নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি মিমে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল এমন একজনের শরীরে, যাঁকে তাঁর মনে হয়েছিল চীনের কোনো স্বৈরশাসক। ভিডিওতে দেখা যায়, সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং।

এমবাপ্পে বলেন, মিমটি বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনেও ব্যবহার করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চীনা কোম্পানি তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে লা লিগার সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। একটি মিম নিয়ে এত কাণ্ড কেন ঘটলো ?

মাও কি স্বৈরশাসক ছিলেন না ? অবশ্যই ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হওয়া গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ডের অবাস্তব উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা, জোরপূর্বক নীতির বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ডেকে আনে। এতে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। ১৯৬৬ সালে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক বিপ্লবে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ নিপীড়নের শিকার হন। রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, ব্যক্তিপূজা ও একদলীয় শাসন ছিল তাঁর শাসনের বাস্তবতা। মাওয়ের ভুলের দায় এড়ানোর উপায় নেই।

কিন্তু মাওয়ের ইতিহাস শুধু এই ব্যর্থতা আর অপরাধে শেষ নয়। তিনি ছিলেন গেরিলা যোদ্ধা, বিপ্লবী সংগঠক এবং ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার প্রধান নেতা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও বিদেশি আধিপত্যের অভিজ্ঞতার পর চীনের জাতীয় পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি তাঁর ভয়াবহ ভুল স্বীকার করেও তাঁকে ইতিহাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়নি। ১৯৮১ সালের দলীয় মূল্যায়নে তাঁর অবদানকে প্রধান এবং ভুলকে গৌণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। চীনের অনেক মানুষ মাওকে এখনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় শক্তি ফিরে পাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেন।

চীনের সরকার জানে, মাওকে পুরোপুরি বাতিল করলে নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই ভুল নীতি গ্রহণের ইতিহাস থাকলেও তাঁর অবদান অস্বীকার করা হয় না। আর আমাদের দেশে ? শেখ মুজিবকে স্বৈরাচার বলতে, তাঁকে নিয়ে ট্রল করতে, জাতির পিতার জায়গায় জুতার ফিতা বলতে আমাদের কোনো সংকোচ নেই। যে মানুষটি পাকিস্তান ভাঙার জন্য ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তাঁর সব অবদানের চেয়ে ভুলগুলো নিয়েই আমাদের আগ্রহ বেশি। আমরা এমনভাবে বাকশাল নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করি, মনে হয় শেখ মুজিব নিজেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এত কিছু জানতেন না!

পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বুটের তলা থেকে স্বাধীন হয়ে আমরা হঠাৎ গণতন্ত্রের বড় ফেরিওয়ালা হয়ে গেলাম। জাসদসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সহিংস কর্মকাণ্ড দমনে সরকার কঠোর হলে শেখ মুজিব স্বৈরাচার হয়ে গেলেন। স্বাধীনতার পর সদ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রের দুর্বলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের ক্ষমতার লড়াইয়ের পটভূমি বাদ দিয়ে শুধু একজনকে সব দোষের মালিক বানানো কি ইতিহাসের সঠিক বিচার, নাকি রাজনৈতিক ভন্ডামি ?

আমাদের গণতন্ত্রের দাবির সঙ্গে বাস্তবতারও বেশ অমিল। দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের অধীনে থাকার পর আমরা এমন গণতান্ত্রিক হয়ে উঠেছি যে, কেউ শরিয়াহ আইন চায়, অথচ সেই আইন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই পাশ কাটাতে চায়। যারা নিজেদের মতাদর্শের বাইরে থাকা মানুষের অধিকার মেনে নিতে পারে না, তারা গণতন্ত্রের এত বড় প্রবক্তা হলো কীভাবে? এরা যখন নির্যাতিত বা ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে। ক্ষমতার কাছাকাছি গেলেই অন্যের অধিকার নিয়ে তাদের উৎসাহ কমে যায়। জামায়াতের ক্ষেত্রেও এই প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই।

গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ার চালু করেছিলেন শেখ মুজিব। বক্তব্যটির ঐতিহাসিক সত্যতা যাচাই করতে নির্ভরযোগ্য দলিল দরকার। কিন্তু গোলাম পরওয়ারদের রাজনৈতিক ভণ্ডামি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দলিল লাগবে না । যে জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, যে দলের রাজনৈতিক ইতিহাস পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তির ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সেই দলের নেতারা আজ শেখ মুজিবের আমলের বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন ! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী ছিল, সেই হিসাব না দিয়েই এখন অন্যের মানবাধিকার নিয়ে বক্তৃতা দেবেন ?

শেখ মুজিবের আমলে অন্যায় হয়ে থাকলে তার সমালোচনা হোক। কিন্তু গোলাম পরওয়ারদের কথিত স্বাধীনতা ২.০ তে প্রথম মবের রাজনীতি কারা চালু করেছে ? আজ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা, ভিন্নমতের মানুষকে ভয় দেখানো কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তাঁদের অবস্থান কী? গতকালের অন্যায় তুলে আজকের অন্যায় আড়াল করা যায় না। মানবাধিকার যদি নীতি হয়, তবে সেটা সবার জন্য। আর যদি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হয়, তবে সেটি মানবাধিকার নয়, রাজনৈতিক ব্যবসা।

বাকশাল নিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন, তাঁদের অনেকেই সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা কতটা সম্ভব ছিল, সেটিও প্রশ্ন। যুদ্ধবিধ্বস্ত, সদ্য স্বাধীন একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি নিয়ে মানুষ কিছু বুঝতো বলে মনে হয় না । যে পক্ষ নিজের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পাশ কাটাতে চায়, তার মুখে গণতন্ত্রের বুলি শুনে মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই।

বাকশাল নিয়ে আরেকটি অভিযোগ হলো, চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকি সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু দেশে এত সংবাদপত্র আর সাংবাদিক থাকলেই যে তাঁরা সবাই জনস্বার্থে কাজ করবেন, এমন নিশ্চয়তা কোথায় ? অসৎ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, এমপি ও মন্ত্রীরা সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেননি? সংবাদমাধ্যম স্বাধীন হওয়া জরুরি, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের মালিক ও সাংবাদিকদের জবাবদিহির প্রশ্নও জরুরি। স্বাধীনতা মানে অসৎ ক্ষমতাবানদের স্বার্থ রক্ষার লাইসেন্স নয়।

শেখ মুজিব সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ও আমলাতন্ত্রের অসন্তোষের পেছনেও ক্ষমতা ও স্বার্থের প্রশ্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় বেতন কাঠামোয় পাকিস্তান আমলের বিশটি গ্রেডের বদলে দশটি গ্রেড চালুর উদ্যোগে তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল। পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো বদলানোর এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান আমলের সিএসপি কর্মকর্তা ও আমলাদের একাংশ অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। সামরিক বাহিনী ও আমলাতন্ত্রের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বও বাড়ছিল।

১৯৭৫ সালের পর সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবাধীন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে অনেকে সেটাকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বলে প্রচার করলেন। কী চমৎকার! পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করলাম, তারপর আবার সামরিক শাসকদের গণতন্ত্রের রক্ষক বানিয়ে দিলাম। আর সব দোষ গিয়ে পড়ল শেখ মুজিবের ঘাড়ে।

আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবকে নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছে, তাঁর উত্তরাধিকারকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে, এটা সত্য। কিন্তু লীগের খারাপ রাজনীতি দিয়ে শেখ মুজিবের অবদান ছোট করা যায় না। বাংলাদেশে বিকল্প রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো গড়ে উঠেছিল তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর। ফলে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে খাটো করা অনেক শক্তির জন্য নিজেদের ইতিহাস ও পরিচয় টিকিয়ে রাখার উপাদান রয়েছে।

মাওয়ের ভুল শেখ মুজিবের চেয়ে বহু গুণ ভয়াবহ ছিল, বিশেষ করে তাঁর নীতির কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে মৃত্যুর মাত্রা বিবেচনা করলে। তারপরও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মাওকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাঁর অবদানকে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই রাখে। ভাবুন তো, শেখ মুজিবের আমলে যদি মাওয়ের আমলের মতো কয়েক কোটি মানুষ মারা যেত, তাহলে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকে ভুল প্রমাণ করার প্রচার কতটা জোরালো হতো ! অথচ মাওয়ের মতো একজন গেরিলা যোদ্ধারও অসংখ্য ভয়াবহ ভুল ছিল, তবু চীনের রাষ্ট্রীয় বয়ানে তাঁর অবদান মুছে যায়নি।

চীনে গোলাম পরওয়ারের মতো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের আলাদা আলাদা ইতিহাস নিয়ে ক্ষমতার লড়াই নেই। সেখানে একদলীয় শাসন, কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই ব্যবস্থার সমালোচনা করার যথেষ্ট কারণ আছে। তবু গোলাম পরওয়ারদের মতো মানুষের চোখে চীন সফল দেশ। কারণ চীন শক্তিশালী অর্থনীতি গড়েছে, পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজার দখল করেছে, বাংলাদেশও তাদের কাছ থেকে পণ্য আমদানি করে, ব্যবসা করে। শেষ পর্যন্ত আমরা অনেক সময় বিচার করি, কোন দেশ অর্থনৈতিকভাবে কতটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই শক্তির পেছনে কী ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করছে, তা নিয়ে আমাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম।

আমাদের গণতান্ত্রিক বোধ এতটা গভীর হয়নি যে, আমরা একই মানদণ্ডে সব রাজনৈতিক দলকে বিচার করতে পারি। নিজের পছন্দের দল অন্যায় করলে আমরা ব্যাখ্যা খুঁজি, অপছন্দের দল করলে অপরাধের তালিকা বানাই। কেউ বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে বেশি কথা বললে তাই সন্দেহ হয় , ডাল মে কুছ কালা হ্যায় ! মাওকে নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া আর শেখ মুজিবকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আচরণ পাশাপাশি রাখলে আমাদের দ্বিচারিতা তাই সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠে।

মাও-কে একনায়ক বলে বিতর্কে, ক্ষমা চাইল এমবাপে-রিয়াল- বিশ্ব সংবাদ বাংলা

ফটোকার্ড : বিশ্ব সংবাদ বাংলা

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: শিরোনাম লেখার সময় কি আমার কথা ভেবে লিখেন?
আপনি জানেন, শিরোনাম পড়েই আমার মেজাজ গরম হবে।

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক ধরেছেন । :)

২| ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: চীনের অনেক মানুষ মাওকে এখনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জাতীয়
শক্তি ফিরে পাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেন।

................................................................................
যদি তিনি সফল না হতেন তা হলে এতদিনে তাকে
আস্তাঁকুড়ে ফেলে দেয়া হতো ।
তার সহিত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবর রহমানের অনেক অমিল আছে ।
তবে এখানে ও যদি তিনি বাকশালের নীতি প্রতিষ্ঠা করে দেশে শান্তি ও প্রবৃদ্ধি আনতে পারতেন তাহলে
তিনিও আজ মাও সে তুং চেয়ে বড় বিশ্ব নেতা হতেন ।

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মাও সেতুংয়ের তুলনা করছি না। আমি বলতে চাইছি, শেখ মুজিবকে নিয়ে বিরোধীরা যে ধরনের প্রচারণা চালায়, তা ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের যে ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, তাঁর শাসনামলের ভুলগুলো সামনে এনে সেই অবদানকে খাটো করা যায় না।

শেখ মুজিবের ভুল নিয়ে সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই সময় তাঁর বিরোধীদের মধ্যে এমন কতজন রাজনৈতিক নেতা বা বুদ্ধিজীবী ছিলেন, যাঁদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে তাঁরা আরও ভালো করতেন? আজকের অবস্থান থেকে তাঁর ভুলগুলো চিহ্নিত করা সহজ, কিন্তু সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

যারা আজ শেখ মুজিবের প্রতিটি ভুলের হিসাব চান, তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প পরিকল্পনার হিসাবও দিতে হবে। শেখ মুজিব ভুল করেছিলেন বলেই তাঁর বিরোধীরা সঠিক ছিলেন, এমন কোনো যুক্তি নেই। বরং তাঁদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশ আরও ভালোভাবে পরিচালিত হতো, তার প্রমাণ কী?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.