নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কলিমুদ্দি দফাদার

“ঘুরছি আমি কোন প্রেমের ই ঘুর্নিপাকে, ইশারাতে শিষ দিয়ে কে ডাকে যে আমাকে”

কলিমুদ্দি দফাদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

“গাম্ভী”

২৮ শে মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



বছর চার-পাঁচ আগের ঘটনা। পরিবারের সবার ছোট হওয়া সত্ত্বেও তখন নানা গঠনমূলক বিষয়ে আমার গ্রহণযোগ্যতা বেশ তুঙ্গে। কুরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে গরু কেনা নিয়ে বাসায় আলোচনা চলছিল।
সেই সময় প্রায়ই শহরের বাইরে নদীর ধারে বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় চায়ের আড্ডা দিতাম। একদিন ফেরার পথে ওই এলাকার কয়েকজন বয়স্ক মুরুব্বির সঙ্গে দেখা। কথার ছলে বেশ ভাব-ভঙ্গিতে বললাম,
— “আপনাদের এলাকায় কোনো পালা গরু আছে নাকি? শহরের বাজারে তো বেশিরভাগই ফিড খাওয়ানো, ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা করা গরু। ঘাস-লতা খাওয়া গেরস্ত বাড়ির বড় গরু পাওয়া যায়?”
আমার কথার ভঙ্গি এমন ছিল যেন আমি বিশাল গরু চিনহেওয়ালা!
যাই হোক, একজন মুরুব্বি বললেন, একটা গরু আছে। কাঁচা-পাকা রাস্তা পেরিয়ে গ্রামের ভেতর এক বাড়িতে গেলাম। সেখানে দেখলাম বড়সড় লাল রঙের গরু। দেখতে সুন্দর, স্বাস্থ্যও ভালো, আর বাজারের তুলনায় দামও বেশ কম। আমি সঙ্গে সঙ্গে গরুর ছবি আর মালিকের নম্বর নিয়ে বাসায় দেখালাম।
তখন এক ভাই যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন করল,
— “এত ভালো গরু হলে লোকটা হাটে তোলে নাই কেন?”
নিজের মূল্যায়ন আরো বাড়ার মোহে আমি নিজেই উত্তর দাঁড় করিয়ে ফেললাম,
— “হয়তো গরিব মানুষ, হাটে তোলার খরচ নেই।”
সন্ধ্যায় বাবা আর ভাইয়ারা সবাই মিলে গরু দেখতে গেলাম। অন্ধকার গ্রামীণ রাস্তা, আধা-কাঁচা পথ— সব মিলিয়ে আব্বা বেশ বিরক্ত। যেতে যেতেই বললেন,
— “তুমি এত দূরে দূরে কী করতে আসো?”
আমরা পৌঁছানোর একটু আগেই এক ভাই গরুটা ভালো করে দেখে ফেলেছিল। কাছে যেতেই সে আমাকে ডেকে বলল,
— “তুমি জানো নাই? এটা গাভী গরু!”
মুহূর্তেই মনে হলো মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে। পরে বুঝলাম, পুরোপুরি গাভীও না আবার সাধারণ ষাঁড়ও না। একে “গাম্ভী” বলা হয়— এমন গরু, যাদের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। গরুর দুধ আছে ঠিকই কিন্তু ইহা চামড়ার সাথে লাগানো। নিচে দিকে ভালো করে না দেখলে বুঝা যায় না।
পুরুষ হিজড়া হয় শুনেছি, ছাগলের বাচ্চার বিচি কেটে কচি পাঠা বানানোর কথাও জানতাম; কিন্তু তাই বলে গরু!!!!! এমন কিছু হতে পারে, সেটা সেদিনই প্রথম জানলাম।
সেদিন লজ্জা যতটা পেয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি উপলব্ধি হয়েছিল একটা বিষয়—
জীবনে এখনো শেখার অনেক বাকি.....

সবাইকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও গরু গরু ভালোবাসা। আজকে হঠাৎ গরুর কিছু প্রোটেইট ছবি তুলতে ইচ্ছে হলো.....

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:০৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জীবনে এখনো শেখার অনেক বাকি.....
................................................................
সহমত,
জীবনটা চলমান । মৃত্যুর
আগের দিন পর্যন্ত শিখার অনেক কিছু থাকে ।
এই কোরবানীর দিনে শিখলাম, খাসী কুরবানী হয়না
ওটা ছাগল বা ছাগী হতে হবে , অর্থাৎ স্বাভাবিকতা নষ্ট করলে
তা কুরবাণীর জন্য উৎসর্গ করা জায়েজ নয় ।

২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:১৪

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

কুরবানী বিষয়ক মাসালা সনেট কবি কিংবা নতুন নকিবের নিকট জানতে পারেন।
ইহা আমার জ্ঞান সীমানার বাহিরে।
কুরবানী নিয়ে আরব বেদুইন আর ইহুদিদের কিচ্ছা শুনতে চাইলে
জেনারেশন একাওর ভালো বলতে পারবেন।

২| ২৮ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:২২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গোরু কি কিনেছিলেন শেষমেষ ? বকরি মুবারাক

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.