| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সালাহউদ্দিন হায়দার কাজল
I am a journalist. watch the every movement of our country. flow my Article and news please. being Human....
কাজল হায়দার ঃ জ্বালানি তেলের কমিশন বৃদ্ধিসহ নয় দফা দাবিতে বেঁধে দেয়া সময় ফুরিয়ে এলেও সরকারের ‘সাড়া না পেয়ে’ আগামীকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক শ্রমিকরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটায় রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত কার্যালয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহবায়ক মো. নাজমূল হক এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, সরকার এর আগে কয়েক দফা প্রতিশ্র“তি দিলেও তা পূরণ না করায় গত ১৩ জানুয়ারি তারা সাত দিন সময়ে বেঁধে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের কোনো সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় আমরা রোববার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।
নাজমূল হক বলেন, তবে আগামীকালও একদিন সময় আছে। এর মধ্যে সরকার যদি আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয় তাহলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেব।
ধর্মঘট হলে সারাদেশে প্রায় ৯ হাজার পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে পরিষদের নেতারা জানান।
পাম্প মালিকদের মূল দাবি হলো- সরকার গঠিত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি ডিজেলে ৩ দশমিক ৪ ভাগ, পেট্রোল ও অকটেনে ৪ ভাগ কমিশন নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন।
বর্তমানে ডিজেলে ২ দশমিক ১ ভাগ এবং পেট্রোল ও অকটেনে ৩ দশমিক ১৫ ভাগ কমিশন প্রদান করছে সরকার।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, ট্যাঙ্ক-লরির ভাড়া বৃদ্ধি, ট্যাঙ্ক-লরি চালকদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কাগজপত্র নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন; ট্যাঙ্ক-লরি চালকদের প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে পাঁচ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা চালু; পেট্রোল পাম্প স্থাপনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক একতরফাভাবে প্রণীত নীতিমালা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ; চট্টগ্রাম, ফতুল্লা, দৌলতপুর-খুলনা, চাঁদপুর ও সিলেটসহ যে সব স্থানে টার্মিনাল নেই সেখানে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও গোদাননাইলে পদ্মা ও মেঘনা টার্মিনাল সংস্কার; তেলের ভেজাল রোধ করা ও অবৈধ তেল বিক্রি বন্ধ করা; বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ ও শ্রমিক নেতা মীর মোকসেদ ও আমির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা।
সরকার গত ৩ জানুয়ারি রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ওই রাতেই বিতরণ কোম্পানিগুলোর কমিশন ৩ থেকে ৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
নাজমূল হকের দাবি, কমিশন বাড়ানোর পরও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি লরি (৯ হাজার লিটার)ডিজেলে তাদের বাড়তি ৬৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একই কথা পেট্রোলও অকটেনের ক্ষেত্রেও।
অবশ্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, গত ২২ বছরে তেল কোম্পানিগুলোর তুলনায় পরিবেশকদের কমিশন প্রায় ১০ গুণ বাড়ানো হয়েছে। ১৯৯০ সালে সরকারি তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি ও পরিবেশকদের কমিশন ছিল প্রায় সমান।
গত বছর এপ্রিলেও কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তবে সরকারের আশ্বাস পেয়ে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমূল হক বলেন, আন্দোলনের ফলে ২০১০ সালে সরকার একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি কমিশন বৃদ্ধিসহ কয়েক দফা সুপারিশ করলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। বিগত দুই মাস যাবত সরকারকে সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও ডিপো ইউনিট এবং ঐক্য পরিষদের সব শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে জ্বালানি সেক্টরে নিয়োজিত কয়েক লাখ মানুষ চরম হতাশাগ্রস্ত। একদিকে তেল ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারানোর দ্বারপ্রান্তে, অন্যদিকে শ্রমিকরা আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় সবাই চূড়ান্ত কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্ক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক ও বাংলাদেশ ট্যাঙ্ক-লরি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসেয়েশনের মহাসচিব হারুন-উর-রশিদ, বাংলাদেশ ট্যাঙ্ক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ১৯ জানুয়ারির মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
©somewhere in net ltd.