নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কলিমুদ্দি দফাদার

“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

কলিমুদ্দি দফাদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের একটি অংশ সেই দেশে অবস্থান করে। দেশটির সংস্কৃতি, খাবার-দাবার সহ আরো কিছু বিষয় আমাকে ভিশন টানে। তাই বিরতি দিয়ে প্রায় যাওয়া হয় সেই দেশে। সেবার বেশ বড় একটি বিরতিতে আবার ও গেলাম। এটা ও প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা। বেশ অনেকদিন ড্রাফটে ছিল, যখন এটা ব্লগে পোষ্ট করছি, তখন আরো একবার সেখানে যাওয়ার সময় চলে আসছে।

ফ্লাইটে উঠার পুর্বে লাউঞ্জে অল্প একটু বিশ্রামের সময়কালে :p

মালয়েশিয়া দেশের মতো মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স বেশ পছন্দের। মিডরেঞ্জ এয়ারওয়েজ গুলোর মধ্যে ওদের সার্ভিস বেশ ভালো। আমার এখনো মনে আছে, এই এয়ারলাইন্সের MH370 বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর যখন ওদের যাত্রী পরিবহনে ধস নামে আমি এর ৩ দিন পর এই এয়ারলাইন্সে ঢাকায় আসি।
মাঝ রাত যেয়ে কুয়ালালামপুর পৌঁছাই, পুরো এয়ারপোর্টে শুনশান নীরবতা। এখানে এসে একটু নষ্টালজিক হয়ে যায়, কারন প্রায় এক যুগের ও বেশি সময় আগে এখানে প্রথম এসেছিলাম। সময় সত্যি কিভাবে যে এতো দূত চলে যায়।
ভাবছিলাম এয়ারপোর্টে কিছু সময় থাকবো কিন্তু শুনলাম ১৫ মিনিট পড়েই নাকি শেষ বাস, তাই সিম-টিম না কিনে চটজলদি ইমিগ্রেশন সেড়ে বাসে উঠলাম।

যেই এরিয়াতে ছিলাম বেশ চমৎকার মনোমুগ্ধকর একটি প্লেস। আমার জিগড়ি বন্ধু আবার এই এরিয়াতে থাকে।
এখানে আগে অনেকবার আসছি। কুয়ালালামপুর এই অংশে বিদেশীরা বেশি থাকে। অনেক আইরিশ পাব, কোরিয়ান রেস্টুরেন্টে ভরা এই জায়গা।

এই কফির একটা স্পেশালিটি আছে।

রেজা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পরিবার ছেড়ে বিদেশ আসার পর যেই শুন্যতা বা একাকিত্ব কাজ করে রেজা সেইটা আমাকে কখনো অনুভব করতে দেয় না। সে যে বাঙালী তারে দেইখা কোন বুঝার উপায় নেই। তার হাতে এবং শরীরে প্রায় কয়েক লাখ টাকার ট্যাটু। দীর্ঘ কয়েক বছর পর তার সাথে দেখা। দুই বন্ধু মিলে সামান্য ভোজন। ইহা সম্ভবত মালয়-তামিল খাবারের একটি ফিউশন। সাম্বার আমার ভিষন‌ পছন্দের একটি খাবার। প্রথম কয়েকদিন মালয় আর তামিল খাবারের উপর ই ছিলাম।

আরো একটি মালয় ডিস।

তবে বেশ কয়েক বছর পর যাওয়াতে বেশ লম্বা একটা সময় ছিলাম। প্রায় ২৫ দিনের মতো। শেষ বেলায় ভালো বাংলা খাবারের ও ক্রেভিং উঠে। গরুর মাংস দেখলে আবার মাঝে মাঝে মাথা ঠিক থাকে না। তবে যেদিন চলে আসি,‌ সেদিন তো রেজা আস্তো একটা মুরগির রোষ্ট অর্ডার করে আমার জন্য সাথে ভর্তা বাজি আরো কত কি?

একদিন দুপুরে বন্ধুরে কইলাম ভাই আমার কাঁচা পাকা আর লবন -মরিচ খাইতে মন চাইতেছে। সে যেন কই থেইকা এগুলি নিয়া হাজির।

সন্ধ্যার পর একটি চিল করা ও ছিল বেশ। হ্যান্ডমেড কিউবান সিগার।

এবার একটু কুয়ালালামপুর সেন্টালের দিকে যাওয়া যাক।‌ মালয়েশিয়া পর্যটনভরা এক দেশ।‌ এক ঋতুর দেশ হওয়াতে সারাবছর পর্যটন রমরমা।‌ সেখানে এই ঝুম বৃষ্টি আবার এই কড়া রোদ.....

কাষ্টমাইজ পোর্টন গাড়িটা বেশ ভালো দেখতে। কুয়ালালামপুর মনোরেল। উদ্বোধনের পর থেকেই এটা মালয়েশিয়া পর্যটনের একটি আইকন প্রতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখনো মেট্রো-মনো নিয়ে একটি হাওকাউ চলছে।
"মারদেকা" দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে লম্বা টাওয়ার। তখন ও উদ্ধোধন হয় নাই। কুয়ালালামপুর মেট্রোতে চালকবিহীন ট্রেইন।

জালান আলোর। হার্ট অফ কেএল, জালান মানে রাস্তা।

এই সেই বিখ্যাত আইকনিক মালয়েশিয়ান টুইন টাওয়ার। সুরিয়া কেএলসিসি তে অবস্থিত।
প্রতিদিন রাত ৯-১০ পর্যন্ত এখানে ওয়াটার ডেন্স হয়। আগে অনেক দেখছি এখন আবার নতুন করে দেখলাম। সময়ের সাথে সাথে এই পর্যটন স্পট গুলোর তেমন কোন রেনভেশন করা হয় নাই, ১০ বছর আগে যেমন দেখছি এখন ঠিক তেমনই।
এই কম্বো কালেকশন টা খুব ভালো লাগছিল। আধা ঘন্টা দাঁড়ায় এ ট্রায়াল রুমে ঢুকে পড়ে দেখি মানায় নাই।
একটা টাইমে প্রচুর শপিং করতাম। এখন সানগ্লাস, ওয়াচ আর রানিং সুজ ছাড়া তেমন কিছুই আর টানে না।
একটি বৃটিশ সময়কার স্থাপত্য।
ভ্রমনরত কিছু পর্যটক।
ছবিটা একজন তুলে দিছে।

TRX কুয়ালালামপুর একটি শপিং মলের সানগ্লাস স্টোরে এই দুইটা কৃত্রিম জন্তু। ইহা জীবন্ত কিছুর মতোই নড়াচড়া করা। এই দুইটা জিনিস দেখার জন্যে হলে ও অনেক স্ট্রোরে এসে গ্লাস দেখে, কিনে। মার্কেটিং অন্য লেভেলে....


পড়ন্ত গোধূলি লগ্নে ছিল আমার মালয়েশিয়া থেকে বিদায়বেলা। নাহ মন খারাপ ছিলো না তবে একটু হোমসিক হয়ে পড়েছিলাম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.