| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
শুনেছেন নিশ্চয়ই, সিয়েরা লিওনে প্রতি ঘন্টায় ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন অন্তত ৫ জন করে মানুষ। পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন সহ লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত আছেন আমাদের প্রায় ৮০০ ভাই বোন।
গিনি ও নাইজেরিয়াতেও কোনো বাংলাদেশি অভিবাসী নেই, এটা বলা যায় না। তাঁরা নিজেরা যেমন ইবোলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তেমনি তাঁদের কারও দেহে ভাইরাসটি প্রবেশের পর তিনি দেশে ফিরলে এখানেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বলা হচ্ছে, এইচ আই ভির চেয়েও মারাত্মক এই ইবোলা ভাইরাস ডিজিজটি। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা গেছে।
শোনে অবাক হবেন, এরকম মারাত্মক একটি রোগ নিয়ে অনেকে রসিকতা করতেও ছাড়ছেন না। এর মধ্যে সবচেয়ে বাজে রসিকতাটি হল,
“জাতিসংঘ ঘোষনা দিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকায় হাজার হাজার লোক ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। মুখপাত্র এও যোগ করলেন, কিন্তু এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ তাদের সবাই ছিল কালো!”
দাড়ান আরেকটি অমানবিক রসিকতার কথা বলে নেই, একজন বললেন, ইবোলা আক্রান্তদেরকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই যেহেতু রোগী বাচে না, এবং ইবোলা ছড়াতে থাকে, সেহেতু ইবোলা ছড়ানো বন্ধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেগুলো হচ্ছে,
ধাপ ১- ইবোলা আক্রান্ত দের চিহ্নিত করা
ধাপ ২- তাদের ভিসা পাসপোর্ট তৈরী করা
এবং ধাপ ৩- তাদেরকে মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের বিমানে তুলে দেয়া।
স্যরি, সব কিছু নিয়ে ফান করা ঠিক না। আসুন সিরিয়াস হই, জেনে নেই এর লক্ষন সমূহঃ
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল-
হঠাৎ জ্বর আসা, দূর্বলতা, মাংসপেশীতে ব্যাথা, মাথাব্যাথা এবং স্বর ভেঙ্গে যাওয়া।
এর পরবর্তী লক্ষণগুলো হল-
বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, কিডনি এবং যকৃৎ জটিলতা। এছাড়া কখনো কখনো দেহের ভেতরে ও বাহিরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
আসুন ভয়াবহ এই ইবোলা প্রতিরোধ করতে মাথায় রাখি মাত্র ৫ টি বিষয়।
১। সাবান ও পানির ব্যবহারঃ
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধৌত করতে হবে। হাত শুকানোর জন্য পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সাবান ব্যবহার ইবোলা ভাইরাস ধ্বংস করার কার্যকর ওষুধ।
২। সংস্পর্শ এড়ানোঃ
যদি কোনো ব্যক্তি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ হয়, তবে তার সংস্পর্শ এড়াতে হবে। এমনকি খুব নিষ্ঠুর মনে হলেও খুবই আপনজনও যদি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তার সংস্পর্শ এড়িয়ে থাকতে হবে।সকলের এটা স্মরণ রাখতে হবে, এ ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির প্রসাব, পায়খানা, বমি, রক্তক্ষরণ, নাসিক্যের তরল পদার্থ ও বীর্যের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ সমূহের মধ্যে জ্বর, মাংসপেশী ও হাত।
৩। মৃতদেহ থেকে দূরে থাকতে হবেঃ
যদি কোনো ব্যক্তি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তবে তার মৃতদেহ থেকে দূরে থাকতে হবে। এমনকি তাকে সমাহিত করার প্রক্রিয়ায়ও অংশ নেওয়া যাবে না। যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যায় তখন ভাইরাসটি অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে চাই। আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে এ ভাইরাস দ্রুত অন্য শরীরে প্রবেশ করে।
৪। বন্য পশুর মাংস পরিহারঃ
বন্য প্রাণী শিকার, স্পর্শ এবং তাদের মাংস খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে বাদুর, বানর এবং শিম্পাঞ্জি। চিকিৎসকরা বিশ্বাস করেন, এসব বন্য প্রাণীর মাধ্যমে ইবোলা ভাইরাস দ্রুত মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। কারও এলাকায় যদি কোনো প্রাণী খুবই সুস্বাদু হিসেবে পরিচিতি থাকে, তবে সেটাও এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে যারা পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে আছেন তারা বিষউটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। হজে যারা আছেন তাদের বলে দেবেন উটের ব্যাপারেও সতরক থাকতে, কেরন এর সংস্পরশ এবং মাংসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে আরেক ভাইরাস মারস!
৫। আতঙ্কিত না হওয়াঃ
গুজব মানুষের মাঝে ভয় বাড়িয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারা কোনো এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে যায়। ক্লিনিক হলো আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত স্থান। বাড়িতে রাখা যাবেনা, কোন ভাবেইনা।
মনে রাখবেন, এতে আক্রান্ত হওয়ার হার কমানো এবং অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব কেবল মাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই।
ধন্যবাদ!
ইতি,
আপনাদের ভাই
ডাঃ মহিউদ্দিন কাউসার
https://www.facebook.com/mohiuddin.kawsar.1
২|
০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৩৫
সাব্বির আহমাদ ফারাবী বলেছেন: protikarer kono upay nai ki????
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:১৭
মামুন রশিদ বলেছেন: নাইস পোস্ট ।