নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ভারতীয় । আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে । আমি msc সম্পূর্ণ করেছি Anthropology তে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । আমি কল্পনা করতে খুবই ভালোবাসি । আমি একজন মানুষ হয়েই বাঁচতে চাই ।আমার ফেইসবুক আইডি নাম -sanu son

সাহিনুর

আমার মনের আকাশে কেনো মেঘ আসে বারে বার ! সে মেঘ সাদা নই কালো রং মাখে বারে বার !

সাহিনুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আর বাকী আছে যে কটা দিন

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩২

নির্দয় ঝড়ের আঘাতে কেমন যেন নিস্তেজ চারিপাশ, এইতো আজই খবরের কাগজে পড়লাম ,সন্দেশখালী ,দক্ষিণ ২৪ পরগণা, উত্তর ২৪ পরগণা ,বকখালি , সুন্দরবন বুলবুলির আঘাতে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে মাটিতে নির্মম ভাবে ,এ চারিপাশে এখন শুধুই হাহাকার। আমাদের এদিকেই তো গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই , তাই দোতলার পশ্চিমের বারান্দায় আরামকেদারায় নিজের জীর্ণ শরীরটি হালকা করে হেলিয়ে দিলাম .....
সন্ধ্যা হয়েছে ...
ঐদিকের এক মসজিদ থেকে সবে শুরু হলো সন্ধ্যার আজান ....
আল্লাহ আকবার.......আল্লাহ আকবার .......
রাঙানো লাল সূর্য অস্ত গিয়েছে বেশ কিছু সময় হলো, হালকা অন্ধকার ধীরে ধীরে নিজেদের আড্ডা জমাতে শুরু করে দিয়েছে আমার চারিপাশে । এই একটু আগেই সব পাখি গুলো এই পথ দিয়েই উড়ে গেলো , সম্ভাবত তারা ফিরেছে তাদের বাসায় ।
তাদের উপর খুব অভিমান হলো ......তারা কোনো কথা শোনেনি আমার ।
চিৎকার করে কতবার জিজ্ঞাসা করলাম ...তারা কোথায় থাকে ?
তারা কেন বাসা বানায়নি আমার জানালার পাশে বেড়ে উঠা আম গাছটিতে ?
আজ কিছুই ভালো লাগছে না আমার, সেই বিকাল থেকেই মনটাতে কেমন যেন ভাটা পড়ে আছে । ভাবতে ভাবতে যেন এক মৃদ কষ্টের চাদর আমার মনকে জড়িয়ে আটকে ধরে আছে সেই পরন্ত বিকাল থেকে ।
-খোকা !
কোথায় রে তুই ?(মায়ের ডাক কানে এলো )
- এইতো মা , আমি এখানে !
-এই অন্ধকারে বসে একা একা কি করছিস আমার পাগল ।
চল.. তোর বাবা তোকে ডাকছে নিচে, সবাই একসাথে গরম গরম চা খাবো।
-আমার চারিপাশে ঠান্ডা বাতাস বয়ছে, এই ঝড়ের জন্য বেশ ঠান্ডা পড়েছে আমাদের গ্রামে এ দুদিন । গরম চায়ের কথা শুনে ক্ষনিকের জন্য যেন মনটা আনন্দে ভরে গেলো , কিন্তু এই অন্ধকার এই একলা চেয়ার এই একাকিত্ব ছেড়ে কিছুতেই উঠে যেতে ইচ্ছা করছে না একদম আমার ।
আদুরে কন্ঠে মা কে বললাম ..
এই সুখ
এই অন্ধকার ছেড়ে এখন একদম যেতে ইচ্ছা করছে না আমার। তুমি যাও না আমার জন্য বড় কাপে এক কাপ গরম চা নিয়ে আসো ।
-ওহ ! এই ব্যাপার ঠিক আছে বস , আমি নিয়ে আসছি।( বলে মা চা আনতে নিচে চলে গেল )
-আর হ্যাঁ বাবার চাদর টাও নিয়ে এসো কিন্তু !( চিৎকার করে বললাম মা কে , কোনো উত্তর দিলো না তো ? শুনতে পায়নি হইতো ,অজান্তেই গুনগুন করে উঠলো আমার মন )
""ওগো প্রিয়
ওগো প্রিয়তমা .....
ভালোবাসীয় মোরে ... আছে যে কটাদিন আর !
মোরে বাসিয়...ভালোবাসিযো যতনে যতনে..."'

গুনগুন করতে করতে মা চলে এলো ...বড় কাপের এক কাপ চা দিয়ে গেলো , সাথে বাবার চাদর এবং একখানি জ্বলন্ত প্রদীপ !
এই চাদর খানি আমার বাবার বাবা মানে আমার দাদু মরার আগে আমার বাবাকে দিয়ে গিয়েছিল, এই চাদরের সাথে উনাদের অনেক কষ্ট অনেক সুখের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তাই বাবার কাছে এই চাদরটি আমি চেয়ে নিয়েছি , আমার হাতে আর যে কটা দিন আছে সে কটা দিন আমিও এই চাদরটির উপর আমার ছাপ রেখে যেতে চাই । বেশ কয়েক জায়গায় সেলাই পড়েছে দেখলাম কিন্তু হাতে নিতেই শরীরের ভিতর এক অচেনা স্রোত বয়ে গেল , সে যে কি তৃপ্তি বলে বোঝাতে পারবো না , মনে হলো যেন একফালি সুখ জড়িয়েছে আমার সারা দেহ কে !
এই অধমের ঘরে কিছুটা হলেও আলোকিত করেছে ক্ষনিকের জন্য এ জ্বলন্ত প্রদীপ ,চাদরটি গায়ে জড়িয়ে গরম চায়ে চুমুক দিলাম .....
(আবার গুনগুনিয়ে উঠলো আমার মন )
হে স্মৃতিময় পরমপিতা...
যতনে গড়িয় মোর ঘরখানা
তোমার পাশেই কবর হবে মোর
তুমি আমাকে নিয়ে একটুও ভেবোনা!
যত গড়িয়াছি মায়া এ ত্রিভুবনে
সবই রাখিয়া পাড়ি দেবো অচেনা গগনে !
হে প্রভু ...
যেটুকু জ্ঞান দিয়েছো মোর মাঝে
সেটুকু দিয়েই জ্বেলেছি প্রদীপ
ঘুচিয়ে ছিলাম অন্ধকার !

না চাহিলেও যেতে হয়
অশ্রুজলে যেতে হয় ...
কেন কাঁদিতেছো তুমি কেন কাঁদিতেছো ..
না চাহিলেও যে হাত ছাড়িতে হবে !
....................... এ জীর্ণ শরীর যেন আর পেরে উঠছে না ইচ্ছার সাথে, তাই নিজের পুরো শরীর হেলিয়ে দিলাম আরামকেদারায় । তখনও মিটমিট করে জ্বলছে প্রদীপখানা
ঠিক যেন আমার মতো !
সময় নেই.. ওর আলো নিভবে এখুনি ।
আবার ফিরে এসে জমিয়ে বসবে
না দেখা না চাওয়া অন্ধকার গুলো
না চাওয়া না দেখা অন্ধকার গুলো.... ! আহ্হ্হঃ ....( দীর্ঘ এক প্রশ্বাস )

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৪

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: কি হয়েছে, কেনো এতো হতাশ। সবি নসিবের ফায়সালা।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৮

সাহিনুর বলেছেন: হ্যা দাদাভাই সব নসিব কাপলের দোষ । ধন্যবাদ আপনাকে ।

২| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯

কিরমানী লিটন বলেছেন: হৃদয়ের গভীর উপলব্ধির অনুবাদ - ছুঁয়ে গেলো....

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪০

সাহিনুর বলেছেন: কষ্ট গুলো যখন প্রকাশ করতে পারিনা তখনই মনে হয় এমন লিখতে ইচ্ছে করে । ধন্যবাদ ভাইয়া ।

৩| ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: আবেগ টুকু লিখে রেখে ভালো করেছেন।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৪

সাহিনুর বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাইয়া।

৪| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৩

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: ১ বছর হয়ে গেলে আপনার বর্ষ পূর্তির পোস্ট কই ?

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৭

সাহিনুর বলেছেন: এক বছর হয়ে গেছে এতো তাড়াতাড়ি? সত্যি তাই তো ! একটি চাপের মধ্যে আছি ভাইয়া একটু না অনেক চাপের মধ্যে আছি ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.