নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলো একদম ফেয়ার হয়েছে। মানুষ এটাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনটি আসলে বেশ ভালো, প্রমিজিং এবং ভবিষ্যতের আশা। আর ছাত্রদল ? হায়রে, তারা তো ছিল একেবারেই অপাংক্তেয় ! দুর্বল সংগঠন, অগোছালো নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়।

এদিকে জয়ী সংগঠনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মোটাদাগে দুটো। প্রথমত, তারা বিগত বছরগুলোতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। দ্বিতীয়ত, নীলক্ষেতের ভিসি—মাফ করবেন, সর্বকালের সেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ উপাচার্য—নিয়াজ স্যার নাকি ইলেকশনে একটু দুষ্টুমি করেছিলেন। সবাই ভেবেছিল স্যার "দালালদের কথা শুনবেন না, আরও পাঁচ বছর থেকে যাবেন"। কিন্তু না ! ইন্টারিম সরকার গত বছরের শেষ দিকে ভিসি স্যারকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ দেয়ার খবর কাগজে দেখতে পেলাম।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইসচ্যান্সেলর পদ ছেড়ে কেন একজনকে রাষ্ট্রদূতের মতো "নস্যি" পদে পাঠানো হবে? এই প্রশ্নটা যখন বায়ুমণ্ডলে ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখনই তারেক রহমান দেশে ফিরলেন। ভিসি স্যার তাঁর সাথে দেখা করলেন। কী কথা হলো, কেউ জানল না। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই ভিসি স্যার ঘোষণা দিলেন, "আমার প্রয়োজনীয়তা শেষ, আমি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চাই।" একজন সৎ মানুষ, যাঁর পছন্দের ছাত্র সংগঠনটি এখনও ঢাবিতে ক্ষমতায় বহাল, তিনি ভয় পাচ্ছেন কেন?

এরপর আসি এজাজ সাহেবের প্রসঙ্গে। ভিসি স্যারের চেয়েও বেশি আলোচিত এবং এই মানুষটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। হিজবুত তাহরীরের নেতা এবং জাতীয় পার্টির সদস্য—দুই পরিচয়ে বিভূষিত এই ভদ্রলোক জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের সুবিধা নিয়ে "মেধা না কোটা" এই বিভ্রম রেখেই নিয়োগ পেলেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সুপারিশে এই নিয়োগ। নিয়োগের পর থেকেই সাংবাদিক জুলকার নায়ের সায়ের এজাজের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। এদিকে তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতা ঢাকার বিভিন্ন আসনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের আসন গুলো্তে বেশ কাজ করিয়েছেন ।

এজাজের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁকে তলব করলেও তিনি হাজির হননি। আসিফ মাহমুদের সাথে এজাজের সম্পর্ক ভালো—এটা সবাই জানে। যদি নতুন সরকার এজাজের কান ধরে, তাহলে আসিফের মাথাও বিপদে পড়ে কিনা, আল্লাহ মালুম !

আইজিপি বাহারের গল্পটা আরও মজার। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় ভুয়া তদন্তের দায়ে তিনি দোষী। শোনা গিয়েছিল তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো এক দৈব বলে তিনি নিজের পদে বহাল থাকলেন। ইন্টারিম সরকারের আমলে যখন বিগত সরকারের প্রচুর লোককে বহিষ্কার করা হয়েছে, তখন আইজিপি বাহার কীভাবে নিজের পদে টিকে রইলেন—এটাই রহস্য। এখন তিনি দেশের বাইরে চলে যেতে চান। ইন্টারিম সরকার যাঁর একটা চুল ছিঁড়তে পারেনি, নির্বাচিত সরকার তাঁর কী ছিঁড়বে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইসচ্যান্সেলর স্যার এক মাসের জন্য বিদেশে ছুটিতে যাচ্ছেন। তিনিও কি নীলক্ষেতের ভিসি? জগন্নাথেও কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনী মডেল অনুসরণ করা হয়েছে? যাই হোক, আমরা আশা করি স্যার আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। ইন্টারিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা নাকি লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। তাহলে এত তাড়াহুড়ো কেন? আসিফ নজরুল স্যার কি দেশে থাকবেন না ইউনুস স্যারের পাশে ?

ইন্টারিম সরকার একেবারেই নিরপেক্ষ ছিল না। দেখতে অরাজনৈতিক হলেও জামায়াত-এনসিপি জোটের দিকে বেশ ঝুঁকে পড়তে দেখা গেছে। গণঅভ্যুত্থানের সরকার হিসেবে দাবি করা হলেও, ইন্টারিম হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও, তারা পুরোপুরি রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। জুলাই সনদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশি-বিদেশি চুক্তি করার সময় সর্বদলীয় বৈঠক করার কথা বললেও, নিজেরা এমন কোনো নজির সৃষ্টি করতে পারেনি। সব সিদ্ধান্তে "বিদেশি বিনিয়োগ আসবে", "বাংলাদেশ ইউরোপ হবে": এমন ধুয়া তুলে পূর্বের সরকারের পথেই হেঁটেছে।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের দৌড়াদৌড়ি আর ছোটাছুটি দেখে মনে হচ্ছে, ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়: নীলক্ষেতের ভিসিরা কি আসলেই নিরপেক্ষ ছিলেন, নাকি তারা শুধু নিজেদের আসন বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন ? ইতিহাসই হয়তো একদিন এর উত্তর দেবে।


আরো জানতে : Click This Link

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৫

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
নিয়াজ স্যারকে ছাত্রদলের গনেশ খুঁজছে।

এজাজের আরো একটি পরিচয় তিনি উপদেষ্টা রেজোওয়ানা হকের আত্নীয়।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মনে হয় দাওয়াত করে বাসায় খাওয়াবে গণেশ দাদু ।

২| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ইন্টারিম সরকার একেবারেই নিরপেক্ষ ছিল না।
.........................................................................
জগতে পাগল আর শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ কিছু আছেকি ?
১৫ বৎসর ফ্যাসীবাদ চল্লে, ১৫ মাস একটু দুষ্টামী হলে
এমন কি ?
কেউ যদি পরামর্শক হিসাবে কোটি টাকা আয় করতে পারে,
অন্কে আমরা কাঁচা, বুঝার সাধ্য নাই ।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০৭

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জগতে পাগল আর শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ কিছু আছেকি - খালেদা জিয়ার এই কথার মিনিং হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.