| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
মুসলিম দেশগুলোতে যারা বাস করে তারা চিরকাল দুঃখী। এদের নিজেদের কোনো রাজনৈতিক চেতনা নেই। সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের মতো গালফ স্টেটগুলোর জনগণ তথাকথিত সুখে আছে, কারণ সেই দেশের শাসকেরা আমেরিকা এবং ইসরায়েলের কাছে নিজেদের মাথা বিক্রি করে দিয়েছে। জনগণকে তেলের টাকায় একটু আরামে রেখেছে, বিনিময়ে তারা কোনো প্রশ্ন করে না।
দক্ষিণ এশিয়ায় দুইটা মুসলিম দেশ পাকিস্তান আর আফগানিস্তান একে অপরকে দালাল উপাধি দিয়ে হামলা করছে। পাকিস্তান বলছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেয় আর ভারতের পক্ষে কাজ করে। অন্যদিকে তালেবান বলছে পাকিস্তান আমেরিকার দালাল। বাকি মুসলিম দেশগুলো বসে বসে এই দৃশ্য দেখছে আর দুই পক্ষকে শান্ত করতে মাঝেমধ্যে একটু বিবৃতি দিয়ে চুপ থাকছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তান হামলা বাড়িয়েছে । প্রভুকে খুশি রাখতে হবে, পাকিস্তানি জেনারেলদের আরাম-আয়েশে থাকতে হবে, তাই হোয়াইট হাউসের ইশারায় মাথা নাড়তে হয়। এই একই পাকিস্তান নিজেদের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে জেলে ভরে একটা চোখ কার্যত নষ্ট করে দিয়েছে। ইমরান খানের একটাই দোষ ছিল, সে কেন আমেরিকা আর পাকিস্তানি সামরিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কথা বলেনি। তাই তাকে জেলে ভরো। পাকিস্তানের মতো প্রায় বেশিরভাগ মুসলিম দেশে একই অবস্থা। রেজিমের বিরুদ্ধে কিছু বললেই কচু কাটা হতে হয়। সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে টুকরো টুকরো করে কেটে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে আসার পরেও সৌদি জনগণ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপর আস্থা রেখেছে। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে ইরানের জনগণ।
১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর ইরানের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল ইরান একটা মর্যাদাশীল জাতি হবে, উন্নত জীবন যাপন করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। খোমেনি রেজিম ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল মিলিশিয়া গড়ে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলকে চাপে রাখা আর মুসলিম উম্মাহকে নেতৃত্ব দেওয়া। জনগণের সুখ-শান্তি আর মর্যাদা নিয়ে এই রেজিমের কোনো চিন্তা নেই। তারা জনগণকে আল্লাহর উপর ভরসা করে ছেড়ে দিয়েছে। জনগণের তেলের টাকায় হিজবুল্লাহ চলে, হুতি চলে, ইরাকি মিলিশিয়া চলে। আর ইরানের রাস্তায় মানুষ মুদ্রাস্ফীতি আর দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে।
গত বছর ইরানে খামেনি রেজিমের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। অনেকে বলছে এখানে আমেরিকা-ইসরায়েলের ইন্ধন ছিল। সেটা সত্য হলেও হতে পারে। কিন্তু তাতে ইরানের মানুষের কষ্ট, অভাব আর অপমান মিথ্যা হয়ে যায় না। রেজিম সেই প্রতিবাদের জবাব দিয়েছে গণহত্যা দিয়ে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় হাজার হাজার মানুষ মেরেছে IRGC। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যা করো, লাশ ট্রাকে সরাও, সংখ্যা লুকাও। হাসপাতালে আহত প্রতিবাদকারীদের পর্যন্ত গিয়ে মেরেছে। খামেনি নিজে "যেকোনো উপায়ে দমন করো" আদেশ দিয়েছেন।
যে দেশের সরকার নিজের মানুষ মারে, সেই দেশে বিদেশি আক্রমণ সহজ হয়ে যায়। কারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে, আমি কার জন্য লড়ব? কিন্তু এখানেই ঘটে সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাইরে থেকে বোমা পড়লে মানুষ সেই বোমার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়, রেজিম পছন্দ না করলেও। ১৯৮০ সালে ইরাক যখন ইরানে হামলা করল, তখন অনেক ইরানিই খোমেনিকে পছন্দ করত না। কিন্তু সেই যুদ্ধ খোমেনিকে জাতীয় বীর বানিয়ে দিল। সাদ্দাম নিজের হাতে খোমেনিকে উপহার দিলেন একটা নতুন জীবন। এখন আমেরিকা আর ইসরায়েল সেই একই ভুল করছে কিনা সময়ে বলে দিবে ।
আজকের হামলায় ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা পড়েছে। ৮৫ জনের বেশি নিহত। আমেরিকা বা ইসরায়েল কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ইসরায়েল দাবি করে তারা খামেনি গংকে সরাতে চায়। কিন্তু খামেনি গং কি স্কুলে লুকিয়ে থাকে? আসলে এই ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হলো জনগণকে ক্ষুব্ধ করা, ভয় দেখানো।
এই ধরনের হামলার প্যাটার্ন নতুন না। ২০১৪ সালে পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলে টিটিপি হামলা করে ১৩২টি শিশুকে হত্যা করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের পরিবার মারে, তাই তারাও অনুভব করুক। নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম বারবার স্কুলে হামলা করে, ছাত্রছাত্রী অপহরণ করে। পশ্চিমা শিক্ষা হারাম, তাই স্কুল ধ্বংস করতে হবে। এই হামলাগুলোর পেছনে যুক্তি আলাদা কিন্তু টার্গেট একই, সবচেয়ে দুর্বল মানুষ, শিশু আর নারী। ইসরায়েলের বর্তমান হামলার প্যাটার্ন সেই একই ভাষায় কথা বলছে। ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে secular হলেও এই কাজগুলো জিহাদি সংগঠনগুলোর মতোই।
আমেরিকা আর ইসরায়েল ভাবছে বেসামরিক নাগরিক মারা গেলে জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে খামেনি রেজিমের পতন ঘটাবে। এটা উলটো বুমেরাং হতে পারে । ইরানের ৫ কোটি মানুষ মারা গেলেও খামেনি রেজিম ক্ষমতা ছাড়বে না। কারণ ইরানের জনগণের জীবনের কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। যখন নিজের দেশের সরকারের কাছে জনগণের মূল্য থাকে না, তখন ইসরায়েল বা আমেরিকার কাছে কি মূল্য থাকবে ?
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের আসল পরিকল্পনাটা বেশ জটিল। তারা পুরো ইরানকে ধ্বংস করতে চায় না। তারা চায় খামেনি এবং IRGC-র শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে, IRGC-র ভেতরের কোনো একটা পক্ষকে পশ্চিমাপন্থী করে তোলা। ট্রাম্প IRGC-কে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছেন, অস্ত্র রাখলে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হবে। ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে যেমন দেখা গেছে সিস্টেমের ভেতর থেকে কেউ পশ্চিমের পক্ষে কাজ করে, ইরানেও সেরকম কেউ আছে কিনা সেটা খোঁজা হচ্ছে। IRGC সম্পূর্ণ ভাঙা সম্ভব নয়, সেটা তারা জানে। তাই নতুন মুখের পুরনো কাঠামো তৈরি করতে চাইছে।
দুই পক্ষের ভূরাজনৈতিক দাবা খেলায় ইরানের ৯০ মিলিয়ন মানুষ আটকে আছে। নিজেদের সরকার তাদের শত্রু, আর যারা মুক্ত করতে আসছে বলে দাবি করছে তারা স্কুলে বোমা মারছে। ট্রাম্প বলছেন তিনি ইরানের মানুষকে 'মুক্ত' করতে চান - কিন্তু এই মুক্তির ভাষা ইরাক যুদ্ধের আগেও শুনেছিলাম, সেই মুক্তির পরিণতি ইতিহাস জানে। খামেনি রেজিম বা ট্রাম্পের আহ্বান : কোনোটাতেই ইরানের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না। এই মানুষগুলোর জীবনের মূল্য কারো কাছেই নেই।
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনাকে তারেক রহমানের এডভাইজার হিসাবে চাই সে কারণে ।
২|
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৭
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: খোমেনির নেতৃত্বে শিয়া ইরানের লক্ষ্য ছিল মুসলিম উম্মাহের নেতৃত্ব দেয়া? আমার মনে হয় না। শিয়ারা জানে মেজরিটি সুন্নি মুসলিম কখনো তাদের নেতৃত্ব মেনে নেবে না। ২০২৬ সালে ন্যায়ের পক্ষে সম্ভবত ইরানই দাঁড়িয়ে, কিন্তু তার আগে তাদের টিকে থাকার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যে রাজনীতিটুকু করার, সেটাই তারা করেছে ১৯৭৯ সাল থেকে। শিয়ারা ইহুদীদের মতোই পারজিকিউটেড ছিল সবসময়। ইতিহাস পড়ে দেখুন।
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইরান ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এটা সত্য, কিন্তু একই ইরান সিরিয়ায় আসাদকে বাঁচাতে লক্ষাধিক সুন্নি মুসলিম হত্যায় সহায়তা করেছে ; তাই ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর দাবিটা selective। খোমেনি নিজে ইসলামি বিপ্লব রপ্তানির কথা বলেছেন, হিজবুল্লাহ-হুতি-ইরাকি মিলিশিয়া শুধু টিকে থাকার কৌশল না, আঞ্চলিক আধিপত্যের হাতিয়ার। আর শিয়াদের নিপীড়িত ইতিহাস সত্য হলেও আজকে ইরান, ইরাক, লেবাননে শিয়ারাই ক্ষমতায় ; নিপীড়িত অতীত দিয়ে বর্তমান ক্ষমতার অপব্যবহার জাস্টিফাই হয় না।
৩|
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার উল্লেখিত তথ্যগুলো সবই সঠিক। তবে এখানে ইসরাইলের পরিকল্পনা এবং আমেরিকারকে তার ব্যবহার করার রাজনীতিগুলো উঠে আসেনি - যেটা এই আলোচনার খুব গুরুত্বপূর্ন অংশ।
আপনাকে একটা ছোট্ট তথ্য দেই। কয়েকদিন আগে এক লোক ট্রাম্পকে মারার জন্য হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা চৌকি ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ে। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা তাকে গুলি করে মেরে ফেলে। আমেরিকার ইরান আক্রমণের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের কাছে তার নিজের জীবনের নিরাপত্তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যেটা তাকে বিবেচনা করতে হবে। এর সাথে এপস্টিন ফাইলের বিষয়ও জড়িত। ট্রাম্প যুদ্ধ না করলে ইসরাইল তার পুরো ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়ে জেলে পাঠাবে।
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইসরায়েলের পুরো রেজিম জিহাদি ; আমেরিকা নিজের দরকারে সব ধরমের জিহাদিদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে । নেতানিয়াহু পারলে আমেরিকা চালাতো । ট্রাম্প জেলে যেতে পারে ফিউচারে ।
৪|
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১১
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আঞ্চলিক আধিপত্য, নিপীড়িত অতীত বিক্রি, ক্ষমতার অপব্যবহার - এই শব্দগুলি ইরানের সাথে বেশি যায়, না ইজরায়েলের সাথে?
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দুটো দেশের সাথেই মিলে যায় । ইসরায়েল যা করছে তা আমেরিকার দমে , আর ইরান সেটা করেছে মিলিশিয়া গঠন করে । খুবই খারাপ সময়ে ইরানে হামলা করেছে ইসরায়েল যার পরিণতি সবাই করবে ।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৩৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমি আরব দেশে কোন দরিদ্র মানষ দেখি নাই।
অন্যদিকে, জানা যায়, ইরানে এক তৃতীয়াংশ জনগণ দারিদ্র সীমানার নিচে বাস করেন।
আমি আমেরিকার কাছে মাথা বিক্রি করে দিতে রাজি।
কিন্তু, জনগণকে দরিদ্র রেখে দেওয়া? কাভি নেহি।