নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পরের বাড়ির পিঠা খাইতে বড়ই মিঠা ।

কিরকুট

আমি মানুষ, আমি বাঙালি। আমার মানবিকতা, আমার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া প্রাণী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ। আমার দেশের উপর আঘাত হানতে চাওয়া প্রাণীদের পালনকারী, প্রশ্রয়দানকারী মাত্রই আমার কাছে পিশাচ, রাক্ষস। হোক সে যে কোনো সাম্প্রদায়িক কিংবা ঢেঁড়স চাষ পরামর্শক।

কিরকুট › বিস্তারিত পোস্টঃ

খোঁজা সম্প্রদায়

২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত ছাঁচের মধ্যে ফেলা চলে না। বার্নাড লিউইস খোঁজাদের বিবরন দিতে গিয়ে বলেছিলেন - এরা এক পাতলা মুসলিম আচ্ছাদনের তলায় হিন্দু মনোভাবাপন্ন। ইসলামি ধর্ম বিশ্বাসের অধীনে এ এক বিশিষ্ট সম্প্রদায়, যার মধ্যে হিন্দু - মুসলিম দুয়েরই মিশ্রণ। ১৯১৭ সালে সরোজিনী নাইডু লিখেন- " জিন্না সম্প্রদায়গতভাবে হিন্দু এবং ধর্মে মুসলিম : এ হয়তো প্রতীকী নয় যে খোঁজা পিতা-মাতার এই সন্তান 'হিন্দু -মুসলিম ঐক্যের দূত হয়ে উঠবেন," তখন জিন্নার উদার ব্যক্তিত্ব কে তার খোঁজা উত্তরাধিকারের সঙ্গেই যোগ করেছিলো।

বোহরা ও মেমনদের মতো,খোঁজারাও তাদের সম্পদ, তাদের বাণিজ্য এবং ব্যবসায়ের দক্ষতার জন্য পরিচিত। তারা চারিত্রিকগতভাবে একান্ত শান্তিপ্রিয়। তাদের অবস্থান মূলত ইন্ডিয়ার সুরাট,ভারুচ,আহমেদাবাদ,বম্বে ; পাকিস্তানের করাচি এবং ভারতের পশ্চিম উপকূল ঘিরে। এইসব কেন্দ্র থেকে তারা বম্বে প্রেসিডেন্সির ভিতরের ব্যবসার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সাথে পূর্ব আফ্রিকা এবং মিশাসের সঙ্গে বাণিজ্য করতেন, আর বম্বে শহরের মধ্যেও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। ইংরেজি ভাষার শিক্ষার নিরিখে অবশ্যই তারা কখনোই খুব অগ্রসর ছিলেন না। কিন্তু সেটা তাদের খুব বড় দুর্বলতা হয়ে দেখা দেয় নি কারণ তারা নিজেদের মাতৃভাষা গুজরাতিতে অগ্রসর হিন্দুদের মতোই সড়গড় ছিলেন। সম্প্রদায় হিসেবে তাদের ইংরেজি জানার খুব বেশি প্রয়োজনও ছিলো না কারণ তাদের ব্যবসায়ের কাজ তারা গুজরাতিতে ভালোই চালিয়ে নিতেন।তাদের কাছে সরকারি চাকরি বা পদ সাফল্যের কোনও প্রমাণ ছিলো না।তাদের ধর্মীয় নেতা ছিলেন আগা খান, যদিও জিন্নাহ তাকে কখনোই সেই স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিলেন না।

ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় খোঁজা সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাভাবিকভাবে তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও সেই ভাবেই নির্ধারিত হয়। সে সময় সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতাই সাম্প্রদায়িক পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। খোঁজারা স্বয়ংসম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে এই সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় নি। খোঁজারা যে কখনোই নিজেদের 'মুসলিম ' পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করতে সম্প্রদায় হিসেবে উদ্যোগী হয় নি,অধিকাংশ মুসলিম গোষ্ঠীর সঙ্গে এই ছিল তাদের প্রধান তফাৎ। তাছাড়া, বম্বের বাণিজ্যিক জগতের সদস্য হওয়ায় ব্যবসাগত কারণেই সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব রাখাটা তাদের কাছে ছিল একান্ত জরুরি। নইলে কী করেই বা তারা ব্যবসায়িক এবং আর্থিক সুযোগ সুবিধা অর্জন করতেন।

রেফারেন্স -
১. ইউনিটি এন্ড ভ্যারাইটি ইন মুসলিম সিভিলাইজেশ্যন, জি ই ভন গ্রুনেবম (১৯৫৫) ; পৃষ্ঠা -৮।
২. An Ambassador of Unity, His speech and writing (1912-17), Mohammad Ali Jinnah.

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: ওকে। জানলাম। তর্ক করবো না।

২| ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ওকে জানলাম ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.