নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্ষণ শুধু পর্দাহীনতার কারণেই হয় না; ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলামের সামগ্রিক অনুশাসন মেনে চলাতেই মৌলিক সমাধান

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৫৮



ছবি: সূর্যাস্ত, অন্তর্জাল,

ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলাম
লজ্জাষ্কর এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে হবে এটা চিন্তা করিনি। ধর্ষণ! আহ! শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি নিষ্পাপ আত্মার আকুল রোদনচিত্র! প্রাণে বেঁচে থাকার করুন আকুতি! অসহায় নারী কিংবা শিশু কন্যার বুকফাটা আর্তনাদ! আহ, বিষাদে ছেয়ে যাওয়া একটি জীবন! ছিন্ন ভিন্ন বিপন্ন একটি পরিবার! ভেঙ্গে চূড়ে দুমরে মুচরে যাওয়া একটি পৃথিবী! যে পৃথিবীর আলো বাতাস বিষাক্ত! যে পৃথিবীর নদী নালা বিশুষ্ক! যে পৃথিবীতে কোনো মানুষ বসবাস করে না কেবল বিষযুক্ত নখরের হিংস্র দু'পায়ী পশু ছাড়া! বিষাক্ত সে পৃথিবী নামক নরকখন্ডের জলরাশিও! বিষে বিষে নীল হয়ে ওঠে হতভাগা, অসহায় আর দুর্বল ধর্ষিতার দু’চোখ! বিষে বিষে বিষাক্ত হয়ে ওঠে তার নির্মল ছোট্ট জীবনটাও! অতঃপর! শেষ পর্যন্ত! অবশেষে এই বিষেভরা জীবন থেকেই সে মুক্তি খোঁজে! মুক্তির সন্ধান পেতে সে খুঁজে নেয় আরও কয়েক ফোটা বিষ! আরেকটি বিষের কৌটা! কিংবা ওড়না গামছায় খুঁজে নেয় তার মুক্তির ভিন্ন পথ! সে হয়তো মুক্তি পায়! হয়তো পায় না! হয়তো জীবন যন্ত্রণার অবসান লাভ করে! কিন্তু বিপন্ন পৃথিবী দেখা পায় আরেকটি তাজা লাশের! মৃত মানবতার ঝুলন্ত তাজা লাশ! দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে এ লাশের মিছিল! এ মিছিল থামবে কবে?

পরিসংখ্যান বলছে, অভিশপ্ত এই লাশের তালিকার অগ্রভাগে রয়েছে আমেরিকা’র মতো উন্নত দেশগুলো! উন্নত রাষ্ট্র বলে কথা! যে রাষ্ট্রটিতে প্রতি দু’মিনিটে ধর্ষিত হতে হয় একজন নারীকে! আর ধর্ষনের বার্ষিক পরিসংখ্যান? তা শুনলে তো চক্ষু চড়ক গাছ! কম বেশি সেখানে বছরে ধর্ষিত হতে হয় ২০৭,৭৫৪ জন নারী শিশুকে! লজ্জা এবং পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, ধর্ষণজনিত এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রায় ৫৪% ঘটনার ক্ষেত্রেই পুলিশকে রিপোর্ট করা হয় না! এটা করা হয় না প্রচন্ড প্রতাপশালী ধর্ষকের ক্ষমতা, দর্প আর লোকলজ্জার ভয়েই! অন্যদিকে অদম্য সাহসী যেসব ধর্ষিতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন, তারাও তেমন কোনো সুরাহা পান বলে জানা যায় না! ফলাফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে! ধর্ষকেরা সাহসী হয়ে উঠছেন দিন দিন! তাদের হিংস্রতার পরিসংখ্যান বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্যামিতিক হারে! ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে ক্রমেই মানবতা!

অন্য দেশের কথা বলে আর লাভ কী? আমরাও কি কম এগিয়ে? আমরাও কি মোটেই পিছিয়ে ন্যাক্কারজনক এই অপকর্মে? আমাদের এই ছোট্ট দেশটাও যে জাহিলিয়াতের দিকে কতোটা ক্ষিপ্র গতিতে এগুচ্ছে তাও কি গা শিউরে ওঠার মত নয়? ‘আমার দেশ’ অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লিখা হয় ‘শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই আমাদের বাংলাদেশে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়’। এর মধ্যে ধর্ষণের পরে ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় ও ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। অথচ এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি।

হায় হায়! এতটা জঘন্য হওয়ার পরেও আমরা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করি! আমরা আজ কেতাদুরস্ত! সভ্যতার সাইনবোর্ড গলায় ঝুলিয়ে অসভ্যতার নরকে সাতার কাটি! গোটা পৃথিবীর দিকে তাকালে শিউরে উঠি! মুষরে পড়ি! লজ্জায় হতবাক হই! হায় হায়, সভ্যতারই যেন আজ মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠেছে! মাত্র ২ বছরের শিশুরও তো রেহাই মিলছে না আপাদমস্তক মানুষরূপী এসব নরপশুদের হাত থেকে! ৭০ বছরের বৃদ্ধাও তো মুক্তি পাচ্ছে না এদের বিষাক্ত ছোবল থেকে! আচ্ছা, ফুলের মত নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন পৈশাচিক নৃশংসতার চিন্তা আসে কীভাবে? এও কি কোনো সভ্যতা? এর নামও কি উন্নয়ন? একেও কি বলতে হবে অগ্রগতি? ধিক এমন উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সভ্যতায়! সভ্যতা নামের যে মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে মানবতা বিধ্বংসী এমন ভয়ঙ্কর হিংস্র দানবীয় আচরন, ধিক! সে সভ্যতায়! শত ধিক! হে অধূনা পৃথিবীর তথাকথিত লজ্জাহীন সভ্যতা! তোমার বিষাক্ত ছোবল থেকে মানুষ মুক্তি চায়! তুমি স্থির হও! তোমার প্রলম্বিত লিকলিকে কৃষ্ণ নখরযুক্ত রক্তখেকো বাহুকে সংযত কর! তোমার কারণে আজ মায়েদের চোখে নিদ্রা নেই! বাবাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাত! ফুল থেকে কলি হয়ে ফোটার আগেই দুধের শিশুদের ঝড়ে পড়ে যেতে হচ্ছে বৃন্তচ্যুত হয়ে! হে সভ্যতার মোড়কাবৃত ধর্ষণ নামীয় দূরন্ত দানব! আজ তোমার কারণে আমাদের মেয়েরা কোথাও নিরাপদ নয়! স্কুল-কলেজ-শিক্ষালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গনে নয়! পথে-গাড়িতে-ঘরে কোথাও নয়! শিক্ষার্থী-গৃহবধূ-গৃহিনী কেউ নয়! অবুঝ শিশুও নয়! সর্বত্র, সবখানে পাশবিক ধর্ষণের শিকার আজ মায়ের জাতি! কিন্তু কেন? কেন আজ এই চারিত্রিক অধ:পতন? মানবতার অপমৃত্যু? কেন আমাদের এই দুরবস্থা?

এই প্রশ্নের উত্তর কি? কঠিন এই প্রশ্নের উত্তর তো আমাদের কারোই অজানা নেই। কিন্তু মুখে কি এর উত্তর বলা যায়? সত্য কথা বলার, সত্য কথা শোনার অনুভূতিটুকুও কি অবশিষ্ট আছে আমাদের? সত্যোচ্চারন করলেই তো সেকেলে, মধ্যযুগীয়, কূপমন্ডুকতাসহ কত কথার তীর এসে বিদ্ধ করে আমাদের! যাক, সত্য তবু বলতেই হবে। বলেই যাবো ইনশাআল্লাহ! কেউ শুনুন অথবা না শুনুন!

আজকের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের এই চরম অবস্থার জন্য যে কারণগুলো দায়ী তার ভেতরে রয়েছে- তাকওয়াহীনতা, পরিবারের দ্বায়িত্বহীনতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ, ইন্টারনেটে অশ্লীলতার সহজলভ্যতা। এছাড়া টিভি সিরিয়াল ও ফিল্মে প্রচারিত ধর্ষণের নানাবিধ কৌশল এবং ক্রাইম অনুষ্ঠানসমূহের কমবেশি দায় থেকে যায়। এইসব অনুষ্ঠানে সচেতনতার নামে ধর্ষনকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, দেখলে মনে হতেই পারে, যেন ধর্ষককে হাতে কলমে ধর্ষণ শেখানো হচ্ছে! বলতে দ্বিধা নেই, এসব অনুষ্ঠান নারীদের যতটা না উপকার করছে, তার চেয়ে ক্ষতি করছে ঢের বেশি। কেননা, প্রায়শ দেখা যায়, এ সকল অনুষ্ঠানের সমাপ্তির প্রান্তে এসে দেখানো হয়, হয় নায়ক এসে ধর্ষকের হাত থেকে নায়িকাকে উদ্ধার করে, নতুবা পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করে। উঠতি বয়সের যুবকরা এসব ফিল্ম দেখে কৌশল রপ্ত করে যখন প্রাকটিসে অবতীর্ন হয়, তখন দেখা যায়, বাস্তবে এর কিছুই হয় না। না নায়ক টায়কের কেউ আসে, আর না পুলিশ এসে উদ্ধার কাজে লিপ্ত হয়। মাঝখান থেকে ধর্ষকরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে যায়! হাতে খড়ি হয়ে যায় তাদের ধর্ষনের মত জঘন্যতম অপরাধের!

তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছি। অনেকের নিকট শুনতে ভালো না লাগলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ইসলামের অনুশাসন না মানাই ধর্ষণ প্রবনতার অন্যতম কারণ। ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি শাশ্বত বিধান হলো পর্দা। যা নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই আবশ্যকীয়। কিন্তু তা আজ মানতে নারাজ এই সমাজেরই কিছু লোক। অনেকে আবার পর্দাপালনকে শুধু নারীর জন্যই নির্ধারিত মনে করে ভুল ধারনা নিয়ে বসে আছেন। তাই ঢালাওভাবে যথেচ্ছ উক্তি করে বেড়ান ‘ধর্ষণের জন্য বেপর্দা নারীরাই দায়ী’। এদের এসব দায়িত্বহীন কথার কারণে ইসলাম বিদ্বেষীগনও সুযোগ পান ইচ্ছেমত অপপ্রচারের।

মূলত: শুধুমাত্র পর্দা লঙ্ঘনের কারনেই যদি ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটে থাকতো, তাহলে দুই বছরের দুধের শিশুটিকে কেন ধর্ষিত হতে হচ্ছে? তাকে কেন ধর্ষন করে পাষন্ডরা বহুতল ভবন থেকে ফেলে দেয়? তাই সত্যটাকে উপলব্ধি করতে হবে। সঠিক কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। আসলে এখানে যেই বিষয়টির অভাব তা হচ্ছে ইসলামের অনুশাসনকে না মানা। ধর্মীয় অনুশাসনকে অবজ্ঞা করা। কারণ, প্রতিটি ধর্মেই ধর্ষনের মত জঘন্য বিষয়ে নিরুতসাহিত করেছে। আজকে আমাদের সমাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের এই অনুশাসন যেমন বেপর্দা নারীরা মানছে না, তেমনি মানছে না পুরুষেরাও। অথচ আল্লাহ তায়ালা পর্দার নির্দেশদানের ক্ষেত্রে প্রথমে উল্লেখ করেছেন পুরুষদের, এরপরে বলেছেন নারীদের কথা। তিনি ইরশাদ করেন-

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

‘হে রাসূল! আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জস্থানের হেফাজত করে; এটিই তাদের জন্য পবিত্রতর (ব্যবস্থা)। তারা যা করে আল্লাহ তায়ালা সে বিষয়ে ভালোভাবেই অবগত আছেন।’ (সূরা নূর : ৩০)

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

'ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' (সূরা নূর : ৩১)

রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (মুখ/জবান) ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান (যৌনাঙ্গ) হেফাজত করবে, আমি নিজে তার জান্নাতের জিম্মাদারি নেব।’ (বুখারী- মুসলিম)

এখানে কুরআন ও হাদিসে যা বলা হয়েছে তা কিন্তু নারী-পুরুষ উভয়কেই বলা হয়েছে। তাহলে বেপর্দার জন্য শুধুমাত্র নারীকেই কেন দোষারোপ করা হবে? কেন নারীকে একা পেলেই হামলে পরবে ধর্ষকের দল। ছিন্নভিন্ন করবে তার পবিত্র ভূষণ। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন

وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوَاْ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

'আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।' (সূরা বাকারা : ১৯৫)

ধর্ষণ প্রবনতার আরেকটি কারণ হলো ইসলামের নির্ধারিত শাস্তিকে বাস্তবায়ন না করা। ইসলামের দৃষ্টিতে ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। ইসলামে এই অপরাধ নিকৃষ্ট কাজ ও হারাম হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً

‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটি প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও অত্যন্ত মন্দ পথ’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৩২)।

ধর্ষণের মতো হীন কর্মকে ইসলাম শুধুমাত্র নিষেধ করেই চুপ থাকেনি, বরং ধর্ষকের জন্য ব্যবস্থা করেছে কঠিন শাস্তির।

হজরত আলকামা (রা) তাঁর পিতা ওয়াযেল (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে জনৈক মহিলা সালাত আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সাথে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সে মহিলা চিৎকার দিলে, তার পাশ দিয়ে গমনকালে জনৈক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চায়। তখন সে মহিলা বলে, ‘অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ অপকর্ম করেছে’। পরে তার পাশ দিয়ে মুহাজিরদের একটি দল গমনকালে সে মহিলা তাদেরকেও বলে, ‘অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ কাজ করেছে’। তারপর তারা গিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে আনেন, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, সে-ই এরূপ করেছে।

এরপর তারা সে ব্যক্তিকে উক্ত মহিলার কাছে উপস্থিত করলেন, সে মহিলা বলে, 'হ্যাঁ। এই ব্যক্তিই এ অপকর্ম করেছে।'

তখন তাঁরা সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যায়। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সে ব্যক্তির উপর ইসলামের বিধান জারি করার মনস্থ করলেন, তখন মহিলার সাথে অপকর্মকারী মূল ব্যক্তি এসে উপস্থিত হন এবং দাঁড়িয়ে বলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি নন, বরং অপরাধ আমি করেছি। আমি-ই এই অপকর্ম করেছি। আমাকে শাস্তি দিন।'

তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহিলাকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন’।

এরপর হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলভাবে ধরে আনা লোকটির সাথে উত্তম ব্যবহার করেন এবং ধর্ষক ব্যক্তিটিকে শাস্তিদানের জন্য পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। নবী পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘লোকটি এমন তাওবা করেছে যে, সমস্ত মদীনাবাসী এরূপ তাওবা করলে, তা কবূল হতো।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৩৮, ৪৩৬৬)

Narrated Wa'il ibn Hujr: When a woman went out in the time of the Prophet (peace_be_upon_him) for prayer, a man attacked her and overpowered (raped) her. She shouted and he went off, and when a man came by, she said: That (man) did such and such to me. And when a company of the Emigrants came by, she said: That man did such and such to me. They went and seized the man whom they thought had had intercourse with her and brought him to her. She said: Yes, this is he. Then they brought him to the Apostle of Allah (peace be upon him). When he (the Prophet) was about to pass sentence, the man who (actually) had assaulted her stood up and said: Apostle of Allah, I am the man who did it to her. He (the Prophet) said to her: Go away, for Allah has forgiven you. But he told the man some good words (AbuDawud said: meaning the man who was seized), and of the man who had had intercourse with her, he said: Stone him to death. He also said: He has repented to such an extent that if the people of Medina had repented similarly, it would have been accepted from them. Sunan Abu-Dawud#Book #38, Hadith #4366

প্রসঙ্গত: এখানে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার মনে করছি। অনেকেই বলে থাকেন যে, ইসলামে ধর্ষনের শাস্তির ব্যাপারে কোনো কথা বলা হয়নি। যা বলা হয়েছে তা কেবল ব্যভিচারের। হ্যাঁ, যদিওবা ইসলামে ধর্ষন শব্দটিকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেনি, কিন্তু ধর্ষকের শাস্তিটা যে ব্যভিচারের চেয়ে আলাদা তা এই হাদিসেই স্পষ্টত রয়েছে। কেননা ব্যভিচারের শাস্তি হয় উভয়ের। আর ধর্ষনের শাস্তি হয় শুধুই ধর্ষকের, ধর্ষিতার নয়। কিন্তু আমাদের সমাজ চলছে উল্টো নিয়মে। এখানে ধর্ষকের বদলে শাস্তি পেতে হয় ধর্ষিতাকে। এ অবস্থার আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।

আজকের সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখুন, কি লজ্জার কথা, লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায় সমাজের উল্টোসব কান্ড কারখানা দর্শনে! মাথা ন্যাড়া, একঘরে করে রাখা, চলতে ফিরতে টিটকারি করা, হেয় প্রতিপন্ন করা সব কিছুই অর্পিত হয় কেবল নির্যাতিতার ওপর। আর বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় ধর্ষকের দল। যদিও দু’চারজন ধর্ষকের বিচার হয়, কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। আর যা হয় তাও বলা চলে নামকাওয়াস্তে। ইসলাম যে শাস্তি নির্ধারণ করেছে তার ছিটেফোঁটাও থাকে না ওইসব বিচারের মজলিশে। ফলে এই লঘু শাস্তির কারণে সমাজে ধর্ষনের মতো এই অভিশাপের ছায়া গাঢ়ো থেকে আরো গাঢ়ো হচ্ছে। যদি ইসলাম নির্ধারিত শাস্তির বাস্তবায়ন হতো, অন্ততো দু’একটা ধর্ষককে প্রকাশ্য ময়দানে স্পষ্ট দিবালোকে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হতো তাহলে সমাজ থেকে এই অভিশাপ মুছে যেতো অনেক পূর্বেই। তাই ইসলাম বিদ্বেষ বাদ দিয়ে, তথাকথিত নারীবাদী না সেজে বরং আসুন! ইসলামকে নারীবিদ্ধেষী হিসেবে উপস্থাপন না করে, বরং নারীদের ইজ্জতের লড়াইয়ে ইসলামের বিধানকে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। তবেই সমাজদেহ থেকে বিদূরিত হবে ধর্ষনের কালো ছায়া। ধর্ষকের বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্তি পাবে আমাদের নারী শিশুগন।

আল-কোরআনের বিধান মতে ধর্ষণের মত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী অপরাধের শাস্তি-

ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে আল কুরআনের নির্দেশনা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। অক্ষমতা হেতু ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেলে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।

অনেকের কাছেই এ প্রশ্ন ক্লিয়ার নয় যে, আল কুরআনে ধর্ষকদের শাস্তি সম্পর্কে কোন নির্দেশনা আছে কি না। ধর্ষণসহ বিপর্যয়কর অবস্থা সৃষ্টিকারী এসব অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, আল কুরআনের বিধান অনুসারে তারা নিম্নোক্ত আয়াতের আলোকে শাস্তিযোগ্য-

إِنَّمَا جَزَاء الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُواْ أَوْ يُصَلَّبُواْ أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلافٍ أَوْ يُنفَوْاْ مِنَ الأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

'যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ভূপৃষ্ঠে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।' (সূরা মায়েদা- আয়াত, ৩৩)

উপরে উল্লেখিত হাদিছ থেকে এ সম্পর্কে আমরা আরও পরিষ্কার ধারনা পাই। আল কুরআনের ৫ নং সূরা মায়েদার- ৩৩ নং আয়াতে এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্য শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান দেয়া হয়েছে। উপরে বর্ণিত হাদিছটিতে সেই নির্দেশেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

প্রকৃত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। যদি কদাচিত ঘটেই যায়, তাহলে অবশ্যই ধর্ষককে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে হাদিছে বর্ণিত প্রেক্ষাপট অনুসারে ধর্ষক ও ধর্ষিতা সম্পর্কে সার্বিকভাবে যে ধরনের ইংগিত পাওয়া যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত। ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যদি মোটামুটি একই রকমের সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়, তাহলে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতেও আল কুরআনের নির্দেশ এবং রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত মেনে এই শাস্তি দিতে হবে।

আর এই শাস্তি হলো ‘রজম’ অর্থাৎ জনসম্মুখে বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে পাথর মেরেই ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে।

যেহেতু আল কুরআনের বিধানে এই ধরনের অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি অপশন (দেশ থেকে নির্বাসন, বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কর্তন ও হত্যা/শূলীতে চড়ানো) দেয়া হয়েছে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই শাস্তি নয়, বরং ক্ষেত্র ও পাত্র ভেদে শাস্তিরও তারতম্য হতে পারে। ধর্ষকের নিজস্ব স্বীকারোক্তি সাপেক্ষে তার শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড, তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে ক্ষেত্র বিশেষে ধর্ষিতার পূর্ব এবং বর্তমান স্বভাব চারিত্র খতিয়ে দেখার মাধ্যমে ধর্ষকের শাস্তির পরিমান নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করার অবকাশ রয়েছে। ধর্ষনের শাস্তি প্রমানের জন্য চারজন সাক্ষীর আবশ্যক নয়। এটি একটি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী নিষ্ঠুর প্রকৃতির অপরাধ। তাই ধর্ষন প্রমান ও এর শাস্তি প্রয়োগের স্বার্থে ধর্ষিতার অভিযোগ, তার শারীরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দেখতে হবে। শুধু তাই নয়, তদন্ত পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত সকল উন্নত ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির সাহায্য নিতে কোনই বাধা নেই। অবশ্যই অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এই শাস্তি প্রদানের এখতিয়ার কোন আনপড় অবিবেচক মোল্লা বা স্থানীয় কোন ধর্মগুরুর নেই। কেবল মাত্র ইসলামি আদালতের বিজ্ঞ বিচারকই এই শাস্তির রায় দেবার অধিকার রাখে।

ইসলামে সর্ব প্রথমে মহান স্রষ্টা আল্লাহতায়ালার উপর ইমান আনার সাথে সাথে সকল প্রকার অসৎ, অশ্লীল ও মন্দ কর্ম পরিহার ও সৎ পথে চলার শিক্ষা ও দীক্ষা দেয়া হয়। তাই ইসলামী সমাজের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি যদি এরপরও এ ধরনের পাশবিক কর্মে জড়িয়ে পরে, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া ছাড়া অন্য কোন অপশন নেই।

আল্লাহ পাক গোটা মানবজাতিকে হেফাজত করুন। তাদের ভেতরে নৈতিকতার সঠিক উপলব্ধি জাগিয়ে দিন। অন্যায় অপরাধ থেকে মুক্ত থেকে সচ্চরিত্রবান হওয়ার তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য ৪৮ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৪৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: ইসলামের মোতাবেক চললে সমস্ত দুনিয়ায় কোনো ঝামেলাই হবে না।
ইসলামের আদেশ নিষেধ না মানার কারনেই আজ সমস্ত দুনিয়ার এই অবস্থা।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:০৯

নতুন নকিব বলেছেন:



দারুন সত্যটাই আপনার কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে। সুন্দর বলেছেন। ধন্যবাদ।

অনেক অনেক ভালো থাকবেন।

২| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৩

ম্যানচিনেইল বলেছেন: ইসলাম হলো পৃথিবীর সর্বোত্তম জীবন বিধান ও সমাজ ব্যবস্থা। ইসলামের অনুশাসনে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে নিশ্চয় রাষ্ট্রের সর্বত্র সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করবে।
কিন্তু খুবই হতাশাজনকভাবে আধুনিক যুগের কিছু অপসংস্কৃতির প্রভাবে মুসলিমদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
সর্বদা এই দোয়াই করি, আল্লাহ যেন সবার মধ্যে বুঝ দিয়ে দেন সঠিক পথের।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:১৮

নতুন নকিব বলেছেন:



অনেক সুন্দর এবং গোছানো মন্তব্যে অভিনন্দন। প্রার্থনা করি আল্লাহ পাক আপনার দুআ কবুল করে নিন।

অনেক ভালো থাকুন।

৩| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: ১। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষিতা কিভাবে বিচার পাবেন ?
২। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষককে কিভাবে প্রমাণ করবেন তিনি ধর্ষণ করেছেন ?


ছোট প্রশ্ন উত্তরও ছোট আশা করছি ।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:২৫

নতুন নকিব বলেছেন:



ভাই, আন্তরিকভাবে দু:খিত! আপনার প্রশ্ন ছোট হলেও উত্তর এক কথায় দেয়ার মত বিষয় এটা নয়। প্রথম প্রশ্নে আপনি কিভাবে শব্দটি উল্লেখ করে ধর্ষিতার বিচারপ্রাপ্তির পুরো প্রক্রিয়াটির ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বেশ ভালো। কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তরও একইরকম ব্যাখ্যাসাপেক্ষ হওয়া সত্বেও আপনি মন্তব্যের শেষের দিকে ছোট উত্তর আশা করেছেন বলে জানিয়েছেন।

মূলত: এটা আমার কাছে কঠিন। আপনি সম্মত হলে উত্তর দেয়ার চেষ্টা থাকবে।

ভালো থাকুন।

৪| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:২৫

শৈবাল আহম্মেদ বলেছেন: ধন্যবাদ,এরকম নির্মম কর্মকান্ড আজো আমরা ঘটিয়ে চলেছি যেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কি পারেনা মানুষের এ বিষয়ে জ্ঞান দিতে।
সৃষ্টিকর্তার ইসারায় তো সবকিছু যখন তখন হয়ে যেতে পারে-সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত। আবার তিনি যাকিছু করেন আমাদের মঙ্গলের জন্যই করেন। তাছাড়া তার বিনা হুকুমে গাছের পাতাও নড়েনা। তবে কি উনি যেটা করছেন ঠিকই করছেন। তার উপর মাতবারি করাটা আমাদের অপরাধ হতে পারে না কি? নাকি উনি আমাদের এই দুরাবস্তা দেখে তৃপ্তি পান না তার কোন উপকারে আসে-আমাদরে এহেন ও যাবতিয় অপরাধে।

এসব মাথামুন্ডুর যেমন কোন বাস্তবতা আজো মেলেনি বা তিনি মানুষের কথা শুনতে ও বুঝতে পারছেনা। এমনকি যোগাযোগের জন্য কোন ইনবক্স ও আউটবক্স নেই। আদী থেকে আজোব্দি দুর্নিতি ও মসজিদ মন্দির ভাঙ্গার কর্ম সাধন হচ্ছে। ধর্মে ধর্মে যুদ্ধ ও ধংশ হচ্ছে। রহিঙ্গা অত্যাচারে মনুষ ভেবে কুল পাচ্ছেনা। এরকম যাবতিয় সুখ,দুঃখ,ঘটনা ও গোলযোগের কোন সামাধান আজো সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা। মানুষেরা পৃথিবীতে উলট পালট করে,ভূগর্ভস্ত ও বিভিন্ন পদার্থের যে বিবর্তন ঘটিয়ে-বড় ধরনের যেসকল ধংশ করে চলেছে-তবুও তার কাছ থেকে কোন আদেশ নিষেধ অনুরোধ কথোপকথোন কোনটাই মানুষের সাথে ঘটছেনা। যেগুলোর স্বপ্নে দেখা গল্পে বিশ্বাস ছাড়া কোন রকম বাস্তবতা ও যু্ক্তি নেই!!!

অতএব অদৃশ্য কারোর উপর ভরসা না করে অামাদেরই বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে,আইন অত্যন্ত কঠোর করতে হবে। এবং কঠোর আইনের যথেষ্ট বাস্তবায়নের মধ্যেই পৃথিবীর যাবতিয় অপরাধ নির্মুল হওয়া সম্ভব।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

নতুন নকিব বলেছেন:



মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

৫| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:৩৭

শৈবাল আহম্মেদ বলেছেন: বলাবাহুল্য,পৃথিবীর সকল নিশিদ্ধ বিষয়ের প্রতি মানুষের চিরকালই আগ্রহ থাকে। ফলে আমি মনে করি যেসমাজে যৌনতা যতটা আটকে রাখা সেখানে সে পরিমান ধর্ষন হতে বাধ্য।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০২

নতুন নকিব বলেছেন:



তাহলে কি আপনি সব কিছু ওপেন করে দেয়ার কথা ভাবছেন?

৬| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:০৬

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ইসলামিক আইনে ধর্ষনের কোন সংঙ্গা নেই শাস্তিও নেই।
আছে জেনা, মানে ভ্যাবিচারের শাস্তি। এই শাস্তি উভয় পক্ষ পায়।
তাই ইসলামি দেশে ধর্ষনের শাস্তি জেনার শাস্তি হিসেবে ধর্ষিতাকেও চাবুক পেটার মত কঠিন দৈহিক শাস্তি পেতে হয়।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৩৩

নতুন নকিব বলেছেন:



হাসান কালবৈশাখী ভাই,
দু:খিত! ধর্ষনের শা্স্তির বিষয়ে আপনার বক্তব্য সঠিক নয়। আপনি ইসলাম ধর্মানুযায়ী ধর্ষনের মত জঘন্য অপরাধের শাস্তির কথা যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, এটা হয়তো না জানা থাকার কারনে হয়ে থাকতে পারে।

ভালো থাকুন।

৭| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




১। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষিতা কিভাবে বিচার পাবেন ?
২। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষককে কিভাবে প্রমাণ করবেন তিনি ধর্ষণ করেছেন ?


বড় করেই উত্তর দিন, তারপর বিতর্কে যাই । ব্লগে বিতর্ক নাই - ব্লগে ঠাডা পড়ে গেছে শুধু “হায় আফসোস, সাবাস, ধন্যবাদ, চমৎকার, সুন্দর, ভালো হয়েছে” ছাড়া কোনো মন্তব্য নেই ।


০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:০২

নতুন নকিব বলেছেন:



লড়াই কার সাথে করবেন? আমি দুর্বল। নানান ব্যস্ততায়। আগে আপনার মত দক্ষ প্রতিদ্বন্ধী যোগার করুন।

৮| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:২৬

মোগল সম্রাট বলেছেন: শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, প্রত্যেকটা ধর্মের অনুসারীগন যদি যার যার ধর্মিয় অনুশাসন মেনে চলে তাহলে ধর্ষন কমে যেতে। দুঃখের বিষয় হলো অধিকাংশ লোকই নামকা ওয়াস্তে ধর্ম পালন করছে।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০৩

নতুন নকিব বলেছেন:



মন্তব্য ভালো লাগলো।

কৃতজ্ঞতাসহ।

৯| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৪

গড়ল বলেছেন: সৌদিতে ১০০ ভাগ গৃহপরিচারিকা ধর্ষণের স্বিকার হয়, ইসলামি অণুশাসন কি তাদের এই কুকর্ম থেকে বিরত রাখতে পেরেছে? একমাত্র সৌদিতেই ১০০ ভাগ ইসলামি আইন বলবৎ আছে নারী নির্যাতনের দিক দিয়ে তারাই পৃথিবীর সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০৬

নতুন নকিব বলেছেন:



নারী নির্যাতনে সৌদি আরব এক নম্বর নয়। সেখানে ১০০% ইসলামি আইনের প্রয়োগও নেই।যা আছে তা খুবই সামান্য।

তাদের অপকর্মে ঘৃণা জানাই।

১০| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:১৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: নতুন নকিব ভাই, আমি প্রশ্নে যেতাম তার আগে ব্লগার গড়ল আপনাকে মধ্যপ্রচ্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, আপনি ইসলামিক বিশেষজ্ঞ, ইসলামিক পোষ্টে আপনার জুড়ি নেই, আপনি ইসলামিক আইন বাংলাদেশে চাচ্ছেন - মনে হতে পারে বাংলোদেশে আইন নেই, সে যাইহোক আপনার কাছে প্রশ্ন করার আগে বলছেন কার সাথে লড়বো - ভাই আপনার সাথে লড়ার চিন্তা কল্পনা কখনো করি না, বলেছি বিতর্কে যাবো। আপনি দুর্বল আপনি ব্যাস্ত। আমি মহাব্যাস্ত - আপনার কল্পনার অতীত। আপনি দুর্বল তাহলে নারীদের প্রতি এই ধরনের অবিচারের কথা কিভাবে ভাবছেন ? আপনি মোটেও দুর্বল নন, মধ্যপ্রাচ্য সাম্রাজ্য ইসলামিক আইনের দেশ তাহলে সেখানে নারী গৃহকর্মী ধর্ষণ হচ্ছে কেনো ???

***ইসলামিক আইনের দেশগুলোতে কি তাহলে ইসলামিক আইন বলবৎ না, তাহলে কোনটি ইসলামিক আইন আর কোনটি ইসলাম ???



০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:২৪

নতুন নকিব বলেছেন:



সুন্দর বলেছেন আপনি।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে, ইসলামী আইন ও নীতিমালা প্রয়োগ করে ধর্ষকের শাস্তি কার্যকর করার দু'একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে বাদ বাকি ধর্ষকগনকে এমনিতেই টর্চ লাইট দিয়ে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেত।

ধন্যবাদ আপনাকে।

১১| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



সেই জন্য জানতে চাচ্ছিলাম কিভাবে বিচারিক আদালত হবে এবং সাজা হবে ? আর তার প্রেক্ষিতে দুইটি মাত্র প্রশ্ন: -

১। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষিতা কিভাবে বিচার পাবেন ?
২। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষককে কিভাবে প্রমাণ করবেন তিনি ধর্ষণ করেছেন ?

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৩৯

নতুন নকিব বলেছেন:



ঠাকুর মাহমুদ ভাই,

আপনি নিচের এই নিবন্ধটি পড়লে আপনার প্রশ্নের উত্তর আশা করি পেয়ে যাবেন। এরকম একটি পোস্টে আপনার এই প্রশ্নের পেছনে ছোটার অর্থ যদিও পুরোপুরি বোধগম্য নয়; তবু কিছুটা অনুধাবন করতে পারি। ঐযে আমি পোস্টে ইসলামী অনুশাসন এবং ইসলামী আইনের প্রয়োগের কথা বলেছি। দ্যাট ওয়াজ ইউর পয়েন্ট অব ভিউ। ভাই, আসলে এটা সত্য, ইসলামী আইন প্রয়োগ করা হলে ধর্ষন অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনাই শুন্যের কোঠায় চলে আসবে। দু'একটি লম্পটকে ধরে সরকারী লোকজন যদি প্রকাশ্য মাঠে দিবালোকে রজম করে, আমি বিশ্বাস করি, বাকি ধর্ষক মহোদয়গন তওবা ইস্তেগফার করে অটোমেটিক দরবেশী জীবন বেছে নিবেন। জানের মায়া বলে কথা! বোঝেনই তো! শয়তানি বদমাশি করে কে মরতে যাবে বেহুদা! চিন্তাটাই পাল্টে যাবে তখন!

যাক, আপনার উদ্দেশ্য যা-ই থাকুক না কেন, আমাদের এই পোস্ট দেয়ার পেছনে উদ্দেশ্য একটাই- ধর্ষনকে আমরা ঘৃনা করি। ধর্ষকের কঠোর শাস্তি কামনা করি। ধর্ষন আর ধর্ষকমুক্ত বাংলাদেশ চাই। ধর্ষনমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দেখি। তা অলিক হলেও।

আসুন, একটু চোখ বুলিয়ে নিই নিবন্ধটিতে-

ধর্ষণ – ইসলাম কি বলে?

অনেকের ধারণা এটাই- ধর্ষণের জন্য দায়ী কেবল পোশাক। নারীর পর্দাহীন চলাফেরা, সাজগোজ এসবই মূলত: একজন পুরুষকে নারীর প্রতি আকৃষ্ট করে বলে তারা মনে করেন। এই চিন্তাটা সত্য কিন্তু একপাক্ষিক এবং কিছুটা অসম্পূর্ন। নারীদের উপর বলপ্রয়োগ করে তাদের ধর্ষনের পেছনে এই একটিমাত্র বিষয়কেই দায়ী করার ফলে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এতে করে ইসলাম বিদ্বেষীগনের কথা বলার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়। আরেকটি বিপদ হচ্ছে এই অসম্পূর্ন চিন্তা ভাবনা লালনের ফলে, ধর্ষণের পর সমস্ত দোষ গিয়ে পড়ে ধর্ষিতার উপর। সমালোচনা হয় তার পোশাক নিয়ে। তাদের ভাষ্যমতে, এমন একটা ফালতু যুক্তি দাঁড়ায় যে, ইসলামে মেয়েদের পর্দা করতে বলেছে কিন্তু তারা যখন পর্দা করেনি তখন তাদের ধর্ষণের শিকার হতেই হবে। ছি: কতটা ন্যাক্কারজনক চিন্তা চেতনা!

ইদানিংকালে ব্লগে এবং সংবাদপত্রে ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের লেখালিখিও চোখে পড়ছে। এসব আলোচনা দেখে এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা জরুরি মনে হচ্ছে।

উইকিপিডিয়া মতে ধর্ষণ হলো-

Rape is a type of sexual assault usually involving sexual intercourse, which is initiated by one or more persons against another person without that person’s consent.

ইসলাম ধর্মমতে- ধর্ষণ বা যিনা-আল জিবর হলো জোরপূর্বক বিবাহ বহির্ভূত যৌন সঙ্গম যা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। ইসলামী আইনের দৃষ্টিতে এটি হিরাবাহ শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত একটি অপরাধ।

তিরমিজী এবং আবু দাউদে বর্ণিত একটি অভিন্ন হাদিসে নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কোন এক ধর্ষককে শাস্তি স্বরুপ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড প্রদান করার কথা উল্লেখিত আছে। হাদিসটি নিম্নরূপ-

আলকামা তার পিতা ওয়ায়েল থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে জনৈক মহিলা সালাত আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সাথে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষন করে। সে মহিলা চিৎকার করলে সে পথে যাওয়া জনৈক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চায়। তখন সে মহিলা বলে; অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরুপ অপকর্ম করেছে। পরে তার পাশ দিয়ে মুজাহিরদের একটি দল গমণকালে সে মহিলা তাদের বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ কাজ করেছে। তারপর তারা এক ব্যক্তিকে ধরে আনে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, এই ব্যক্তিই এরূপ কাজ করেছে। এরপর তারা সেই ব্যক্তিকে ওই মহিলার কাছে আনলে মহিলাও বলে যে, হ্যাঁ এই ব্যক্তিই অপকর্মটি করেছে। তখন তারা এই লোকের বিচারের জন্য লোকটিকে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে যান। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সে ব্যক্তির উপর শরীয়াতের নির্দেশ জারী করার মনস্থ করেন, তখন মহিলার সাথে অপকর্মকারী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় এবং বলে- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি-ই এই অপকর্ম করেছি। তখন আমাদের প্রিয় নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই মহিলাকে বলেন, তুমি চলে যাও, এখানে তোমার অপরাধ নেই, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন। এরপর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন – লোকটিকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করো। জামি আত-তি্রমিযি, আবু দাউদ।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে এক পাক্ষিক যিনা বা ব্যভিচার হয়, অন্য পক্ষ হয় মজলুম বা নির্যাতিত। তাই মজলুমদের কোন শাস্তি হয় না। কেবল জালিম বা ধর্ষকেরই শাস্তি হবে।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে দুটি অপরাধ সংঘটিত হয়-

১। যিনা বা ব্যভিচার।
২। বলপ্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন বা মুহারাবাহ।

তাই একজন ধর্ষক এই দুই ধরণের শাস্তি পাবে। যিনা এবং বলপ্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন বা মুহারাবাহর শাস্তি।

মুহারাবাহ হচ্ছে, পথে কিংবা অন্যত্র অস্ত্র দেখিয়ে বা ভীতি প্রদর্শন করে ডাকাতি করা। মজলূম ব্যক্তিকে ভয় ভীতিপ্রদর্শন করে তার সম্পদ এবং সম্ভ্রম ছিনিয়ে নেয়া, তাকে হত্যা করা অথবা এই উভয় কর্মই সম্পাদন করা হলে তা মুহারাবাহ হিসেবে গন্য হতে পারে।

আল কুরআনে মুহারাবার শাস্তি-

'যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে শূলীতে চড়ানো হবে অথবা হত্যা করা হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে। অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হচ্ছে তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।' (সূরাহ আল মায়িদাঃ আয়াত-৩৩)

এ আয়াত থেকে বিখ্যাত মালেকী ফকীহ ইবনুল আরাবী ধর্ষণের শাস্তিতে মুহারাবার শাস্তি প্রয়োগের অভিমত প্রদান করেছেন।

উল্লেখ্য, ধর্ষক যদি বিবাহিত হয়, তাহলে এমনিতেই তাকে পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। কিন্তু সে যদি বিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে তাকে বেত্রাঘাতের পাশাপাশি বিচারক চাইলে দেশান্তর করতে পারেন। কিংবা অপরাধ গুরুতর হলে অথবা পুনরায় হলে বিচারক মুহারাবার শাস্তিও দিতে পারেন।

ইসলামী বিধানের আলোকে বাংলাদেশের ধর্ষণ আইনের পর্যালোচনাঃ-

১) বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,

'যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতিত ষোল বৎসরের অধিক কোন নারীর সাথে তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন করিয়ে বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।'

ইসলাম ধর্মের এই সংক্রান্ত আইনের সাথে বাংলাদেশের ধর্ষন আইনের ক্ষেত্রে বর্নিত এই সংজ্ঞার মূলত: তেমন কোন বিরোধ নেই। তবে এতে কিছু অসামঞ্জস্যতা আছে।

ইসলাম সম্মতি অসম্মতি উভয় ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত দৈহিক মিলনকে দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এই আইনে কেবল অসম্মতির ক্ষেত্রটিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে।

সম্মতি ছাড়া বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইসলাম ও দেশীয় আইন উভয়ের চোখে অপরাধ। আর সম্মতিসহ সম্পর্ক ইসলাম ধর্মে অপরাধ, দেশীয় প্রচলিত আইনে নয়।

আসলে এ কথা মাথায় রাখতে হবে যে, সম্মতি আর অসম্মতির বিভাজনরেখা খুব ঠুনকো। এর দ্বারা ধর্ষণ কখনোই রোধ করা সম্ভব নয়। একই ব্যক্তি তার স্ত্রী ব্যতিত অন্য নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে সম্মতির নামে পার পেয়ে যাবে, তখন সে এক পর্যায়ে জোর পূর্বকও তা করবে।

মূলত: ইসলাম মানুষের চাহিদাকে সুষম এবং সীমিত করে দেয়। নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতরে এনে দেয়। বিবাহ ছাড়া কোন নারী পুরুষ দৈহিক সম্পর্কে জড়ালে তাকে অপরাধ বলে গণ্য করে। কাজেই জোরপূর্বক ধর্ষন করাকে অনুমোদন দেয়ার প্রশ্নই আসেনা।

২) প্রচলিত আইনে ষোল বছরের কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু ইসলাম ধর্মের বিধানে কোন বয়সের উল্লেখ নেই:

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ষোল বছরের কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু ইসলাম ধর্মের বিধানে ধর্ষিতার কোন বয়স উল্লেখ করা হয়নি। অপরাধী ব্যক্তি কখনো বয়স বিচার করে অপরাধ সংঘটন করার চিন্তা করে না। ধর্ষকের নিকট ৭০ বছরের বৃদ্ধা কিংবা দুই চার বছরের শিশু কেউই নিরাপদ নন।

৩) উভয় আইনে শাস্তির তারতম্য

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষণের কারণে ধর্ষিতার মৃত্যু না হলে ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড হবে না। কেবল যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড তার প্রাপ্য। পক্ষান্তরে ইসলাম ধর্মের বিধানে বলা হয়েছে, কেউ ধর্ষণের মত অপকর্ম করলে কোন ভাবান্তর ছাড়াই তার শাস্তি রজম বা পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড।

ইসলামী বিধানমতে ধর্ষণ প্রমাণ করাঃ-

ইসলাম ধর্মের বিধানমতে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য এই দু'টোর যেকোন একটি জরুরী- ১) সাক্ষ্য, ২) ধর্ষকের স্বীকারোক্তি।

তবে সাক্ষ্য না পাওয়া গেলে আধুনিক ডিএনএ টেস্ট, সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত রেকর্ড, মোবাইলে ধারন করা ভিডিও, ধর্ষিতার বক্তব্য ইত্যাদি অনুযায়ী ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে স্বীকার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি পেলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করা হবে।

অতএব বুঝাই যাচ্ছে, এক্ষেত্রে ধর্ষিতার কোন শাস্তি নেই। কিন্তু অনেকেই যে ধর্ষনের জন্য কেবলমাত্র নারীর পোশাককে দায়ী করেন তাদের জন্যও এটা সত্য যে মহিলা যে পোশাক পড়েই থাকেন না কেন সব পরিস্থিতিতেই ধর্ষককে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ধর্ষণ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ তাই তো পিশাচরুপী ধর্ষকদের জন্য পার্থিব শাস্তি সব নয়। পরকালেও তাদের জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।

ইসলাম ধর্মমতে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তায়ালার উপর ইমান আনার সাথে সাথে সকল প্রকার অসৎ, অশ্লীল ও মন্দকর্ম পরিহার এবং সৎপথে চলার শিক্ষা দেয়া হয়। ইসলাম মানবিকতা শেখায়। ভালোবাসা, প্রেম ও মমতা ইসলামের সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। তাই ইসলামী সমাজের সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্যক্তি যদি এরপরেও এ ধরণের পাশবিক কর্মে জড়িয়ে পরে, তাহলে তাকে শাস্তি দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। সূত্র: নিবন্ধটি পূর্বদেশ.কম থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

এ বিষয়ে আরও ভালো তথ্যপূর্ন বিশ্লেষনমূলক আলোচনা উপস্থাপনের চেষ্টা থাকবে।

অনেক অনেক ভালো থাকবেন।

১২| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯

বাংলার মেলা বলেছেন: ১। ইসলামী আইনে ধর্ষককে পাথর মেরে হত্যা করা (রজম) এর মাধ্যমে ধর্ষকের শাস্তি কার্যকর করার বিধান আছে। ধর্ষিতা যেহেতু কোন অপরাধ করেনি, তাই তার বিচারের বিধান ইসলামে নেই। তবে অপরাধীর শাস্তি সঠিকভাবে দেবার মাধ্যমে ধর্ষণের বিচার নিশ্চিতের বিধান আছে। তবে উল্লেখ্য, ইসলামে ধর্ষিতার ক্ষতিপূরণের কোন বিধান নেই।

২। তখনকার যুগে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া বিচারের উপায় ছিলনা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী অপরাধের প্রমাণই আসল - কেউ যদি নাও দেখে বা শুনে থাকে, তবে মেডিক্যাল এভিডেন্সের মাধ্যমেও ধর্ষণের অপরাধের প্রমাণ ইসলামে গ্রহণযোগ্য। তবে এটা ঠিক যে কেবল ধর্ষিতার সাক্ষ্য ধর্ষক নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। আরও দু'একজনের সাক্ষ্য এক্ষেত্রে দরকার হবে।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪১

নতুন নকিব বলেছেন:



সুন্দর বলেছেন। কৃতজ্ঞতা।

ভালো থাকুন সবসময়।

১৩| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

আরোগ্য বলেছেন: বাংলার মেলাকে অনেক ধন্যবাদ ঠাকুর মাহমুদের উত্তরগুলো দিয়ে দেয়ার জন্য।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪২

নতুন নকিব বলেছেন:



মন্তব্যে আসায় আপনাকে অভিনন্দন।

কৃতজ্ঞতাসহ শুভকামনা।

১৪| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: বাংলার মেলা, আরোগ্য ,
উত্তরগুলো কি ইসলামিক আইনের ? ইসলামিক আইনে তখনকার এখনকার নাই। ইসলাম সবচেয়ে আধুনিক । এবং ইসলাম পূর্বে যা ছিলো বর্তমানে তাই আছে, এই কথা বলবেন না ইসলাম বর্তমানে পরিবর্তন হয়েছে !!! ???

ইসলামিক আইনে ধর্ষক কিভাবে প্রমাণ হবে, দোষী ব্যাক্তি বা নির্দেোষ ব্যাক্তি চিহ্নিত করবেন কিভাবে? তাহলে কি ধরে নেবো বাংলার মেলা ও সমর্থনকারী আরোগ্য - ইসলামিক আইন প্রণেতা !!! আপনারা যা বলবেন তা ইসলামিক আইন !!! ???

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার যুক্তিনির্ভর আলোচনা সুস্থ সুন্দর বিতর্কের দরজা খুলে দেয়। এটা ভালো দিক। এজন্য অভিনন্দন আপনাকে।

১৫| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৭

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "গড়ল বলেছেন: সৌদিতে ১০০ ভাগ গৃহপরিচারিকা ধর্ষণের স্বিকার হয়, ইসলামি অণুশাসন কি তাদের এই কুকর্ম থেকে বিরত রাখতে পেরেছে?"

@গড়ল, আপনার কথা অসম্পূর্ন বিধায় আমি কিছু যোগ করছি। সৌদি আরবে ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যদন্ড এবং সেই শাস্তি ভালভাবে প্রয়োগ করা হয় যদি ভিকটিম হয় সৌদি নারী। কিন্তু সৌদি আরবে যা নেই তা হল ইমিগ্রান্টসদের অধিকার। সব ইমিগ্রান্টস নয়, বরং আমাদের দেশের মত দেশগুলোর ইমিগ্রান্টস। গৃহপরিচালিকারাও প্রায় সবাই সেসব দেশ থেকে আসা। যার ফলে তাদের উপরে যৌন নির্যাতন করা সহজ। একটি ঘটনা শুনেছিলাম ট্যাক্সি ড্রাইভার যখন টের পেয়েছে তার গাড়ীতে উঠেছে এক ইমিগ্রান্ট নারী, অমনি তাকে ধর্ষন করে। সৌদি আরব অন্তত পক্ষে এক্ষেত্রে ইসলামী অনুশাসন প্রয়োগ করছে না।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



অসম্ভব সুন্দর মন্তব্য রেখে গেছেন। ধন্যবাদ।

কৃতজ্ঞতাসহ শুভকামনা।

১৬| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৩৫

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



সেই জন্য জানতে চাচ্ছিলাম কিভাবে বিচারিক আদালত হবে এবং সাজা হবে ? আর তার প্রেক্ষিতে দুইটি মাত্র প্রশ্ন: -

১। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষিতা কিভাবে বিচার পাবেন ?
২। ইসলামিক আইনে একজন ধর্ষককে কিভাবে প্রমাণ করবেন তিনি ধর্ষণ করেছেন ?"

আপনার কথা উত্তর বিস্তারিতভাবে দেয়া যায়। কিন্তু আমি সংক্ষেপে দেব এবং তা হবে সম্পূর্ন আমার নিজস্ব মত। ইসলামী আইনে অপরাধের প্রমান পদ্ধতি নিয়ে আমাদের সম্মানিত ফকীহগনের অনেক মতামত রয়েছে। আমি তা সম্মান জানাই। কিন্তু সেই সাথে সাথে আমি এটাও মনে করি যে ঐসব প্রমান পদ্ধতি ইসলামের কোন অবিচ্ছেদ্য বিষয় নয়। যা ইসলাম আদেশ দেয় তা হল দোষী ব্যক্তির দোষ সম্পূর্ন প্রমান করতে হবে। বিশেষত তা যদি মৃত্যুদন্ডের মত চরম শাস্তি হয়ে থাকে। মনে রাখা দরকার ইনসাফ ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা গিয়েছিল বলেই "কাজীর বিচার" নামক বাগধারটি বাংলা সাহিত্যে এসেছিল। একদিকে দুষ্টের দমন অন্যদিকে শিষ্টের লালন - এই হল ইসলামী আইনের মূল বৈশিষ্ট্য। কোন দেশের ইসলামী আইনী ব্যবস্থায় যদি তার প্রতিফলন না থাকে, তবে তা কি করে ইসলাম সমর্থিত হবে?

সাধারন ভাবে যেভাবে ধর্ষন প্রমান হয়, সেভাবে ইসলামী আইনেও ধর্ষন প্রমানিত হতে পারে যদি না এটা প্রতীয়মান হয় যে সাধারন ভাবে ধর্ষন প্রমানে বড় কোন গলদ রয়েছে যার ফলে নির্দোষ ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে পারে। ধর্ষিতার পক্ষে এতটুকু প্রমানই যথেষ্ঠ যে তিনি এই অনৈতিক সম্পর্কে স্বেচ্ছায় সায় দেন নি। কোন ভয় ভীতির মুখোমুখি হয়ে সায় দিয়েছেন অথবা শক্তির কাছে পরাভূত হয়েছেন। কিন্তু "প্রলোভন" কোন অজুহাত নয়। কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো আর যাই হোক ধর্ষন হতে পারে না। এর বাইরে থাকল দারিদ্রতা। দারিদ্রতার কারনে কেউ অপরাধে বাধ্য হলে সেটাও ইসলামী আইনে নমনীয় দৃষ্টিতে দেখা হয়। এছাড়াও রয়েছে মানসিক রোগী। মানসিক রোগ যদি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে ভাল মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা লোপ পায়, তবে সেটিও ইসলামী আইনে গৃহীত হয়ে থাকে। কিন্তু মাতলামি বা ঐ জাতীয় কৃত্রিম উপায় এই সুবিধা পায় না।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪৬

নতুন নকিব বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা আবারও বিষয়টিতে বিশ্লেষনমূলক আলোচনা উপস্থাপন করায়।

সশ্রদ্ধ অভিবাদন। শুভকামনা।

১৭| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:০৭

বলেছেন:
আজকে একটা রিপোর্ট দেখলাম নিজের মেয়েকে বাংলাদেশ এক রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার আকাম করছে ইসলামূ আইনে মা বাবা ও মেয়ের অবস্থাান ও শাস্তি কি হওয়া উচিত ও কেন?

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৫০

নতুন নকিব বলেছেন:



নিজের মেয়ের সাথে যারা এমন অপকর্ম করতে পারে, এগুলোকে মানুষ হিসেবে গন্য করতে কষ্ট হয়। এদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি হওয়া উচিত।

কমেন্টে আপনাকে পেয়ে আনন্দিত। ১১ নং কমেন্টের প্রত্যুত্তরটি আপনাকে দেখার অনুরোধ রাখছি।

কৃতজ্ঞতাসহ।

১৮| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৯

বাংলার মেলা বলেছেন: ১১ নম্বরে খুব চমৎকার ভাবে প্রতিউত্তর দেবার জন্য আপনাকে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সাথে ১৪ নং মন্তব্যের উত্তরে বলতে চাই, ইসলামী আইনকে কেউ নিজের মত ব্যাখ্যা করলেই সে আইন প্রণেতা হয়ে যায়না। আইন প্রণেতা একমাত্র আল্লাহ। ফকীহ ও মুজতাহিদগণ তাদের গবেষণার মাধ্যমে সেই আইন মানুষের পালনের জন্য সহজ করে দেন। আমাদের মতামত তাদের সেসব গবেষণারই ফসল। বুঝতেই পারছেন এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। আমার উত্তর আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য/বোধগম্য না হলে আপনি আপনার মতামত প্রকাশ করুন - এজন্যেই তো ব্লগ একটি স্বাধীন প্লাটফর্ম।

তখনকার যুগে মেডিকেল এভিডেন্স বলে কিছু ছিলনা। তাই ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে কেবল সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহৃত হত। ইসলামে যেহেতু প্রযুক্তি ব্যভারে কোন বাধা নেই - তাই এখনকার দিনে সাক্ষ্য প্রমাণের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যভার হয়। আইন আগের মতই আছে - কেবল প্রয়োগ প্রক্রিয়া সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে।

বাবা-মেয়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হল ইসলাম ফার্স্ট (বাবা-মা) ও সেকেন্ড (ভাই বোন ও বাবা মায়ের ভাই বোন, গ্রান্ড প্যারেন্টস) ব্লাডের সমস্ত আত্মীয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক হারাম করছে। কেউ যদি সেই হারাম কাজে লিপ্ত হয়, সে আল্লাহ্‌র আদেশকে অস্বীকার করার মাধ্যমে আল্লাহকে অস্বীকার করল। তাই তার এই দুনিয়াতে থাকার কোন অধিকার থাকবেনা। যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (রজমের) মাধ্যমে তাকে দুনিয়া থেকে লাত্থি মেরে বের করে দিতে হবে।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৮

নতুন নকিব বলেছেন:



তখনকার যুগে মেডিকেল এভিডেন্স বলে কিছু ছিলনা। তাই ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে কেবল সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহৃত হত। ইসলামে যেহেতু প্রযুক্তি ব্যভারে কোন বাধা নেই - তাই এখনকার দিনে সাক্ষ্য প্রমাণের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যভার হয়। আইন আগের মতই আছে - কেবল প্রয়োগ প্রক্রিয়া সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে।

পুনরায় এসে গঠনমূলক সুন্দর মন্তব্যে অভিনন্দন।

অনেক অনেক শুভকামনা।

১৯| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৩২

এ আর ১৫ বলেছেন: ইসলাম ধর্মের বিধানমতে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য এই দু'টোর যেকোন একটি জরুরী- ১) সাক্ষ্য, ২) ধর্ষকের স্বীকারোক্তি।

--- ১) সাক্ষ্য
কয় জনের সাক্ষ্য ? -- চার জন মুসলিম পুরুষের চক্ষুস সাক্ষ্য
--- এবার বলুন কোন ধর্ষক কি ৪জনের মুসলিম পুরুষের সামনে সাক্ষী রেখে ধর্ষন করে ? তাহোলে কি ভাবে ধর্ষন প্রমাণ হবে ?

তবে সাক্ষ্য না পাওয়া গেলে আধুনিক ডিএনএ টেস্ট, সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত রেকর্ড, মোবাইলে ধারন করা ভিডিও, ধর্ষিতার বক্তব্য ইত্যাদি অনুযায়ী ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে স্বীকার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে। স্বীকারোক্তি পেলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করা হবে।
শরিয়া আইনে মূল শর্ত হিসাবে বলা হয়েছে ৪ জন এডাল্ট মুসলমান পুরুষের চক্ষুস সাক্ষী । আপনার কি ধারনা ক্যামেরার সামনে ধর্ষক ধর্ষন করবে ? ডিএনএ টেষ্টের শর্ততো শরিয়া কোর্ট বাতিল করেছে । ধর্ষক স্বীকারোক্তি দিবে --- এমন কথা চিন্তা করা কি অবান্তর নহে । পাকিস্তানের এক বিচারপতি ধর্ষন প্রমাণের জন্য ৪ জন পুরুষের চক্ষুস সাক্ষী শর্তকে বাতিল করার
পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে তাকে উগ্রবাদিরা হত্যা করে
এবার মনে করুন ধর্ষিতা মামলা করেছে ,তার সাথে অবৈধ ভাবে যৌনাচার করা হয়েছে কিন্তু ৪ জন চক্ষুস সাক্ষী আনতে পারলো না , সুতরাং ধর্ষন প্রমাণ হোল না এবং ধর্ষক সব কিছু অস্বীকার কোরলো ।
তখন কি হবে ? ধর্ষক খালাস পেয়ে যাবে কারন শর্ত গুলোপ্রমাণীত হয় নি তাই ।

ধর্ষিতার কি হবে ? ১০০টা চাবুকের মার কারন তার ধর্ষিতা হওয়ার অভিযোগকে ধর্ষন না বলে বিবাহ বহির্ভুত যৌনাচার বা ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি হিসাবে গণ্য হবে শরিয়া কোর্টে , তখন ধর্ষিতা শাস্তি পাবে ব্যভিচারের অভিযোগে ।

এবার বলুন কিভাবে ধর্ষন প্রতিরোধ করবে এই শরিয়া আইন । ধন্যবাদ

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



আরও আগেই আপনাকে আশা করেছিলুম।

এমন একটি মওকা বেহুদাই ছুটে যায় কি না, সেই শঙ্কায় ছিলুম। যাক, শেষ পর্যন্ত আপনি এসে রক্ষে!

যুক্তি কিন্তু দারুন দিয়েছেন। ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন না জানালে কার্পন্য হবে। আপনার এমন সুন্দর মন্তব্যের জবাব দিতে দেখি সহৃদয় কোনো আলেম কিংবা মুফতী ব্লগার (যদি ব্লগে থেকে থাকেন) এগিয়ে আসেন কি না। ইসলামী আইন বিষয়ে বিজ্ঞ এবং পারদর্শী অন্য যে কেউ আসতে চাইলেও আগাম স্বাগত।

আমি এগুলো নিয়ে অতটা ঘাটাঘাটি করিনি। মানে, প্রয়োজন হয়নি। তাই আমাকে উত্তর খুঁজে বের করতে সময় নিতে হবে। চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই।

ভালো থাকুন।

২০| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫

এ আর ১৫ বলেছেন: When a rape-case is caught or reported, “illegal sex” is proved either by testimony of the victim or physical evidences of bodily scars/bruises, torn cloths or pregnancy. Then the Sharia laws shown bellow come into force.
1. From Pakistan Hudud Law - Ordinance 1979. (Ordinance VII of 1979 amended by
Ordinance XX of 1980). Quote- "Proof of Zina (adultery) or Zina Bil-Jabr (rape)
liable to Hadd shall be one of the following:-
(a) The accused makes confession, or
(b) At least four Muslim adult male witnesses”. - Unquote.
2. From Codified Islami Law (“BidhiBoddho Islami Ain” - Islamic foundation
Bangladesh) Volume 1:-
(A) "Proof of adultery or rape liable to Hadd shall be one of the following:-
(a) The accused makes confession, or
(b) At least four Muslim adult male witnesses – Law#133.
1
(B) If force is proved, the rapist will be punished – Law#134.
(C) “Punishment will take place when zena or rape will be proved by witness” –
Law#135.
Sharia needs only one thing to punish the rapist, - eyewitness of four adult Muslim men.
Unbelievable it may seem, women’s witness is rejected, as in the references bellow:-
1. Hanafi Law-Page 353.
2. Shafi’i Law- page 638 Law#o.24.9
3. Criminal Law in Islam and the Muslim World –page 251
4. Tafsir of Translation of the Qura’an by Muhiuddin Khan pages 239 and 928.
5. Penal Law of Islam – Kazi Publications Lahore- page 44 – 45 – Quote - “The
evidence required in a case of adultery is that of four men (adult Muslims) and the testimony of a woman is such a case is not permitted………the evidence of women is originally inadmissible on account of their weakness of understanding, want of memory and incapacity of governing” – Unquote. Effort of addressing this embarrassment is in Codified Islamic Law (Bidhiboddho Islami Ain - Islamic foundation Bangladesh) Volume 1 page 311 with reference to Ata Ibn Yasar (RA), Hammad (RA) and Imam Hazm, a Spanish Palace-c of 15th century, - by allowing women-witness as half of man
ব্যাভিচার আর ধর্ষন কি এক জিনিস ? স্বেচ্ছায় যখন নারি পুরুষ অবৈধ্য ভাবে মেলামেশা করে তাকে বলে ব্যাভিচার আর নারির সম্মতি ছাড়া জোর করে নারির সাথে যৌন মিলন করাকে বলে ধর্ষন । এই দুটোকি এক জিনিস ? কোরানে ব্যাভিচার প্রমান করার জন্য চার জন পুরুষের চক্ষুস স্বাক্ষির কথা বলা হ্য়েছে -- নিসা-র ১৫ নম্বর আয়াত : − “ব্যাভিচারিণী নারীদের বিরুদ্ধে চারজন পুরুষকে সাক্ষী হিসাবে তলব কর।” ----- এটা হোল ধর্ষন মামলায় চার জন পুরুষের চক্ষুস সাক্ষী রাখার পটভুমি যার ফলাফল হয়েছে কোন ধর্ষন প্রমান করা যায় না এবং কোন মেয়ে যদি চার জন পুরুষের সাক্ষী আনতে না পারে তখন তাকে ব্যাভিচারের অভিযোগে চাবুক মারা হয় কারন তার ধর্ষন হওয়াটাকে তার যৌন মিলনের স্বীকারুক্তি হিসাবে ধরা হয় যা ব্যাভিচারের পর্যায় পরে, তাই তাকে চাবুক খেতে হয়( এখানে ৪ জন পুরুষের সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না কারন তার ধর্ষিতা হওয়াটার স্বীকারুক্তিকে ব্যাভিচারের স্বীকারুক্তি হিসাবে ধরা হয়। কোরানে চার জন পুরুষের শর্ত ব্যাভিচার প্রমান করার জন্য বলা হয়েছে সেই চার পুরুষের শর্ত ধর্ষনের ক্ষেত্রে প্রোয়গের ফলে ধর্ষকে শাস্তি দেওয়া যায় না ধর্ষিতাকে শুধু শাস্তি পেতে হয় । সেই কারনে সৌদি আরবে আপনি ধর্ষনের কোন কেস পাবেন না । সৌদি আরবে গৃহ পরিচারিকাদের উপরে যে যৌন নির্যাতন চলে তার কাহিণি এই ব্লগে বহু পাবেন ।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

নতুন নকিব বলেছেন:



আপাতত: আপনার মন্তব্যের উত্তরে আসা থেকে বিরত থাকলাম।

সময়মতো চেষ্টা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

২১| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০১

গড়ল বলেছেন: @উম্মু আব্দুল্লাহ, যে আইন স্বদেশি ও বিদেশি নারীর মধ্যে বিভেদ করে, যা সকল মানুষের অধিকার সমান ভাবে সুরক্ষা দিতে পারে না সেটা খোড়া বা অসম্পূর্ণ আইন যা বাতিল যোগ্য।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:০৬

নতুন নকিব বলেছেন:



যেহেতু প্রিয় ব্লগার উম্মু আব্দুল্লাহকে লিখেছেন। আশা করি, তিনি সময় সুযোগমত আপনার মন্তব্য দেখে থাকবেন এবং উত্তরে আসবেন। পোস্টদাতা হিসেবে আমিও একটু প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই আপনার এই মন্তব্যে-

সুন্দর বলেছেন। ধন্যবাদ। এমন আইনকে আইন বলার যুক্তি নেই। তা সউদি আরবের হোক আর আমেরিকার হোক। এমন হীন, অথর্ব আইন নামের স্বার্থান্বেষীদের বানানো তথাকথিত নিয়ম ইসলাম ধর্মের ধারে কাছে নেই। এগুলোকে ঘৃনা জানাতেও রুচিতে বাধে।

মানুষে মানুষে যারা বিভেদ বৈষম্য তৈরি করে তারা নিকৃষ্ট মানুষের উদাহরন।

ধন্যবাদ।

২২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

মা.হাসান বলেছেন: ধর্মিয় পোস্টে কমেন্ট করা থেকে সাধারনত বিরত থাকি কারন এটা বিতর্ক তৈরি করে এবং অনেকেই এমন কমেন্ট করে থাকেন যার দ্বারা পারলৌকিক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

যারা ইসলামের বিরোধিতা করে আনন্দ পান তাদের জন্য সুখবর, এই পোস্টে লেখক স্বীকার করেছেন নবী (সা: ) এর সময়েও ধর্ষন ছিল। অর্থাৎ পর্দা বা ইসলামিক অনুশাসন অপরাধ নির্মূল করতে পারে না।
সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রয়োজন মান সম্পন্ন আইন, নীতিবান আইন প্রয়োগকারি কর্মকর্তা (পুলিশ) ও নীতিবান বিচারক (কাজি, ম্যাজিস্ট্রেট, জাজ)। পুলিশ বা কাজি নীতি বিবর্জিত হলে সুষ্ঠু বিচার সম্ভব না, কোরানের আইন থাকুক বা না থাকুক সব ক্ষেত্রেই এটা সত্য। পক্ষান্তরে পুলিশ ও বিচার বিভাগ দুর্নিতিমুক্ত হলে বিচার আইনানুগ হয়ে থাকে; সুষ্ঠু হয় কি না তা নির্ভর করবে আইনের মানের উপর। যারা কোরানের শাসন চান তাদের কাছে অন্য সব আইন ভুল। দুর্নিতিবাজ পুলিশ ও কাজিরদ্বারা সম্পন্ন কোরানিক বিচার উত্তম না কুফরি আইনের বিচার যেখানে পুলিশ ও আদালত নীতির দ্বারা পরিচালিত এর বিচার উত্তম এই বিষয়ের বিতর্কে আমি যাবো না।
যুদ্ধকালিন বা বিপৎকালিন বিশেষ আদালত ছাড়া সব আদালতের ক্ষেত্রে বিচারের মূলনীতি হলো ১০০ জন অপরাধি ছাড়া পাক কিন্তু এক জন নিরপরাধিও যেন সাজা না পায়। ইসলামিক বিচার ব্যবস্থা এর ব্যতিক্রম না। এখানে উল্লেখ্য, ইসলামের আদালতের কাছে প্রত্যাশা সু্ষ্ঠু বিচার, ন্যায় বিচার না। দুটি বিষয় এক না। যেমন একজন লোক ১০০টা খুন করলেও তাকে এক বার মৃত্যু দন্ড দেয়া যাবে, ১টা খুনের শাস্তিও এক। এটা ন্যায় বিচার না। ন্যায় বিচারের মালিক আল্লাহ। ইসলামী শরিয়ায়, মানুষ যখন বিচারক হিসাবে কাজ করে তার দায়িত্ব আল্লাহর বিধান অনুসারে ফয়সালা করা। কোনো কোনো দেশ দাবি করে সখানে শরিয়া আদালত আছে বা পার্শিয়াল শরিয়া আদলত আছে। বাস্তবে ঐ সব আদালতে যা রায় দেয়া হয় তা থেকে যদি অনুমান করি শরিয়ত এরকম তবে তা ভুল হবে। শরিয়তের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করতে চাইলে নবী (সা: ) এর সময়, খোলাফায়ে রাশেদার (রা: )সময় এবং উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ: ) (ওনাকে ২য় উমর ও বলা হয়) এর সময়ে যে বিচার কার্য পরিচালিত হয়েছে তার ভুল খোঁজার চেষ্টা করুন। সুন্নি মুসলমান গন এই বিষয়ে একমত যে ঐ ৫ জন খলিফা ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন এবং তাদের কাজ (এবং অবশ্যই নবী সা: এর কাজ) রেফারেন্স হিসাবে নেয়া যাবে। অন্যদের বিষয়ে এই রায় নেই।
ইসলামি আইন কি অপরিবর্তনশিল?
না
প্রমান?
উমর (রা: ) বৃদ্ধ কাফেরদের জিজিয়া ট্যাক্স মউকুফ করেছেন।
আরো বলা যায়, ইসলামের প্রথম যুগে মুসলমানেদের উপর শুধু জাকাত ফরজ ছিল। বর্তমান যুগে সরকার পয়ো:সুবিধা দেয়, কাজেই এই বিষয়ে ট্যাক্স নিতে পারে। একথা বলা যাবে না যে নবী পয়োট্যাক্স নেন নি কাজেই তা হারাম।
মেডিক্যাল এভিডেন্স ইসলামিক আইনে নেয়া যাবে কি না? এ বিষয়ে আলাপকালে একজন ইরাকি শেখ কে আমি বলেছিলাম যে যেহেতু নবী (সা: ) এর সময়ে এটা ছিল না কাজেই তা নেয়া ঠিক হবে না। তিনি আমাকে অন্য ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেন যে নবী (সা: ) এর সময়ে দুজনের বিরুদ্ধে ব্যাভিচারের অভিযোগ আসার পর অভিযোগকারি সাক্ষী উত্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা কনফেস না করে অস্বিকার করায় অভিযোগ খারিজ করে দেয়া হয়। (সাধারনত এই রকম ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বামি বা স্ত্রীর কাছ থেকেই অভিযোগ আসতো, অভিযোগ প্রমান না হলে স্বামি-স্ত্রী লেয়ান বা অভিসম্পাত করে পরস্পর করে আলাদা হয়ে যাবে, তার কোন অবস্থায় আর বিয়ের বন্ধনে ফিরতে পারবে না)। অভিযুক্ত মহিলা পরবর্তিতে সন্তান জন্ম দেন এবং সন্তান বড় হলে তার চেহারার সাথে অভিযুক্ত পুরুষের মিল থাকায় নবিজি (সা: ) বড় ব্যথা পেয়ে মন্তব্য করেন যে তারা তো স্বীকার করতে পারতো। (হাদিসের বর্ননায় কম বেশি হলে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই)। এই বর্ননা থেকে বোঝা যায় জেনেটিক বা মেডিক্যাল এভিডেন্স ইসলামি আদালতে গ্রহনযোগ্য- এই ছিল শেখের মন্তব্য।
আইনের মূলনীতি অপরাধির সাজা ও নিরপরাধির হয়রানি না হওয়া নিশ্চিত করা। এজন্য বিচারক যা প্রয়োজন তা বিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য যে প্রচলিত আইনে মেডিক্যাল এভিডেন্স গ্রহনযোগ্য হলেও অধিকাংশ ধর্ষিতা ধর্ষনের পর গোসল করে ফেলায় আলামত অনেক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিচার পাওয়া যায় না। কাজেই ধর্ষন হলেই যে মেডিক্যাল এভিডেন্স থাকবে এই ধারনা সবসময় কাজ করে না।
ইসলামি খেলাফতের ক্ষেত্রে, ৫ খলিফার পরের প্রায় সকল সময়েই ক্ষমতাশালীরা বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে।ধর্ষনের বিচার চাইলে ব্যাভিচারের শাস্তি দেবার ঘটনাই যে শুধু ঘটে তা না, বরং ব্যাভিচারের বিচারে ধর্ষনের শাস্তিও দেয়ার ঘটনাও খুজে পাওয়া যায়। আজ থেকে ৩৫-৪০ বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যারা ছিলেন তাদের একাধিক ব্যক্তির কাছে শোনা, মালিকের স্ত্রীকে খুশি করতে, স্বেচ্চায় বা বাধ্য হয়ে অনেক প্রবাসিকেই ঐসব মহিলাদের শয্যা সঙ্গি হতে হয়েছে। ধরা পড়লে মহিলারা ধর্ষনের অভিযোগ আনলে পুরুষকেই শাস্তি পেতে হয়েছে।
আইনপ্রয়োগকারী ও বাস্তবায়নকারীরা সৎ না হলে কোন আইনই মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। আমরা যারা মুসলমান তারা বিশ্বাস করি ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তির জন্য ইসলামি আইন সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য। আল্লাহ সবাইকে স্বাধীনতা দিয়েছেন যা খুশি বিশ্বাস করার জন্য।

সাক্ষির অভাবে ধর্ষন প্রমান না করা গেলে একই কারনে ব্যাভিচারও প্রমানিত না, কাজেই ১৯ নম্বর মন্তব্যে মন্তব্যকারি যা বলেছেন আইনের ব্যাখ্যায় তা গ্রহনযোগ্য না।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:০৫

নতুন নকিব বলেছেন:



অনেক সুন্দর বলেছেন। আপনার মন্তব্য মনযোগ দিয়ে পড়েছি। দীর্ঘ সুচিন্তিত মতামত রেখে যাওয়ায় কৃতজ্ঞতা।

ভালো থাকুন সবসময়।

২৩| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৪২

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: "এ আর ১৫ বলেছেন: ইসলাম ধর্মের বিধানমতে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য এই দু'টোর যেকোন একটি জরুরী- ১) সাক্ষ্য, ২) ধর্ষকের স্বীকারোক্তি।

--- ১) সাক্ষ্য
কয় জনের সাক্ষ্য ? -- চার জন মুসলিম পুরুষের চক্ষুস সাক্ষ্য
--- এবার বলুন কোন ধর্ষক কি ৪জনের মুসলিম পুরুষের সামনে সাক্ষী রেখে ধর্ষন করে ? তাহোলে কি ভাবে ধর্ষন প্রমাণ হবে ?"

এ আর ১৫, আপনি হুদুদ আইনকে রেফার করেছেন। হুদুদ আইনে ডিএনএ টেস্ট কিংবা গর্ভধারন কোন প্রমান নয়। চার জনের সাক্ষ্য অথবা স্বীকারোক্তি প্রয়োজন। এটা ফিক্সড। সেজন্য হুদুদকে বলা হয় নির্ধারিত শাস্তি। হযরত আলী (রা) নিজেও বলেছেন "যতদূর সম্ভব হুদুদ প্রতোরোধ কর।" আমি নিজেও হুদুদ আইনে সে কারনে বেশী বিচার করার পক্ষপাতী নই। ইরানের বিচার ব্যবস্থাকে আমি সে কারনে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা করেছি।

ধর্ষনের বিচার হওয়া উচিত তাজির বা সাধারন দন্ডবিধি আইনে। হুদুদ আইনে যেখানে শাস্তি সাক্ষ্য সবই ফিক্সড, সেখানে তাজির আইনে সবই ভেরিয়েবল। তাই তাজির আইনেই ধর্ষনের বিচার হওয়া উচিত। সেখানে কারো সাক্ষ্য ছাড়াই দন্ড আরোপ করা যায় যদি অপরাধ প্রমান হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রেও অপরাধ প্রমান হতে হবে। সেই অপরাধ প্রমানের দায়ভারের গুরু অংশটুকু রাষ্ট্রের কাধে বর্তায়।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:০৬

নতুন নকিব বলেছেন:



আবারও কমেন্টে আসায় কৃতজ্ঞতা।

ভালো থাকুন নিরন্তর।

২৪| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:২৪

এ আর ১৫ বলেছেন: To comment no 23 .... Rape case will go under hudud law ...If you are against Hudud law then you are against sharia law . Hanafi law. Maleki law etc came after Hazrat Ali ( R) then how he was against hudud law ....
-
- এবারে বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ১ম খণ্ড ধারা ১৯-এর খ ও পৃষ্ঠা ৪২ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:-
"যেসব অপরাধকর্মের শাস্তি সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত কেবল সেগুলিই হদ্দের আওতাভুক্ত হইবে"।
"অপরাধের শ্রেণীবিভাগ - শাস্তির দিক হইতে অপরাধ নিম্নোক্ত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত।
(ক) হদ্দ-এর আওতাভুক্ত অপরাধ: যেসব অপরাধের জন্য হদ্দ নির্ধারণ করা হইয়াছে। যেনা, যেনার অপবাদ, মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, বিদ্রোহ ও ধর্মত্যাগের অপরাধ এই শ্রেণীভুক্ত।
(খ) কিসাস ও দিয়াতের আওতাভুক্ত অপরাধ: যেসব অপরাধের জন্য কিসাস (মৃত্যুদণ্ড বা অঙ্গহানী) অথবা দিয়াত (রক্তপণ) নির্ধারণ করা হইয়াছে। কবলে আমদ, কবলে শিবহি আমদ, কতলে খাতা এবং ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনোন দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধনের অপরাধসমূহ এই শ্রেণীভুক্ত।
(গ) তাযীরের আওতাভুক্ত অপরাধ: যেসব অপরাধের জন্য তাযীরের ব্যবস্থা করা হইয়াছে। উপধারা ক ও খ-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ ব্যতীত অন্য সব অপরাধ এই শ্রেণীভুক্ত। এই শ্রেণীভুক্ত অপরাধের শাস্তি কুরআন ও সুন্নায় নির্ধারণ করা হয় নাই, বরং শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের উপর ন্যস্ত করা হইয়াছে"- উদ্ধৃতি শেষ।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:০৮

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। আপনার অভিমতকে সম্মান করি, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনার সাথে সহমত পোষন করার সুযোগ থাকে না। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।

ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.