![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের ঘটনায় দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষিত বিবেকবান শ্রেনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আমরা যারা আম-জনতা তারা এখনো বুঝতে পারছি না ডোনাল্ড ট্রাম্প কি করছেন ! কেন করছেন ! এদিকে গর্তে লুকিয়ে থাকা পলাতক স্বৈরাচার ইহাকে ইন্টেরিম সরকারের উপর চাপ হিসাবে দেখছে। তাদের যুক্তি আপার আমলে শুল্ক ১৫ শতাংশ থাকলেও এখন তা ৩৭ শতাংশ হয়েছে। চীন সফরের কারণে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছে। অন্যদিকে যারা আপা বিরোধী শক্তি তাদের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর বিগত আম্লিক সরকার ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিলো। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর বেশি মাত্রায় শুল্ক আরোপ করে রেখেছিলো তাদের পণ্য রপ্তানির উপর তার অর্ধেক শুল্ক আরোপ করেছে। এখন ইন্টেরিম সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের উপর থেকে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয় তবে রপ্তানির উপর শুল্ক কমে যাবে। অন্যদিকে আরেক গ্রুপ মনে করছেন, এখনই সময় আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে বেশি বেশি আমদানি করলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানির উপর শুল্ক কমিয়ে দিবে। এছাড়া ইন্টেরিম সরকার যুক্তরাষ্ট্র কে স্টারলিংক ও এলএনজি চুক্তি করে শুল্ক কিছুটা প্রত্যাহার করতে ম্যানেজ করতে পারে। এই কথিত শুল্কের হিসাব আসলে কিভাবে করেছে ট্রাম্প প্রশাসন ?
উত্তর হলো- স্রেফ কোন দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঐ দেশের মোট রপ্তানি দিয়ে ভাগ করে পারেসেন্টেজ করেছে।যেমন: ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের মোট রপ্তানি ১৩৬.৬ বিলিয়ন ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ১৩.১ বিলিয়ন , সুতরাং বাণিজ্য ঘাটতি ১৩৬৬-১৩.১= ১২৩.৫ বিলিয়ন ডলার। এখন কথিত শুল্ক হিসাব করতে যুক্তরাষ্ট্র যেটা করেছে তা হলো ভিয়েতনামের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি(১২৩.৫ বিলিয়ন ডলার) কে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের মোট রপ্তানি(১৩৬.৬ বিলিয়ন ডলার) দিয়ে ভাগ করে ভাগফলকে শতাংশ করেছে। (১২৩.৫/১৩৬.৬)×১০০%= ৯০.৪১% বা ৯০%
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮.৪ বিলিয়ন ডলার, আমদানি ২.২ বিলিয়ন ডলার সুতরাং বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৮.৪-২.২= ৬.২ বিলিয়ন ডলার। (৬.২/৮.৪)×১০০% = ৭৩.৮১ শতাংশ বা ৭৪ শতাংশ। এভাবেই বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির অনুপাতকে শুল্ক হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ট্রাম্প সরকার কথিত “Tariffs Charged to the U.S.A.” হিসেব করেছে। এটা মূলত রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং আর্থিক অপব্যাখ্যার একটা চমৎকার উদাহরণ মনে হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বাণিজ্য ঘাটতির হারকে শুল্ক হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে, যাতে জনসাধারণ বিভ্রান্ত হয় এবং তারা মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে অন্যায্য শুল্কের শিকার হচ্ছে।
আসল শুল্কের হিসাব একেবারেই ভিন্ন। যদি চীন বা ভিয়েতনাম সত্যিই ৬৭% বা ৯০% হারে শুল্ক নিত, তাহলে মার্কিন কোম্পানিগুলো বহু আগেই হৈচৈ করত, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) তে অভিযোগ দিত, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি একেবারেই বদলে যেত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, কারণ এই তথাকথিত "Tariffs Charged to the U.S.A" আসলে শুল্ক নয়, বরং একটি বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক চাল।
ট্রাম্প সবসময় বাণিজ্য ঘাটতিকে একটা খারাপ জিনিস হিসেবে দেখাতে চান, যদিও অর্থনীতিবিদরা বলে যে, বাণিজ্য ঘাটতি মানেই অর্থনৈতিক দুর্বলতা নয়। অনেক সময় একটা দেশ যদি বেশি আমদানি করে, সেটার মানে হতে পারে যে সেই দেশের ক্রয়ক্ষমতা বেশি এবং ভোক্তারা বৈচিত্র্যময় পণ্য কিনতে পারছে। কিন্তু ট্রাম্প এটা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, "আমরা হারছি, ওরা জিতছে"—যা পুরোপুরি ভুল।
বাংলাদেশ আসলে কতটা সাফার করবে ? বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান অংশ হচ্ছে পোশাক যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসাবে বিবেচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তেমন উচ্চমূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় না চীন বা ভিয়েতনামের মতো। ব্রান্ডগুলো কম দামে পণ্য ক্রয় করে বেশিদামে বিক্রি করে। বাংলাদেশের রপ্তানীকৃত পোশাকের মূল্যের রেঞ্জ ২০-৬০ ডলারের মধ্যে। আমদানি শুল্ক প্রয়োগ হয় বন্দরে পণ্যের ক্রয়মূল্যের উপরে। আগে শুল্ক দিতে হতো ৭৫ সেন্ট কিন্তু আগামী ৯ই এপ্রিল থেকে সেটা বেড়ে হবে ২ ডলারের মতো। পোশাকের দাম বাড়িয়ে সমস্যা সমাধান করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর উপরও যখন আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে তাই পোশাকের অর্ডার অন্যদেশে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কেবল ভারত(২৬%) হওয়ায় কিছুটা থ্রেট আছে। খুব বেশি বিকল্প ইউএসের আছে বলে মনে করেন না অনেকে। পোশাক রপ্তানীকারকদের শঙ্কা তবু কাটছে না।
আমরা যারা এসব কম বুঝি তাদের উচিত চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাওয়া। সরকার ও বিশেষজ্ঞদের ভাবনা ও কর্মপদ্ধতি গভীর ভাবে লক্ষ্য করতে পারি আমরা।
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: প্রথম পাতার প্রথম পোস্ট পড়েন। মাথা আরো আউলাইয়া যাবে।
২| ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:২০
সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: দলকানা লোক সব কিছুর মধ্যে রাজনীতির গন্ধ পায়। যুক্তরাষ্ট্র বহু দেশের উপরে এই শুল্ক আরোপ করেছে। যে পোস্ট লিখেছে সে শুল্ক আরোপকে সেঙ্কশন বলছেন। দুইটা এক জিনিস না।
ট্রাম্প যা অর্জন করতে চাচ্ছে সেটা সফল হবে না। বরং বুমেরাং হবে। ভালো ব্যবসায়ী হওয়া মানে ভালো অর্থনীতিবিদ হওয়া বুঝায় না।
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: উনি কলেজের শিক্ষক তাই হতাশ। আমি-আপনি সত্য-মিথ্যা মিশ্রণ করলে মানা যায় কিন্তু উনার আরোও বুঝে শুনে লেখা উচিত।
৩| ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৪৬
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: পোস্ট নিয়ে আপাতত আর কিছু বলছি না তবে ছবিটা মারাত্মক হয়েছে।
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধন্যবাদ।
৪| ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:০৬
নতুন বলেছেন: আপসোসলীগ বোগল বাজাচ্ছে দেখতেছি। আমাদের স্যার খুবই মজা নিচ্ছেন।
এই যাত্রায় ঝামেলা খুব বেশি বাড়বেনা। বিক্রি কমে যাবে কারন আমেরিকা ক্রয় কমিয়ে দেবে।
তবে ক্রেতারা ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের মতন দেশে চলে যাবেনা। তবে এই সুযোগে মালিকরা ধান্দাশুরু করবে যে তাদের আরো লোন দাও।
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: উনার লেখা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছে।
৫| ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:৫০
জুল ভার্ন বলেছেন: খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের সহজ সুযোগ দর্জির কাজের সাথে এক্সেসরিজ আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদেরই প্রোডাকশন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৫:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:০৭
সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ট্রাম্পের এই নীতির কারণে অ্যামেরিকাতে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। অনেক পণ্য আছে যেগুলির জন্য অ্যামেরিকা দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলির উপরে নির্ভর করে। যেমন গার্মেন্টস। অ্যামেরিকা নিজেরা গার্মেন্টস বানায় না বললেই চলে। এটার উপরে শুল্ক বাড়ালে ওদের জনগণের কষ্ট বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের গার্মেন্টস ক্রেতারা ৪ ডলারে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস কিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫ ডলারে বেঁচে। শুল্ক হয় ৪ ডলারের ভিত্তিতে। ফলে বিক্রয় মূল্যের উপরে শুল্কের প্রভাব ৩৭% না। বরং আরও কম।
এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস কাড়খানার মালিকেরা চাপে পড়বে। ক্রেতারা দাম কমানোর জন্য চাপ দিবে। তবে আমাদের দেশের বড় গার্মেন্টস গ্রুপগুলির শিকড় অনেক শক্ত। অনেক ঝড় ঝাপটা পার হয়ে তারা এই পর্যায়ে এসেছে।