| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ময়মনসিংহের কোন এক গ্রামের ছেলে সৈয়দ আলী। এলাকার বদমাইশ ছেলেদিগের শিরোমণি। এহেন কোন শয়তানি বান্দরামী কার্য নাই যা এই সৈদালী করে নাই। মেয়েদের দেখলেই টিজ করে। মানুষের সাথে ফাজলামি করে। এলাকার সবাই তারে সৈদালী বলে শুধাইতো আর তাহার কৃতকর্ম সম্পর্কে সবাই অবগত ছিল। স্কুলের ধারে কাছেও যাইত না তাই ক এর পিছনে ব লাগাইতেও জানত না।
একই পাড়ার সুন্দরী মেয়ে আসমা আক্তার। রূপের আঁধার ছিল তার। হলদে ফর্সা, চিকন নাক ঠোঁট, স্লিম দেহ এক কথায় অনেক সুন্দরী। মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে মেয়েটা। সৈদালী নানাভাবে এই মেয়েটিকে বুঝাতে চেষ্টা করত যে তারে সে মহাব্বত করে। বাচ্চা মেয়ে কতই বা বয়স এইসব বুঝার বা পাত্তা দেয়ার মন মানসিকটা কিছুই ছিল না মেয়েটির।
.
.
.
.
.
বাড়ির উঠানে শুকাতে দেয়া সেলোয়াড় আনতে গেল আসমা। ঘরে এসে দেখলো সেলোয়াড়ের ফিতার সাথে একটা কাগজ প্যাঁচানো। হাতের লেখা দেখেই চিনতে পারল এটা এলাকার এক ভাইয়ের হাতের লেখা। প্রেম পত্র লিখেছে সৈদালী তাও অন্য কাউকে দিয়ে লেখানো। পত্রের শিরোনাম থেকে শুরু করে পত্রগর্ভ, সম্ভাষণ এমনকি শেষের অংশের আলোচ্য বিষয় ভালবাসা। প্রেম পত্র দাতা সৈয়দ আলী অনেক ভালবাসে মেয়েটিকে।
.
.
.
.
.
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আসমা, গন্তব্যে পাশের বাড়ি। সৈদালী সবসময় অনুসরণ করছে মেয়েটিকে। আশেপাশে সূক্ষদৃষ্টিতে তাকাল সৈদালী দেখলো কেউ নেই মূহুর্তেই ঝট করে লুঙ্গিখানা খুলে কান্দে লৈয়ে গান গাইতে গাইতে দৌড় দিল সে। হাসি, লজ্জা আর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল আসমা। প্রায় সময়ই আশেপাশে কেউ না থাকলে সৈদালী এরকম উলঙ্গ হৈয়ে দৌঁড়াইতো। কখনো বা লুঙ্গি তুলে ফেলতো মেয়েটিকে দেখে।
.
.
.
.
সৈদালী চরিত্রটাই এহেন হাস্যরসাত্বক। উল্টাপাল্টা মজার যতসব কান্ড তা তারেই দিয়েই সম্ভব। পছন্দের মানুষের সেলোয়াড়ের ফিতায় প্রেমপত্র বাইন্ধা দেয়া, তারে দেখলে লুঙ্গি খুলে কান্দে লৈয়া দৌঁড়ানো এমন কাজ করার হিম্মত সব পুরুষের হয় না। পরবর্তীতে অবশ্য সৈয়দ আলী বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল মেয়েটির দাদীর কাছে। কিন্তু পাত্র তো সব দিক থেকে সেরা তাই প্রত্যাক্ষিত হয়েছে নগদের উপ্রে।
.
.
.
.
.
.
.
আজ দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর গল্প করতেছিলাম আম্মুর সাথে। তার সৌন্দর্যের মহিমায় ক্রাশ হওয়া বালকদের কাহিনী জানতে চাইলাম তখন বের হয়ে আসল উক্ত সৈয়দ আলীর জীবনচরিত। আম্মু বলতে বলতে অনেক হাসতেছিল আর আমি শুইন্না মাটিতে লুটোপুটি খাইতেছিলাম। সৈয়দ আলী আম্মুর চেয়ে অনেক বড়। তার প্রথম বউ মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে, আগের ঘরের মেয়ে আছে একটা, হয়তো মেয়ের বিয়েও হয়েছে। এখন সে আম্মুকে দেখলে তাকায়ও না। হয়ত বাল্যকালের ঘটিত কার্যকলাপের জন্য শরমায়িত হয়।
©somewhere in net ltd.