নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখক

মাহদী হাসান শিহাব

কৌতুহলী পাঠক ও লেখক

মাহদী হাসান শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু: রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা ও করণীয়

০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



রাস্তায় চলার সময় বাসগুলোর দিকে খেয়াল করে দেখবেন, অধিকাংশ বাসের কন্ডিশন খুবই খারাপ। বিশেষত ঢাকাগামী বাসগুলো বাদে স্থানীয় শহরে যাতায়াতকারী বাসগুলোর দিক খেয়াল করলে জিনিসটা চোখে পড়বে।

স্থানীয় রোডে আরো পাবেন ইজিবাইক, সিএনজি, ভ্যান, রিকশা ও ভয়ংকর নসিমন।

এগুলার সাথে যোগ হয় খারাপ রাস্তা।

দেশের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা চরম খারাপ।

উপরে উল্লেখ করা যানবাহন আর খারাপ রাস্তার সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ঘটে সড়ক দূর্ঘটনা। সব দূর্ঘটনার খবর পত্রিকা টেলিভিশনে আসে না। পত্রিকা বা টেলিভিশনে যতটুকু আসে, দুর্ঘটনার সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

.

গত ২৫ মার্চ ২০২৬ ফেরিতে উঠতে যেয়ে বাস পদ্মায় পড়ে ২৬ জন যাত্রী মারা যায়।

আবার গত ৫ জুন ২০২৬ ফেরিতে উঠবার কালে আরেকটি বাস পদ্মায় পড়ে যায়।

দ্বিতীয় বাসের ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমতে প্রাণহানি ঘটেনি। কারণ বাস ফেরিতে উঠার আগে পুলিশ সবাইকে বাস থেকে নামতে বাধ্য করেছিলো। যদি সবাই না নামতো, আবার প্রাণহানি ঘটতো।

পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে হয়, তাদের দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে পালন করায় প্রাণহানি এড়ানো গেছে।

.

গাড়ির বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত লোডকৃত গাড়ি, রাস্তার খারাপ অবস্থা, জনসমাগম ও বাজার এলাকায় ট্রাফিক আইন না মানা, ফেরিঘাটের অব্যবস্থপনা, ইত্যাদি কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে দূর্ঘটনা ঘটছে ও মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে।

এসব দূর্ঘটনায় যে মৃত্যু এগুলোর সাধারণত কোন প্রতিকার নেই, নেই কোন বিচার।

ধরেন, সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে অফিসে যাচ্ছেন, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হবেন বা নিহত হবেন, এমন ঘটনা যেন খুবই স্বাভাবিক। এবং এমন মৃত্যুর কোন প্রতিকার বা বিচার কিছুই হবে না।

জীবন এত সস্তা!

যার পরিবারে এমন ঘটেছে তারা রিলেট করতে পারবেন।

যে কারণে সড়কে দূর্ঘটনা ঘটে আপনার কোন প্রিয়জন মারা গেছে, সেই একই কারণ তারপরও অহরহ ঘটছে। মানুষ মারাও যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেই কারণ নিরসনের কোন প্রস্তুতি-পরিকল্পনা কিছুই নেই। অন্তত দৃশ্যমান নেই।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন পিপড়ার জীবনের মতই অর্থহীন!

.
এসব দূর্ঘটনা এড়াতে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বা যে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা দরকার তা কি সরকারের আছে?

সার্বিক পর্যবেক্ষণে নেই বলেই মনে হয়।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি পুলিশ ও প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়েই সারাদেশে চলছে। সরকার আন্তরিক হলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রোডে থাকে কীভাবে?

যদি ধরে নিই, সরকার ফিটনেসবিহীন গাড়ি রোড থেকে উঠায় দিতে চায়, চাইলেও পারছে না, এমন অবস্থা হলে সরকারের দায়িত্বশীলদের জনগনের সামনে পরিষ্কার করা দরকার, কেন তারা পারছে না? বাধা দিচ্ছে কে? কোন কারণে এটা করা সম্ভব হচ্ছে না?

সড়ক মেরামত ও সংস্কারে প্রতি বছরে যথেষ্ট বরাদ্দ হয় বলে শুনতে পাই। কিন্তু রাস্তার দশা ঠিক হয় না! রাস্তা একপাশ দিয়ে মেরামত করে অন্যপাশে যেতে প্রথম দিককার রাস্তার ছালবাকল ওঠা শুরু করে। একটু বৃষ্টি হলেই কেকের মত উঠে যেতে থাকে পিচ, মুড়ির মত ছড়িয়ে যায় ছোট ছোট খোয়া।

রোদ হলে রাস্তা গরম হয়। গরম রাস্তায় ওভারলোডেড ট্রাক যাওয়ার সাথে সাথেই কাদার মত রাস্তার পিচ চ্যাপ্টা হয়ে উচুনিচু হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার জন্য চরম অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে।

এতকিছু ঘটে দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে। পুলিশ, প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের লোকজনের সামনেই ঘটে এসব অনিয়ম।

এসব অনিয়ম ঠেকানো যায় না বলে মারা যেতে পারি আমি-আপনি, মারা যেতে পারে আমাদের প্রিয়জন।

কী নিদারুন দূর্ভাগ্য আমাদের!

.

ফেরিতে উঠতে যেয়ে গাড়ি পদ্মায় পড়ে গিয়েছিলো। কারণ খুজতে কি তদন্ত হয়েছিলো? তদন্তের রিপোর্ট কি জনগনের সামনে এসেছে?

যে কারণে গাড়ি পড়ে গিয়েছিলো, সেই কারণ কি প্রতিকার করা গেছে? এসব কাজ কি করা হয়েছে?

২৬ জনের মৃত্যু যদি সরকার বাহাদুরকে নাড়া দেয়, তাহলে এই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করে, কারণ বের করে সেগুলোর আশু প্রতিকার করা দরকার ছিলো। এগুলা করা হয়েছে কিনা জানি না।

এগুলো করা হলে একই ভুল আবার কীভাবে হয়? আবার কীভাবে ফেরিতে উঠতে যেয়ে গাড়ি পদ্মায় পড়ে? এ বিষয়গুলো কি সরকার বাহাদুর একটু ভাববেন?

.

গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ড্রাইভার সাহেব সিগারেট জ্বালাচ্ছে। এক কানে মোবাইল, মুখে বিড়ি, হাতে স্টিয়ারিং। এই কম্বিনেশন তো খুব কমন। এগুলার কি কোন প্রতিকার নেই?

ড্রাইভারের খাম খেয়ালিতে যদি আপনার প্রিয়জনের প্রাণ যায়, তার দায়ভার কে নেবে? এসবের প্রতিকার কী? কে করবে প্রতিকার?

ড্রাইভার গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসার আগে গলির ভিতর থেকে গাজায় দুটো টান দিয়ে এসে স্টিয়ারিংয়ে উঠছে। ত্রিশ-চল্লিশ জন মানুষের জীবন নিয়ে সেই মাথা ঝিমঝিম করা ড্রইভার ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ঝড়োগতিতে।

এসব চোখের সামনেই ঘটছে। কার কাছে এগুলো বিচার দিবো? কে করবে প্রতিকার?

সরকার বাহাদুরকে অনুরোধ করবো, আপনারা কাজের প্রায়োরিটি ঠিক করেন। সড়ক দূর্ঘটনা ঠেকানো, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া প্রথম প্রায়োরিটি। এগুলার দিকে নজর দেন।

শুধু মিডিয়া কাভারেজ নিয়ে, পপুলিস্ট কাজ করে, পপুলিস্ট কথাবার্তা বলে টিকে হয়ত থাকতে পারবেন। কিন্তু প্রায়োরিটি বুঝে কাজ না করলে জনগণের অসন্তোষ দানা বাধবে।

.

সরকার বাহাদুর কি অন্তত নিচের বিষয়গুলোতে আন্তরিক হবেন?

১. রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রাখা।
২. সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে ঘুষ, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা।
৪. ওভারলোডেড ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
৫. ফেরিঘাটে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়ন করা এবং তার কার্যকর তদারকি করা।
৬. ফেরিঘাটের সড়ক, ফেরির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।
৭. ঘাট এলাকাকে মাদক, চুরি ও ছিনতাইমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৮. চালকদের মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
৯. ট্রাফিক আইন অমান্যকারী ও দায়িত্বহীন চালকদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা।
১০. প্রতিটি বড় সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা।

.
সড়কে প্রতিদিন যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, তারা শুধু সংখ্যা নয়; তারা কারও বাবা, মা, সন্তান, স্বামী বা স্ত্রী। মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন। মানুষকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.