নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।

মুজিব রহমান

মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ; আস্থা বিবর্তনে; এমএসসি পদার্থ বিদ্যা; ভাললাগে সাহিত্য; অপছন্দ ঘুষ-দুর্নীতি; ভালোলাগে না ধর্ম ও রাজনৈতিক আলাপন।

মুজিব রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্ধ বিশ্বাস কি দূর করা সহজ?

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪৭


মেছে আমরা তিন জন থাকতাম। অপর দুজনই হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং ধর্মান্ধ। তাদের মধ্যে সদ্ভাব একেবারেই ছিল না। একজন বরিশালের, তিনি কোন আধ্যাত্মিক বাবার অনুসারী। তার নির্দেশে বোতলে রেখে পানি পড়া খান। পানি কমে আসলে আবার বোতল ভরে রাখেন। দ্বিতীয় জন বিক্রমপুরের। একদিন তিনি ভরা বোতলের সব পানি ফেলে দিয়ে কিছুটা হিসু করে আরো পানি দিয়ে ভরে দেন। বরিশালের লোকটি সেই হিসু করা পানিই খাচ্ছে। একদিন জানতে চাইলাম দাদা এই পড়াপানি খেলে কি হয়? তিনি বললেন, ‘খুব জোর পাই, মনে হয় বাবা সাথে আছেন’। ওনি টিউশনী করতেন আর দীর্ঘদিন চেষ্টা করছিলেন বি.এ পাশ করতে। তার পরিবারে ছিল বিভিন্ন রকম সমস্যা, ওনার নিজেরও সমস্যা পিছু ছাড়ে না; কিন্তু হিসুকরা পড়া পানি খাওয়া ছাড়েন নি। কেন এমন অন্ধ বিশ্বাস তৈরি হয়?

পিঁপড়াদের দুটি ঘটনা পড়েছিলাম-
১। পিঁপড়ারা যখন কোন বড় কিছু দলবদ্ধভাবে টেনে নেয় তখন তারা সব একদিকে টানে না। ধরা যাক একটি বস্তুকে ২৫টি পিঁপড়া টানছে। পশ্চিম দিকে টানছে ৫ টি, দক্ষিনে ৫ টি, উত্তরে ৫টি আর পূর্ব দিকে ১০ টি। এই টানাটানির মধ্যেও বস্তুটি পূর্বদিকে ধীরে ধীরে চলতে থাকবে। অনেক সময় আমরা দেখি- কোন পিঁপড়া বস্তুকে কামড়ে ধরে এর উপরে উঠে গেছে। অন্যটি ওই কামড়ে থাকা পিঁপড়াসহই টেনে নিয়ে যায়। সব পিঁপড়ার মধ্যেই একটা বিশ্বাস থাকে বস্তুটি তার দিকেই যাচ্ছে।

২। পিঁপড়ারা বাসায় ফেরার জন্য যাওয়ার পথে একরকম তরল নির্গত করে যায়। যা শুকে তারা কলোনীতে ফিরে আসে। কোন কারণে যদি এই গন্ধ নষ্ট হয়ে যায় তারা আর পথ খুঁজে পায় না। তখন এক প্রজাতির পিঁপড়া বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে। তারা ভাবে এভাবেই তারা পৌঁছে যাবে তাদের কলোনীতে। কিন্তু হায় তারা কখনোই তাদের কলোনীতে পৌঁছতে পারে না এবং অনাহারে ও অন্যান্য কারণে মরে যেতে থাকে।

অন্ধ বিশ্বাস এমনই ভয়ঙ্কর হয়। একজন লেখকের সাথে পরিচয় হয়েছে। তিনি ৫০ টির মতো বই লিখেছেন। লেখার মান খুবই দুর্বল। তিনি অহঙ্কার নিয়েই বললেন, ‘তিনি কোন বই পড়েন না। তার বিশ্বাস অন্যের লেখা বই পড়লে তার স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যাবে’। তার মধ্যেও একটি অন্ধ বিশ্বাস কাজ করে যে, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখক এবং বহু মানুষই তার অনুরাগী। বাস্তবিক মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। এমন মানুষ অনেকই আছে যারা কোন বই পড়তে চান না এই ভয়ে যে, এতে তাদের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উচ্চ শিক্ষা নেয়ার পরেও এ কারণে তারা পাঠ্য-চাকরির জন্য পড়া ছাড়া একটি বইও সারা জীবনে পড়েন না। কিছু বোকা মেয়ে আছে যারা কোন ছেলেকে এতোটাই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের সম্পর্কে কোন খোঁজই নিতে চান না। সেই অন্ধবিশ্বাসও অবশ্য ভাঙ্গে যখন চোখ খুলে সব দেখতে পায় মেয়েটি। দাড় কাকদের একটি গল্প শুনেছিলাম- তারা নাকি চোখ বন্ধ করে খাবার লুকিয়ে রাখে এই ধারণায় যে, তাতে অন্যরাও দেখবে না। পরে দাড় কাক নিজেরাও আর ওই খাবার খুঁজে পায় না অনেক সময়।

একবার জোর করে যদি চোখ খুলে দেয়া যায় তাদের। চাকরি থাকবে না ভয় দেখিয়ে যদি ৫০ টি বই পড়িয়ে দেয়া যায়। কিংবা যদি প্রতি ক্লাসে সৃজনশীল ১০ টি করে বই পড়া বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়। কি হবে? মানুষ কি বদলাবে? পরিবার ও সমাজ থেকে প্রাপ্ত ভাবাদর্শ কি বদলাবে? অবশ্যই বদলাবে এবং তার ভিতরে থাকা অন্ধকার দূর হয়ে আলো প্রবেশ করবে এবং অন্ধ বিশ্বাস দূরে ঠেলে তিনিও আলোকিত হয়ে উঠবেন।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:১৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন: যাদের হতে অন্ধ বিশ্বাস দুর করতে যাবেন তারা আপনা নাস্তানাবুদ করে ছেড়ে দিবে।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৩

মুজিব রহমান বলেছেন: নাস্তানাবুদ করার বহু চেষ্টাই মোকাবেলা করতে হয়। অনেকে চান সকালের নাস্তা বানিয়ে খেয়ে ফেলবেন। তবুও টিকে থাকি, চেষ্টা আমরা অনেকেই করি এবং দৃঢ়ভাবেই জানি সমাজ বদলাবেই। আমরাই বদলাবো।

২| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:১৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।
আমার এক জন বাংলাদেশী সহকর্মী ছিলেন।
তিনি রোজ সকালে গাড়ীতে উঠে প্রচুর দোয়া দরুদ পড়ে গাড়ি স্টার্ট দিতেন।

অন্য দিকে আমি প্রচন্ড মনোযোগ দিয়ে গাড়ী চালাই। কোন দোয়াদরুদের ধারে কাছেও যাই না।

আমাদের দুজনের কারোই গাড়ীতে দুর্ঘটনা হয়নি।

আমাদের এক জন পরিচিত আছেন যিনি রোজ সকালে দোয়া ইউনুস পড়ে বুকে ফু দিযে বের হন।

আমার পরিচিত আরেক জন সকালে রাম নাম বলে বের হন।

তারা দুজনে ই মনে খুব বল পান।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৫

মুজিব রহমান বলেছেন: ওই মতাদর্শের লোক মনে করে প্রার্থনার কারণেই গাড়ি চলছে। বাস্তবিক বিষয়টা হল দক্ষতা। যিনি মনোযোগ দিয়ে চালাবেন তিনি দুর্ঘটনা ঘটাবেন না।

৩| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৫৬

আরোগ্য বলেছেন: প্রবাদ আছে, tie the camel and lay trust in God.

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৩৫

মুজিব রহমান বলেছেন: তারপর যা হওয়ার হবে।

৪| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৭

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
গাড়ি চালানোর সময় শুধু নিজের দক্ষতা আর মনোযোগ ই বড় কথা নয় । । আশেপাশে যারা গাড়ি চালায় সেই সব চালকের মনোযোগ ও দক্ষতা একটি বিরাট ব্যাপার।

দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটে অন্য চালকদের দোষে। আপনি যত বেশি মনোযোগী আর দক্ষ
হোন না কেন।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৩৬

মুজিব রহমান বলেছেন: সেই সম্ভাবনা সবার জন্যই থাকবে। আপনি দক্ষ ও মনোযোগী হলে দুর্ঘটনা অবশ্যই কমে আসবে।

৫| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৩৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অন্ধ বিশ্বাস ভালো জিনিস না। তবে সব বই আলো ছড়ায় না। কিছু বই পড়লে পাঠক অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে বা ভুল দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীবন নষ্ট করতে পারে। যেমন জঙ্গিবাদের উপর অনেক বই আছে, কমিউনিস্ট দর্শনের উপর অনেক বই আছে যা এজুগে অচল (কমিউনিসমের সব থিউরি বাস্তব প্রয়োগ দ্বারা প্রমানিত নয়)।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৪৫

মুজিব রহমান বলেছেন: জঙ্গিবাদের উপর লেখা সব বইর মূল বই একটিই। তাই এগুলোকে একটি বই-ই বলতে পারেন। কেউ যদি সব রকমের বই পড়ে তবে জঙ্গিবাদের ভ্রান্তি বুঝতে তার অসুবিধা হবে না।

৬| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০২

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: তিনটা বিষয় সকল জায়গায় থাকে।অগ্র পশ্চাৎ এবং মধ্যম।চিন্তার ক্ষেত্রেও আছে।যারা অগ্রসর চিন্তার অধিকারী তারা বিজ্ঞান ভিত্তিক যৌক্তিক ভাবে চিন্তা ভাবনা করে,আর যারা পশ্চাৎপদ তারা অন্ধ বিশ্বাসের দ্বারা পরিচালিত হয়।মধ্যমরা কখনো এই দিকে কখনো ঐ দিকে।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৪৭

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ।
সুচিন্তা গঠন করতে হলে মানসম্মত শিক্ষার দরকার। বহু বই পড়া দরকার। ভাল পাঠ্যসূচির ভাল শিক্ষকও দরকার। শিক্ষার্থীরা যাতে বুঝে পড়তে পারে। তাহলেই হবে মেধার প্রকৃত বিকাশ এবং অর্জন করবে চিন্তা করার ক্ষমতা।

৭| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১২

রাজীব নুর বলেছেন: অন্ধ বিশ্বাস! শব্দটাই আমার অপছন্দ।
কুসংস্কার আমি সহ্য করতে পারি না। অথচ লোকজনের মধ্যে আন্ধ বিশ্বাস গভীর ভাবে বাসা বেধেছে। বহু শিক্ষিত মানুষের মধ্যে অন্ধ বিশ্বাস দেখা যায়। হাজার বলে কয়ে, লজিক দিয়েও তাদের অন্ধবিশ্বাস দূর করা যায় না।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫১

মুজিব রহমান বলেছেন: আমরা সনদধারীদের শিক্ষিত বলি বটে। আমাদের শিক্ষার মান খুবই নিম্নগামী বলেই সনদধারীরা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষিত হয়ে উঠেন না।

৮| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৯

কল্পদ্রুম বলেছেন: বিশ্বাস এবং অন্ধ বিশ্বাসের ভিতর পার্থক্য কি হতে পারে?

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৪

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ। পার্থক্য খুব বেশি নেই। পাতলা লিকার আর কড়া লিকার। দুটোই চা। তেমন দুটোই অবৈজ্ঞানিক পশ্চাৎপদ বিষয়।

৯| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ ভোর ৫:৫২

অগ্নিবেশ বলেছেন: বিশ্বাস এবং অন্ধ বিশ্বাসের ভিতর কোনো পার্থক্য নেই।
হাতায়ে দ্যাখেন বুঝতে পারবেন।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৭

মুজিব রহমান বলেছেন: পার্থক্য খুব বেশি নেই। পাতলা লিকার আর কড়া লিকার। দুটোই চা। তবুও আমরা মৌলবাদী আর উগ্রমৌলবাদীদের মধ্যে পার্থক্য করি।

১০| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:০০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জঙ্গিবাদের মূল বইটি বলতে কোন বই বুঝাচ্ছেন বুঝতে পারিনি। বললে ভালো হয়। আর যারা জঙ্গিবাদি বই পড়া শুরু করে তার কাছে আর কোনও বই ভালো লাগে না এবং সে পরেও না।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:১৭

মুজিব রহমান বলেছেন: জঙ্গিবাদের মূর উৎস তো একই।

১১| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: পরীক্ষায় কবিতার লাইন উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। ছাত্র কবিতার মর্মার্থ না বুঝে তার মনগড়া কথা লিখে খাতা ভরে ফেলে। কি প্রসঙ্গে কবিতার লাইন গুলি বলা হয়েছে সেটাও নিজের মত করে লেখে। দোষ কি কবিতা, কবির না ছাত্রের?

১৮ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৪

মুজিব রহমান বলেছেন: দোষ অবশ্যই শিক্ষা মণ্ত্রণালয়ের। তারা তাল মিলিয়ে পাঠ্যসূচি করতে পারে না। এখনো গাইডবইয়ে ভর্তি শিক্ষা ব্যবস্থা। শৃজনশীল প্রশ্ন আসে গাইড থেকে, ছাত্ররা তা মুখস্থ করে সৃজনশীল পরীক্ষা দেয়। এখানে ছাত্রের বা কবির দায় নেই। শিক্ষার্থীদের কিভাবে গড়ে তুলছে সরকার সেটাই বিষয়।

১২| ১৮ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:০৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: এই জমানার কথা বলি নাই। আপনার, আমার জমানার কথা বলেছি।

১৮ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৫০

মুজিব রহমান বলেছেন: খুব বেশি পার্থক্য দেখা দেয়নি শিক্ষা ব্যবস্থায়। গাইড থাকায় সৃজনশীলও মুখস্থই হচ্ছে। প্রশ্নও আসছে গাইড থেকেই। শিক্ষকরা নিজেদের মেধা দিয়ে প্রশ্ন বানাতে পারছেন না। গাইডও বন্ধ হচ্ছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.