নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জুয়েল তাজিম

জুয়েল তাজিম

অলস হবেন, তো হতাশা পাবেন। শুরু করুন,শেষ হবেই। সামনে এগোতে থাকুন, পথ কমবেই।

জুয়েল তাজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক প্রজন্মের উত্থান, নেতৃত্বের নতুন গল্প

১৫ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটেছে, তাদের মধ্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আলোচিত অনেক তরুণ নেতার শিক্ষাজীবনের সূচনা একই সময়ের কাছাকাছি। বিশেষ করে এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের কয়েকজন তরুণ আজ দেশের রাজনীতি, ছাত্রনেতৃত্ব এবং জনপরিসরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।

সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিয়নে বক্তব্য রেখে আলোচনায় আসা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সাদিক কায়েম এই ব্যাচেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। একজন কুমিল্লার একটি স্কুল থেকে, অন্যজন খাগড়াছড়ির একটি মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মাত্র বারো বছরের ব্যবধানে তাঁদের একজন জাতীয় সংসদের সদস্য এবং অন্যজন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতৃত্বের আসনে পৌঁছেছেন।

একই ব্যাচের আরেক পরিচিত নাম নাহিদ ইসলাম। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই তরুণ বর্তমানে দেশের বিরোধী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দেখায়, নেতৃত্ব কখনো শুধু বয়সের ওপর নির্ভর করে না; প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি, প্রস্তুতি এবং সময়কে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।

এই তালিকায় রয়েছেন সার্জিস আলমও। জেলা শহরের বাইরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন। একইভাবে আসিফ মাহমুদ, এস এম ফরহাদসহ আরও কয়েকজন তরুণও নিজেদের মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন।

তাদের সাফল্যের পেছনে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়—দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি। জনসমক্ষে কথা বলার দক্ষতা, রাজনৈতিক সচেতনতা, ইতিহাস ও সমসাময়িক বিষয়ে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে পারদর্শিতা—এসব গুণ একদিনে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে বছরের পর বছর অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেকে গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা।

বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ দ্রুত সাফল্য দেখতে চান। কিন্তু এই প্রজন্মের উত্থান স্মরণ করিয়ে দেয় যে দৃশ্যমান সাফল্যের আগে থাকে দীর্ঘ অদৃশ্য প্রস্তুতি। যারা আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তারা একসময় সাধারণ শিক্ষার্থীই ছিলেন। পার্থক্য হলো, তারা নিজেদের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্য অর্জনের উপযোগী হয়ে উঠেছিলেন।

তাই এই গল্প কেবল কয়েকজন তরুণ নেতার ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি একটি প্রজন্মের সম্ভাবনার গল্প। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যোগ্যতা, প্রস্তুতি এবং অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। আজ যে শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বসে স্বপ্ন দেখছে, আগামী দশকে হয়তো সেই-ই দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে বসবে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সুযোগ আসে অনেকের সামনে; কিন্তু প্রস্তুত মানুষই সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। আর তাই ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি শুরু হয় আজকের দিন থেকেই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.