| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এখানে এটা আমার লেখা প্রথম ব্লগ। দেশের এই অবস্থাতে নিজেকে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে। এখানে আমার প্রথম লেখা অন্যায়ভাবে কারোর মৃত্যুর ব্যাপারে হবে সেটা না হলে হয়তো ব্যাপারটা সুন্দর হতো। মানুষ মারা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে অন্যসব কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না।
হেফাজতে ইসলামের মতো বিষাক্ত আইডিওলজির কোনো সংগঠনের মুখে ভারতের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কথা বলা মানায় না। আওয়ামীলীগের পালটা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যে একটা ফাঁকা জায়গা ছিল, সে জায়গাটা নিয়ে দেশের মানুষের অনেক আশা-ভরসা আছে। বিএনপি-জামাত বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাইরে থেকে এমন কাউকে দরকার যারা কয়েক খন্ড রেলের জমির জন্য হেফাজতে ইসলামের মতো এতো সহজে বিক্রি হবে না। একটা নতুন শক্তির উদ্ভব হওয়া বর্তমান সময়ের জন্য অনেক দরকার। ইউ গাইজ মে ব্রিং নুরুল হক নুরু হেয়ার, কিন্তু নুরুল হক নুরুর প্রতি আমার কোনো আশা ভরসা নেই। এক কাপ হিন্দু বিদ্বেষের মধ্যে এক ফোটা অসাম্প্রদায়িক চেতনা মিলালেই নুরুল হক নূর, এমন নেতা দিয়ে আমি আসলেই কোনো আশা ভরসা পাই না। এদিকে হেফাজতে ইসলাম আস্তে আস্তে দেশের মানুষদের কাছে আওয়ামীলীগের বিরোধী শক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা হলে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি আরো কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে লিখে রাখেন। কালকে যেই ৬ জন হেফাজতে ইসলামের কর্মী মারা গেছে, এই মৃত্যু হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কাছে ৬টা লাশ সংখ্যা ছাড়া কিছুই না। সরকারের সাথে এই ৬টা লাশের বিনিময়ে আরো কয়েকবছর এরা মসজিদ মাদ্রাসাগুলাতে ছাত্রদের ঠান্ডা মাথায় বলাতকার করে আসতে পারবে। হেফাজতের মতো সাম্প্রদায়িক একটা অপোনেন্ট পেলে আওয়ামীলীগের অনেক লাভ। যেহেতু দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, বিরোধী কেউ নেই। কাজেই এমন কেউ যদি বিরোধী হিসাবে থাকে যারা মাইনোরিটিরিদের বাড়িঘর ভাংচুর করে তাহলে আওয়ামীলীগ তাদের ফ্যাসিবাদের প্রতি ভ্যালিডিটিও আরো সহজে আদায় করে নিতে পারবে৷আজকে হেফাজতে ইসলাম যখন বঙ্গবন্ধুর ছবিতে আগুন ধরায়, তখন আওয়ামীলীগের চেতনা জাগ্রত হয়। অথচ এদেরকে দুধ কলা দিয়ে বড় করেছে কারা? যতোবেশি শেখ মুজিবের ছবি পুড়াবে ততোবেশি আওয়ামীলীগ চেতনা বিক্রি করে ফ্যাসিবাদের পাল্লা ভারী করতে পারবে৷যদি কখনো এমন হয় এরা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে তাহলে হেফাজতের বুকের মধ্যে গুলি চালাতে বিন্দুমাত্র ভয় কাজ করবেনা। যেমন কালকের ঘটনা এর উদাহরণ, কিছুক্ষণ আগে শুনলাম আজকেও ৫ জন মারা গেছে। তবে যতো মানুষ মারা যাক বাংলাদেশে কট্টর ইসলামপন্থী তৈরির পেছনে যারা দায়ী সেসব মৌলবাদী নেতা বা নেতৃস্থানীয়দের কারোর কোনো ক্ষতি হয় নায় এবং হবেও না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা আন্দোলন সবকিছুতে বলি হয় সাধারণ মানুষ। এই মানুষগুলো তারা হেফাজত করুক বা যেটাই করুক তারা আমাদের সহনাগরিক। আর এদেরকে অন্যায় ভাবে মারা হয়েছে। এই ওপ্রেশনকে আপনি কোনো ভাবেই জাস্টিফাই করতে পারেন না। কোনো রাখঢাক না রেখে জোর গলায় বলেন, এই নাগরিক হত্যা বন্ধ করুন। এদের রক্ত এই খুনীদের হাতে আজীবন লেগে থাকবে।
©somewhere in net ltd.