নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শুণ্যতার নিচে পিয়ানো শুনি...

রাজসোহান

প্রিয় অন্ধকার, আমার পুরোনো বন্ধু তুমি...

রাজসোহান › বিস্তারিত পোস্টঃ

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি দিয়ে সেখানে নিজেদের নাম লিখতে বসল। জিমি লিখল। শন লিখল। কিন্তু তৃতীয় ছেলেটা, ডেভ বয়েল যখন লিখতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই কালো এক গাড়ি এসে থামে।

এক লোক নামল গাড়ি থেকে। পুলিশের ব্যাজ দেখিয়ে দিল ধমক। বলল, হেই ছোঁড়ার দল রাস্তা নষ্ট করছিস কেন? বাড়ি কোথায়? ভয়ে জিমি আর শন নিজেদের বাড়ির কথা বলে দিল। ডেভের বাড়ি অন্য পাড়ায়। ওকে গাড়িতে তোলা হলো। জিমি আর শন দাঁড়িয়ে দেখল গাড়ি চলে যাচ্ছে। তখন তাদের মাথায় কিছুই আসেনি। গাড়ির নম্বর দেখা বা চিৎকার করে কাউকে ডাকা, কিছুই না।

চার দিন পর ডেভ পালিয়ে ফিরে এসেছিল ঠিকই। কিন্তু সিমেন্টের ওপরে তার নাম আর কোনোদিন সম্পূর্ণ হয়নি। ডেভ শব্দটার প্রথম দুটো অক্ষর, তারপর কিচ্ছু নেই। একদম ফাঁকা। এই শটেই ক্লিন্ট ইস্টউড যেন আড়াই ঘণ্টার পুরো সিনেমা লিখে ফেলেছেন। কারণ এরপর আর কোনোদিন ডেভ বয়েল নামের ঐ বাচ্চা ছেলে বড় হলেও নিজেকে বুঝে উঠতে পারেনি। সিমেন্ট শুকিয়ে গেছে। নাম যেভাবে ছিল, পঁচিশ বছর ধরে ঠিক সেভাবেই থেকে গেছে ওই ফুটপাতে। সবার চোখের সামনে।

পুরো পাড়া ওই অসমাপ্ত নামের ওপর দিয়ে হেঁটে অফিসে গেছে, গির্জায় গেছে, মদের দোকানে গেছে। কেউ একবারও থেমে নিচে তাকায়নি।

নাম দেওয়া মানেই অস্তিত্ব সম্পূর্ণ করা। জেনেসিসে আদম প্রতিটা প্রাণীর নাম রাখেন। নাম রাখার এই ক্ষমতাই তার আসল কর্তৃত্ব। লোকবিশ্বাসে বলে, যে শিশুর নাম রাখা হয়নি, তার ওপর অপদেবতার অধিকার সবচেয়ে বেশি। ইস্টউড এই প্রাচীন বিশ্বাসকে একটা ফুটপাতের ওপর নামিয়ে এনেছেন। ডেভের নাম অসম্পূর্ণ। তাই ডেভের ওপর অন্ধকারের অধিকারই সবচেয়ে বেশি। আর শেষ পর্যন্ত সেই অধিকার দাবি করতে অন্ধকার নিজে আসেনি, এসেছিল তারই এক বন্ধু।

সিনেমা দেখে একটা জিনিস বোঝার কোনো উপায় নেই। মিস্টিক রিভার বোস্টনের এক সত্যিকারের নদী। নাম শুনলে মনে হয় খুব রহস্যময় কিছু। ইংরেজি মিস্টিক শব্দ থেকে আসা। আসলে কিন্তু তা নয়। ভাষাবিদদের মতে এই নাম এসেছে স্থানীয় শব্দ 'মিসি টুক' থেকে। এর অর্থ হলো বিশাল জোয়ারভাটার নদী। সোজা কথায় এমন এক নদী যার জল কখনো এক দিকে বয় না। জোয়ারে ফিরে আসে, ভাটায় চলে যায়, আবার ফিরে আসে।

এটা নিছক কোনো অভিধানের তথ্য নয়। বরং নদীর নামের এই অর্থই সিনেমার ভেতরের একটা গভীর অসঙ্গতি সামনে আনে।

সিনেমার একদম কেন্দ্রীয় দৃশ্যে জিমি মার্কাম তার শৈশবের বন্ধুকে হত্যা করে। নদীতে ফেলে দেওয়ার আগে সে বলে, আমরা আমাদের পাপ এখানেই কবর দিই। এখানেই ধুয়ে পরিষ্কার করি। জিমি ভাবছে সে যেন স্টিক্স নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিক পুরাণের সেই স্টিক্স নদী, যা একমুখী। যেখান থেকে কেউ ফেরে না। যার ওপারে গেলে ফেরার কোনো নৌকা থাকে না। জিমির নিজস্ব ধর্মতত্ত্ব হলো নদী শুধু নেয়, নদী কখনো ফেরত দেয় না।

কিন্তু জিমি যে নদীতে লাশ ফেলছে, তার নামের অর্থই হলো যে নদীর জল দুই দিকে বয়। যে নদী জোয়ারে সবকিছু ফিরিয়ে আনে। এই ভুল বোঝাবুঝিই মূলত পুরো সিনেমা। একটা গোটা পাড়া পঁচিশ বছর ধরে বিশ্বাস করে এসেছে, চেপে রাখলে জিনিস চাপা থাকে। ডুবিয়ে দিলে ডুবে থাকে। অথচ ওদের পাড়ার নদীর নামই ওদের বলে দিচ্ছিল, এখানে যা ফেলবে তা ঠিকই ফিরে আসবে। ওরা নামের অর্থ কোনোদিন জানতে চায়নি। ঠিক যেমন ওরা ডেভকে কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি, হারিয়ে যাওয়া ওই চার দিন তার সাথে ঠিক কী হয়েছিল।

সিনেমার আসল প্রশ্ন কিন্তু এটা নয় যে কে খুন করেছে। আসল প্রশ্ন হলো, একটা গাড়ি যদি তোমার চোখের সামনে এসে থামে, তোমাকে না নিয়ে তোমার পাশের বন্ধুকে তুলে নিয়ে যায়, তাহলে সেই মুহূর্তটা নিয়ে তুমি বাকি জীবন কীভাবে বাঁচবে?

জিমি মার্কাম হয়েছে শিকারি। যে বাচ্চা সেদিন অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে দেখেছিল, সে আর কোনোদিন অসহায় হতে রাজি নয়। সে ছোটখাটো গ্যাংস্টার হয়েছে। জেল খেটেছে। দোকান দিয়েছে। পাড়ার অলিখিত বিচারক বনে গেছে। ক্ষমতা তার কাছে কোনো নৈতিকতা নয়। ক্ষমতা তার কাছে একটা ভ্যাকসিনের মতো। যাতে ওই দিন তার জীবনে আর কোনোদিন ফিরে না আসে।

ডেভ বয়েল হয়েছে চিরকালের শিকার। সে বিয়ে করেছে, বাবা হয়েছে, বেসবল খেলে, হাসে। কিন্তু ভেতরে বারো বছরের ছেলে এখনো ওই অন্ধকার বেসমেন্টে বসে আছে। স্ত্রী সেলেস্টিকে সে বলে, ওই সেলার থেকে যে বের হয়ে এসেছিল, সে ডেভ নয়। এর চেয়ে নিখুঁতভাবে ট্রমার সংজ্ঞা কোনো মনোবিজ্ঞানের বই দিতে পারেনি।

আর শন ডিভাইন হয়েছে সাক্ষী। যে ছেলে সেদিন গাড়ির নম্বর মনে রাখতে পারেনি, সে বড়ো হয়ে হোমিসাইড ডিটেকটিভ হয়েছে। তার পুরো পেশাজীবন আসলে একটাই কাজ। ভালো সাক্ষী হওয়ার প্র্যাকটিস। আর সিনেমার সবচেয়ে নির্মম রসিকতা হলো, সে আবারও ব্যর্থ হয়। সে খুনি ধরে ফেলে ঠিকই। কিন্তু ধরে ফেলার তিন ঘণ্টা আগেই ভুল মানুষ মরে যায়।

জিমি একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা তিনজনই ওই গাড়িতে উঠেছিলাম। এই একটা বাক্যে সিনেমা তার সমস্ত রহস্য খুলে দেয়। ট্রমা শুধু যার সাথে ঘটে তাকেই গ্রাস করে না। যারা দাঁড়িয়ে দেখে তাদেরও শেষ করে দেয়। শুধু যন্ত্রণা আর অপরাধবোধের ভাগ আলাদা আলাদা মানুষের কাঁধে চেপে বসে।

পুরাণের চোখে দেখলে ওই কালো গাড়ি স্রেফ কোনো গাড়ি নয়। গ্রিক পুরাণে পার্সিফোনি মাঠে ফুল তুলছিল। তখন মাটি ফাঁক হয়ে হেডিস রথ নিয়ে উঠে আসেন। তাকে তুলে নিয়ে যান পাতালে। দেবী ডেমিটার মেয়েকে ফেরত এনেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে পার্সিফোনি পাতালের ডালিমের বীজ খেয়ে ফেলেছে। যে পাতালে খেয়েছে, সে আর পুরোপুরি ওপরের জগতের থাকে না। তাই তাকে বছরের একটা অংশ নিচে ফিরে যেতেই হয়। সে ফিরে এসেছে, আবার ফিরেও আসেনি।

ডেভ ওই চার দিনে পাতালের বীজ খেয়ে ফেলেছিল।

সিনেমায় ডেভ নিজেই ব্যাপারটা আরও ভয়ংকরভাবে বলে। সে নিজের কথা বলে তৃতীয় পুরুষে। বলে নেকড়ের হাত থেকে পালিয়ে আসা এক ছেলের গল্প। ভ্যাম্পায়ার আর নেকড়েমানুষের প্রসঙ্গ টানে। এই রূপক মোটেও আকস্মিক নয়। লোককথায় ভ্যাম্পায়ারের নিয়ম একটাই। কামড় খাওয়া মানুষ পরে নিজেই কামড়ায়। নির্যাতিত শিশু বড়ো হয়ে নির্যাতক হতে পারে, এই ভয়াবহ সম্ভাবনা নিয়েই ডেভ প্রতিদিন ঘুমাতে যায়।

আর সিনেমা সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হয়ে যায় এখানেই। ডেভ ওই রাতে সত্যিই একজনকে খুন করেছিল। কাকে? এক লোককে, যে এক কিশোরকে গাড়িতে তুলে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করছিল। অর্থাৎ ডেভ সেই রাতে নিজের অতীতকে খুন করার চেষ্টা করেছিল। সে নেকড়ে হয়ে যায়নি। সে নেকড়ে শিকার করতে গিয়েছিল। আর ঠিক সেই কাজের জন্যই তার গায়ে রক্ত লাগে। সেই রক্তের জন্যই তাকে মরতে হলো।

গ্রিক ট্র্যাজেডিতে, মানুষ অনেক সময় যে গুণের জন্য সবচেয়ে আলাদা হয়ে ওঠে, শেষ পর্যন্ত সেই গুণই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডেভের ক্ষেত্রেও তাই। সে অন্য এক শিশুকে বাঁচাতে গিয়েছিল, ঠিক যেভাবে একদিন তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। অথচ সেই একবার কাউকে বাঁচাতে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আমার নিজের একটা ব্যাখ্যা আছে। ইস্টউড সচেতনভাবে এটা সাজিয়েছেন কিনা আমি জানি না। কিন্তু সিনেমার প্রতিটা দৃশ্য এই ভাবনাকেই প্রতিষ্ঠিত করে। মিস্টিক রিভার একটা ক্যাথলিক আইরিশ পাড়ার গল্প। ক্যাথলিক ধর্মের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং মানবিক আবিষ্কার হলো কনফেশন বা স্বীকারোক্তি। একটা কাঠের বাক্স, একটা জালি, একদিকে পাপী, অন্যদিকে যাজক। তুমি তোমার গোপন অপরাধ মুখে উচ্চারণ করবে। উচ্চারণ করামাত্র সেটা আর তোমার একার থাকবে না। কনফেশন আসলে একটা মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্র। এটা নীরব অপরাধবোধকে ভাষায় রূপান্তর করে, আর ভাষাকে বদলে দেয় ক্ষমায়। এই সিনেমায় প্রতিটা স্বীকারোক্তি হয়। কিন্তু একটাও সঠিক ঠিকানায় পৌঁছায় না।

একটু খেয়াল করুন। যেদিন কেটি মার্কামের লাশ পাওয়া যায়, সেদিন জিমির ছোট মেয়ে নাদিনের ফার্স্ট কমিউনির অনুষ্ঠান। গির্জায় সাদা পোশাক, ফুল, উৎসবের আমেজ। জিমি মেয়ের ওই অনুষ্ঠান থেকে পরে সে আরেক মেয়ের লাশের দিকে দৌড়াচ্ছে। ইস্টউড ঠিক এই দুটো জিনিস একই সকালে রেখেছেন। একদিকে গির্জা, যেখানে শিশুকে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা আর ক্ষমার জগতে ঢোকানো হচ্ছে। অন্যদিকে পার্ক, যেখানে ভাষা চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।

এরপর দেখুন কে কার কাছে স্বীকার করে। ডেভ তার স্ত্রী সেলেস্টির কাছে একটা খুনের কথা স্বীকার করে। কিন্তু সে যে খুনের কথা বলছে, সেলেস্টি শুনছে অন্য খুনের কথা। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি ভুল বোঝা হয়ে যায়। কারণ ডেভ পুরো সত্যি বলতে পারে না, আর সেলেস্টি বাকিটা জিজ্ঞেস করার সাহস পায় না।

তারপর সেলেস্টি তার সন্দেহ নিয়ে যায় জিমির কাছে। যাজকের কাছে নয়, পুলিশের কাছেও নয়। সে যায় জিমি মার্কামের কাছে। অর্থাৎ ওই পাড়ায় কনফেশনের বাক্স গির্জা থেকে সরে গিয়ে জিমির কাছে এসে বসেছে। আর জিমি তো ক্ষমা দেয় না, জিমি শুধু রায় দেয়।

ব্রেন্ডান হ্যারিস ছেলেটা কেটিকে ভালোবাসে। কিন্তু তাদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক। কারণ তার বাবার নামই উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ ওই বাড়িতে। তার মা তাকে বারবার চুপ করিয়ে দেন। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, যে ছেলেটা আসল খুনি, সেই ব্রেন্ডানের ছোট ভাই, তার ডাকনামই সাইলেন্ট রে। সে কথা বলে না। বলতে পারে না।

এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়। পুরো সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাই যেন ওই বোবা কিশোরের ভেতরে আটকে আছে। এর চেয়ে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত একজন পরিচালক আর কীভাবেই বা দিতে পারতেন?

সবচেয়ে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে শনের ফোনে। শনের স্ত্রী লরেন তাকে ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু নিয়মিত ফোন করে। ফোন ধরলে ওপাশ থেকে কোনো শব্দ আসে না। শুধু নিঃশ্বাস। শন তবু কথা বলে যায়। একা, শূন্যতার দিকে। ভাবুনতো, একজন হোমিসাইড ডিটেকটিভ, যার কাজই সারাদিন মানুষের মুখ থেকে কথা বের করে আনা, সে নিজের স্ত্রীর মুখ থেকে একটা শব্দও বের করতে পারে না।

সিনেমার একদম শেষদিকে লরেন কথা বলে। শনের নাম ধরে ডাকে, স্যরি বলে, মেয়ের নাম বলে। পুরো সিনেমায় একমাত্র সফল উচ্চারণ। আর পুরো সিনেমায় এই এক সম্পর্কই টিকে যায়।

সিনেমা শুরু হয় সিমেন্টের ওপর একটা অসম্পূর্ণ নাম দিয়ে। সিনেমা শেষ হয় টেলিফোনে অবশেষে উচ্চারিত একটা নাম দিয়ে। আমার কাছে মিস্টিক রিভার কোনো প্রতিশোধের সিনেমা নয়। রহস্যের সিনেমাও নয়। এটা এমন এক সমাজের গল্প, যারা কনফেশন বাক্স বদলে নদীর পাড় বানিয়ে নিয়েছে। কনফেশনে পাপ উচ্চারণ করে হালকা হতে হয়। নদীর পাড়ে পাপ ডুবিয়ে দিয়ে ভুলে যেতে হয়। প্রথমটা মানুষকে বাঁচায়। দ্বিতীয়টা পঁচিশ বছর পর সুদসহ ফেরত আসে। কারণ ওই নদীতে জোয়ার আসে নিয়মিত।

সিনেমার শেষ দিকের দৃশ্য গত পঁচিশ বছরের আমেরিকান সিনেমার সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্যগুলোর অন্যতম। অথচ সেখানে কোনো রক্ত নেই, চিৎকার নেই, অস্ত্র নেই।

জিমি সদ্য তার নির্দোষ বন্ধুকে খুন করে ফিরেছে। ভেঙে পড়ে সে স্ত্রী অ্যানাবেথকে সব বলে দেয়। এখানেই সে আরও একটা পুরোনো খুনের কথাও স্বীকার করে। অ্যানাবেথ সব শোনে। তারপর যা করে, তা ক্ষমাও নয়, নিন্দাও নয়। সে জিমির মাথা ধরে বলে, তুমি রাজা। তোমার মেয়েরা রাজকন্যা। তুমি চাইলে এই শহর শাসন করতে পারো। সে বলে, তার বাবা তাকে শিখিয়েছিল কীভাবে বুঝতে হয় কোন পুরুষ শক্তিশালী।

শেক্সপিয়ারের লেডি ম্যাকবেথের কথা মনে পড়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু লেডি ম্যাকবেথ খুনের আগে স্বামীকে ঠেলে দেন। তারপর অপরাধবোধে পাগল হয়ে হাত ধুতে ধুতে মারা যান। অ্যানাবেথ আসে খুনের পরে। সে একটুও ভাঙে না। বরং সে খুনকে পবিত্র করে দেয়।

এখানেই আগের ব্যাখ্যাটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জিমি স্বীকারোক্তি নিয়ে এসেছে। কিন্তু সামনে কোনো যাজক নেই। যাজকের জায়গায় বসে আছে তার স্ত্রী। সে জিমিকে ক্ষমা করছে না, বরং রীতিমতো অভিষেক করছে। পাপকে অপরাধের খাঁচা থেকে বের করে সিংহাসনে বসিয়ে দিচ্ছে।

এই সিনেমায় লরা লিনির স্ক্রিনটাইম খুবই কম। কিন্তু এই দৃশ্যেই পুরো সিনেমার নৈতিক দুনিয়া একেবারে উল্টে যায়। এতক্ষণ আমরা দেখছিলাম এক শোকার্ত বাবার মর্মান্তিক ভুল। এই দৃশ্যের পর আমরা বুঝি, আমরা আসলে একটা রাজবংশের জন্ম দেখছি। আর রাজবংশ মানেই উত্তরাধিকার। মানে পরের প্রজন্ম।

বাইবেলের লেভিটিকাসে বছরের প্রায়শ্চিত্তের দিনে দুটো ছাগল আনা হতো। একটাকে বলি দেওয়া হতো। দ্বিতীয়টার মাথায় হাত রেখে যাজক পুরো জনগোষ্ঠীর সমস্ত পাপ উচ্চারণ করে ওই পশুর ওপর চাপিয়ে দিতেন। তারপর সেটাকে মরুভূমিতে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। ওটাই স্কেপগোট। বলির পাঁঠা। এই শব্দের জন্ম ঠিক ওখানেই।

ডেভ বয়েল সেই দ্বিতীয় ছাগল। ঐ পাড়ার আসল পাপ ডেভ নয়। আসল পাপ হলো, পঁচিশ বছর আগে ওরা একটা বাচ্চাকে গাড়িতে উঠে যেতে দিয়েছিল। তারপর ওই ঘটনা নিয়ে কোনোদিন একটা কথাও বলেনি। ডেভকে ওরা ফিরে পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ওরা তাকে কখনোই ফেরত নেয়নি। সে হয়ে গিয়েছিল ওই আলাদা ছেলেটা, যার সাথে ওই ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছিল। সে ছিল চিহ্নিত। সমাজ থেকে আলাদা।

আর বলির পাঁঠার প্রথম শর্তই হলো চিহ্নিত হওয়া। যে সমাজ সংকটে পড়ে, সে একজন চিহ্নিত, সামান্য আলাদা আর প্রতিরোধহীন মানুষকে বেছে নেয়। তার ওপর সবকিছু চাপিয়ে দিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনে। এই শান্তি সত্যিই আসে। সিনেমার শেষে সত্যিই পাড়ায় শান্তি ফেরে। কুচকাওয়াজ হয়। বাচ্চারা হাসে।

কিন্তু এভাবে কেনা শান্তির মূল্য হলো পরেরবার আবার একজনকে লাগবে। এইখানেই সিনেমার দার্শনিক শূন্যতা। গ্রিক নাট্যকার এসকাইলাসের ওরেস্তেইয়া ট্রিলজিতে রক্তের বদলা রক্ত নেওয়ার চক্র চলতেই থাকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম। যতক্ষণ না দেবী অ্যাথিনা এসে মানুষের ইতিহাসের প্রথম আদালত বসান। তিনি ঘোষণা করেন, আজ থেকে প্রতিশোধ ব্যক্তিগত নয়, বিচার হবে প্রতিষ্ঠানের হাতে। ওইখানেই ফিউরিদের রাজত্ব শেষ হয়। জন্ম হয় সভ্যতার।

মিস্টিক রিভারে আদালত আছে, রাষ্ট্র আছে, পুলিশ আছে, শন ডিভাইন আছে। কিন্তু আইন পৌঁছায় দেরিতে। পঁচিশ বছর দেরিতে। আর তারপর আরও তিন ঘণ্টা দেরিতে। ইস্টউড যেন ওরেস্তেইয়া বানিয়েছেন, শুধু তৃতীয় নাটকটা বাদ দিয়ে। অ্যাথিনা আসেননি। ফিউরিরা জিতে গেছে।

এই সিনেমায় অনেকের মনেই দাগ কাটে সিন পেনের সেই গগনবিদারী চিৎকার। পার্কের ভেতর মেয়ের লাশ, বাইরে পুলিশের ব্যারিকেড। জিমি ভেঙে ঢুকতে চাইছে, পুলিশরা তাকে টেনে ধরে রেখেছে। আর সে গলা ফাটিয়ে জানতে চাইছে, "is that my daughter in there!?"

কিন্তু আসল কাজটা করেছে ক্যামেরা। ঠিক ওই মুহূর্তে ক্যামেরা ক্রেনে উঠে সোজা ওপরে উঠে যায়। মানুষগুলো ছোট হতে হতে পিঁপড়ার মতো হয়ে যায়। চিৎকার দূরে সরে যায়। সর্বোচ্চ মানবিক যন্ত্রণার মুহূর্তে ইস্টউড ক্যামেরাকে ঠিক সেই জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে ঈশ্বর দেখেন বলে আমরা কল্পনা করি। আর সেই ওপর থেকে যা দেখা যায়, তা হলো, কেউ নামছে না। কেউ থামাচ্ছে না। ওপর থেকে দৃশ্যটা নিখুঁতভাবে শান্ত। এই শটেই ইস্টউড তার পুরো ধর্মতত্ত্ব বলে দিয়েছেন। এটা হুবহু সেই ১৯৭৫ সালের দৃশ্যটারই পুনরাবৃত্তি, যেখানে দুটো বাচ্চা দাঁড়িয়ে দেখেছিল গাড়িটা চলে যাচ্ছে।

কারিগরির দিক থেকে ইস্টউডের কাজের ধরন নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। এটাই সিনেমার টেক্সচার তৈরি করেছে। ইস্টউড সেটে অ্যাকশন বলেন না। নিচু গলায় বলেন, ঠিক আছে, শুরু করো। কাট বলেও চিৎকার করেন না। অভিনেতাদের অসংখ্য টেক দেন না। প্রথম বা দ্বিতীয় টেকেই তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যান। তিনি মনে করেন রিহার্সালের কাঁচা অস্বস্তিই সবচেয়ে সত্যি। এই বিশাল কাস্ট নিয়ে পুরো সিনেমা তিনি শেষ করেছেন মাত্র চল্লিশ দিনের কাছাকাছি সময়ে।

ক্যামেরায় ছিলেন টম স্টার্ন। তিনি বহু বছর ইস্টউডের ইউনিটে লাইটের কাজ করতেন। ছবির মুখগুলো তাই প্রায়ই অর্ধেক অন্ধকারে ডুবে থাকে। কেউ পুরোপুরি আলোয় নেই এই সিনেমায়, আক্ষরিক অর্থেই।

আবহসংগীত লিখেছেন ইস্টউড নিজেই। বহু মানুষ জানে না, ইস্টউড আজীবনের জ্যাজ পিয়ানোবাদক। নিজের বহু ছবির সুর তিনি নিজেই করেছেন। আনফরগিভেনের ক্লডিয়াস থিম কিংবা ব্রিজেস অফ ম্যাডিসন কাউন্টির ডো আইজ তার হাতেই লেখা। মিস্টিক রিভারের ওই ভারী, ধীর, দুটো নোটে ঝুলে থাকা সুর একজন তিয়াত্তর বছরের বৃদ্ধ পিয়ানোর সামনে বসে লিখেছেন।

পর্দার বাইরের কিছু কথা না বললেই নয়। উপন্যাস লিখেছেন ডেনিস লেহেইন, প্রকাশ ২০০১ সালে। লেহেইন নিজেই বোস্টনের ডরচেস্টারের ছেলে। শ্রমজীবী আইরিশ ক্যাথলিক পাড়ায় বেড়ে ওঠা। বইয়ের ইস্ট বাকিংহাম পাড়া কাল্পনিক, কিন্তু সেটা তার নিজের শৈশবের পাড়াগুলোর একটা নিখুঁত মিশ্রণ। এই লেহেইনই পরে লিখেছেন গন বেবি গন আর শাটার আইল্যান্ড।

চিত্রনাট্য করেছেন ব্রায়ান হেলগেল্যান্ড। তিনি L.A. Confidential-এরও চিত্রনাট্যকার। হেলগেল্যান্ডের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অদ্ভুত ঘটনাগুলোর একটা হলো, একই বছরে তিনি অস্কারও জিতেছিলেন, আবার র‍্যাজিও পেয়েছিলেন। L.A. Confidential-এর জন্য সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যের অস্কার, আর The Postman-এর জন্য সবচেয়ে বাজে চিত্রনাট্যের র‍্যাজি। পরে তিনি দুটো পুরস্কার পাশাপাশি রাখার কথাও বলেছিলেন।

সবচেয়ে কম আলোচিত অভিনেতা হলো মদের দোকানের সেই বৃদ্ধ দোকানদার। অভিনয় করেছেন এলাই ওয়ালাক। এই সেই এলাই ওয়ালাক, যিনি ১৯৬৬ সালে দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলিতে টুকো চরিত্রে ক্লিন্ট ইস্টউডের সাথে পর্দা ভাগ করেছিলেন। সাঁইত্রিশ বছর পর ইস্টউড তাকে পরিচালনা করছেন, মাত্র এক দৃশ্যের জন্য।

কেটির চরিত্রে এমি রসামের বয়স তখন ষোলোর কাছাকাছি। তার স্ক্রিনটাইম সাকল্যে মিনিটকয়েক। অথচ পুরো সিনেমা তার অনুপস্থিতির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।

ছবিটার বাজেট ছিল তিন কোটি ডলারের আশেপাশে। বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছিল তার পাঁচগুণেরও বেশি। ২০০৩ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে মূল প্রতিযোগিতায় গিয়েছিল এই সিনেমা এবং খালি হাতে ফিরেছিল।

অস্কারে পেয়েছিল ছয়টা মনোনয়ন। সেরা অভিনেতা জিতেছেন সিন পেন, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা টিম রবিন্স। একই সিনেমা থেকে সেরা অভিনেতা ও সেরা পার্শ্ব অভিনেতা দুটোই জেতার ঘটনা এর আগে ঘটেছিল ১৯৫৯ সালের বেন হারে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার দশক পর ঘটনাটা আবার ঘটল।

আর একটা কাকতালীয় ঘটনা আছে, যেটা সিনেমার এই ব্যাখ্যা বাস্তব জীবনেও অদ্ভুতভাবে ফিরিয়ে আনে। টিম রবিন্স এমন একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে জীবনে তার সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকরতম ঘটনা কোনোদিন মুখে বলতে পারেনি। সেই টিম রবিন্স অস্কারের মঞ্চে পুরস্কার নিতে উঠে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো মাইক্রোফোন ব্যবহার করে নির্যাতিত মানুষদের উদ্দেশে বললেন, যদি তোমার সাথে এমন কিছু ঘটে থাকে, লজ্জার কিছু নেই, সাহায্য চাও, মুখ খোলো। যে চরিত্র চুপ থেকে মরে গেল, তার অভিনেতা সবচেয়ে জরুরি কথাটা ঠিকই বলে ফেললেন।

সিনেমা শেষ হয় পাড়ার একটা কুচকাওয়াজ দিয়ে। নরম কোমল রোদ, ব্যান্ড, বাচ্চা, পতাকা, সবাই হাসছে। জিমি দাঁড়িয়ে আছে অ্যানাবেথের পাশে। স্ত্রীর হাত তার কাঁধে। জিমি এখন রাজা। রাস্তার উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে শন। সে জানে জিমি কী করেছে। জিমি জানে যে শন জানে। কিন্তু কিছুই হবে না। মামলা হবে না, লাশ পাওয়া কঠিন, সাক্ষী নেই।

শন আঙুল দিয়ে পিস্তলের ভঙ্গি করে জিমির দিকে তাক করে। তারপর ট্রিগার টেপার ভঙ্গি করে। জিমি কাঁধ ঝাঁকায়, হাত ছড়ায়, যেন বলতে চাইছে, তাতে আমার কী!

এই আঙুলের পিস্তল নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। এটা কি হুমকি, নাকি রসিকতা, নাকি আত্মসমর্পণ?

আমার মনে হয় এটার আসল অর্থ আরও ভয়াবহ। এটা বাচ্চাদের খেলা। ওরা তিনজন এই রাস্তাতেই বাচ্চা বয়সে ঠিক এই ভঙ্গিই করত। শেষ দৃশ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, একজন খুনি আর একজন পুলিশ, একটা খুন নিয়ে যা করছে, তা হলো স্রেফ শৈশবের খেলাটাই আবার খেলা। আইন ফিরে গেছে ছেলেখেলায়। রাষ্ট্র আসেনি। অ্যাথিনা আসেননি। শুধু দুটো ছেলে পঞ্চাশ বছর বয়সে আবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে হকি খেলছে।

আর ওই ভিড়ের ভেতর দিয়ে একা হেঁটে যাচ্ছে সেলেস্টি বয়েল। স্বামী নিখোঁজ। কেউ কিছু বলছে না। সবাই ব্যান্ডের দিকে তাকিয়ে আছে। সে মুখ খুলেছিল বলেই তার স্বামী মরেছে, আর এখন সে সত্যিটা জানে। ভিড় তাকে একটুও জায়গা দেয় না।

সবচেয়ে ভয়ংকর ফ্রেম এই সিনেমায় খুনের দৃশ্য নয়। সবচেয়ে ভয়ংকর ফ্রেম হলো একটা কুচকাওয়াজ। কারণ কুচকাওয়াজ মানে হলো সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আর একটা সমাজের স্বাভাবিকতা প্রায়ই কারো একজনের নিখোঁজ হওয়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

প্রশংসার পাশাপাশি দুর্বলতা নিয়েও একটু কথা বলা দরকার। নইলে আলোচনা একপেশে হয়ে যাচ্ছে। সেলেস্টি চরিত্রটা চিত্রনাট্যে যতটা প্রয়োজন ততটা গভীর করে লেখা হয়নি। মার্শা গে হার্ডেন ভয় আর দোলাচল অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু তাকে মূলত একটা টুল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার টুল। তার নিজের ভেতরের দোলাচল আমরা কখনও পুরোপুরি পাই না।

সিন পেনের অভিনয় বিশাল, শক্তিশালী, পুরস্কারযোগ্য। কিন্তু মাঝে মাঝে একটু বেশি লাউড বা বাইরের দিকে। টিম রবিন্সের অভিনয়টা তার পুরো বিপরীত। অনেক বেশি সংযত, অনেক বেশি ভেতরের, আর আমার কাছে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী। যে দৃশ্যে সে ছেলের পাশে বসে গাড়ির কথা বলে, সেখানে রবিন্স প্রায় কিছুই করেন না। শুধু চোখ দুটো হঠাৎ একটু ফাঁকা হয়ে যায়। পুরো সিনেমার সেরা অভিনয় কি এটাই হতে পারে না?

আর সবশেষে, এই গল্প শনের প্রতি একটু বেশিই উদার। তার নীরবতাকে পরিণত বুদ্ধিমত্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে সেটা বন্ধুর অপরাধে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো। সে জিমিকে ছেড়ে দিচ্ছে। আর জিমিকে ছেড়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই পাড়ার পুরোনো অঘোষিত নিয়মটাকেই আবার বৈধতা দিচ্ছে।

মিস্টিক রিভার আমাদের যে প্রশ্ন নিয়ে বসিয়ে রাখে, সেটা খুনি কে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, যে ক্ষতের কথা তুমি কোনোদিন কাউকে বলোনি, সেই ক্ষত নিয়ে তুমি শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাঁচো?

সিনেমার উত্তর বড়ো নির্মম। সেই ক্ষত কোনোদিন সারে। তুমি ক্ষত নিয়েই চাকরি করো, বিয়ে করো, সন্তান মানুষ করো, রোববারে গির্জায় যাও। তারপর একদিন ওই ক্ষতই তোমার হাতে পিস্তল ধরিয়ে দেয়। তোমাকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। তুমি ভাবো, এই নদী সব নিয়ে নেবে, ধুয়ে দেবে, সব শেষ করে দেবে।

কিন্তু ওই নদীর নামের অর্থই হলো, তার জল কখনো একদিকে বয়ে যায় না। জোয়ারে ফিরে আসে, আবার ভাটায় সরে যায়।

পঁচিশ বছর আগে একটা ফুটপাতে একটা নাম অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছিল। কেউ ফিরে গিয়ে বাকি অক্ষরগুলো লেখেনি। শেষ পর্যন্ত পাড়াই সেই নাম সম্পূর্ণ করেছে। সিমেন্টের ওপর নয়, জলের মধ্যে। আর জল কোনো কিছু চিরকাল ধরে রাখে না।

জোয়ার আসবে। সবকিছু ঠিক ফিরে আসবে। শুধু ততদিনে আরেকটা প্রজন্ম বড়ো হয়ে যাবে। যাদের মা তাদের শিখিয়েছে, তোমাদের বাবা একজন রাজা।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.