| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজধানীর জমি কেনাবেচা ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ফি পুনর্র্নিধারণ করেছে সরকার। এর ফলে ঢাকায় জমির দাম ও ফি আরেক দফা বাড়ল। রাজউকের এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। তবে রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার যে হারে জমির দাম বাড়িয়েছে, বিক্রি হচ্ছে তার থেকেও কয়েকগুণ বেশি দামে।
জানা গেছে, নতুন দাম নির্ধারণ করার আগে সরকারি খাতায় এসব জমির দাম ছিল সর্বোচ্চ ১০ লাখ থেকে সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এখন এসব জমির দাম ৫ থেকে ১৮ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তারপরও যে দরে জমি বেচা-কেনা হচ্ছে, তার তুলনায় অনেক কম। এতে সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
রাজউক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তিন ভাগে জমির দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব ভাগের মধ্যে রয়েছে আবাসিক, শিল্প এবং বাণিজ্যিক এলাকা। এর মধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা আবাসিক এলাকার প্রতি কাঠার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা। উত্তরা আবাসিক এলাকার ১ থেকে ৯ নাম্বার সেক্টরে প্রতি কাঠার দান নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা এবং ১০ থেকে ১৪ নাম্বার সেক্টরে ১০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল ৪ লাখ টাকা করে। নিকুঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণের প্রতি কাঠার দাম ১০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল দেড় লাখ টাকা। বাড্ডা পুনর্বাসন এলাকা, গে-ারিয়া পুনর্বাসন এলাকা, আইজি বাগান পুনর্বাসন এলাকা এবং শ্যামপুর পুনর্বাসন এলাকায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কাঠা ১০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল ১ লাখ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান, বনানী, বারিধারা আবাসিক এলাকার প্রতি কাঠার দাম ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও এখন এসব এলাকায় জমি বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ কোটি টাকায়। উত্তরা আর নিকুঞ্জ এলাকায় বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায়।
শিল্প এলাকার মধ্যে শ্যামপুর শিল্প এলাকার জমির দাম ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। টঙ্গী শিল্প এলাকায় প্রতি কাঠা ১০ লাখ টাকা। পোস্তগোলা ও জুরাইন এলাকায় ৮ লাখ টাকা করে। অথচ এসব এলাকায় প্রতি কাঠা জমি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকায়। এর মধ্যে টঙ্গী আর পোস্তগোলার জমির দাম ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা।
বাণিজ্যিক এলাকার জমির মূল্য তালিকার মধ্যে রয়েছে গুলশান, বনানী, মতিঝিল, মহাখালী, দিলকুশা, নর্থসাউথ রোড, মতিঝিল সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতি কাঠা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগে ছিল ১০ লাখ টাকা। কাওরানবাজার, শাহবাগ, পান্থপথ, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ, বিপণন ও কাকরাইল বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতি কাঠা ১ কোটি টাকা। নারায়ণগঞ্জ, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, পোস্তগোলা ও গে-ারিয়া এলাকার প্রতি কাঠা ৬০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা এবং নর্থসাউথ রোড এলাকার জমি বর্তমানে প্রতি কাঠা ৪ থেকে ৫ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাওরানবাজার এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ২ কোটি টাকায়।
এছাড়া ফ্ল্যাট হস্তান্তর মূল্যও পুনর্র্নিধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজউক এলাকার সব ধরনের ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের হস্তান্তর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। রাজউকের ন্যাম ভিলেজ ও ভিলা প্রকল্পের প্রতি বর্গফুট হস্তান্তরের মূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা। শিল্প এলাকার আধাপাকা ইমারতের প্রতি বর্গফুট হস্তান্তর মূল্য ধরা হয়েছে ৮০০ টাকা।
এদিকে আবাসিক এলাকার প্রতি কাঠার হস্তান্তর ফিও পুনর্র্নিধারিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গুলশান, বনানী ও বারিধারা আবাসিক এলাকার প্রতি কাঠার হস্তান্তর ফি ধরা হয়েছে ২ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইমারতসহ প্রতি কাঠার ফি ২ লাখ টাকা আর খালি প্লট প্রতি কাঠার ফি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে এসব এলাকায় আগে ফি ছিল ৫০ হাজার টাকা। এদিকে উত্তরা ১ থেকে ৯ নাম্বার সেক্টর, নিকুঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ আবাসিক এলাকার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ইমারতসহ ৮০ হাজার টাকা আর খালি প্লট ১ লাখ টাকা। উত্তরা তৃতীয় পর্ব আবাসিক এলাকায় ইমারতসহ ৫৫ হাজার টাকা এবং খালি প্লট ৭০ হাজার টাকা। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ইমারতসহ ৪০ হাজার টাকা এবং খালি প্লট ৫০ হাজার টাকা। বাড্ডা, গে-ারিয়া, শ্যামপুর-কদমতলী ও আইজি বাগান পুনর্বাসন এলাকার কাঠাপ্রতি প্রথমবার হস্তান্তর ফি ইমারতসহ ৩০ হাজার টাকা, খালি প্লট (ক্ষতিগ্রস্ত) ৩০ হাজার টাকা এবং খালি প্লট (সাধারণ) ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া এ এলাকার প্লট দ্বিতীয়বার হস্তান্তর করলে ইমারতসহ ৮০ হাজার টাকা এবং খালি প্লট ১ লাখ টাকা।
শিল্প এলাকার প্রতি কাঠা হস্তান্তর ফি পোস্তগোলা ও জুরাইন এলাকার ইমারতসহ ৪০ হাজার টাকা এবং খালি প্লট ৬০ হাজার টাকা। শ্যামপুর এলাকার ফি ইমারতসহ ৩২ হাজার টাকা আর খালি প্লট ৫২ হাজার টাকা। টঙ্গী এলাকার ইমারতসহ ২৪ হাজার টাকা আর খালি প্লট ৬২ হাজার টাকা।
বাণিজ্যিক এলাকার কাঠাপ্রতি হস্তান্তর ফি হচ্ছে- গুলশান, বনানী, মহাখালী, কাওরানবাজার, বিপণন, পান্থপথ, শাহবাগ, কাকরাইল, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থসাউথ রোড ও অন্যান্য এলাকা, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ বাণিজ্যিক এলাকায় ইমারতসহ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং খালি প্লট ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এদিকে সরকার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতি কাঠা জমির বাজার মূল্যও পুনর্র্নিধারণ করেছে। এর মধ্যে ধানম-ি ও গ্রিন রোডের আবাসিক এলাকার ৩ থেকে ৮ নাম্বার রোড পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকা। মতিঝিল, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। কাওরানবাজার এলাকার জন্য ৫০ হাজার টাকা। মতিঝিল সম্প্রসারিত এলাকা, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকা, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও মগবাজার এবং কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, ইস্কাটন, গ্রিন রোড ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকার মূল্য (মূল সড়ক থেকে ১০০ ফুটের মধ্যে অবস্থিত প্লট) ৩০ লাখ টাকা। কাকরাইল, সেগুনবাগিচা ও খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকা (১০০ ফুট রাস্তার পাশে), রাজারবাগ পুনর্বাসন এলাকা (বিশ্বরোডের সঙ্গে) আজিমপুর এলাকার মূল্য ১৫ লাখ টাকা। কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, ইস্কাটন, গ্রিন রোড ও এলিফ্যান্ট রোড এলাকার মূল্য (মূল সড়ক থেকে ১০০ ফুটের বাইরে অবস্থিত প্লট) ২০ লাখ টাকা। খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকা (অনধিক ১০০ ফুট রাস্তার পাশে) এবং রাজারবাগ পুনর্বাসন এলাকা (ভেতরের ৪০ ফুট এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তার পাশে) ১২ লাখ টাকা। গোড়ান (৪০ ফুট রাস্তার পাশে), হাজারীবাগ টেনারি এলাকার মূল্য ৫ লাখ টাকা এবং কক্সবাজার আবাসিক এলাকা ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সরকার রাজউক এলাকা, বসুন্ধরা, ধানম-ি, উত্তরা, গুলশান এবং বনানী এলাকার ফ্ল্যাট ক্রয়ে অগ্রিম আয়কর বাড়িয়েছে। আগে প্লট ক্রয়ে প্রতি স্কয়ার মিটারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হতো ২৫০ টাকা। এখন দিতে হবে ২ হাজার টাকা।
জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা শহরে যে রেজিস্ট্রি হয়, তার ৭৫ ভাগই ফ্ল্যাটের এবং বাকি ২৫ ভাগ জমির। এ ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর ফলে অনেকেরই বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, এ পরিমাণ অগ্রিম আয়কর বাড়ানোটা অস্বাভাবিক হয়েছে। এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তাই সরকারের উচিত, এটি কমিয়ে আনা; যাতে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য সহনীয় হয়।
লিংক
Click This Link
©somewhere in net ltd.