| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সংশোধিত আইনে দুদকের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তথা দুদককে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা । তারা বলেন, দুদকের সংশোধিত আইন দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় প্রনোদনা জোগাবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দুদককে নিস্ক্রিয় রাখার এই সংশোধিত কালো আইন বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার মঙ্গলবার এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন জাতীয় সংসদে আইন করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। দুর্নীতি তদন্তে দুদকের অবশিষ্ট স্বাধীনতা ও কার্যকরি মতা কেড়ে নিয়ে দুদককে পুরোপুরি ঠুঁটো জগন্নাথে পর্যবসিত করা হয়েছে। মন্ত্রী-আমলাদের যোগসাজসে স্বাধীনভাবে দুর্নীতি তদন্তে দুদকের মতা বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রী-এমপি-সরকারী আমলা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার সুযোগ রহিত করে সরকার প্রকারান্তরে দুর্নীতিকেই উৎসাহ জুগিয়েছে। সরকারের এই কালো আইন একদিকে সংবিধান পরিপন্থী আর অন্যদিকে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিরুদ্ধাচরণ। সরকারী দলের উদ্যোগে গৃহীত এই আইন নিজেদের দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাই প্রদান করবে। এই আইন যে নিজেদের চামড়া বাঁচানোর উদ্দেশ্যে করানো হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সভায় সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান, বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইয়াসিন মিয়া ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এক বিবৃতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন সংশোধন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে ‘দুদক’-কে অকার্যকর করে রাখার যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে ‘দুদক আইনের’ সংশোধনী করা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে ‘দুদকের’ ওপর সরকারের সরাসির হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি আইনি বৈধতা পাবে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তড়িঘড়ি করে জনগণের সাথে প্রতারণাপূর্ণ ও গণবিরোধী এ সংশোধনী আইন করার মাধ্যমে, সরকার নির্লজ্জভাবে দুর্নীতির পক্ষে তার অবস্থান ঘোষণা করলো। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকারের কথা বলা হলেও, ‘দুদক সংশোধনী আইনে’ সরকারি ও বেসরকারি বলে বিভাজন ও বৈষম্য করা হয়েছে। ফলে এই সংশোধনী আইনটি সংবিধানের সাথে সাঘংর্ষিক। এই সংশোধনীর ফলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়বে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের দুর্নীতির গতি অনেক বেড়ে যাবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংশোধনী আইনটি বাতিল করে ‘দুদক’-কে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।
©somewhere in net ltd.