| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বয়স তাঁর ৬০ কিংবা তারও ঊর্ধ্বে।শরীরে নানারকম জটিলতায় ভুগিতেছে। রক্তে প্রেশারের চাপ অত্যন্ত কম। কখনও তাপমাত্রাও ৯৬ ডিগ্রী ফারেন্টহাইট এর নীচে নেমে আসে। আবার ক্ষয় হয়ে গেছে পা ও কোমরের হাড়। ঠিকমত হাটতে পারে না। কখনও কোমরের অসহ্য যন্ত্রনায় বসেও থাকতে পারে না। তবুও ব্যস্তময় জীবন কাটাচ্ছে। বিশ্রাম এর অর্থ কি তা বুঝতে চায়না। ছোটবেলা থেকেই জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আসছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত।কিন্তু হাতের লেখা, পত্রিকা পড়ার অভিজ্ঞতা দেখে সেই সময়ের এস. এস. সি পাশ পরিক্ষার্থীরাও হার মানবে। পুরো জীবনে পেশা পরিবর্তন করেছেন একাধিকবার। ছোটবেলায় কর্মজীবন শুরু করেন খড়ি বিক্রি দিয়ে।এরপর বাবার সাথে চায়ের দোকানে যুক্ত হয়ে কাজ করেন। পরবর্তীতে রাজমিস্ত্রীর কাজে যোগ দেন। দীর্ঘদিন এ কাজ করার পর অটোমেটিক রাইস মিলের ফরম্যান হিসেবে যোগ দেন। আবারও পেশা পরিবর্তন করে বর্তমানে অটোমেটিক রাইস মিলের সেটিংস এর কাজে নিযুক্ত হোন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অটোমেটিক রাইস মিলের সেটিংস এর কাজ দক্ষভাবে পরিচালনা করে আসছে। এই আদর্শ পিতা চার সন্তানের জনক। দারিদ্রতা বারবার পিছুপা করতে চাইলেও কখনও দারিদ্রতার কাছে হার মেনে নেয় নি। তারপরও খেয়ে না খেয়ে চার সন্তানকে পড়িয়েছেন দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট ফিলিপস হাই স্কুলে। এই ব্যয়বহূল স্কুলে একজন অফিসারও তার সন্তানকে পড়াতে ভয় পান। তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে সন্তানদের উপযুক্ত হয়ে গড়ে তোলা। তারই সন্তান এই দারিদ্র পরিবার থেকে ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডার পদে উত্তীর্ণ হোন। প্রত্যেক সন্তানকে উচ্চ শিক্ষার জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। আমার মনে হয় এরকম পরিশ্রমী মানুষ বাংলাদেশে সবাই হলে বাংলাদেশের পুরো চেহারাটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে। উনার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি যেন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার সাফল্যের শেষটুকু দেখতে পারেন।
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:০২
মোঃ মোশাররফ হোসাইন বলেছেন: ফি আমানিল্লাহ