| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আধ্যাত্মিক সাধক, জাতীয়, শান্তি পরিষদ (জাশাপ) এর (সাবেক) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক ফোরাম এর (সাবেক) প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ওয়াজেদ আলী যুক্তিবাদী বলেন, জাতীয় নির্বাচন দুটি। একটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও অপরটি পার্লামেন্ট নির্বাচন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে দেশ শাসন করে থাকেন। অপরদিকে পার্লামেন্ট পদ্ধতির সরকারের প্রধানমন্ত্রী সরকার প্রধান হয়ে দেশ শাসন করে থাকেন। দেশ স্বাধীনের পরে মরহুম সেখ মুজিবর রহমান সর্ব প্রথম পার্লামেন্ট পদ্ধতির সরকার গঠন করেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। যখন তিনি দেখলেন যে, পার্লামেন্ট পদ্ধতির সরকার দিয়ে দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়ে না তখন তিনিই সর্ব প্রথম সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার চালু করেন ও তিনি প্রেসিডেন্ট হন এবং প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অবস্থায় নিহত হন। এরপর খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, বিচারপতি, সায়েম, মরহুম জেনারেল জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও সর্বশেষ জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ধারাবাহিকভাবে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ১৯৯০ইং সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার বহাল ছিল। সংবিধানের আইন ও নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পার্লামেন্ট নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে করা উচিৎ ছিল। কিন্তু পূর্বের সেই নিয়ম নীতি বিসর্জন দিয়ে ১৯৯১ইং সালে শুধু পার্লামেন্ট নির্বাচন করা হলো। যার ফলে দেশ দুই দলে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল এবং রাজনৈতিক সংঘাত ও নির্বাচনী জটিলতার যাত্রা সেই থেকে শুরু হল এবং কালো টাকার মালিক অসৎ লোক, ঋণ খেলাপি রাজনৈতিক দলের ভিতর ঢুকে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেল। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে,পার্লামেন্ট পদ্ধতির কাড়নে ১৯৯১ইং সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হারুন মোল্লার কাছে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ডঃ কামাল হোসেনের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল। ১৯৯৬ইং সালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মকবুল হোসেনের কাছে ডঃ কামাল হোসেন জামানত হারিয়েছিলেন তার একমাত্র কারণ ছিল পার্লামেন্ট পদ্ধতি জনগণ তখন দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছিলেন। কোন প্রার্থী দেখে নন। পার্লামেন্ট পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থাপনায় যেখানে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা হয় সেখানে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার কোন সুযোগ জনগণের থাকে না প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার চালু করিলে কালো টাকার মালিক, ঋণ খেলাপি, মাস্তান ও অসৎ লোক নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পায় না। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার প্রবর্তন করার পক্ষে ঐক্য-বধ্য হলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিজ নিজ দলের যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ পাবে। ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো বড় দলের সাথে জোটবদ্ধ হওয়া অর্থাৎ নিজ দলের অস্তিত্বকে বিলিয়ে দেয়া। বর্তমানে দেশের সকল সমস্যার স্তাহি সমাধান করতে হলে পার্লামেন্ট পদ্ধতির সরকারের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থাপনায়ে ফিরে যেতে হবে। দেশের সকল রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে একমত পোষণ করতে হবে এবং বর্তমানে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জটিলতা দূর করার উদ্দেশে একটি বারের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে (সরাসরি জনগণের ভোটে) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে করার জন্য একমত হতে হবে। পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বৎসর পর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ঐ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে তিনি অতিরিক্ত ৩ (তিন) মাস (৯০ দিন) ক্ষমতায় থেকে পরবর্তী নির্বাচন দিবেন। তিনি নিজে প্রার্থী হতে পারিবেন না এবং তিনি যদি দলীয় হন তাহলে সেই দলের অন্য কাউকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া যাবে না। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের এক বাক্কে খুশি মনে আমার এই নিয়ম ফর্মুলার প্রতি সমর্থন দিতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, ১৯৮২ইৎ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার যদি ১৯৯১ইৎ সালের মত একজন বিচারপতির অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রার্থী হতেন তাহা হইলে ঐ নির্বাচনে ডঃ কামাল হোসেন বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতেন। ০৩ (তিন) মাস পরে প্রেসিডেন্ট সাত্তারের কাছ থেকে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ জোর করে ক্ষমতা নিয়েছিলেন। ডঃ কামাল হোসেন এর কাছ থেকে জোর করে ক্ষমতা নেওয়া সম্ভব হইত না। বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য রকম রচিত হইত। তিনি আরও বলেন, টকশোতে যারা ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন,তাদের উচিৎ হবে টকশোতে তাহাকে সুযোগ দেয়া। তাহাকে টকশোতে কথা বলার সুযোগ দিলে দেশের সমস্যাবলী যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তুলে ধরতে সক্ষম হতেন এবং দেশ ও জাতি উপকৃত হইত। তাই তিনি টিভি চ্যানেল এর টকশোর ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত করতিপখের আহবান জানিয়ে বলেন তাহাকে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য টকশোতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হউক।
©somewhere in net ltd.