| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্
এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্ ( প্রতিষ্ঠাতা কবি পরিষদ{গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত} প্রতিষ্ঠাতা,ধূমকেতু কবি পরিষদ(ধূ.ক.প),সম্পাদক,দৈনিক ধূমকেতু, নির্বাহী সম্পাদক,স্বপ্ন সুখের সারথি, সম্পাদকঃ শব্দশ্রমিক। একক কাব্যগ্রন্থঃ- নিঃসঙ্গ পৃথিবি ও নৈঃশব্দ্যের দীর্ঘশ্বাস । যৌথ কাব্যগ্রন্থ,( ১)সূর্য সিঁড়ি,(২) স্বপ্ন সুখের সারথি(২য় ও ৩য় খণ্ড),(৩) হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু,(৪)হৃদয়ে বাংলাদেশ, (৫)প্রবাস প্রান্তর, শব্দমেঘ,ও অন্যান্য
উৎসর্গঃ সকল প্রবাসী ভাই-বোনদের।
জুতা পালিশ ও একজন আবু হাসান শাহরিয়ার ।
---এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্
সম্প্রতি কবি আবু হাসান শাহরিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন,বাঙালি প্রবাসীরা বিদেশীদের জুতা পালিশ করার জন্য প্রবাসে গেছে,তারা স্বদেশ ত্যাগ করেছে জুতা পালিশ করার উদ্দেশ্যে,তাহলে দেশের জন্য এত মায়া কান্না কেন....
তিনি এ ও জানিয়েছেন,রেমিট্যান্সের গল্প কেন শোনাও।
আমি এ বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু বলতে চাই!
আমি জানি না, তারা কে বা কাহারা, কোন উদ্দেশ্য নিয়ে রেমিট্যান্সের গল্প শুনিয়েছে,বা এ গল্প শোনার সে কে? এ প্রশ্ন থেকেই যায়,অবশ্যই তার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো তা না হলে রেমিট্যান্সের গল্প কেন শোনাবে, আশাজনক ফল না পাওয়ায় প্রবাসীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য এটা স্পষ্টতা রাখা যায়।
তিনি হয়তো জানেন না,রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে,যা দেশের কতটা মানউন্নয়ন করে সে কথা আপনার জ্ঞানের অক্ষমতা প্রকাশ করে, একজন বিবেকবান মানুষ বেশ ভালো করেই জানেন,আপনার মত বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের এ সংজ্ঞা হাজারবার বুঝালেও বুঝবে না,কেননা আপনাদের জ্ঞানে অহমিকায় পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।
যাই হোক মূল প্রসঙ্গে আসি একটু।
বিশেষ করে প্রবাসীদের জুতা পালিশ প্রসঙ্গে,প্রথমে আমি শ্রদ্ধা রাখতে চাই,জুতা পালিশ করা মেহনতি মানুষের প্রতি,তাদের কর্মের প্রতি,এ ও স্পষ্ট বলতে চাই জুতা পালিশ কোন ঘৃণিত পেশা নয়,"জন্মহোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো"এ জগত বিখ্যাত বাণী অবশ্যই আপনারা জানেন,যেখানে তিনি উল্লেখ্য করেছেন,মা জন্ম দিয়েছেন প্রমাণিত বাবা সন্দিহান,এখানে সহজেই বুঝা যায় তার জন্মে সমস্যা রয়েছে সুতরাং এ নিয়ে আমার আর বলার কিছু নেই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৪৬বছর অতিবাহিত হলেও আজো সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ ঋষি-মুচি, কামার-কুমারের আলাদা আলাদাভাবে দেখে আসছেন,আমি তাদের বলবো তারা উন্মাদ না হয় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
পৃথিবীতে কোন কর্মকে ছোট করে দেখার কিছু নেই,প্রতিটি পেশা জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য,এ দিক দিয়ে লক্ষ্য করলে, আপনি(আবু হাসান শাহরিয়া)এ শ্রেণীর মানুষ কে অপমান করেছেন,যা কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়,যা বাঙ্গালি সমাজ আপনার কাছ থেকে আশা করে না।
স্বদেশের মায়া ত্যাগ করা, মায়া কান্না করা,এ কথাটির অর্থ আপনি বুঝবেন না,যেহেতু আপনি স্বদেশী একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী,এ কথা গুলো তারা খুব সহজেই বুঝবে যারা আমার মত প্রবাসে জুতা পালিশ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, স্বদেশের জন্য কতটা ব্যথা,কতটা আর্তনাদ, কতটা পাঁজরভাঙ্গা কষ্ট যা একমাত্র প্রবাসীরা চোখ বন্ধ করলেই বুঝবে, বলে দিতে পারবে, আপনার জানা ও বুঝা উচিৎ, কেউ ইচ্ছে করে,সখ করে, স্বদেশ ত্যাগ করে না,পরিবার পরিজন নিয়ে একটু সুখে থাকার জন্যই জীবনের সাথে সংগ্রাম করে প্রবাসী হয়,প্রবাস জীবন যাপন করে,দেশের প্রতিবন্ধী ও বোঝা হয়ে বসে থাকে না, তারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরাতে থাকে প্রবাসে বসেও,প্রবাস কোন বিলাসবহুল জীবন যাপনের নাম নয়,জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার নাম-প্রবাস। রক্তে অর্জিত অর্থের নাম প্রবাস,এই জুতাপালিশ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের জন্য প্রতি বছর,বাংলাদেশ ব্যংক সম্মাননা স্বারক দিয়ে থাকেন। যদি বাংলাদেশ ব্যংকের কোন আর্থিক সহযোগিতা না থাকতো তাহলে তারা কখনোই এ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতেন না বা দিতেন না। তাই ভাই আবু হাসান শাহরিয়া আপনার এই রেমিট্যান্স প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত,ও প্রবাসীদের নিরুৎসাহিত এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক চাকা বন্ধ করার পায়তারা যা দেশদ্রোহীর শামিল,যদিও প্রবাস কন্ঠ দেশ দ্রোহী উল্লেখ্য করে ইতিমধ্য খবর প্রকাশ করেছে।
এবার আসুন দেখি কারা প্রবাসে জুতা পালিশ করে।
আমি যেহেতু একজন প্রবাসী, সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ,আমেরিকা সহ বিশ্বের নানা দেশে বন্ধুবান্ধব জড়িত,সে দিক দিয়ে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই আমার জানা মতে উন্নত বিশ্বে জুতা পালিশ করা কোন অপশন নেই,আমি জানি না কে বা কারা আপনাকে এ তথ্য দিয়েছে,যদি কেউ দিয়ে থাকে এ তথ্য তাহলে বলবো আপনাকে ভুল তথ্য দিয়েছে অথবা আপনি নিজে নিজেই পাগলের প্রলাপ বকেছেন যা সমাজের কাছে ঘৃণিত। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যখন প্রবাসে ছিলেন তখন জুতা পালিশ করা বাঙালি ছিলো কি না সে আমার জানা নেই।
ধরে নিলাম আপনার কথা সত্য তবে এবার আসুন দেখি কারা প্রবাসে জুতা পালিশ করে দেশের মায়া ত্যাগ করে।
প্রথমেই বলতে হয় স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতিরজনক বংবন্ধুর দৌহিত্র,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-এর সভাপতি, জননেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়,বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা আপার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকি,(সদস্য পার্লামেন্ট অফ লন্ডন) আরো রয়েছেন লন্ডন পার্লামেন্টের সদস্য, রুপা হক ও রুশনারা আলী..সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বড় ছেলে তারেক রহমান সহ বর্তমান সরকারের এমপি,মন্ত্রী,অনেক সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন এরা তাহলে কি সবাই জুতা পালিশ করার কাজে ব্যস্ত।এমন কি একাজে সেবা দিতে নিয়জিত রয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গুলোও,সরকার কোটি,কোটি টাকা খরচ করে এ সকল জুতা পালিশকারীদের জন্য রাষ্ট্রদূত অফিস গুলোর ভাড়া ও কর্মকর্তা কর্মচারী কেন রেখেছেন আমার বোধগম্য নয়,এমন কি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীও প্রবাসে যায় জাতিসংঘের মিশনে নিশ্চই তারা জুতা পালিশ করতে যান না।
কবি,সাহিত্যিক, ছড়াকার,প্রবন্ধকারদের কথা বলতে গেলে,আমি আর তাদের খুঁজবো না,ফেসবুক বন্ধু,আমেরিকান প্রবাসী হাবিব ফয়েজ ভাইয়ের স্ট্যাটাস থেকে নেয়া তিনি এভাবে উল্লেখ্য করেছেন,
অন্যদেশের কথা নাই বা বললাম, আমি আমেরিকায় থাকি সে হিসেবে এখানকার কথাই বলছি-
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরী জীবনের অর্ধেক সময় প্রবাসে কাটিয়ে নিউইয়র্কে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এছাড়া বর্তমানে সর্বজনাব কবি তমিজ উদ্ দীন লোদী, ফকির ইলিয়াস, শামস আল মমিন, বেলাল বেগ, ড. মাহবুব হাসান, হাসান আল আব্দুল্লাহ, ডঃ হুমায়ূন কবীর, মাহবুব লীলেন, শিউল মনজুর, জাফর ওবায়েদ, সোনিয়া কাদির, কাজী আতীক, কাজী জহিরুল ইসলাম, সুমিন শাওন, মোখলেসুর রহমান, আহমদ সহুল, জুলি রহমান, আশরাফ হাসান, রওশন হাসান, মনিজা রহমান, স্বপ্ন কুমার, মাসুম আহমদ, রিমি রোম্মান, নাসিরুল্লাহ মোহাম্মদ।
ছড়াকার সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, মনজুর কাদের, শাহ আলম দুলাল, খালেদ শরফুদ্দীন, শামস চৌধুরী।
প্রবন্ধকার হাসান ফেরদৌস, আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, প্রফেসর ম. আমিনুল হক চুন্নু, রশীদ জামীল।
গল্পকার ফেরদৌস সাজেদীন, কুলদা রায়।
সঙ্গীতজ্ঞ মোত্তালেব বিশ্বাস।
চিত্রশিল্পী তাজুল ইমামসহ আমার চেনা-অচেনা (অনেকের নাম মনে করতে পারছি না) নানামাত্রিক প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বরা বিদেশের মাটিতে স্বদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের কাউকেই কি আপনি চিনেন না? এদের কারো প্রতি আপনার সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই?
এরা কি তাহলে সবাই জুতা পালিশ করতো,আবু হাসান শাহরিয়ার কাছে আমার খুব জানার ইচ্ছে!
.....
আপনি একজন সম্মানিত মানুষ ভেবেছিলাম,আমি মেনে নিলাম আপনার অনেক ক্ষমতা দেশে প্রবাসীদের গাড়ি ধোয়া মুছার কাজ দিতে পারেন সমস্যা নেই,আপনার আশেপাশে যাওয়ার মত অবস্থান আমার/আমাদের নেই,আপনাকে অপমান করার সাধ্য ও প্রবাসীদের নেই,তবে একটি কথা না বললেই নয়, আপনি না হলেও আপনার মত অনেকেই আছেন স্বদেশে,প্রবাসীদের জুতা পালিশ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকার অলিতে,গলিতে ব্রাশ আর পালিশ নিয়ে বসে থাকে ।
সেই যাই হোক আবু হাসান শাহরিয়া ভাই,আপনার প্রবাসীদের নিয়ে বাজে মন্তব্যে সমগ্র প্রবাসী সহ সমাজের সকল বিবেকবান মানুষেরা গভীর ভাবে আহত ও মর্মাহত, যার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত কারণের আপনার বাংলা একাডেমীর পদক এর কথা উঠে আসছে,আমার জানা মতে বাংলা একাডেমি ১৯৫৫ইং স্থপতি হওয়ার পর ১৯৬০ সালে প্রবর্তন করা হয়। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় বছরে ৯ জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে বছরে ২ জনকে এই পুরস্কার প্রদানের নিয়ম করা হয়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে চারটি শাখায় পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। ১৯৮৫, ১৯৯৭ এবং ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ - এই তিনবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
সে হিসাব করলে এ সম্মাননা অসংখ্য মানুষ পেয়েছে,এ নিয়ে আত্মঅহংকার বা গর্ববোধ করার মত কিছু নেই,তুলনামূলক অন্য সকলের চেয়ে আপনি বিতর্কিত, আপনি বিতর্কিত কেন হবেন, আপনি সম্মানিত, আমি বলবো আপনি আপনার সম্মান বজায় রাখুন,অন্যথায় মানুষ আপনাকে তার প্রতি উত্তর দিবে যা মোটেও শোভনীয় নয়। আপনি কেন পদক পেলেন,কি ভাবে পদক পেলেন,বাংলা একাডেমী যোগ্য ব্যক্তিকে তথা আপনাকে পদক প্রদান করে ভুল বা সঠিক করলো কি না, সে দিকে নাই বা গেলাম।
আমি আরেকটি বিষয় সেই সাথে বলতে চাই,ধর্ম মানা না মানা,প্রতিটি মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা, সে ক্ষেত্রে কোন ধর্মকে আঘাত করা অন্যায়, আপনি ইদুল আযাহা সম্পর্কে বলেছেন,প্রকাশ্য দিবালোকে পৈশাচিক হত্যার উৎসব মানতে পারেন না,কোন ধর্ম কোন ব্যক্তির ইচ্ছের উপর নির্ভর করে না,প্রতিটি ধর্ম তার নিজস্ব গতিতে চলে। সুতরাং প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাজ হবে কোন ধর্মকে আঘাত না করা। 
০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪৭
এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্ বলেছেন: ধন্যবাদ !
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৭
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেছেন: real realizetion,thank u