| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পূর্বেই বলে রাখা ভালো যে, চার ছুন্নী মজহাবের ইমামগণ শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন (দ্র: কোরান বনাম শরিয়ত, পৃ: ২৩- ২৭; তথ্য: সংক্ষিপ্ত ইসলামিক বিশ্বকোষ)।
রাছুল পূর্ব আরবিয় পৌত্তলিকগণ শত শত গোত্র, দল, উপ-দলে বিভক্ত ছিল এবং উপাসনার জন্য প্রত্যেক দলেরই স্বতন্ত্র মূর্তি ছিল। কথিত হয় যে, মক্কার কাবা ঘরে ৩৬০ টি মূর্তি প্রত্যেকটি দল উপদলের প্রতীক ও পরিচয় বহন করতো। এরা আজকের মত অর্থ সম্পদের চেয়েও দলিয় মৌলবাদী ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিযোগীতায় অহরহ যুদ্ধ বিগ্রহ, মারামারি, কাটাকাটি ও দলাদলি করে জীবন কাটাতো। ঐতিহাসিকদের মতে: জ্ঞান বা গুণ নয়, একমাত্র পেশী ও দাঁড়িই ছিল নেতৃত্বের প্রধান মাপকাঠি; যার দাড়ি যত বড় সে তত বড় নেতা হতো। এসমস্ত ইতিহাস স্বাধীনতাপূর্ব স্কুলের পাঠ্য পুস্তকে লেখা থাকতো।
এহেন তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার (লাইলাতুল কাদর) যুগে নবি মুহম্মদের আবির্ভাব হয়; একাকার আল্লাহর উপাসনার মন্ত্রে দলিয় মূর্তি ও মন্ত্র পবিত্র কাবা ঘর থেকে বিতাড়িত করে একাকারবাদের ধ্যান ধারণা, বিশ্বাস, ধর্ম-কর্মের নিরীখে একটি জাতির গোড়াপত্তন করেন; একক অভিন্ন গঠনতন্ত্র কোরানের অধীনে। (সকল নবিগণই অনুরূপ করেছেন)। যাদের নাম ও পরিচয় হয় ভাষাভেদে ‘মুছলিম’ বা আদর্শ-নিবেদিত জাতি নামে। এদের প্রতি আল্লাহর-রাছুলের বজ্র কঠিন নির্দেশ:
১. অ আতাছিমু-তাফাররকু।[৩: ১০৩] এবং তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু (কোরান) মজবুতভাবে ধারণ করো। তোমরা দল-উপদলে বিভক্ত হইও না।
২. ইন্নাল্লাজীনা- ইয়াফ আলুন। [৬: ১৫৯] অর্থ: যারা ধর্ম সম্বন্ধে ভিন্ন ভিন্ন মতের সৃষ্টি করেছে/করবে ও দল উপদলে বিভক্ত হয়েছে/হবে, তাদের উপর আপনার কোনই দায়িত্ব থাকলো না/থাকবে না। তাদের দায়-দায়িত্ব আল্লাহর উপরেই ছেড়ে দিন। আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কৈফিয়ৎ তলব করবেন।
৩. মিনাল্লাজীনা-ফারিহুন। [৩০: ৩২] অর্থ: যারা ধর্মে মতভেদ সৃষ্টি করেছে/করবে ও দল উপ-দলে বিভক্ত হয়েছে/হবে, তারা নিজস্ব মতবাদ নিয়েই মত্ত রয়েছে/রবে।
অতীতের দল উপ-দলের ধর্ম বিভক্তকারীদের দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে আল্লাহ/রাছুল সতর্ক করে দিলেন:
৪. অলা- আজীম। [৩: ১০৫] অর্থ: তোমরা অতীতের মত হইও না। যারা তাদের নিকট স্পষ্ট বিধান আসার পরেও নিজেদের মধ্যে মত পার্থক্য করে দল উপ-দলে বিভক্ত হয়েছে; তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।
মহানবির দীর্ঘ ধ্যান-সাধনা, ২২/২৩ বৎসরের কঠিন ত্যাগ তিতিক্ষা ও কর্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘মুছলিম/আদর্শ’ জাতি। এরা অন্যায়-অত্যাচার, মারা-মারি, রক্তা-রক্তি, যুলুম-সন্ত্রাসী করবে না, নিজেদের মধ্যে মতভেদ, দলাদলি করবে না, অহঙ্কার করবে না, লোভ, হিংসা, প্রতিহিংসা, আক্রমণ ও প্রতিশোধপরায়ণ হবে না। কোন কিছুর অজুহাতে সমাজে গোলযোগ ও অশান্তি সৃষ্টি করবে না।আক্রমণ করবে না কিন্তু আক্রান্ত হলে অচল-অটল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
ধৈর্যশীল, বীর্যশীল, ত্যাগী, সেবাবাদী, উদার ও বলিষ্ঠ হৃদয়ের অধিকারী হবে, বিশ্বাস ও ত্যাগে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে; একাকার আল্লাহর ইবাদত করবে। আল্লাহর কেতাবের অনুসরণে নিজেদের মধ্যের যাবতিয় সমস্যার মীমাংশা করবে। কিন্তু তার ওফাতের সঙ্গে সঙ্গেই নেমে এলো অমানিশার পুরানো সেই কালো ছায়া। ঐতিহাসিকদের মতে ওফাতের ক্ষণিক পূর্বে মহানবি মনের দুঃখে ক্ষোভে ঘনিষ্ঠ সাহাবাদের আপন কক্ষ থেকে তাড়িয়ে দিলেন; ওফাতের পর তিন দিন পর্যন্ত তাঁর লাশ মোবারক কবরস্থ হয়েছিল না।
মহামতি দুরদর্শী আবুবকর মুছলিম জাতির খলিফার গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করে কোরানিক বিধান সমুন্নত রাখেন। কঠিন সাম্যবাদী ওমর একই ধারায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপন সন্তানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন;- অর্ধেক পথ ভৃত্যকে উটের পিঠে বসিয়ে উটের রশি ধরে খলিফা জেরুযালেম পৌঁছেন! কিন্তু মুসলিমদের হাতেই শাহাদৎ বরণ করেন। মহান ত্যাগী, উদার হৃদয়ের অধিকারী সহজ-সরল ওসমান এই মোসলেম জাতির হাতেই নজরবন্দী হলেন! অতঃপর কোরান পড়া অবস্থায় শাহাদত বরণ করেন সম্মানিত (?) সাহাবা, তাবেঈনদের হাতেই! কোরান রঞ্জিত হয় খলিফার জীবন দেয়া রক্তে! অতীতের পৌত্তলিকদের সেই বিভৎস পুরানো দলাদলি, হিংসা, প্রতি-হিংসার দাবানল জ্বলে উঠে। রাজ্যময় শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। ধৈর্য্য-শৈর্য্য, বির্য্যশীল, বীর-বিক্রম আলী ৪র্থ খলিফা দাবানল নির্বাপণের কঠিন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাধ সাধে ঘনিষ্ঠ সাহাবা মুয়াবীয়া-আমর এবনুল আস। শুরু হয় পুনঃ রক্তক্ষয়ী মরণ যুদ্ধ। সাহাবা বনাম সাহাবা, মুছলিম বনাম মুছলিম!
ইতিহাস মতে আলী-মুয়াবিয়াকে কেন্দ্র করে মুসলিম জাতির সর্বপ্রথম যে উপদলের জন্ম হয় তার নাম খারেজী। মহাবীর আলীর শাহদাতের পরে জন্ম হয় ইসলামের দ্বিতীয় দল শীয়া নাম ধারণ করে। এরা উভয়ই মোসলেম বটে! কিন্তু আল্লাহ-রাছুল প্রদত্ত সদ্য প্রসুত ‘মুছলিম’ খেতাবে সন্তুষ্ট হতে পারলো না। ধারণ করলো ‘খারেজীমুছলিম’, ‘শীয়ামুছলিম’ নাম।
ছিপ্পিনের যুদ্ধে, মুয়াবীয়ার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে, কোরানের বুকে নেজা বল্লম বিদ্ধ করে আলীর সঙ্গে সন্ধি স্থাপনের আহ্বানে সম্মত হলে, তার দলের যে অংশ অসন্তুষ্ট হয়ে দল ত্যাগ করে তারাই খারেজী। অতঃপর আলীর সমর্থকগণ শীয়া নাম ধারণ করেন।
কিন্তু সুন্নীগণ কখন! কার নেতৃত্বে! কোথায়! কি কারণে ‘ছুন্নী নাম ধারণ করলো! তার কোন মৌখিক, ঐতিহাসিক, এমনকি হাদিছ ভিত্তিকও দলিল প্রমাণ নেই! আমাদের সুন্নীদের কোন জন্ম ঠিকানা নেই অর্থাত জাতিয় জারজ! তবে হিসাব নিকাশে এটাই পাওয়া যায় যে, তৎকালীন মুছলিম জাতি প্রধানত ৩টি দলে বিভক্ত ছিল: ক. খারেজী খ. শীয়া ও গ. মুয়াবিয়া/এজিদ-আমরের ক্ষমতাসীন দল।
এই দল নবি বংশকে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে বিষ প্রয়োগে, হত্যা, খুন, গুম্, লুন্ঠণ, সন্ত্রাস ও নির্যাতনের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করে এমনভাবে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেছিল যা অদ্যাবধি ১৫ শত বৎসর যাবৎ বলবৎ রয়েছে। আমাদের সুন্নীদের লিখিত বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্ব কোষের’ আলোতে:
“আলী ইব্ন আবী তা’লিবের বংশধরদের অধিক সংখ্যকই ভাগ্য বিড়ম্বিত ছিলেন। তাঁদের দু:খের কাহিনীতে মুসলিম ইতিহাস পরিপূর্ণ হইয়া রহিয়াছে-।- আলী বংশের যে সকল লোক নির্যাতিত হইয়া মৃত্যুবরণ করেন, মাসউদি, মুরাজ ৭ম খন্ডে ৪০৪ পৃষ্ঠায় তাদের একটা তালিকা পাওয়া যায়।-উমাইয়া তথা এজিদ বংশের কেবল ২য় উমার ইব্ন ‘আবদি’ল আজীজই নবি বংশের জন্য বিবেকের দংশন অনুভব করেন। নবি বংশ তাদের ন্যায্য অধিকার হইতে বঞ্চিত হইয়াছেন বলিয়া তিনি ফাতিমার পক্ষে আলীর যে সকল বংশধর মদিনায় বাস করিতেন, তাদের মধ্যে ১০ হাজার দিনার বিতরণ করেন। (নবি বংশকে ভিক্ষা দান বটে!)- কিন্তু আল-মুতাওয়াক্কিলের সময় হইতে আবার নির্যাতন শুরু হয় এবং আল-মুন্তানসি’বের আমল পর্যন্ত বহাল থাকে। আল মুতাওয়াক্কিল কারবালাতে আল-হুসায়ন এর কবর বিধ্বস্থ করিয়া দেন ও তথায় লুন্ঠন চালান-” [ সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ ১ম খ. ৩য় মুদ্রণ; পৃ: ৮১, ৮২; ই. ফা.]।
এই ক্ষমতাসীন মুয়াবীয়া-এজিদের তৃতীয় দলের কোন নাম বা পরিচয় পাওয়া যায় না! পক্ষান্তরে বিশ্বে আজও শুধু ‘মুছলিম’ নামধারী একটি দল বা মানুষও খুঁজে পাওয়া যায় না! অতএব পরবর্তীতে এরাই কোন এক সময় ছুন্নী নাম ধারণ করেছে, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আধুনিক ছুন্নী বক্তাগণ ক্ষেত্র বিশেষে দাবি করেন যে, ‘আবুবকরের দলই ছুন্নীর দল’; যদিও তাদের এটা যুক্তি-প্রমাণহীন নিছক বালসুলভ ধারণা মাত্র ! যেহেতু চার খলিফাগণ উল্লিখিত কোরানের বজ্র কঠিন আদেশ/নির্দেশ জানতেন, সম্মান করতেন এবং মানতেন বলে আল্লাহ-রছুল প্রদত্ত্ব ‘মুছলিম’ নামের শুরুতে অতিরিক্ত বিদাত বিশেষণ যুক্ত করে আলাদা কোন কওম বা দলের গোড়াপত্তন করতে পারেন না। অতএব আবুবকরের নামে এহেন মিথ্যারোপ এবং তাকে দলিয় খলিফা প্রমাণের ঘৃণ্য ও ব্যর্থ অপচেষ্টা মাত্র। মুয়াবীয়া-এজিদ গোষ্ঠী যদি ছুন্নী না হয়ে থাকে, তবে তাদের পরিচয় কি! যদি ধরে নেয়া যায় যে, ঐ দলই একমাত্র ‘মুছলিম’ নামেই পরিচিত ছিল! তবে আজ সে দলের অস্তিত্বের সন্ধান কোথায়! সুন্নীদের উৎসই বা কি!
এর পর তড়িৎ বেগে জন্ম হয় অসংখ্য দল-উপদলের যেমন: রাফেজী, মোতাজেলী, ওহাবী, হানাফী, শাফেঈ, হাম্বেলী, মালেকী, লা-মজহাবী, ইসমাইলিয়া এবং শীয়াদের অনুরূপ অসংখ্য উপদল।
একটি ধর্মীয় কওমের নামকরণ, নামের পরিবর্তন, পরিবর্ধনের অধিকার রাখেন একমাত্র রাছুল-নবিগণ। পক্ষান্তরে, মুছলিম জাতির অসংখ্য দল-উপদলের প্রবক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তি ও দলিয় উপদলিয় নেতা/ইমামগণ! তারা আল্লাহ-রাছুল প্রদত্ত ‘মুছলিম’ কওমকে এমনভাবে বিভক্ত করে ফেলেছেন যে, নিখাদ ‘মুছলিম’ নামে একটি মানুষও খুঁজে পাওয়া যায় না; দল-উপদলগুলি স্ব স্ব দলকে সত্য, সঠিক বলে দাবি করে থাকে এবং পরস্পরকে অমুসলিম, কাফের, মোরতাদ বলে ফতোয়া দেন। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সমুহ দল-উপদলগুলি যে কোরানের মৌলিক নির্দেশ অমান্য করে সীমা লঙ্ঘন করেছে, কোরানই তার জলন্ত প্রমাণ। রাছুল ছিলেন মাত্র ‘মুছলিম’ তাঁর প্রকৃত অনুসারিগণও পরিচিত হবেন ‘মুছলিম’ নামে। এটাই তাদের একমাত্র পরিচয়। অতএব অতিরিক্ত বিশেষণ নামধারী মুসলমাদের উপর আল্লাহ-রাছুলের কোন দায়-দায়িত্ব নেই! অর্থাৎ তারা কুরান মতে মহানবির উম্মত যে নয় তা উল্লিখিত কোরানের নির্দেশগুলি ( ৩: ১০৩, ১০৫; ৬: ১৫৯; ৩০: ৩২) নিশ্চিত করেছে। সুতরাং এই কোরানও তাদের নয়! যেহেতু তারা ওটি অস্বীকার করে দল-উপদলে ভাগ হয়ে প্রকারান্তরে দলীয় ইমামদের নবি-রাছুল হিসাবে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবেই স্বীকার করে নতুন নাম ধারণ করত: নতুন ২ নম্বরী অহি কিতাব রচনা করেছে (হাদিছ-ফতোয়া প্রভৃতি)। আর তাই বলেই বিদাত প্রযুক্ত শীয়া-সুন্নী ইত্যাদি মুছলিম নামে পরিচিত হতে গর্ববোধ করেই ক্ষান্ত নন বরং সর্বশক্তি প্রয়োগে কোরানের বাণী বোখারী-মোসলেমদের রচিত হাদিছ দিয়েই প্রতিরোধ করেন!
অমা- বাইনাহুম। [৪২: ১৪] অর্থ: উহারা জেনে শুনেই কেবলমাত্র পরস্পর হিংসা বিদ্বেষের কারণেই নিজেদের মধ্যে দলাদলি ও মতভেদ ঘটায়।
বিনীত।
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:২২
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. সত্যের আহ্বানে অসত্যদল বিদ্বেষপূর্ণ ভাবতেই পারে; আবু জেহেলগণো ঐ একই যুক্তিতে রাছুলকে পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।
না। দল বল্তে ‘মুছলিম’ও ১টি দল এবং তা আল্রাহ-রাছুলের প্রবর্তিত। সকল উপ-দলকে এই দলেই ফিরে আসার আহ্বান করা হয়েছে। ম জ বাসারের কোরানিক দর্শনে নুতন কোন দলের আভাস-ইংগীত নেই।
২. অজ্ঞতা বলে ধরে নেয়ার সুযোগ নেই; বরং তা যুক্তি-প্রমান সাপেক্ষে সাব্যস্ত করতে হবে।
৩. কথা সত্য! তবে শুরুতেই আল্লাহ-রাছুলের ঘোষীত কুরানিক দল প্রত্যাখ্যান করলে আত্ম সমর্পনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়; তবুও কথিত অমুছলিমদের মধ্যেও যে বর্তমানেও আছে তা অনস্বীকার্য; কিন্তু তা ব্যক্তিগতভাবে, দলীয়ভাবে নয়।
৪. সত্য বটে! কিন্তু গত্যান্তর নেই; নবি/রাছুলগণো ঐ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে দেড় বিলিয়ণ শিয়া, ছুন্নী, কাদিয়ানীগণ স্ব স্বীকৃত মূলে ফিরে আসতে বর্তমানে কোনই অনুরূপ সমস্যা হওয়ার কথা নয়; একমাত্র ‘মুছলিম বা কুরানের দিকে ফিরে আসতে তাদের বাধা কোথায়?
ভালো থাকুন।
বিনীত।
২|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:০৩
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনি অনেকদিন ধরেই ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করছেন। আজকেই বোধহয় প্রথম আপনার কোন পোস্ট পড়লাম। প্রচুর রেফারেন্স দিয়ে লেখা বেশ তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট। কিন্তু আপনার পোস্টের প্রধান আলোচ্য বিষয় অর্থাৎ মুয়াবিয়া/এজিদ-আমরের ক্ষমতাসীন দলই বর্তমান সময়ের সুন্নি মুসলমান, এই দাবির স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স দেননি। কিছুটা হিসাব-নিকাশ, কিছু আন্দাজ মিলিয়ে এটা আপনার "ধারনা" বলেই মনে হল। ইসলামের বিষয়টা বাদই দিলাম, এমনিতেও ইতিহাসের এত গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয় নিয়ে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ধারনার উপর নির্ভর করে এত বড় দাবি করা উচিৎ কিনা, সেই বিষয়ে সন্দিহান আছি। আপনাকে আমি চিনিই না, আপনি কোন বিখ্যাত ইতিহাসবেত্তা বা আলেম বলেও জানি না, স্বীকৃতি মূলধারার গনমাধ্যমে আপনার কোন উপস্থিতি আছে কিনা তাও জানি না, তাই আপনার নিতান্তই ব্যক্তিগত ধারনাকে কেন গ্রহন করব সেটা বুঝলাম না!
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৩৯
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. প্রতিবেদনেই বলা আছে যে, তাদের শানে নজুলের (জন্মের) কোনই ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান এমন কি হাদিছ-ফতোয়াও নেই; সুতরাং যুক্তি/প্রমান ব্যতীত রেফারেন্স দিব কোথা থেকে? যা কোন ইতিহাসেই স্থান নেই তা কি করে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস হয়??????
২. ম জ বাসার এমন পরিবারের লোক যাকে চিনার প্রচলিত কোনই সুত্র নেই একমাত্র তার লিখা ব্যতীত। ব্যক্তিগত ধারণা গ্রহণ করার জন্য তার কোনই আবেদন/নিবেদন নেই; লাভ/লোকসানো নেই। ব্যক্তিগত (?)ধারণাটা অব্যক্তিগত ইতিহাসের উপরই সাক্ষ্য-প্রমানিত। মানা না মানা নিজস্ব বিষয়।
ঐ সম্বন্ধে অব্যক্তিগত ঐতিহাসিক, কোরানিক দর্শন থাকলে উপস্থিত করুণ; বিবেচনায় উড্র করার নিশ্চয়তা রইল।
৩. সত্য বা কুরানের সত্যতার জন্য সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট বা পরিচিতির ধার ধারে না।
ভালো থাকুন।
বিনীত।
৩|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:৫৫
সবুজ-ভাই বলেছেন: হাদিসে কুরআনে সুন্নি থাকবে এমনটা আপনার আশা করাও ঠিক হয়নি।
আর যেহেতু সুন্নিদের সঠিক ইতিহাস জানা যাচ্ছে না তাই আপনি প্রমান ছাড়া শুধু মাত্র ধারনা থেকে তাদের কে এজিদের বাংশ বা আবুবকরের বাংশ বলতেই পারেন না।
দরুন খারেজী ও শিয়া মুসলিমদের সময়ে আসল মুসলিমদের জন্যে ধর্ম পালন সমস্যা হচ্ছিল তাই তারা শুধু নবীর সুন্নাহ কেই সঠিকঈসলাম চর্চাবলে মনে করে তাই অন্য গ্রুপের মানুষরা তাদের কে সুন্নি বলে ডাকতে শুরু করে কারন শুধু মুসলিম বল্লে তো তারা নিজেরা পূর্ণাঙ্গ মুসলিম থাকে না তাই আসল ইসলাম ফলোয়ার সাধারন মুসলিমরাই সুন্নিস নামে পরিচয় পায় যে নামটা তাদের দেয়া নয়। অধিকাংশ সুন্নী মুসলিম রা জানেই না যে তারা সুন্নী , তারা শুধুই মুসলিম বা নিজেকে মুসলমান মনে করে। সমস্যাটা তাদের না অন্যদের।
আপনার কি মনে হয় না সব ধর্মের ইন্টারনাল ফ্যাক্ট টা একই রকম। ইমানে মুফাস্সাল ও ইমানে মুজমাল ও কি সে কথাই ইঙ্গিত করে না ?
সবাই ধ্যনের মাধ্যমেই সত্যের সন্ধান পেয়েছেন সৃষ্টকর্তার সহায়তায়। নবীদের সাথে সথে তো সৃষ্টি কর্তাও চলে যাননি। তিনি এখনও আছেন, আর তাকে প্রশ্ন করলে উত্তরও হয়তো দেবেন । এমনটা কি হতে পারে ?
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:০৩
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. কুরানে ‘মুছলিম’ তো আছে? উহা প্রত্যাখ্যান করে শিয়া, ছুন্নী, কাদিয়ানী ধারণ কি অবৈধ নয়? তত্সময় প্রধানত: ৩টি দল ছিল; তম্মধ্যে খারেজী ও শিয়াদল স্পষ্ঠ, অবশিষ্ঠ দল ‘মুছলিম’ থাকলে আজ তার অস্তিত্ব কোথায়????????
২. ধর্ম পালনে সমস্যা করেছিল কি রাছুলের বংশ? আর সে কারনেই কি তার বংশ হত্যা, খুন, গুম করে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে?
৩. যে (অবৈধ) নামটা নিজেদের দেয়া নয়! সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ/প্রত্যাখ্যান করার দুনিয়ার ইতিহাসে আপনি ব্যতীত ১ ব্যক্তি বা ১টি লাইনও আছে কি?
৪. হা! কুরান বলে এমনটা হতে পারে। আল্লাহকে প্রশ্ন করলে যিনি উত্তর পান, উহাকেই অহি বলে; আর যিনি অহি পান তিনিই রাছুল/নবি হন। সুতরাং আল্লাহ চলে না গেলে রাছুল-নবি চলে গেলেও শেষ হওয়ার যুক্তি-প্রমান নেই।
৪.আখেরী কথা: যে যে ভাবেই ‘মুছলিম’ ব্যতিত দল-উপদল করুক না কেন! কুরানের আলোকে সকলেই সমান বিভ্রান্ত/ভ্রস্ট। সুতরাং সকলেই ‘মুছলিমে’ ফিরে আসতে সমস্যা/আপত্তি কেন?
ভালো থাকুন।
বিনীত।
৪|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৩৩
ব্লগার ইমরান বলেছেন: ভাই আর কত ফাযলামো করবেন। আপনার রিপোর্র করেছি আরোও আগে। সম্ভবত আপনি মডুদের কিছু লাগেন। আপনার পোস্টও সরায় না, কোনো কিছুই করে না।
তবে ভালো হয়ে যান, এরকম বিভ্রান্তিকর লেখা লেখে কোনো লাভ নেই। জেনে রাখুন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তাকে হেদায়াত দান করেন।
সুতরাং যতই কষ্ট করে অর্থের আশায় পোস্ট লেখেন কোনো লাভ নেই। আল্লাহ পাকেরই সৃষ্টি আপনি, তার বিরুদ্ধেচারন করলে শুধু মাত্র নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা হয়।
আশা করি ভালো হয়ে যাবেন।
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ ভোর ৫:১৮
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
এই ব্লগে কিছু প্রকৃত জ্ঞানী নিরপেক্ষ মডু আছেন। আর যুক্তি প্রমানহীন ব্যক্তিগত মত্ প্রত্যাখ্যান করার মডু সোনার বাংলাদেশ, সদালাপ ব্লগ ব্যতীত প্রায় সব ব্লগেই আছেন।
২. সুত্র, দ্র: যুক্তি-প্রমানসহকারে উপস্থাপন করুণ; কুরান আপনার হাতেই; কুরান অনুযায়ী যারা বিচার মীমাংশা করে না তারাই কাফির, ফাছিক ও জালিম (দ্র: ৫: ৪৪- ৪৭)
৩. আশা করি শিয়া, ছুন্নী ত্যাগ করত: 'মুছলিম' হওয়ার অন্তত চেষ্টা থাকা উচিত।
৪. জেনে রাখুন আল্লাহর ইচ্ছার উপর আপনার ইচ্ছার কোনই কর্তৃত নেই।
বিনীত
৫|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:২২
উড়নচণ্ডী বলেছেন: আপনার পরিচয় কি দেয়া যাবে?
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:৫৩
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
লিখা ব্যতীত আর কোনই পরিচয় নেই। যা আছে তা আপনার থেকে অতিরিক্ত কিছুই নেই।
বিনীত।
৬|
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:৫৪
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন: ভাই, আপনে কি তদবির করেন? কোন ধরনের বিশেষ ব্যাবস্থা জানেন?
আমার ধারনা আপনি কামেল আদমি। যদি কোন উপায় থাকে তবে আমাকে জবাব দেন ভাই।
বিনীত।
৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ ভোর ৫:১২
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
না।
আপনার ধারণা সঠিক নয়।
বিনীত।
৭|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৫১
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।(১০:৩৬)
আপনি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন??
দুনিয়ার স্বাধারণ নিয়ম, কোরআনে বর্ণিত দন্ডবিধি এমনকি পরকালীন বিচারের ক্ষেত্রেও বিধান হচ্ছে - অভিযোগ যে উত্থাপন করবে প্রমানও তাকেই দিতে হবে। অথচ আপনি কোন প্রমান ছাড়াই শত কোটি মানুষের বিরুদ্ধে একটা চরম অবমাননাকর অভিযোগ উত্থাপন করলেন। আপনি কি আল্লাহর কাছে এর জন্য জবাবদিহি করার ভয় করেন না??
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪৬
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. না। কারণ সেখানে ৩ অংকে ভাগ করে দেখানো হয়েছে। ২টি ভাগ সুস্পষ্ট; অতএব অবশিষ্ট বা ৩য় ভাগ ছুন্নী হওয়াই শতভাগ যুক্তিসংগত ও প্রমানিত। ইহার বিরুদ্ধে আপনাদের কোন যুক্তি-প্রমান থাকলে হাজির করুণ; ম জ বাসার ভুল প্রমানিত হলে মাফ চেয়ে তার দর্শন প্রত্যাহার করার অংগীকার রইল।
২. ২য় যুক্তি হলো আল্লাহ-রাছুল প্রণীত ‘মুছলিম’ নামে দুনিয়ায় কোন দল নেই।
৩. ৩য় যুক্তি-প্রমানিত চুড়ান্ত রায় হলো: ছুন্নীগন যারই অনুসারী/বংশের হোক না কেন! তারা অন্যান্যদের মতই কুরানের ৩: ১০৩, ১০৫: ৬: ১৫৯; ৩০: ৩২ ধারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান/অস্বীকার করত: ‘মুছলিম’ থেকে স্বেচ্ছায় খারিজ হয়ে বিদাত প্রযুক্ত শিয়া-ছুন্নী-খারেজী-রাফেজী-লামজহাবী, কাদিয়ানী মুছলিম নাম ধারণ করেছে। সুতরাং কে শিয়া আর কে ছুন্নী/কাদিয়ানী! কে কার উম্মত/অনুসারী/বংশ তা ভুলে গেলেও ‘মুছলিম’এ ফিরে আসছে না বা হচ্ছে না হেতু সমান আসামী (প্রধানত
এবং ইহাই কুরানিক ধ্রব সত্য। তবে ইতিহাস এবং বাস্তবতায় অন্যতম প্রধান উমাইয়া বংশীয় মুয়াবীয়া-এজিদের বংশ/উপবংশ আজো সমূহ আরব লীগ দখল করে আছে। ইহার কি কোন প্রমান নিষ্প্রয়োজন।
৪. যে যা গ্রহণ করে এমন কি কুরানের বিধানও পালণ করার পূর্বে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যুক্তি-প্রমানে বুঝ আসলে গ্রহন, না আসলে বর্জন করার কঠিন নির্দেশ দেয় কুরান (১৭: ৩৬) কিন্তু আপনারা এখানেও কুরান লংঘনকারী হিসাবে প্রমানিত।
৫. আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয়ই বিষয়টা প্রচার করা হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য; তবে শুনবে না কেহ! ম জ বাসার আল্লাহর মধ্যে অবস্থান করে যুক্তি-প্রমানসহকারে বলছে; আর আপনারা আল্লাহকে ৭ম আসমানের উর্দ্ধে বরই বাগানে (ছিদ্রাতুল মুন্তাহা) বনবাস দিয়ে নিজেরাই প্রভু সেজে নিজেদের যুক্তি-প্রমানহীণ পছন্দমত ধারণা, কল্পনার কথা বলছেন। কুরান ও রাছুলের বিপরিতে সহায় করছেন কোথাকার কোন বুখারীগং আর তাদের লিখিত ২ নম্বরী কিতাব!!
৬. শতকুটি মানুষ জানে যে, রাছুল ‘মুছলিম’ ব্যতীত শিয়া, ছুন্নী, খারেজী, কাদিয়ানী ছিলেন্না; তবে তারই উম্মত হয়ে নুতন নুতন নাম ধারণ করলো কেন? কি ছিল তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য? আজ তার ফলাফল কি?? উত্তর হলো পরবর্তিগণ জেনে/না জেনে, বংশগত ও জন্মগতভাবে বিভ্রান্ত হয়েছি/হয়েছে; কিন্তু আজ যখন কেহ ঐ ভুল/অপরাধ কুরানের আলোতে হাতে কলমে প্রমান করে দেয় তখন বিভ্রান্ত পথ ছেড়ে সঠিক পথে (মুছলিমে) ফিরে আসতে পর্বতসম সমস্যা/বাধা বা ঘোর আপত্তির কারণ কি???
বিনীত।
৮|
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৫১
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: "ম জ বাসার আল্লাহর মধ্যে অবস্থান করে যুক্তি-প্রমানসহকারে বলছে" - আচ্ছা, আপনি আল্লাহর মধ্যে অবস্থান করছেন!! নাকি প্রকারান্তরে আপনিই আল্লাহ? এ'জন্যই কি এত বড় বড় কথা বলে বেড়াচ্ছেন??
যে কোন অভিযোগ প্রমানের দ্বায়িত্ব অভিযোগকারীকেই নিতে হয়। শুধুমাত্র আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে বা তথ্য প্রমান নাই এই অযুহাতে কার বিরুদ্ধে কিছু বলা যৌক্তিক/ভদ্রতা নয়।
কেউ যদি বলে 'ম জ বাসার' যে একজন পুরুষ তার কোন তথ্য আমাদের হাতে নাই, তিনি যে একজন মহিলা একথাও নিশ্চিত করে বলা যায় না, অতএব তিনি একজন হিজরা। তার পর যদি দাবি করে যে তিনি পারলে প্রমান করুন যে তিনি হিজরা নন - অন্যথায় প্রমানিত হবে যে তিনি নিশ্চয়ই হিজরা। - আপনি কি তখন প্রমানের চেস্টা করবেন যে আপনি হিজরা নন?
আপনার যুক্তিগুলোও অনুরূপ - যদিও তা অনুধাবনেরমত অবস্থায় আপনি নাই। আপনি নিজের আন্দাজ অনুমানের বাইরে কখনই যেতে পারছেন না - এই রকম সংকীর্ণ মানষিক অবস্থায় থেকে সত্য অনুধাবন অসম্ভব।
আপনাকে বরং একটা গল্প বলি। এক ব্রিটিশ নাগরিক একবার শুনলেন যে তার দেশে প্রচুর বাংলাদেশী আছে। তিনি বাংলাদেশীদের সাথে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছায় খোঁজ নিতে চেস্টা করলেন যে তারা কোথায় থাকে। কয়েক জনের কাছে খোঁজ নিয়ে জানলেন যে পুর্ব লন্ডনে প্রচুর বাংলাদেশী থাকে। তিনি সেখানে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন তার বাড়ি কোথায়। সে বল্ল 'সিলেট'। আর একজনকে একই প্রশ্ন করায় সে বল্ল 'চট্টগ্রাম'। আর এক জন বল্ল 'চাদপুর'। এভাবে তিনি যাকেই প্রশ্ন করেন সবাই এক একটা এলাকার নাম বলেন - কিন্তু কেউ বলে না যে তার বাড়ি বাংলাদেশ। কাজেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন লন্ডনে কোন বাংলাদেশী নাই - যারা আছে সব সিলেটি, চাটগাইয়া, চাদপুরী . . . ইত্যাদি।
আপনার অবস্থাও অনেকটা ঐ ভদ্রলোকের মত। ফলে আপনি কোন মুসলিম খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনকি নিজেও মুসলিম থাকতে পছন্দ করেন নি - তাই মানবধর্ম নামে নতুন ধর্মপ্রচার শুরু করেছন।
০১ লা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৩৫
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. শেষমেষ ৩: ১০৩, ১০৫; ৬: ১৫৯ আর ৩০:৩২ আয়াতগুলি লন্ডনী মাশালা আর হিজরার কাছে নির্মমভাবে অপদস্থ হলো! এভাবেই আজ ১৪শ বছর যাবত কুরান নীরবে পদদলীত হচ্ছে।
২. যে যুক্তি-প্রমান দেয়া হয়েছে তার বিপরীতে দুর্বল পরিমাণো যুক্তি-প্রমান হাজির করতে সমর্থ হলে বিতর্ক চলতে পারতো।
বিনীত।
৯|
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০০
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: তার মানে আপনি নিজেকে আল্লাহ দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করলেন না? এর পর আর আপনার সাথে কিভাবে আলোচনা চলতে পারে? আমি তো মাটির মানুষ - আল্লাহর সাথে আলোচনা চালানোর সাধ্য কি মানুষের আছে??
বিচারটা বরং আল্লাহর কাছেই থাক - তিনিই সঠিক ভাবে বিচার করতে পারবেন যে কোন মানুষের নিজেকে আল্লাহ বা আল্লাহর মধ্যে অবস্থিত বা আল্লাহর অংশ দ্বাবি করার পরিনতি কী হওয়া উচিত।
অভিযোগ যে উত্থাপন করে সাক্ষি প্রমান তাকেই দিতে হয়। আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেয়ার কোনই প্রয়োজন নাই। কারণ এ'রকম অনুমান প্রতিদিন হাজারটা করা যেতে পারে - যার উত্তর খুঁজতে যাওয়া পন্ডশ্রম ছাড়া কিছুই না।
০২ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৪
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. হা! অস্বীকার করারই তো কথা! আপনি স্বীকার করার জন্য অনবরত চাপ দিচ্ছেন? ১ম পারায় সম্ভবত ব্যকরণের হেরফের আছে। হা! সাধ্য আছে! নবি-রাছুলগণই চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
২. মানুষ যখন সাক্ষি, যুক্তি প্রমানে হেরে যায় ঠিক তখনই অসহায় থেকে বাচার জন্য কসম করে/আল্লার হাতে ন্যস্ত করে নিরপরাধী সাজতে চায়। নিরপেক্ষ হয়ে ধ্যান করুন যে, আল্লাহর মধ্যে থাকার তুলনায় আল্লাহর বাহিরে থাকার ঈমানটা অধিকতর শিরকী কি না? বরই বাগানে নির্বাসন দেয়া ফিরাওনী কি না!
আল্লাহ কি! কি তার অবস্থান! পরিচয়ও বা কি! তা বিস্তারীতভাবে কুরানের পাতায় পাতায় বর্ণিত থাকা সত্বেও কিসের স্বার্থে? কার প্ররোচনায় বুখারীদের উপর অনঢ় ঈমান রাখছেন! ভেবে জ্ঞানীগণ স্তব্দ হয়ে যান।
৩. মাছ পানির মধ্যে, তাই বলে মাছ পানি নয়; আর পানিও মাছ নয়। মাছ যদি ঈমান করে যে, ‘পানি ৭ম আসমানের আসমানে ৮টি পাঠার পিঠে বা বরই বাগানে থাকে, বছরে ১বার পানির কাছাকাছি আসে’ তবে বুঝতে হয় যে মাছের ‘পানি’ সম্বন্ধে তিল পরিমাণো আক্বল-জ্ঞান নেই অথবা উন্মাদ। এ বিষয় বহুবহুবার কুরানের সুত্র, দ্র:সহ লিখা হয়েছে এবং বরাবর খন্ডনহীণ অগ্রাহ্য হচ্ছে। শেষ বারের মত কদম্বুচী করে আকুল অনুরোধ করছি অন্তত ১টি আয়াত দেখুন: ৩: ৭৯।
৪. সত্যই বলেছেন! সে মতে বাদী যুক্তি/প্রমানসহই অভিযোগ উত্থাপণ করেছে; উহা দুর্বল! ভুল! কি মিথ্যা! তা খন্ডন করার দায়িত্ব কার! তা আসামী মুক্তি চাইলে ভেবে দেখতে পারে।
৫. ম জ বাসারের অভিযোগ শুধু মাত্র উপ-সাম্প্রদায়িক ‘ছুন্নী’র বিরুদ্ধে নয় বরং ‘মুছলিম’ বনাম ‘যাবতিয় দল-উপদল’এর বিরুদ্ধে এবং সুপ্রিম কোর্টে; অর্থাত কুরান বনাম শরিয়ত। সুপ্রিম কোর্ট থেকে মুক্তি পেলে লোয়ার কোর্টের মামলা স্বভাবতই অকেজো হয়ে যাবে; দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
বিনীত।
১০|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৬
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ১. " হা! সাধ্য আছে! নবি-রাছুলগণই চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত।" প্রকারান্তরে কি নিজেকে নবী-রাছুল ভাবা হল না??
২. আপনি নিজেই স্বীকার করলেন ছুন্নিদের দলের উৎপত্তি সম্পর্কে কোন দলিল প্রমান নাই। দেখুন নিজে কি বলেছেন - "কিন্তু সুন্নীগণ কখন! কার নেতৃত্বে! কোথায়! কি কারণে ‘ছুন্নী নাম ধারণ করলো! তার কোন মৌখিক, ঐতিহাসিক, এমনকি হাদিছ ভিত্তিকও দলিল প্রমাণ নেই! "
এর পর অনুমান করলেন যে তারা ইয়াজিদের বংশধর হতে পারে। কোন দলিলের ভিত্তিতে আপনি এই অনুমান করলেন? নিজেই বলছেন দলিল প্রমান নাই আবার নিজেই একটাকিছু অনুমান করছেন - এর চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে? এ'রকম অনুমানতো কতই করা যায় - তার কোন মুল্য আছে কি?
৩. মাছ এবং পানি দুটিই ত্রিমাত্রিক বস্তুগত উপাদান তাই একটি অন্যটির মধ্যে থাকতে পারে। আবার দেখুন মাছ পানির মধ্যে থাকে বটে কিন্তু পানির কোন গুন/ধর্ম/বৈশিস্ট ধারণ করতে পারে না। একই ভাবে মানুষ আল্লাহর সৃস্ট জগতের মধ্যে, আল্লাহর সৃস্ট প্রাকৃতিক নিয়মের অধীনে বেঁচে থাকে - কিন্তু আল্লাহর মধ্যে বা আল্লাহর অংশ হিসেবে নয়। কারণ আল্লাহর মধ্যে/অংশ কল্পনা করাই অসম্ভব। তাই আল্লাহর মধ্যে আছেন বিশ্বাস করার মাধ্যমে বাড়তি কোন গুনাবলি দাবি করা নিজেকে আল্লাহর অংশ দাবি করারই নামান্তর। বস্তুত মানুষ কখনই আল্লাহ বা আল্লাহর অংশ নয় যেমন মাছ কখনই পানি নয় - যদিও সে পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না।
৪. আপনি কোন যুক্তি প্রমানই উপস্থাপন করেন নি। আপনি যা বলেছেন তাকে যুক্তি বলা হলে আমার প্রথম কমেন্ট অনুযায়ী আপনার নিজেকে হিজড়া নয় প্রমান করার জন্য চেস্টা করা উচিত ছিল।
৫. ম. জ. বাসার নিজে কি শুধুমাত্র মুছলিম? তাহলে মানব ধর্ম বা 'ভদ্র যুব সমাজ' সংগঠনটি বন্ধ করুন। ওটাও আর একটা উপদলের সুচনা ছাড়া কিছুই নয়।
০৩ রা নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৪
ম জ বাসার বলেছেন: ছালাম,
১. শিক্ষিত লোকেরা অশিক্ষিতের মত ভুল করলে বড় আঘাত লাগে। আপনি বলেছিলেন ‘-মানুষের সাধ্য নেই;’ -নবি-রাছুলগণ কি মানুষ নন? নিজকে অমন ভাবা হলো কোথায়? কেন একই বিষয় শতবার চাপাবার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন?????
২. বাসার যে সামান্য যুক্তি-প্রমান হাজির করেছে তা খন্ডন করলেই তো মামলা ডিসমিস হয়; পাগলামী কি শুধু ম জ বাসারই করে? ৪ খলিফার পর মুয়াবিয়া-এজিদ থেকে আজ পর্যন্ত ছুন্নীগণই ক্ষমতাসীন নয়??????
৩. আহা! পানির বৈশিষ্ঠ/গুনেই তো মাছের জন্ম হয়! অস্তিত্ব রক্ষা/বিলীণ হয়!! আপনার পায়ে পড়ি ভাগ্নে! নিজস্ব/শরিয়তী মতামত অন্তত ক্ষানিকের জন্য ত্যাগ করে আল্লাহ সম্বন্ধে কুরানের সকল আয়াত একত্র করে প্রকাশ করুণ? আর ১ ১টি নিয়ে দিনভর বিতর্ক করুণ?
৪. ম জ বাসারের বউ আছে, ১টি ছেলেও আছে; হলো তো বাবাজী! তাও বিশ্বাস না হলে অগত্যা চাক্ষুষ দর্শন ব্যতীত বিকল্প নেই! এবারে অব্যক্তিগত দায়িত্বে মনোযোগ দিন (সম্ভব হলে)?
৫. না। তবে দেড় বিলিয়ণ শিয়া/ছুন্নী/কাদিয়ানীদের মধ্যে থেকে কেহ একমাত্র ‘মুছলিম’ দলের বলে দাবি করেনি। উপদল শিয়া, ছুন্নী প্রযুক্তগণ কখনো দাবি করে বটে! তবে তা কুরানের আলোকে অবৈধ প্রমানিত হয় (শেষ বারের মত প্রমান নিন: ৩: ১০৩, ১০৫; ৬: ১৫৯; ৩০: ৩২)। ‘মুছলিম’ যদি উপদল হয় তবে তার দোষ আল্লাহ/রাছুলের; বেচারা মূর্খ ম জ বাসারের নয়! তার বাবা-নানারও নয়!
নতুন কোন তথ্য-প্রমান হাজির করতে পারে বিতর্ক চল্তে পারে।
বিনীত।
১১|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:১৬
শাহরিয়ার হাসান শাওন বলেছেন: ভাল লাগলো এই টপিকছ টি এবং তর্কবিতর্ক, কিন্তু জনাব কাঙ্গাল মুরশিদ এই লেখাটার বক্তব্য আর আপনার তর্কটা কিছুটা অবান্তর মনে হল, ভুল বা আঘাত প্রাপ্ত হলে ক্ষমা করবেন ।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৫০
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আপনার এই লেখাও কি বিদ্বেষ পূর্ণ নয়?
দল উপদলের তালীকায় আপনার মতবাদ বা ধারনা কি আরও একটি নতুন উপদল সৃষ্টির চেষ্টা নয়?
যদি না হয়, তবে একটি দলের প্রতি আপনার ধারনা বশবর্তী হয়ে লেখা (আপনার সুন্নি ব্যাখ্যা) ধারনা প্রসূত আক্রমন কি হিংসা বা অজ্ঞতা বলে ধরে নেব?
মুছলিম আপনি কোথায় খুজেছেন? যে পাননি বলে হা হুতাশ করছেন? মুছলিম মুছলীম বলেইতো সে কারও গণা বা হিসারে মূখাপেক্ষি নয়। সে তার আত্মসমর্পনেই রুজু আছৈ।
জাহেরি ক্ষমতা বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের লড়াইতে গেলেইতো আবার সেই একই ঘটনার (হানাহানি, লৌভ, লালসা, জিঘাংসা,হত্যা, বদলা) পুনরাবৃত্তি ঘটে! ঘটেনা কি?