নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

খেলাধুলা কি পেটে ভাত দেয়?

২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫২


যখন এই ব্লগটি লিখতে বসেছি, তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিশাল কেলেঙ্কারি বেঁধে রয়েছে। এক শ্রেণির ভুয়া জাতীয়তাবাদীদের চক্করে পড়ে আবেগী জনগণ হাততালির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে চলেছে। এটা এমন সুপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে যে এর ভবিষ্যৎ যে কতটা ভয়াবহ সেটা কেউ টের পাচ্ছে না এখন, কিন্তু মহাকালে এরা কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে এর জন্য কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

যাই হোক, কিছুদিন আগে ইউটিউবে একটা ভিডিও ক্লিপ দেখে অবাক হলাম। এবি পার্টির টক শো বক্তা কাম নেতা ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলছেন: ফুটবল খেলায় আসলে কী হয় তিনি সেটা বুঝেন না। সবাই খালি একটা বলের পিছে ছুটে বেড়ায়। উনার মূল কথা হলো খেলাধুলা একটা ফালতু জিনিস। পাবলিক খেলার পিছে হুদাই সময় নষ্ট করে। কিন্তু আসলেই কি তাই? খেলাধুলা কি এতটাই ফালতু জিনিস? হতে পারে আমাদের দেশ ফুটবল কিংবা ক্রিকেট তেমন ভালো খেলে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে খেলাধুলা অর্থহীন বিষয়। যারা স্পোর্টস ফ্যান, আগামী নির্বাচনে ফুয়াদ সাহেবকে অবশ্যই তার এমন মনোভাবের জবাব দেবেন।

গতকাল আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনাল খেলা হয়েছে। সেখানে সাদিও মানের সেনেগাল ১-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়েছে। সাদিও মানের সেনেগাল বলতেই বেশি কমফোর্ট ফিল হয়। সাদিও মানে এমন এক মুসলিম প্লেয়ার যিনি সেনেগালের মতো একটু দরিদ্র দেশকে পুরো বিশ্বে রিপ্রেজেন্ট করেন। কে এই সাদিও মানে? সাদিও মানে হলেন সেই ব্যক্তি যে হাজার হাজার সেনেগাল তরুণ ও শিশুদের আইকন। হয়তো প্রতিটি পরিবারই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন তাদের ঘরে একজন সাদিও মানে জন্মায়।

কিন্তু এই মহান মানুষটির যাত্রা শুরু হয়েছিল যেখান থেকে, সেটা জানলে যে কারও চোখে পানি চলে আসবে। সাদিও মানে বেড়ে উঠেছিলেন বাম্বালি নামের এক ছোট্ট গ্রামে, যেখানে চরম দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। তার বাবা-মা ছিলেন ক্ষুদ্র কৃষক। বাবা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতেন আর মা ঘর সামলাতেন, অর্থের অভাব ছিল প্রবল। সেধিউ প্রদেশে, যেখানে বাম্বালি অবস্থিত, সেখানকার প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। মানের বাবা-মায়ের এত বেশি সন্তান ছিল যে তারা সবাইকে দেখাশোনা করতে পারতেন না। তাই ছোট্ট সাদিওকে তার চাচার কাছে থাকতে হতো। স্কুলে যাওয়ার স্বপ্নও ছিল দুরাশা, কারণ তার পরিবার খরচ বহন করতে পারত না।

খেলার সরঞ্জাম? সেটাও ছিল না। তার প্রথম ফুটবল ছিল পুরানো মোজা এবং প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে তৈরি একটি বল। কখনো কখনো আঙুর ফল, ক্যান এমনকি পাথর দিয়ে বল হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি। ধুলোময় মাঠে, খালি পায়ে, স্বপ্ন বুকে নিয়ে ছুটতেন বলের পেছনে। চারপাশে স্থানীয় শিশুদের ভিড় থাকত, সবাই দেখত কীভাবে এই ছোট্ট ছেলেটা জাদুর মতো বল নিয়ে খেলে। বন্ধুরা তাকে ডাকনাম দিয়েছিল "ব্যালন বুওয়া" মানে বল জাদুকর।

মাত্র ৭ বছর বয়সে সাদিওর জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। তার বাবা, যিনি একজন ইমাম ছিলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাম্বালিতে কোনো হাসপাতাল ছিল না, তাই তাকে চিকিৎসার জন্য পাশের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাবা আর ফিরলেন না। একটা ফুটবল ম্যাচ খেলার ঠিক আগ মুহূর্তে সাদিও তার চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে এই ভয়ঙ্কর খবর পান। প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো মজা করছে। কিন্তু সত্যি জানার পর ছোট্ট সাদিও নিজেকে বললেন যে এখন আমাকে আমার মায়ের সাহায্য করার জন্য সর্বোত্তম চেষ্টা করতে হবে। এটি একটি কঠিন বিষয় যখন সাদিও মানে এত ছোট। এই মুহূর্তটাই হয়তো তৈরি করেছিল সেই সাদিও মানেকে, যিনি আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের আশার আলো।

ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠা সাদিওর ফুটবলের স্বপ্ন পরিবার মেনে নিতে পারেনি। তার বাবা চেয়েছিলেন তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় মনোযোগ দিন। কিন্তু সাদিওর মনে ছিল অন্য স্বপ্ন। তার কোনো সমর্থক ছিল না, কোনো গাইড ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সবাই ছিলেন ইমাম এবং তার ফুটবলের প্রতি আসক্তি সমর্থন করতেন না। কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। নিজে বলেছেন, আমার পেছনে আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য ঠেলে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। কিন্তু আমি কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করিনি।

অবশেষে ১৫ বছর বয়সে, সাদিও সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি তার বন্ধু লুক ডিজিবউনের সাহায্যে গ্রাম থেকে পালিয়ে গেলেন। গন্তব্য ছিল দাকার। দূরত্ব প্রায় ৫০০ মাইল। উদ্দেশ্য একটাই, ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ। দাকারে ট্রায়ালের সময় তার ছেঁড়া জুতা এবং শর্টস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো। কিন্তু সাদিও পরোয়া করলেন না। বল পায়ে নিয়ে মাঠে নামার পর তিনি সবাইকে দেখিয়ে দিলেন কে আসল বল জাদুকর। ২০১১ সালে যখন ফ্রান্সের মেৎজ ক্লাবে যোগ দেন, তিনি তার মাকে ছবি পাঠাতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার কোনো ফোন ছিল না, এমনকি ক্যামেরাও না। তিনি একজন ফটোগ্রাফারকে দেখে তাকে ছবি তুলতে বললেন কিন্তু জিজ্ঞেস করলেন ছবিটি বিনামূল্যে হবে কিনা। এই ছিল তার অবস্থা।

আজ সাদিও মানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু তিনি কখনো ভোলেননি তার শেকড়, ভোলেননি সেই দারিদ্র্য, সেই কষ্ট। এবং এখানেই তিনি অনন্য। ২০২১ সালে মানে প্রায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ডলার দিয়ে বাম্বালিতে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেন। কারণ? তার বাবা হাসপাতালের অভাবে মারা গিয়েছিলেন। তার বোন বাড়িতেই জন্ম নিয়েছিল কারণ গ্রামে কোনো হাসপাতাল ছিল না। মানে বলেছেন, আমার বোন বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিল কারণ আমাদের গ্রামে কোনো হাসপাতাল ছিল না। এটি সবার জন্য সত্যিই একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি ছিল। আমি একটি হাসপাতাল তৈরি করতে চেয়েছিলাম মানুষকে আশা দিতে। এই হাসপাতাল এখন শুধু বাম্বালি নয়, আশেপাশের ৩৪টি গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। বিশেষভাবে মাতৃত্ব বিভাগ রয়েছে, কারণ সেনেগালে প্রতি ১,০০,০০০ জন্মে ৩১৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১৯ জন। এই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগ, দন্ত চিকিৎসা এবং পরামর্শ কক্ষ রয়েছে এবং গ্রামীণ এলাকার মাত্র ৩২ শতাংশ পরিবারের যেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা আছে, সেখানে এই হাসপাতাল হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে।

২০১৯ সালে মানে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে বাম্বালিতে একটি স্কুল নির্মাণ করেন। কারণ তিনি জানেন শিক্ষার অভাব মানে জীবনের অভাব। সেনেগালে সাক্ষরতার হার প্রায় ৫২ শতাংশ এবং বাম্বালির মতো এলাকায় ৩৮ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে থাকে। তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে ল্যাপটপ দিয়েছেন এবং সেরা ছাত্রদের ৪০০ ডলার করে অনুদান দেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ প্রদান করেন। স্থানীয় স্কুলের বাচ্চাদের বলেন যে শিক্ষাই মূল চাবিকাঠি এবং তাদের এমন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন যা তার জন্য ছিল না।

সবচেয়ে অবিশ্বাস্য যেটা, সেটা হলো মানে তার গ্রাম বাম্বালির প্রতিটি বাসিন্দাকে, প্রায় ২,০০০ জনকে, মাসে ৭০ ইউরো মানে ৭৬ ডলার করে দেন। এটা সেনেগালের ন্যূনতম মজুরির যা ৮৮ ডলার তার প্রায় সমান। বছরে এই খাতে তিনি খরচ করেন প্রায় ১৮ লাখ ডলার। এটা কোনো দান নয়, এটা তার মানুষের প্রতি ভালোবাসা। এটা কোনো ভিক্ষা নয়, বরং সত্যিকারের সাহায্য যা মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। সেনেগালে প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ জনগণ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে ভুগছে। এই অবস্থায় মানের এই উদ্যোগ সত্যিই একটা বিপ্লব।

মানে আরও করেছেন পুরো এলাকায় ৪জি ইন্টারনেট সংযোগ যাতে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল শিক্ষা পেতে পারে, পেট্রল স্টেশন যাতায়াত সহজ করার জন্য, পোস্ট অফিস যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য, ফুটবল স্টেডিয়াম নতুন প্রজন্মের ফুটবল প্রতিভা বিকাশের জন্য এবং মসজিদ নির্মাণ। এমনকি বড় খেলোয়াড় হওয়ার পরও স্থানীয় মসজিদে টয়লেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করেছেন। কোভিড মহামারীর সময় ২০২০ সালের মার্চে তিনি সেনেগালের জাতীয় কমিটিকে ৪১,০০০ পাউন্ড দান করেন। চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষদের নিয়মিত কাপড়, জুতা ও খাবার সরবরাহ করেন এবং প্রতি মাসে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়া সংস্থাগুলোকেও দান করেন।

মানে একবার বলেছিলেন, আমার দশটি ফেরারি, ২০টি হীরার ঘড়ি বা দুটি বিমান কেন থাকবে? এই জিনিসগুলো আমার এবং বিশ্বের জন্য কী করবে? আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, মাঠে কাজ করতে হয়েছে, কঠিন সময় পার করেছি, খালি পায়ে ফুটবল খেলেছি, আমার কোনো শিক্ষা ছিল না এবং আরও অনেক কিছু। কিন্তু আজ ফুটবলের মাধ্যমে যা আয় করি, তা দিয়ে আমার মানুষদের সাহায্য করতে পারি। এই কথাগুলো শুধু কথা নয়, এটা তার জীবন দর্শন। তিনি লিভারপুলে বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার আয় করতেন, কিন্তু তার বেশিরভাগটাই দান করতেন। একবার তিনি ছাত্র আবাসে থাকতেন সপ্তাহে ১,২০,০০০ পাউন্ড আয় করেও। তার কোনো সোশ্যাল মিডিয়া নেই, কোনো ট্যাটু নেই যাতে সহজে রক্তদান করতে পারেন, কোনো দামি গাড়ি নেই। একবার তিনি একজন বৃদ্ধা মহিলার কাছ থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনেছিলেন। এই হলো সাদিও মানে, যিনি সফলতার শিখরে পৌঁছেও মাটির কাছাকাছি থেকেছেন।

আজ সেনেগালের প্রতিটি শিশু সাদিও মানের মতো হতে চায়। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন জাতীয় আইকন যিনি শুধু শিক্ষার জন্য অবকাঠামো এবং অর্থায়ন প্রদানই করছেন না, বরং যুবকদের তাদের পড়াশোনায় নিবেদিত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাও দিচ্ছেন। মানে বলেন, আমরা একধরনের রাষ্ট্রদূত। আমরা শুধু আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং একই সাথে যুবকদের বড় স্বপ্ন দেখাতে চাই। কারণ স্বপ্ন সবার জন্য অনুমোদিত এবং অবশ্যই আমি এখানে তাদের গর্বিত করতে আছি। তিনি Right to Play-এর গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সেনেগাল এবং সারা বিশ্বের ছেলে-মেয়েদের অনুপ্রাণিত করছেন যাতে তারা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং আগামী দিনের নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জীবন দক্ষতা অর্জন করে।

এবার ব্যারিস্টার ফুয়াদের প্রশ্নে ফিরে আসি। খেলাধুলা কি পেটে ভাত দেয়? সাদিও মানের গল্প বলে দেয়, হ্যাঁ, দেয়। শুধু নিজের পেটেই নয়, হাজার হাজার মানুষের পেটে ভাত দেয়। একজন খালি পায়ের ছেলে আজ ২,০০০ পরিবারকে মাসিক ভাতা দিচ্ছেন। হাসপাতাল বানিয়ে শত শত মায়ের জীবন বাঁচাচ্ছেন। স্কুল বানিয়ে হাজারো শিশুকে শিক্ষার আলো দিচ্ছেন। খেলাধুলা শুধু একটা বল নিয়ে দৌড়ানো নয়। এটা স্বপ্ন, সংগ্রাম, সংকল্প আর সাফল্যের গল্প। এটা শেখায় কীভাবে পড়ে উঠতে হয়, কীভাবে জিততে হয়, কীভাবে মানুষের হৃদয় জয় করতে হয়। সাদিও মানে প্রমাণ করেছেন দারিদ্র্য কোনো বাধা নয়, বরং একটা শুরু, যদি আপনার স্বপ্ন, সংকল্প এবং ভালো হৃদয় থাকে। তিনি শুধু ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন নন, মানবতার চ্যাম্পিয়ন।

সাদিও মানের গল্প ঠিক সেই গানের মতো, When I get older, I will be stronger, They'll call me freedom, just like a wavin' flag. একটা ছোট্ট ছেলে বড় হলো, শক্তিশালী হলো, আর হয়ে উঠলো স্বাধীনতার প্রতীক, তার মানুষের জন্য, তার দেশের জন্য। তাই যারা বলেন খেলাধুলা ফালতু, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, সাদিও মানে কি ফালতু? তার করা হাসপাতাল কি ফালতু? তার বানানো স্কুল কি ফালতু? ২,০০০ পরিবারের মাসিক ভাতা কি ফালতু? খেলাধুলা শুধু পেটে ভাত দেয় না, খেলাধুলা দেয় স্বপ্ন, দেয় সাহস, দেয় মানুষ হওয়ার শিক্ষা। আর সেটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া, তাই না?

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যিনি সফলতার শিখরে পৌঁছেও মাটির কাছাকাছি থেকেছেন।
............................................................................................
এই রকম মানুষের অভাব বোধ করছে বাংলাদেশ ।
আর কিছু গরু ,ছাগল বেড়া ভেঙে কৃষকের ফসল খেয়ে নিচ্ছে
তাদের খোয়াড়ে নিয়ে শিক্ষা দেয়া উচিত ।

২| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:০০

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
সাদিও মানে, এমবাপে, দ্রোগবা, মারিও বালোতেল্লির মতো অসংখ্য দরিদ্র আফ্রিকান ইউরোপে ফুটবল খেলে জীবন পাল্টিয়েছে।
ফ্রান্সের গোটা অর্ধেক টিম আফ্রিকান ইমিগ্রেন্টদের দিয়ে গড়া। ক্লান্তে ও কামাভিংগা এরা ফ্রান্সের রিফিউজি ক্যাম্প থেকে জাতীয় দলে চান্স পেয়ে ফরাসী নাগরিকত্ব পেয়েছে।

খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কিছু অংগন রাজনীতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে‌ হয়। বাংলাদেশ মসজিদের সভাপতি পদ পাওয়া থেকে শুরু করে এমন কোন জায়গা নাই যেখানে রাজনীতি চলে নাই।২,০০০ পরিবারের মাসিক ভাতা কি ফালতু? মানে বাংলাদেশে হলে চরমোনাই, হেফাজত থেকে অটোমেটিক ফতোয়া জারি হয়ে যেত হাঁটুর উপরে পেন্ট উঠিয়ে ইনকাম হারাম হারাম হারাম। মানে ইহুদি তথা পশ্চিমাদের দালাল.....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.