম, নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক বাস্তব পাঠশালা। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বপ্ন দেখতে, নিজেদের দক্ষতা বিকাশ করতে এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রেরণা জোগাবে। কারণ আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে—আর তাদের স্বপ্ন দেখানোর দায়িত্ব আমাদের সবার।
©somewhere in net ltd.