| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কবীর আলমগীর
পরিচয় বলার মতো কিছু নই। লেখালিখির চেষ্টা চালাচ্ছি।
বিনিময়
কবীর আলমগীর
বকুলের দেওয়া কম দামি কলমটি নিয়ে
কাঁপা কাঁপা হাতে তোকে লিখছি বাবা।
ইদানিং হাঁপানি রোগের প্রকোপটা বড্ড বেশি বেড়েছে
কামারের হাঁপরের মতো দিনরাত উঠানামা করে ব্যর্থ বুকযন্ত্র।
আগে যে ফসল ক্ষেতের সঙ্গে ছিল গভীর প্রেম
বেশ কয়েকবছর বিচ্ছেদ ঘটেছে তাতে।
বুকে ক্ষত নিয়ে আজো পড়ে থাকে সবুজ ক্ষেতের মাঠ
আর আমি কেবলি স্মৃতির পাতা হাতড়ে হাতড়ে ক্লান্ত।
আগের মতো ধানক্ষেতের ড্যাপসা ধান দেখা হয় না
আইলের ধারে মাজরা পোকা নাকি বেড়েছে অনেক?
হাঁটতে পারি না, কোমরে পায়ে বয়সের ব্যথা
চোখের ধারেকাছে কেবল ঘোলাটে জাল ঘুরপাক খায়।
অনেকদিন ইতিহাসের পাতা উল্টানো হয় না
বইয়ের পাতায় পাতায় নিঃশব্দ ধুলোর ঘুম।
পুরনো চশমার কালো ফ্রেমটায় ধরেছে ফাটল
খসে পড়েছে কাচ, কমে গেছে পাওয়ার।
গ্লুকোমায় আক্রান্ত চোখজোড়া ইদানিং বড্ড প্রতারণা করছে।
কতদিন তোকে আদর করা হয় না।
এই বুড়ো বাবার প্রতি তাই বলে কি খুব অভিমান তোর?
ডাক্তার বলেছে নতুন চশমা কেনা চাই
খেতে হবে আরো ওষুধ প্যাকেট প্যাকেট।
পারলে কিছু টাকা পাঠাস বাবা!
মনে পড়ে খোকা, যখন তোর বাল্যকাল
আমার পকেটের ভাঁজে লুকিয়ে থাকত অগুনতি টাকা।
এরই মাঝে তুই চেয়ে নিতি নতুন একখানা নোট।
তখন তোর তো নেশা ছিল রং মেশানো চকলেটের।
এখন আমার পকেটটাই মানুষহরা ভিটেমাটির মতো খালি
আমিই তোর কাছে চেয়ে নিই টাকা।
এখন আমায় ধরেছে বাহারি রঙের ওষুধ খাওয়ার নেশায়।
২|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৬
সোজোন বাদিয়া বলেছেন: বার্ধক্যের যন্ত্রণাটা সুন্দর তুলে ধরেছেন। তবে, শেষ বাক্যটা - 'এখন আমায় ধরেছে
বাহারি রঙের ওষুধ খাওয়ার নেশায়।' - একটু হালকা হয়ে গেল নাকি?
৩|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৭
রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: অসাধারণ একটি কবিতা।খুব ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা নিরন্তর।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৫
দিশেহারা রাজপুত্র বলেছেন: কমেছে গেছে পাওয়ার।
অদ্ভুতসুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অনুভূতি গুলো।
দারুণ সত্য।