| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩
"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে থাকেনঃ "হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন- মা বলবেন রেগে"!
কিন্তু পাখিরা? না, বোধকরি পক্ষীশিশুর মায়েরা একথা কখনো বলে না। কারণ, তারা নিজেরাই সূয্যি মামা জাগার অনেক আগেই নীড় ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে আসে। তার প্রমাণ নিচের এই প্রথম ছবিটা।
তখন সময় ভোর ০৬-০৩। সূর্য উঠতে তখনও ২৬ মিনিট বাকি। দূরের বিলবোর্ডে তখনও নিয়ন বাতি জ্বলছে। এরই মধ্যে এক জোড়া পাখি নিকটস্থ গাছ-গাছালির নীড় ছেড়ে সামনের ছয় তালা দালানের কার্নিশে এসে বসলো। ছবি তোলার জন্য সেলফোনটা হাতে নিতে নিতে একটা ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল।
সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ছবিসহ প্রকাশিত আমার একটি পোস্ট পড়ে একজন অনুজ নাবিক বন্ধু নিম্নলিখিত মন্তব্যটি করেছেনঃ
“প্রতিদিন সূর্যোদয়ের আগে তিন ধরনের আভা (twilight) সৃষ্টি হয়। সূর্য যখন হরাইজন থেকে ১৮° নিচে থাকে তখন এটাকে বলে astronomical dawn, যখন এটা ১২° তে আসে, তখন হয় nautical twilight, সবশেষে Morning twilight হয় যখন সূর্য দিগন্তের ৬°নিচে থাকে। রমজানের সেহেরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় astronomical dawn এর সময়, যখন খালি চোখে আমরা চারদিকে অন্ধকার দেখি। কিন্তু, পাখিরা astronomical dawn সবার আগে টের পায় বলেই ওদের ঘুম সবার আগে ভাঙে। এইজন্যই প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে astronomical dawn এর সাথেই ওদের ঘুম ভেঙে যায়। প্রতিদিন আপনি খুব লক্ষ্য করলে এটা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। এদের এই টাইমিং এক সেকেন্ডও এদিক ওদিক হয় না। এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
সাগরে চলমান অবস্থায় এইসবের ক্যালকুলেশন করে সূর্যোদয়ের সময় sun bearing এর সাথে জাহাজের জাইরো কম্পাস চেক করতে হতো মর্নিং ওয়াচে ডিউটি করার সময়। তবে, পাখির ডানা ঝাপটানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে সিডনিতে আসার পর। আমি সিডনি এয়ার পোর্টে প্রায় সাড়ে ছয় বছর সকাল বিকাল শিফটে চাকরি করেছি। ভোর পাঁচটার মর্নিং শিফটের জন্য আমাকে সাড়ে তিনটায় বিছানা ছেড়ে টয়লেটে যেতাম। ঠিক astronomical dawn এর সাথে সাথেই বাথরুমের খোলা জানালা দিয়ে বাইরে অন্ধকারেই একঝাঁক চড়ুই জাতীয় পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শুনতাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পরদিন যদি ২/৩ মিনিট আগে বা পরে সূর্যোদয় হয়, তখন এদের ডানা ঝাপটানোর আওয়াজও ঘড়ি ধরে ২ /৩ মিনিট আগে পরে শোনা যেত”।
morning twilight এর তিনটে স্তরের এত চমৎকার ব্যাখ্যা পড়ে আমার যেমন জ্ঞানবৃদ্ধি ঘটেছে, তেমনি হয়তো ঘটেছে/ঘটবে অনেক পাঠকেরও।
হাস্যময়ী, লাস্যময়ী ফুলঃ
বাংলাদেশের শীত-বসন্ত ঋতু দুটো পুষ্পবিলাসের ঋতু। এ সময়ে নানা রঙের ফুলের সমাহার বাড়ির অলিন্দ, চিলেকোঠা, ছাদ, বাসার সামনের ও পেছনের ক্ষুদ্র বাগান, মহাসড়কের মধ্যবর্তী সড়ক-দ্বীপ, পার্কের হাঁটাপথে চলার আশেপাশের জায়গা, কবরস্থানের আইল ও অব্যবহৃত স্থান, হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এমন কি পথপার্শ্বের পরিত্যক্ত জায়গা, ইত্যাদিকে সুশোভিত করে। বিশেষ করে ডালিয়া, গাঁদা, সূর্যমুখি ইত্যাদি ফুল তাদের চারিপাশ রঙিন করে রাখে। দৈনন্দিন চলার পথে দেখা এমনই কিছু ফুলের ও অন্যান্য দৃশ্যের কয়েকটা ছবি দিলাম।
মাছির দিবানিদ্রাঃ
মাছিরা আবার নিদ্রা যায় নাকি? পথ চলতে চলতে এমনই একটা দৃশ্য দেখলামঃ গাছগাছালির মাঝ দিয়ে টেনে যাওয়া একটি তারের নিচে অনেক ঝুলন্ত মাছি ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু তারের নিচে উল্টো ঝুলে পা উপরে এবং পিঠ নিচের দিকে রেখে ঘুমাচ্ছে কেন? কে জানে, এর মধ্যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কোন রহস্য আছে কিনা! নিউটন আজ বেঁচে থাকলে হয়তো তা আমাদের জানাতে পারতেন। যারা ল্যাপটপে এ লেখাটা পড়ছেন, তারা ছবিটা যুম করে মাছিগুলোকে দেখতে পারবেন কিনা জানিনা, তবে যারা সেলফোনে দেখছেন, তারা আশাকরি অবশ্যই পারবেন।
বিড়ালের দিবানিদ্রাঃ
বিড়াল একটি শান্তিপ্রিয়, সুখকামী, ঘুমকাতুরে নিরীহ প্রাণী। পথে যেতে যেতে দেখি, একটা বিড়াল শত শোরগোলের মধ্যেও পরম সুখে দিবানিদ্রা যাচ্ছে। ভেবেছিলাম, ছবি তোলার জন্য আমি তার কাছে গেলে হয়তো তার ঘুম ভেঙে যাবে। কিন্তু নাহ, তা ভাঙলো না, সে ঘুমিয়েই থাকলো।
চারিদিকে আমের বোল, ফুলঝুরি নয় যেন বোলঝুরি!
এবারে চারিদিকে যেখানেই আম গাছ চোখে পড়ছে, সেখানেই দেখছি শাখে শাখে ফুলঝুরি নয় যেন বোলঝুরি! বাসার সামনের সড়কের উল্টো পার্শ্বে আমার প্রতিবেশির লাগানো আম গাছেও দেখছি অসংখ্য বোল এসেছে। তবে একজন পথিক জানালো, যে বছরে বোল বেশি আসে, সে বছরে আম বেশি হয় না। কে জানে!
ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৬২৪
(সময় সুযোগ মত ধীরে ধীরে আরও কিছু ছবি সংযোজন করার আশা রাখি। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত “খোকার সাধ” কবিতাটি এখানে সংযোজন করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। কবিতাটি আমরা সবাই ছোটবেলায় পড়েছি। কবিতাটি পড়ে আপনাদের কার কী মনে হয়েছিল, সে কথাটি মন্তব্যে উল্লেখ করে যেতে পারেন)
খোকার সাধ
কাজী নজরুল ইসলাম
আমি হবো সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসম-বাগে উঠবো আমি ডাকি।
সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’–মা বলবেন রেগে।
বলবো আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাকো,
হয়নি সকাল–তাই বলে কি সকাল হবে নাকো!
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’
ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠবো পাহাড়-চূড়ে,
দেখবো নিচে ঘুমায় শহর শীতের কাঁথা মুড়ে,
ঘুমায় সাগর বালুচরে নদীর মোহনায়,
বলবো আমি, ‘ভোর হলো যে, সাগর ছুটে আয়!’
ঝর্ণা-মাসি বলবে হাসি, ‘খোকন এলি নাকি?’
বলবো আমি, ‘নইকো খোকন, ঘুম-জাগানো পাখি!’
ফুলের বনে ফুল ফোটাবো, অন্ধকারে আলো,
সূয্যিমামা বলবে উঠে, ‘খোকন, ছিলে ভালো?’
বলবো, ‘মামা, কথা কওয়ার নাইকো সময় আর,
তোমার আলোর রথ চালিয়ে ভাঙো ঘুমের দ্বার।’
রবির আগে চলবো আমি ঘুম-ভাঙা গান গেয়ে,
জাগবে সাগর, পাহাড় নদী, ঘুমের ছেলে-মেয়ে!
এক জোড়া পাখি নিকটস্থ গাছ-গাছালির নীড় ছেড়ে সামনের ছয় তালা দালানের কার্নিশে এসে বসলো। ছবি তোলার জন্য সেলফোনটা হাতে নিতে নিতে একটা ফুরুৎ করে উড়ে চলে গেল।
ঢাকা
০২ মার্চ ২০২৬, ভোর ০৬-০৩
দূরের বিলবোর্ডে তখনও নিয়ন বাতি জ্বলছে।
ঢাকা
০২ মার্চ ২০২৬, ভোর ০৬-০৩
গাছগাছালির মাঝ দিয়ে টেনে যাওয়া একটি তারের নিচে অনেক ঝুলন্ত মাছি ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু তারের নিচে উল্টো ঝুলে পা উপরে এবং পিঠ নিচের দিকে রেখে ঘুমাচ্ছে কেন?
ঢাকা
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১৪-০৪
কুউউ-কুউউ করে ডেকে চলা একেলা পাখি কোকিলটাকে কি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন?
ঢাকা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ০৭-০৫
পথে যেতে যেতে দেখি, একটা বিড়াল শত শোরগোলের মধ্যেও পরম সুখে দিবানিদ্রা যাচ্ছে।
ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬, বেলা ১৩ঃ৪৭
ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬, বেলা ১৩ঃ৪৪
২|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
কাছের-মানুষ বলেছেন: সূর্যের তিন ধরনের আভা এবং পাখিদের তা বুঝতে পারার ক্ষমতা সত্যিই আশ্চর্য! আসলে এই পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীরই নিজস্ব কিছু ক্ষমতা আছে, যা আবার অন্য প্রাণীদের নেই। মানুষ আসলে অনেকটাই “ব্লাইন্ড”। আমাদের দেখার রেইঞ্জ মাত্র ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার। এর কম বা বেশি আমরা দেখতে পারি না। এর বাইরে আরো কত কিছু ঘটে যাচ্ছে চোখের সামনে, কিন্তু আমরা তা দেখছি না!
পাখিরা দেখতে পারে প্রায় ৩০০–৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত। সাপ আমাদের মতো ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটার রেইঞ্জে দেখতে পারে, পাশাপাশি থার্মাল রেইঞ্জেও দেখতে পারে। অর্থাৎ তারা রাতেও দেখতে পারে। প্রাণী বা কোনো বস্তুর থেকে যে ক্ষুদ্র তাপ বের হয়, সেটা শুধু থার্মাল রেইঞ্জেই ধরা যায়, তাই সাপ সেটা দেখতে পারে অনেক দূর থেকে।
মন্তব্যটি মনে হয় খুব বেশী প্রাসঙ্গিক হোল না!!
আমার নিজেরও সকালে উঠতে ভালো লাগে। পোস্টটি যখন পড়ছি, আমাদের এখানেও অনেক সকাল। চারদিকে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে আমার অফিসের আট তলায় বসে মন্তব্যটি লেখছি। আরেকটু পর ক্লাসে যাব, ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা নিচ্ছি।
পোস্টটি ভালো লাগল। কবিতাটিও পড়ে ভালো লাগল।
৩|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯
নজসু বলেছেন:
আস সালামু আলাইকুম।
আপনার দরদমাখা লেখা পড়তে গেলেই আমার মনটা ভরে যায়। কি সুন্দর শব্দের গাঁথুনি!
ভোরের পাখিদের জাগরণ, মাছির দিবানিদ্রা, বিড়ালের নিশ্চিন্ত ঘুম, আর আমের বোল প্রতিটি দৃশ্যকে আমি অনুভব করতে পারছি যেন। আপনার মমতা আর পর্যবেক্ষণশক্তি আসলেই অসাধারণ। আপনার নাবিক বন্ধুর ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও চমৎকার। একজন নগন্য পাঠক হিসেবে আমিও নতুন কিছু জানতে পারলাম প্রিয় ভাই।
কাজী নজরুল ইসলামের খোকার সাধ কবিতাটি যুক্ত করায় আপনার লেখাটি আরও পূর্ণতা পেলো যেন। ছবিগুলো অসাধারণ হয়েছে। হলুদ ফুলটাই চোখ রাঙিয়ে দিচ্ছে। অসাধারণ! আচ্ছা, উল্টো ঝুলে আসলেই ওরা কীভাবে ঘুমাচ্ছে? কখনও এর কারণ খুঁজে পেলে জানাবেন আশা করি।
খোকার সাধ কবিতাটি আপনার মতো আমাদের অনেকের শৈশবস্মৃতির অংশ। তবে, আমাকে এখনও পড়তে হয়, স্কুলে বাচ্চাদের পড়াতে হয়। আমি এখনও ঐ কচিকাঁচাদের সাথে খোকার সাধে শৈশবেই আছি।
অসাধারণ সুন্দর একটা লেখা পাঠ করলাম। সাথে সুন্দর পাঁচটি ছবি। সামনে আরও ছবি সংযোজনের অপেক্ষায় রইলাম।
পরিশেষে, অনেক অনেক দোয়া আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের প্রতি। ভালো থাকবেন।
৪|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯
শেরজা তপন বলেছেন: আপনার অনুজ নাবিক বন্ধুর সুর্যযোদয়ের আগে তিন ধরনের আভার বিবরণ ও এর সাথে তাল মিলিয়ে পাখিদের কুঞ্জন বিষয়টার চমতকাআর ব্যাখ্যা জেনে আপ্লুত হলাম।
আপনি ভাল আছেন নিশ্চিত। পুরো লেখাটাই চমৎকার ।
ভাল থাকুন নিরন্তর!
৫|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার এই দিনলিপিটি একাধারে স্মৃতিমেদুর, পর্যবেক্ষণনির্ভর এবং সহজ সাবলীল ভাষায় রচিত একটি
অনুভব-আখ্যান। খুব সাধারণ দৈনন্দিন দৃশ্য ভোরের পাখি, ফুল, মাছি, বিড়াল, আমের বোল এসবের মধ্য
থেকে এক ধরনের নীরব সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। এতে কৃত্রিম আবেগ নেই; বরং ধীর স্থির দেখার অভ্যাস ও
প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সংযোগের অভ্যাসটি ধরে রেখেছেন দেখে ভাল লাগল বিশেষ করে মাছির দিবনিদ্রার
বিষয়টি ।
মাছির দিবানিদ্রার বিষয়টি জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি আগ্রহজনক আচরণগত প্রক্রিয়া। সাধারণত আমরা
মাছিকে অত্যন্ত সক্রিয় ও চঞ্চল প্রাণী হিসেবে দেখি, কিন্তু বাস্তবে তারাও নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম গ্রহণ করে। কিন্তু
এই সময়টা ক্যমেরায় বন্দি করা খুব একটা সহজ কাজ নয় । কথন তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যাবে সে
সময়টির জন্য বেশ গভীর ও লম্বা সময় হাতে নিয়ে পর্যবেক্ষন প্রয়োজন ।বিশেষ করে গৃহস্থালী মাছি
সূর্যালোকপূর্ণ দিনে অধিক সক্রিয় থাকে এবং রাতে তুলনামূলক বিশ্রামে যায়। তবে দিনের মধ্যভাগে, বিশেষত
অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা খাদ্যাভাবের সময়, তারা সাময়িক স্থির অবস্থায় থাকে যাকে দিবানিদ্রা বা অল্পকালীন
বিশ্রাম বলা যায়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাছির দেহে একটি জৈবঘড়ি কাজ করে, যা আলোর তীব্রতা ও তাপমাত্রার
উপর নির্ভরশীল। দিবানিদ্রার সময় তারা সাধারণত দেয়াল, ছাদ বা ছায়াযুক্ত স্থানে স্থির হয়ে বসে থাকে। এ
সময় তাদের বিপাকীয় কার্যকলাপ কমে যায়, শক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র আংশিক বিশ্রাম পায়।এই বিশ্রাম
আচরণ তাদের টিকে থাকার কৌশলের অংশ, কারণ অবিরাম উড্ডয়ন বিপুল শক্তি ব্যয় করে। তাই দিবানিদ্রা
মাছির শক্তি সংরক্ষণ ও পরিবেশগত চাপ মোকাবিলার একটি প্রাকৃতিক উপায়।সংক্ষেপে বলা যায়, মাছির
দিবানিদ্রা হলো তাদের জৈবঘড়ি-নিয়ন্ত্রিত, স্বল্পমেয়াদি বিশ্রাম প্রক্রিয়া, যা পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের
এক সূক্ষ্ম উদাহরণ আর আপনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা করেছেন পর্যবেক্ষন , তারপর আমাদের কাছে
করেছেন উপস্থাপন।
লেখাটির শুরুর অংশে শিশুকণ্ঠে উচ্চারিত সূয্যি মামা জাগার আগে… পঙ্ক্তিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমাদেরকেও
নিয়েযায় কাজী নজরুল ইসলাম এর খোকার সাধ-এর আবহে। কবিতার উদ্ধৃতি শুধু নস্টালজিয়া তৈরি করেনি,
বরং পুরো লেখার ভোরবেলার অনুভূতির সঙ্গে একটি সার্থক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। বিশেষত পাখির
জাগরণ প্রসঙ্গে অনুজ নাবিক বন্ধুর twilight সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটি লেখাটিকে তথ্যবহুল ও চিন্তনপ্রবণ
করেছে। এতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা ামাদের জ্ঞানবৃদ্ধির
পাশাপাশি কৌতূহলও জাগায়।হাস্যময়ী, লাস্যময়ী ফুল অংশে ঋতুভিত্তিক প্রকৃতিবর্ণনা রঙিন হলেও ভাষা
সংযত। কাব্যিকতা আছে, তবে তা ভারী হয়ে ওঠেনি। মাছির দিবানিদ্রা ও বিড়ালের দিবানিদ্রা অংশে
প্রশ্নমুখর দৃষ্টিভঙ্গি এবং হালকা রসবোধ লেখাটিকে প্রাণবন্ত করেছে। বিশেষ করে নিউটনের প্রসঙ্গ টেনে
আনা একটি মৃদু হাস্যরস সৃষ্টি করেছে, যা ভাবনার পাশাপাশি আমাদেরকে আনন্দও দেয়।
দিনলিপিতে থাকা বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ আলাদা আলাদা অনুচ্ছেদে উপস্থাপিত হলেও তাদের মধ্যে অন্তর্গত
ভাবসংযোগটাও বেশ স্পষ্ট। শেষাংশে কাজী নজরুলের কবিতার পূর্ণ সংযোজন আবেগঘন হয়েছে ,
তবে তার পরিমাণ কিছুটা সংক্ষেপিত হলে মূল দিনলিপির নিজস্ব কণ্ঠ আরও জোরালো হয়ে উঠত বলে
প্রতিয়মান হয়।
তবে সব মিলিয়ে, ছবি ব্লগটি প্রকৃতি নিরীক্ষণ ও শৈশবস্মৃতির এক আন্তরিক দলিল। আপনার দৃষ্টিশক্তি শুধু
দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেখার ভেতর দিয়ে ভাবেন এবং আমাদেরও ভাবতে আহ্বান জানান , তারই
প্রেক্ষিতে মাছির দিবা নিদ্রার বিষয়ে আরো জানার কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।সেই তাগিদেই মাছি নিয়ে অর্জিত
তথ্যটুকু পুর্বেই বলে দিয়েছি ।
সব দিক থেকে এটি কেবল ছবি ব্লগ নয়, বরং জীবন ও প্রকৃতির সূক্ষ্ম সুর শোনার এক আমন্ত্রণ।
এত সুন্দর বিবিধ ভাবনা ও ছবিসম্বলিত পোস্টটির জন্য আপনার প্রতি এই ফাগুনে রইল
ড.এম এ আলীর আম্রমুকলীয় শুভেচ্ছা

৬|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৯
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: প্রকৃতিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঘড়ি, আমি ঘুম থেকে উঠে বলতে পারি এখন কয়টা বাজে ১০/২০ মিনিট এদিক সেদিক হয়। উত্তরবঙ্গে এক বয়স্ক ব্যক্তি আছে যিনি শুধু সূর্য দেখে প্রায় নির্ভূল টাইম বলে দিতে পারেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৪০
মায়াস্পর্শ বলেছেন: প্রথম এবং শেষ ছবি শুধু দেখা যাচ্ছে।
বাকিগুলো নেই।
আশা করছি এডিট করে আবার পোস্ট করবেন।