নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

পোশাক নয়, বক্তব্য হোক মূল্যায়নের মানদণ্ড

১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

সংসদ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির পরিচয়, গ্রহণযোগ্যতা কিংবা দক্ষতা তার পোশাক দিয়ে নয়, বরং তার বক্তব্য, যুক্তি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দিয়ে মূল্যায়িত হওয়ার কথা।

সম্প্রতি সংসদে মহিলা সদস্যদের মধ্যে যারা নিকাব পরেন, তাদের নিয়ে করা একটি মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা - ৬) আজকে মহিলা সাংসদদের মধ্যে যারা নিকাব পরেন , তাদের কটাক্ষ করে বলেছেন, "আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, দুইজনের বক্তব্য শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা।" বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাংসদরা সেটাকে সমর্থন জানিয়ে টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান। মহান সংসদে দাঁড়িয়ে এটা একজন নারীর পোশাকের স্বাধীনতায় স্পষ্ট নগ্ন হস্তক্ষেপ।

মন্তব্যটির সমালোচকরা মনে করেন, এটি শুধু কয়েকজন সংসদ সদস্যকে নয়, বরং সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকেও আঘাত করেছে, যারা ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে বোরকা-নিকাব পরিধান করেন।

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। একজন নারী যেমন ইচ্ছা করলে পশ্চিমা পোশাক পরতে পারেন, তেমনি কেউ বোরকা, হিজাব বা নিকাব পরার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে কাউকে বিদ্রূপ, কটাক্ষ বা হেয় প্রতিপন্ন করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাস্তব জীবনে বহু নারী কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক পরিসরে পোশাকের কারণে নানা ধরনের মন্তব্য ও বৈষম্যের মুখোমুখি হন। যখন জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এ ধরনের বক্তব্য আসে, তখন তা অনেকের কাছে সেই বৈষম্যমূলক মানসিকতারই প্রতিফলন বলে মনে হতে পারে।

অবশ্য কেউ কেউ যুক্তি দিতে পারেন যে সংসদে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল দৃশ্যমান থাকা যোগাযোগকে সহজ করে। কিন্তু সেই বিতর্কও হওয়া উচিত সম্মানজনক ভাষায়, ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে আঘাত না করে।

একটি সহনশীল সমাজে ভিন্ন মত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন জীবনাচরণের মানুষের জন্য সমান সম্মান থাকা জরুরি। পোশাকের কারণে কাউকে ছোট করা নয়, বরং তার চিন্তা, কর্ম ও অবদান দিয়েই মূল্যায়ন করা উচিত। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই— সবাই নিজের বিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে পারবে, অন্যের মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.