নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপ্রিয়বক্তা।

অন্তর্জাল পরিব্রাজক

অসাধারণ নই, সাধারণ এক মানুষ।

অন্তর্জাল পরিব্রাজক › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামায়াতে ইসলামীর কি হঠাৎ "চৈতন্যের উদয়" হয়েছে?

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৭



ইদানিং দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ বড় বড় কথা বলা শুরু করেছে। সম্প্রতি তারা নাকি “ক্ষমা প্রার্থনা”ও করেছে তাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য, অবশ্য সে বক্তব্যটাও ছিল দারুণ কৌশলী। সম্প্রতি তারা বলেছে আমাদের সাথে নাকি পশ্চিম পাকিস্তান “ইনসাফ” এর আচরণ করেনি। এর জন্য তাদের দলপতি বেশ খানিকটা উষ্মা প্রদর্শনও করেলেন পাকিস্তানের প্রতি।
প্রথম কথা হচ্ছে, না হয় তাদের ভূমিকার জন্য দুঃখিত, তারা আজ যে এপোলোজীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এই বক্তব্য দিতে তাদের ৫৪ বছর সময় কেন লাগলো? স্বাধীনতার পর দীর্ঘ এই এতোটা লম্বা সময়ে কেন তারা কোনও এহেন এপোলোজীমূলক বক্তব্য প্রদান করেনি?
তার পরের কথা হচ্ছে এই যুদ্ধ প্রসঙ্গে তারা কিছুদিন আগে বলেছে তাদের দ্বারা কেউ যদি দুঃখিত হয়ে থাকে তার জন্য তারা নাকি দুঃখিত!! কথা হচ্ছে তাদের এই বক্তব্যের মধ্যে কী দারুণ সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি তাদের দায় এড়িয়ে গেলো সে ব্যাপারটা দেখার মতো। মুক্তিযুদ্ধে তাদের দায় কতোখানি সেটা পাঁড় জামাতি আর পাকিস্তানপ্রেমী ছাড়া সবাই বলতে গেলে জানে বা স্বীকার করে। সেটা নতুন করে বলার বা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। কিন্তু সে অপরাধের কথা সদুঃখে সরাসরি মুখে স্বীকার করার মতো হিম্মৎ জামাতিদের নেই। আবার তারা নিজেদের খুব হিম্মৎওয়ালা হিসেবে দেখাতেই পছন্দ করে। সরাসরি না বলার মাধ্যমে প্রকারান্তরে কিন্তু তারা তাদের অপরাধটা স্বীকার করাটা কার্যত এড়িয়ে গেলো। সরাসরি বলতে তাদের বাধে যে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি পাক মিলিটারির সাথে সহযোগিতা করে তারা স্বদেশের স্বজাতির গলায় ছুরি চালিয়েছে এবং তারা এর জন্য আজ ক্ষমাপ্রার্থী।
এখন কথা হচ্ছে বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে জামাতিদের এবং জামাতি ঘরানার লোকেদের একটা ভালো যোগসূত্র আছে। এটাও আজ এদেশে ওপেন সিক্রেট। কিন্তু তার পরে যেটা তারা চেয়েছিল সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারটাকে এদেশে বিতর্কিত করে (যে প্রচেষ্টা তারা সব সময়ই করে এসেছে) একে আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে ভুলিয়ে দেয়া, একে মুছে ফেলা। লক্ষ্য করে দেখুন তারা কিছুদিন আগেও বলতো যে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান নাকি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের থেকেও বড় কিছু!! এটা “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”, এটা নাকি “প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ” আরও কতো কী!! কিন্তু তাদের এসব কথাবার্তা প্রথম দিকে হাইপ তুললেও খুব একটা হালে পানি পায়নি। কারণ, আমাদের জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের একটা বড় রকমের প্রভাব এবং স্পর্শকাতরতা রয়েছে। এটা তারা চাইলেও মুছে ফেলতে পারছে না। পারবেও না। এখন একে তো ভোটের সময় তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দু-একটা ভালো কথা না বললে তো আর চলে না আর তার ওপর তারা তাদের দায়টাও এখন আর সেভাবে বরাবরের মতো অস্বীকার করে চালিয়ে যেতে পারছে না আবার তার ওপরে নানাভাবে প্রচেষ্টা নিয়েও মুক্তিযুদ্ধকে জামাতিরা আমাদের জাতীয় চেতনা বা আমাদের মন-মানসিকতা থেকে মুছে ফেলতে পারছে না।
সুতরাং এখন করণীয় কী?
এখন এতকাল পরে তাদের “চৈতন্যের উদয়” হয়েছে যে পাকিস্তান আসলেই আমাদের সাথে অন্যায় করেছে, আসলেই তাদের অর্থাৎ জামাতে ইসলামের একটা বিশাল অপরাধের দায় রয়েছে। সুতরাং খুব কৌশলে তারা এখন ফের সেই মুক্তিযুদ্ধের কথাই টেনে আনছে, তার সাথে কিছু এপোলোজীমূলক কথাবার্তা বলে নিজেদের একটু ভালোভাবে জাহির করতে চাচ্ছে, একটু আধটু দায় পাকিস্তানের দিকেও চালিয়ে দিয়ে বোঝাতে চাইছে যে তারা অর্থাৎ জামাতিরা আসলে “ভালো লোক”।
আজও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত দেশে আসলে দেশের আর কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে সেভাবে কথা না বলে বা সেভাবে গুরুত্ব না দিয়ে ফের সেই জামাতে ইসলামকেই আলোচনার টেবিলে বেছে নেয়।
কার সাথে কার যোগ আছে সেটা আর জামাতে ইসলামের হৃদয়ে আসলেই কোন দেশের বসবাস তা সেটা “হৃদয়ে পাকিস্তান” না “হৃদয়ে বাংলাদেশ” কোনটা সেটা নতুন করে বুঝিয়ে দেয়ারও কিছু নেই।
আবার এদিকে ভারতের সাথে গোপন আলোচনা ভারতীয়দের দাবীমতো এতকাল গোপনই রেখেছিলো তারা। যেই না ফাঁস হয়ে গেছে ব্যাপারটা সেই তাদের খুব নিজেদের “হিম্মৎ” দেখানোর কথা মনে হয়েছে যে তারা নাকি অন্যদের মতো শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা গোপন করে নি।
যারা খুব বিশ্বাস করতে পছন্দ করে যে ভারত যদি কখনো বাংলাদেশ আক্রমণ করে তাহলে এই জামাতে ইসলামই নাকি সবচেয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়বে তাদের প্রতি বালতি বালতি সমবেদনা! হয়তো দেখা যাবে যে তারা বলে বসতেসে যে তারা ভারতের জামাতে ইসলামের সাথে মিলে (অনেকেই জানেন না ভারতেও কিন্তু জামাতে ইসলামী পার্টি আছে) বৃহত্তর মুসলিম স্বার্থে কাজ করবে।
ভুলে গেলে চলবে না যে পাকিস্তানের জন্য তাদের এতো দরদ, ব্রিটিশ আমলে লাহোর প্রস্তাবের পটভূমিতে যখন এদেশে পাকিস্তান আন্দোলন চলমান তখন এই জামাতে ইসলামী কিন্তু সেই পাকিস্তান সৃষ্টিরও বিরোধিতা করেছিলো। আর ৭১ এ কি করেছিলো নতুন করে নাই বা বললাম।
এন্ড দ্য বোটম লাইন ইজ – জামাতে ইসলাম ইজ এ গ্রেট মুনাফেক। ওয়ান্স এ মুনাফেক, অলয়েজ মুনাফেক।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামাত আমীর রকস ;)

২| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জামাতে ইসলাম ইজ এ গ্রেট মুনাফেক। ওয়ান্স এ মুনাফেক, অলয়েজ মুনাফেক।
....................................................................................................................
তারপরও দেখা যাক কতজন তাদের ভোট দেয়
তখন বির্তক শুরু হবে
দেশের জনগন কোন পক্ষে !
প্রকারন্তে বলে রাখি,
ইরানে দুইবার রাজতন্ত্র জনগনের রোষে পালায়ে গিয়েছিলো
এবার তার উল্টো,
কিছু আন্দোলনকারী বলছে রেজা শাহর রাজতন্ত্র চাই !
সত্যই বিচিত্র এই পৃথিবী ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.