নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি সামনে এলে- 'বাবা' 'বাবা' বলে খুশিতে লাফাতে থাকো। ভিডিও কলে আমার সাথে কেন কথা বলতে চাও না? কিন্তু কেন? আমি অনেক রাতে বাসায় ফিরি। বাসায় ফিরে দেখি তুমি গভীর ঘুমে। সারাটা দিন আমি অস্থির হয়ে থাকি তোমার জন্য। অথচ তুমি ফোনে আমার সাথে কথাই বলতে চাও না। এটা ঠিক না ফাজ্জা। তুমি তো বোকা নও। তুমি বুদ্ধিমতি মেয়ে। যাইহোক, তোমার স্কুল থেকে বলল, তোমার চোখে সমস্যা আছে। বোর্ডের লেখা বুঝতে তোমার সমস্যা হয়। তোমাকে ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার ভিজিট নিয়েছেন ১৫ শ' টাকা। একটা চোখের টেস্ট করানো হলো- সেখানে লাগলো ২৬ শ' টাকা। ছয় ঘন্টা পর-পর দুটা ড্রপ দিতে বলেছেন। দুটা ড্রপের দাম ৯শ' টাকা। ডাক্তার তোমাকে চশমা পড়তে বলেছেন। চশমায় পাওয়ার আছে। ফ্রেমসহ চশমা বানাতে নিলো- সারে তিন হাজার টাকা। গত তিন-চার মাস তুমি প্রতিদিন লম্বা সময় ধরে টিভি দেখেছো। আমার ধারনা এজন্যই তোমার চোখে সমস্যা হয়েছে। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার চোখে কোনো সমস্যা ছিলো না।

প্রিয় কন্যা আমার-
দেশের পরিস্থিতি ভালো না। এখন ক্ষমতায় বিএনপি। তারেক জিয়া প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এর আগে তারেক জিয়ার মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। খালেদা জিয়া মারা গেছেন। এখনও এক বছর হয়নি। তারেক জিয়া ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রথম দিনই বলেছিলেন- 'we have a plan'. তার প্লানটা কি আজও বুঝতে পারলাম না। ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে উনি কিছু দিন ব্যস্ত ছিলেন। সেই কার্ড কে পেয়েছে, কে পায়নি এবং এই কার্ড দিয়ে কি উপকার আমি জানি না। আমি জানি, বিএনপি ভালো দেশ চালাতে পারবে না। অতীতে যখন তারা ক্ষমতায় ছিলো সেই রেকর্ডও তাদের ভালো না। তখন দেশ বারবার প্রতি বছর দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হতো। এই যে এখন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে গ্যাস, পানি, বিদ্যুই নেই। বাসা বাড়িতে রান্না বন্ধ। আওয়ামীলীগের আমলে এরকম কখনও দেখিনি। আওয়ামীলীগ উন্নয়ন বুঝে। বিএনপি পারলে একটা মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতুর মতোন সেতু বানিয়ে দেখাক। বিএনপি ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকেই দেশে চাঁদাবাজি কয়েক গুন বেড়েছে। আগের চেয়ে বেশি ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। আবার হয়তো দেশে ৬৪ জেলায় বোমা হামলা হবে।

প্রিয় কন্যা আমার-
১৫ আগষ্টে কি হয়েছে শুনো। ১৫ আগষ্ট গ্রেট শেখ মুজিবের মৃত্যু বার্ষিকি। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবকে করুন ও নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। শেখ হাসিনা ও তার বোন রেহানা তখন বিদেশে ছিলেন নইলে তাদেরও হত্যা করা হতো। রাজনীতি খুব খারাপ জিনিস ফাজ্জা। মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। যাইহোক, সেনাবাহিনী এবং ইউনুসের ইশারায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা অনেক বড় ধরনের অন্যায় হয়েছে। শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে, কত বড় সাহস!! আমি নিশ্চিত কোনো একদিন যারা ৩২ নম্বর গুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের বিচার হবে। হবেই। যাইহোক, ১৫ আগস্ট দুই তিনজন সাধারণ মানুষ ৩২ নম্বর ফুল দিতে গেছে। জুলাইযোদ্ধা নামক জারজ সন্ত্রানেরা তাদের পিটিয়েছে। এটা কোনো কথা ফাজ্জা? দেশের জনগন যাদের শেখ মুজিব এবং ৩২ নম্বর ভালো লাগে তারা যাবে না শ্রদ্ধা জানাতে? তারেক জিয়া যদি একজন ভালো মানুষ হতেন তাহলে- ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে যাদের মারা হয়েছে, খারাপ গালাগালি করা হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা দিতেন এবং যারা মেরেছে তাদের গ্রেফতার করতেন। যেই ছাগলেরা নিরীহ মানুষদের মেরেছে, ওদের আমি হাতের কাছে পেলে সাইজ করে দিতাম।

ফাজ্জা, তোমার মায়ের একটা দুঃখ-
যেদিন আমার অফিস বন্ধ থাকে। সেদিন বিকেলে আমি আর তুমি বেড়াতে যাই। তোমার মাকে সাথে নিই না। হা হা হা। ফাজ্জা সারা সপ্তাহ আমি ব্যস্ত থাকি। একদিন সময় পাই। সেদিনটা আমি শুধু তোমার জন্য রেখেছি। তাছাড়া সারাদিন তোমাকে পাইও না। তুমি স্কুল থেকে ফিরতে ফিরেত দুপুর হয়ে যায়। তাই তোমাকে নিয়ে বিকেলে বের হই। ইচ্ছামতো ঘুমাঘুরি করি। তুমি যা খেতে চাও, যা কিনতে চাও- মানা করি না। দুনিয়াতে তুমিই আমার একমাত্র আনন্দ ফাজ্জা! তোমার মাকে সাথে নিলে এটা কিনে দিও না। এটা খাওয়ার দরকার নাই। তোমাকে বিরক্ত করবে, আমাকেও বিরক্ত করবে। এজন্য তাকে সাথে নিই না। গত সপ্তাহে তোমাকে নিয়ে এক রেস্টুরেন্টে গিয়েছি। আমি অর্ডার করেছি নান রুটি আর হালিম। অনেকদিন হালিম খাওয়া হয় না। সেই রমজান মাসে খেয়েছিলাম! তুমি অর্ডার করেছো- গ্রীল চিকেন আর নান রুটি। অতি সামান্য জিনিস। তোমার মা সাথে থাকলে এটা নিয়েও কাহিনী করতো। বলতো- এই রেস্টুরেন্টের চিকেন ভালো না। রুটিটাও ভালো না। পেটে গ্যাস হবে। ফার্মের মূরগী খাওয়া ঠিক না। ঘরে চলো আমি চিকেন গ্রীল করে দিচ্ছি। নান রুটিও আমি বানাতে পারি। রেস্টুরেন্টের পানিও ভালো না।

প্রিয় কন্যা আমার-
আজ ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ইং। বাংলা তারিখ: ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। বর্ষাকাল শেষ। অর্থ্যাত শরৎকাল চলে এসেছে। শরৎকাল বড় অদ্ভুত ঋতু! এই বৃষ্টি! এই আকাশ ভরা মেঘ! এই আবার কড়া রোদ! মাথা নষ্ট ঋতু। তবে শরৎকালের আবহাওয়া অতি মোলায়েম। শরৎকাল মানে কাশফুল। ফাজ্জা, আজ শরৎকালের দুটা সৃতির কথা তোমাকে বলিব- তখন আমি ফোটোগ্রাফী করি। ছবি তুলে-তুলে বিশ্বসংসার তছনছ করে দিবো এমন একটা ভাব। ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে ঘুরি। যখন যেখানে ইচ্ছা চলে যাই। ছবি তোলার ভালো সাবজেক্ট পেলে ছবি তুলি। সেদিন ছবি তোলার জন্য ঢাকা এয়ারপোর্টের পেছনের এলাকায় যাই। দিয়াবাড়ি জায়গাটার নাম- হয়তো। ছবি তোলার অনেক বিষয় আছে কিন্তু ছবি তুলতে পারছি না। এই রোদ, এই মেঘ! আকাশ ভরা মেঘ! আবার মুহুর্তেই মেঘ সরে যাচ্ছে। রোদ দেখা যাচ্ছে। এজন্যই রজনীকান্ত সেন বলেছেন- 'মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে'। তখন আমার মাথার চুল অনেক লম্বা ছিলো। আকাশ ভরা মেঘ কেটে যাক অপেক্ষা করছি। একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। অল্প অল্প বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। শরৎ একটা পাগলা ঋতু।

শরৎকালের দ্বিতীয় গল্পটা-
ফাজ্জা তোমার মা তো এখন রীতিমতো হুজুর। বোরখা হিজাব ছাড়া তার চলেই না। কত এবং কত রকমের হিজাব আর বোরখা যে তার আছে! বোরখা হিজাব দিয়ে নিজেকে বস্তা বন্ধী করে কি মজা পায় কে জানে! ফাজ্জা, একসময় তোমার মা বোরখা হিজাব পড়তো না। বোরখা হিজাব ছাড়াও যে শালীন ভাবে থাকা যায়, সেটা আমি তোমার মাকে দেখেই জেনেছি। যাইহোক, কোন এক শরৎকালে তোমার মায়ের শখ হলো- কাশফুল দেখতে যাবে। অনেক ছবি তুলবে। তোমার মাকে নিয়ে গেলাম কাশফুল দেখাতে। কাশফুল দেখে তোমার মা মুগ্ধ! বাতাস এলেই কেমন নদীর মতোন কাশফুল গুলো দোলে! তোমার মায়ের বেশ কিছু ছবি তুলে দিলাম। সেদিন ছবি গুলো দারুন হয়েছিলো। আমরা রিকশা করে অনেকক্ষন ঘুরলাম। সন্ধ্যায় এক রেস্টুরেন্টে বসলাম। অনেক খাবারের অর্ডার দিলাম। তখন আমার ডায়বেটিস ছিলো না। যা মন চায় খেতে পারতাম। বেশি করে চিনি দিয়ে পরপর দুই কাপ চা খেতাম। সেই দিন গুলো কোথায় গেলো! এখন খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। শুধু হাঁটাহাঁটি করার সময় পাচ্ছি না।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: 'মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে'।
.........................................................................................
৫ বৎসর পরও আবার ১৫ই অগাষ্ট ফিরে আসবে, তখন কি লিখবেন ?

২| ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: হিজাব নিয়ে এত চুলকানি কেন ?

৩| ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১২

হুমায়রা হারুন বলেছেন: খুব ভাল লাগলো পড়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.