| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লোন রাফা
আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।
এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার একটি ভাষণ দেখছিলাম। বক্তব্যের বিষয় ছিল আওয়ামী লীগ। তার দাবি—
জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল, আর সেই সুযোগ দেওয়ার কারণেই তাকে মরতে হয়েছে।
একই বক্তব্য শব্দে শব্দে কপি–পেস্ট করে বলেছে সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম, হাসনাতসহ আরও কয়েকজন। সেই সাথে জামাতের ওয়াজি মুল্লা কাজী ইব্রাহিম, আমির হামজা, তারেক মনোয়ার সহ এমন শ খানেক মুল্লা নামের ঝোল্লা দের একই বয়ানবাজি ।
এই প্রোপাগান্ডার উৎস কোথায়—সেটাও নতুন কিছু না। এই গল্পের সূচনা হয়েছিল প্যারিসে বসে থাকা “বড়পীর” আবু তালেব (পিনাকীঃ) মুখ থেকে।
প্রশ্ন একটাই—
আসলেই কি তাই?
আসুন, পুরো বিষয়টার একটা সৎ পোস্ট-মর্টেম করি।
ইউনূসের দীর্ঘ আঠারো মাসের কুশাসনের অবসানের পর যে দৃশ্যটা এখন চোখে পড়ছে, সেটা খুব পরিষ্কার। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সাহস করে তাদের স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যালয় খুলেছে। কোথাও পতাকা টাঙানো হয়েছে, কোথাও “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান উঠেছে।
একই সঙ্গে এটাও সত্য—কোথাও কোথাও বিএনপির লোকজন জোর করে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে, কোথাও আগুন লাগাচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
এগুলো কেবল তৃণমূল পর্যায়ের সীমিত উদ্যোগ।
কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল না, কোনো প্রশাসনিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা না।
এই সামান্য দৃশ্য দেখেই জামায়াত–শিবির আর তাদের আন্ডা-ফোটা নতুন রাজনৈতিক সন্তান এনসিপির বুক ধড়ফড় শুরু হয়ে গেছে। জুলাইয়ের তথাকথিত বিপ্লবীরা পিনাকীর ভাষায় বলতে শুরু করেছে—
“বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে!”
একই সঙ্গে তাদের গুজবের কারখানা—ফেসবুকের মিম পেজ, গ্রুপ, রিল—সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে ভয় দেখানো গল্পঃ
মেজর জিয়া নাকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল, আর আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিতেই জিয়াকে জীবন দিতে হয়েছে।
এই কথার ভেতরের হুমকিটা খুব স্পষ্ট।
ইঙ্গিতটা হলো—
আজ যদি তারেক জিয়াও কিংবা বিএনপি একই কাজ করে, তার পরিণতিও নাকি একই হবে।
ইতিহাসকে ভয় দেখানোর এই চেষ্টা আসলে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এইসব পড়লে প্রথমেই একটা প্রশ্ন মাথায় আসে—
ভাই, তোরা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছিলি কী নিয়ে?
প্রোপাগান্ডা ছাড়া তোদের পড়াশোনা, জ্ঞান, বুদ্ধি, ইতিহাসচর্চা—কিছুই কি নাই?
ইতিহাস মানে কি শুধু ফেসবুক পোস্ট আর ইউটিউব রিল?
একটা বেসিক প্রশ্নের উত্তর আগে দে—
জিয়ার কী ক্ষমতা ছিল শেখ হাসিনাকে রুখে দেওয়ার?
শেখ হাসিনা কি তখন কোনো মামলার আসামি ছিলেন?
তাকে আটকানোর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল?
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় শেখ হাসিনা দেশের বাইরে ছিলেন। সেখানেও তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা পৃষ্ঠপোষকতা তো দূরের কথা—বেঁচে থাকাটাই ছিল অনিশ্চিত। তিনি ছিলেন জাতিসংঘের নিরাপত্তায়।
তিনি চাইলেই যেকোনো সময় দেশে ফিরতে পারতেন।
কে বাধা দেবে?
কিসের ভিত্তিতে বাধা দেবে?
এটা তার জন্মভূমি।
এখানে তার বাবার বাড়ি, এখানে তার শ্বশুরবাড়ি।
একজন নাগরিককে তার নিজের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা জিয়ার ছিল না—আইনগতভাবেই ছিল না।
আন্তর্জাতিক আইন এই বিষয়ে একেবারে পরিষ্কার।
The Right to Return: A Fundamental Human Right
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজ দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR) এবং ICCPR অনুযায়ী এটি প্রতিটি নাগরিকের অলঙ্ঘনীয় অধিকার।
According to international law, preventing any individual from entering their own country is a severe violation of human rights. Under the Universal Declaration of Human Rights (UDHR) and ICCPR, this is an inalienable right of every citizen.
জাতিসংঘের আইন যা বলে—
UDHR Article 13(2):
“Everyone has the right to leave any country, including his own, and to return to his country.”
ICCPR Article 12(4):
“No one shall be arbitrarily deprived of the right to enter his own country.”
মামলা থাকুক বা না থাকুক—একজন নাগরিককে তার মাতৃভূমিতে আসতে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। আইনের শাসন বজায় রাখতে হলে এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি তো কোনো খুনি ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন নারী, একজন কন্যা, একজন গৃহিণী। বরং তার বাবা ও পরিবারকে নিঃসঙ্গভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
তাই তিনি সরাসরি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষায় ছিলেন। তিনি যখন চাইতেন, তখনই দেশে আসতে পারতেন। কারো বাধা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না।
এটা কোনো দয়া ছিল না—এটা ছিল তার সাংবিধানিক অধিকার। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অধিকারভুক্ত তার ফেরা।
তবে হ্যাঁ—
“হাসিনাকে আসতে দেওয়া হয়েছিল”—এই গল্পটা পুরোপুরি গাঁজাখুরি বানোয়াট গল্প।
ইতিহাস বলে ঠিক উল্টো কথা।
স্বাধীনতার পরপরই পরাজিত জামায়াত, গোলাম আযমের নেতৃত্বে “পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি” গড়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার আগে ও পরে তারা আরও প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়েছিল। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দল—ফ্রিডম পার্টি।
একই সঙ্গে বিএনপির ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছিল—
“হাসিনা খেদাও পার্টি”,
“আওয়ামী লীগ খেদাও পার্টি”।
সারা বাংলাদেশে মিছিল হয়েছিল—শেখ হাসিনাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হয়েছিল—তারা যেন শেখ হাসিনার নাম না নেয়।
আজকের মতোই, তখনও জিয়ার নেতৃত্বে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার ও হত্যা করা হয়েছিল।
তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে “Go Back Hasina” নামে উগ্র জনসভা করে মব তৈরি করা হয়েছিল। লক্ষ্য একটাই—বঙ্গবন্ধুর রক্তধারা যেন বাংলার মাটিতে পা রাখতে না পারে।
১৯৮১ সালের ১৭ মে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে হত্যার নীলনকশাও করা হয়েছিল।
কিন্তু সেদিন ভয়াবহ বৃষ্টি হয়েছিল।
এই বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির ছিল না—এটা ছিল ইতিহাসের বৃষ্টি।
সেদিন সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ নেমে এসেছিল ঝাঁকে ঝাঁকে। ইতিহাসে খুব কম নেতাই আছেন, যাদের অভ্যর্থনায় এমন জনসমুদ্র তৈরি হয়। সেই জনস্রোতের ভয়েই ষড়যন্ত্রকারীরা সেদিন পিছু হটেছিল।
তোদের মতো সেনাবাহিনীর কাঁধে চড়ে, সরকারি টাকা খরচ করে কেউ আসেনি।
বরং তখন তোদের আইডিয়াল খুনি কর্নেল রশিদ, ডালিমের গড়া এনসিপির মতোই ফ্রিডম পার্টি হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে মব সন্ত্রাসে হত্যা করেছিল—যেন আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল।
দেশে ফেরার পরও কি তাকে স্বাভাবিকভাবে থাকতে দেওয়া হয়েছিল? একদমই না।
জিয়াউর রহমানের সরকার তাকে নিজের বাবার বাড়ি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঢুকতে দেয়নি। পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য দোয়া করার সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় বাধায় তিনি আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি ভাঙাচোরা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। গোয়েন্দা নজরদারি আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়ে অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া দিতেও সাহস পেত না।
আর আজ এরা নির্লজ্জভাবে বলে—
জিয়া নাকি তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল!
জীবিকার প্রশ্নেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। শেখ হাসিনা কখনো সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে জীবন চালাননি। বাংলাদেশে ফেরার পর তাঁর সংসার চলত মূলত তাঁর স্বামী, পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার আয়ে। সামান্য পৈতৃক কৃষিজমির আয় ছিল বাড়তি ভরসা।
ভারতের নির্বাসনে তাঁর দিনগুলো ছিল আরও কঠিন। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধীর পতন হয়, ক্ষমতা চলে যায় অ-কংগ্রেস মোরারজি দেশাই এর হাতে। তিনি ক্ষমতায় এসেই ইন্দিরার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী দের সুবিধা কেড়ে নেয়। যার কারণে তৎকালীন ইন্দিরা সরকার থেকে পাওয়া সামান্য ভাতাটুকুও বন্ধ করে দেন। সেই সময় সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তাঁকে সেলাই মেশিন চালিয়ে জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল।
তোদের মতো রাষ্ট্রীয় সুযোগ আর সেনাবাহিনীর পিঠে চড়ে তিনি রাজনীতি করেননি। রাজনীতি করতে হয় মানুষের ভেতরে গিয়ে—যা তোরা কোনোদিন পারিসনি।
১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। হাজারো নেতাকর্মী হত্যার পরও দল দাঁড়িয়ে ছিল। হাল ধরেছিলেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীনসহ অসংখ্য ত্যাগী নেতা।
শেখ হাসিনা এসেছিলেন জনগণের দাবিতে—কোনো সামরিক ছাউনির দয়ায় নয়।
জিয়ার হত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার কোনো সম্পর্ক নেই। হত্যার ঘোষণায় রেডিওতে বলা হয়েছিল—
“আমি একজন ভারতের দালালকে হত্যা করলাম।”
জিয়ার মৃত্যু ছিল তারই তৈরি করা সামরিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার ফল। তিনি রাজনীতি করেননি মাঠে—করেছেন সেনানিবাসে। ইতিহাস বলে, সেনা রাজনীতির পরিণতি এমনই হয়।
আওয়ামী লীগ তোদের মতো ক্যান্টনমেন্টের ছায়ায় জন্ম নেওয়া দল না। আওয়ামলীগের জন্ম পাকিস্তানের অত্যাচার নির্মম বৈষম্য কে রুখে দেওয়ার জন্য।
ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট, ঊনসত্তরের অভ্যুত্থান , সত্তরের নির্বাচন, মহান স্বাধীনতার নেতৃত্ব—এই ধারাবাহিক সংগ্রামের ফল আওয়ামী লীগ।
সরকারি সুবিধা নিয়ে দল বানিয়ে তোরা তিনশো আসন থেকে নেমে ছয়টায় এসেছিস। হিসাব করে দেখ—কাল পর্যন্ত টিকতে পারবি কিনা।
আজ আওয়ামী লীগ ফিরে আসার ভয়ে তোরা কুঁকড়ে থাকিস।
আগে এই ভয় কাটা।
তারপর রাজনীতি করতে আয়।
আওয়ামী লীগকে “প্রতিষ্ঠা” করতে তোদের দয়া লাগে না।
যে দলের ভিত্তি ইতিহাস, সংগ্রাম আর জনমানুষের ভালোবাসা—
তাকে মিথ্যা, হুমকি আর প্রোপাগান্ডা দিয়ে উপড়ে ফেলা যায়না।
৫ই আগস্টেই বলে ফেলেছি ২০২৪ ছিলো পুরোপুরি শেখ হাসিনা’কে হত্যা করার নিষ্ঠুর পরিকল্পনা। আজ আমার বারবার মাহবুব ভাই আর মেয়র হানিফ মামার কথা মনে পড়ছে। দু’জনের জিবন বিষর্জনে আজও বেঁচে আছেন আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু॥
২|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনা ফিরবে না আর ; লীগের মাঝে কোনো পলিটিক্স নেই । আছে কেবল চেতনাবাজি ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
সামছুল আলম কচি বলেছেন: যা লিখেছেন ....আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে; নিঃসন্দেহে তারা আপনাকে মন্ত্রী বানাবে !!
বিগ্রেডিয়ার আজমী আয়নাঘর থেকে ছাড়া পাওয়ার ৯ বা ১০ মাস আগে তার স্ত্রী ১০ বছর অপেক্ষার পর অন্য পুরুষকে বিয়ে করে !! বেশ চমৎকার ঘটনা তাই না ???!!! এমন কত শত ঘটনা ঘটেছে জানেন ?? এ নিয়ে একটু ভাবেন তো ?? নোংরা রাজনীতি !!!
শত শত জনতা ২৪ এর আন্দোলনে প্রাণ দিলো আর ১৭ বছর আরামের জিন্দেগী কাটিয়ে এসে উত্তরাধিকার সূত্র ধরে এসে একজন হয়ে গেলো প্রধানমন্ত্রী !!! একে কেন আপনাদের এত প্রেম নিবেদন ??? এ নিয়ে একটু ভাবেন তো ?? নোংরা রাজনীতি !!!
বিএনপি আওয়ামী লীগ-কে সেল্টার দিচ্ছে; কথাটা ১০০% প্রমানিত। নির্বাচনের সময় ঘর থেকে বের হয়ে থাকলে আপনি নিজেই দেখেছেন- আওয়ামী লীগ সরাসরি বিএনপিকে সাপোর্ট করেছে। কিন্তু বিএনপি কেন তাদের চাইছে ?? মূল ঘটনা হলো; বিএনপি কোনও সময়েই নিজ দলের কর্মীদের মূল্যায়ন করে নাই, যা আওয়ামী লীগ করেছে (একজন উপজেলা ছাত্র নেতা ২ হাজার কোটি টাকার মালিক )। সে কারনে সাধারন কর্মীরা বিএনপির বড় বড় নেতাদের বিশ্বাস করে না; তাদের ডাকে শত ভাগ সাড়া দেয় না। আর এ নির্বাচনে জনমত এবং জামাতের যে সাংগঠনিক শক্তি; তার কাছে বিএনপি -খড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়ড়-কুটা !!! এ কারনেই আওয়ামী লীগের সাহায্য ছাড়া বিএনপির কোনও পথ ছিলো না !!!!!
বিএনপি এর প্রতিদান দিবে। তার শুরুটা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর-কে মব করে হটিয়ে (ওখানে নিয়োগ পেলো নিম্ন মানের এক ব্যবসায়ী, এক লোন ডিফল্টার) আর ইয়াবা সম্রাট বদি না মোদি-কে জামিন দিয়ে !!! স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর এলাকার লোক কি জেলে থাকতে পারে...বদনাম-বদনাম, শেইম-শেইম !!!
একটা কথা বলি সাহেব; এ পাপের দেশে কুত্তা-বিড়ালেরও যে দাম-সাধারন মানুষের তা নাই !!! কেন রাজনৈকিত গোলামী করতে হবে ?? দুই একটা শিশু ছড়া শিখেন তো !! আচ্ছা আমিই একটা দেই-
নদী-স্বপ্ন
বুদ্ধদেব বসু
কোথায় চলেছো? এদিকে এসো না! দুটো কথা শোনা দিকি
এই নাও- এই চকচকে ছোটো, নুতন রূপোর সিকি
ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে, তোমারে দেবো গো তা-ও,
আমাদের যদি তোমার সঙ্গে নৌকায় তুলে নাও।
নৌকা তোমার ঘাটে বাঁধা আছে- যাবে কি অনেক দূরে?
পায়ে পড়ি, মাঝি, সাথে নিয়ে চলো মোরে আর ছোকানুরে
আমারে চেনো না? মোর নাম খোকা, ছোকানু আমার বোন
তোমার সঙ্গে বেড়াবো আমরা মেঘনা-পদ্মা-শোন।
দিদি মোরে ডাকে গোবিন্দচাঁদ, মা ডাকে চাঁদের আলো,
মাথা খাও, মাঝি, কথা রাখো! তুমি লক্ষী, মিষ্টি, ভালো!
বাবা বলেছেন, বড় হয়ে আমি হব বাঙলার লাট,
তখন তোমাকে দিয়ে দেব মোর ছেলেবেলাকার খাট।
চুপি-চুপি বলি, ঘুমিয়ে আছে মা, দিদি গেছে ইস্কুলে,
এই ফাঁকে মোরে-আর ছোকানুরে- নৌকোয়া লও তুলে।
কোন ভয় নেই – বাবার বকুনি তোমাকে হবে না খেতে
যত দোষ সব, আমার- না, আমি একা ল'ব মাথা পেতে।
নৌকো তোমার ডুবে যাবে নাকো, মোরা বেশি ভারি নই,
কিচ্ছু জিনিস নেবো না সঙ্গে কেবল ঝন্টু বই।
চমকালে কেন! ঝন্টু পুতুল, ঝন্টু মানুষ নয়,
একা ফেলে গেলে, ছোকানুরে ভেবে কাঁদিবে নিশ্চয়।