নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

বহুমাত্রিক প্রতারণায় বিপর্যস্ত জনজীবন; বাঁচতে হলে লোভ সংবরণ ও সচেতনতার বিকল্প নেই

৩১ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৪১

ছবিঃ গুগল হতে সংগৃহিত

বহুমাত্রিক প্রতারণায় বিপর্যস্ত জনজীবন; বাঁচতে হলে লোভ সংবরণ ও সচেতনতার বিকল্প নেই

গত ০৭/০৭/২০২২ ইং তাারিখ +৮৮০১৯৪৩৩০৩২৬৯ নাম্বার থেকে এক ব্যক্তি জনৈক অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাকে কল দেন। ফোনকলে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। নামের শুরুতে প্রফেসর উপাধি ব্যবহারকারী উক্ত ব্যক্তি ফোনে বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদানের প্রলোভন দেখান। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তার পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে অনেক তথ্য জেনে নেন। ছেলে মেয়ে বা নাতী নাতনীসহ পরিবারের সদস্য কতজন, বর্তমানে কে কোথায় আছেন, পড়াশোনা করছেন কে কে এবং কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন ইত্যাদি অনেক তথ্য জেনে নেয়ার চেষ্টা করেন প্রফেসর পরিচয়দানকারী শিক্ষা বোর্ডের তথাকথিত উক্ত কর্মকর্তা। একপর্যায়ে উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা নিজের বিকাশ একাউন্ট না থাকার কথা জানালে আত্মীয় স্বজন কিংবা আশেপাশের কারও বিকাশ নাম্বার দিতে বলেন সেই ব্যক্তি।

বিকাশে উপবৃত্তি দেয়ার নামে প্রতারকরা মোবাইল ফোনে যে মেসেজ পাঠিয়েছে তার নমুনা-

''প্রিয় শিক্ষার্থী!Coronavirus (COVID-19) এর কারণে তোমাদের উপবৃত্তির ৪,২০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। টাকা গ্রহনের জন্য নিম্নোক্ত শিক্ষাবোর্ডের নম্বরে যোগাযোগ করুন।
মোবাঃ 01825138999 অথবা
গোপন নম্বরঃ১৯৫৮
শিক্ষামন্ত্রী যোগাযোগের সময় সকাল 930 টা থেকে রাত 9 টা পযন্ত''

কিছুক্ষণ পরে তার সাথে উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তার একজন নিকটাত্মীয় অন্য একটি নাম্বার থেকে ফোন করে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জন্য ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের নামে একাউন্ট থাকা সত্বেও তা বিকাশে কেন দেয়া হবে - এমন প্রশ্ন করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে ওঠেন এবং হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। বেশি পন্ডিতি দেখানো ভালো না, বেশি বুঝতে গেলে সমস্যা হয় - ইত্যাদি অবান্তর কথাবার্তা বলে একপর্যায়ে দেখে নেয়ার ভয় দেখিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।

উপরে বর্ণিত ঘটনাটিকে আপাত দৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা মনে হলেও এটি আসলে নিছকই বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়; বরং বর্তমান সময়ের বাস্তবতা হিসেবেই এই জাতীয় ঘটনাগুলোকে স্বীকার না করার উপায় নেই। বলা যায়, এই ধরণের ঘটনা এখন অহরহ ঘটে চলেছে। যেসব প্রতারণার জালে আমাদের দেশের সাধারণ জনগণকে প্রতিনিয়ত অধিক পরিমানে আটকে যেতে দেখা যায়- এই ঘটনাটি তারই অবিকল প্রতিচ্ছবি। দেশে এমন কোন পরিসংখ্যান যদি করা যেত যে, বিকাশ বা এই জাতীয় মোবাইল আর্থিক সেবাগুলো ব্যবহার করে কতজন মানুষ প্রতারিত হয়েছেন, তাহলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু কে করবে সেই কাজ? কে কাঁধে তুলে নিতে যাবে ঝামেলাপূর্ণ এই দায়িত্ব? টাকা গেলে তো যায় সাধারণ মানুষেরই। সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা প্রতারকদের উদরে চলে গেলে তাতে ক্ষতি কার কি? আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এই পরিসংখ্যান করেই বা লাভ কতটুকু হবে, সেটাও একটি প্রশ্ন। কারণ, বহুমাত্রিক প্রতারণার সুবিশাল জাল বিভিন্ন চক্র সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে পেতে রেখেছে, তা একেবারে ছিন্ন করার হিম্মত কার? যদিও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীকে প্রতারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রায়ই আমরা পদক্ষেপ নিতে দেখি। কিন্তু যে হারে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হয়ে চলেছে সাধারণ মানুষ, সেই তুলনায় কতজন প্রতারক তাদের হাতে ধরা পড়ছেন? কতজনকেই বা আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে? তা ছাড়া, যারা প্রতারিত হয়ে থাকেন, তাদের অতি অল্প সংখ্যক লোকই আইনের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে বিকাশ বা এইজাতীয় ছোটখাট প্রতারণার ঘটনা বলা চলে, মানুষের এখন প্রায় গা সওয়ার মত হয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন, ৫/১০ হাজার টাকা হারিয়েছি তো হারিয়েছিই, এর জন্য কে আবার যাবে থানা পুলিশ কোর্ট কাছারি করতে? বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় এগুলো নিয়ে আইন আদালতে যাওয়াকে বরং অনেক মানুষ এখনও নতুন করে আরেক হয়রানিতে নিপতিত হওয়া বলেই মনে করে থাকেন।

চোর গুন্ডারাও এখন ধর্মের লেবাসেঃ

ইতিপূর্বে জ্বিনের বাদশাহদের দৌরত্ব আমরা কমবেশি অনেকেই দেখেছি। রাত আড়াইটা/ তিনটার সময় মোবাইলে ফোন করে ভারী গলায় 'কিরে ঘুমাচ্ছিস? ওঠ্ নামাজ পড়্, তাহাজ্জুদের সময় এখন, আমি জ্বিনের বাদশাহ বলছি, তোর কপাল ভালো' ইত্যাকার নানারূপ আকর্ষনীয়, অদ্ভূত ও উদ্ভট কথাবার্তা দিয়ে আলাপ শুরু করা দু'একজনের সাথে বাক্যালাপ করার সৌভাগ্য(!) কালেভদ্রে আমাদের অনেকেরই কমবেশি হয়েছে। প্রতারণা যে এখন কত ধরণের, কত সিস্টেমের তার ইয়ত্তা নেই। যেনতেন কথা না, সাধারণ কোন জ্বিন না, তিনি জ্বিনের বাদশাহ। তার উপরে আবার যে সে ধরণের সাদামাটা কিছিমের বাদশাহও না। বহুত নেককার এবং পরহেজগার বাদশাহও বটেন।(!) তা না হলে কি গভীর রাতে নিজের আরামের ঘুম হারাম করে অতি নগন্য মৃত্তিকা সৃষ্ট এইসব বনি আদমদের তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন? ও আচ্ছা, জ্বিনেরা রাতে ঘুমায় তো! যাক, না ঘুমালেও সমস্যা নেই। তাহাজ্জুদের কথা অন্ততঃ মনে তো করিয়ে দেয়! সেটাই বা কম কিসে? এমন নিঃস্বার্থ দরবেশই বা এখন ক'জন পাওয়া যায়? আত্মকেন্দ্রিকতা আর আপন স্বার্থপরতায় অধিকাংশ লোকের যখন হা হতোম্মি দশা, এই যুগে কে কার খবর কতটুকু নেয়? তাহাজ্জুদে ডেকে দেয়া তো আরও দূরের বিষয়?

কথায় কথা মনে পড়ে। মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রহ. -এর কোন একটি বইয়ে সম্ভবতঃ ঘটনাটি এসেছে। মুআবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুর নিয়মিত তাহাজ্জুদে ওঠার অভ্যাস ছিল। কোন এক রাতে তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না পারায় সে রাতের তাহাজ্জুদ তার পড়ার ছুটে যায়। এর ফলে পরের দিনটি তিনি আফসোস, অস্থিরতা আর কান্নাকাটিতে কাটিয়ে দেন। শয়তান এ অবস্থা দেখে পরের রাতে এসে তাকে জাগিয়ে দেয়। মুআবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু তার পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে যে, আমি শয়তান। আশ্চর্যান্বিত হয়ে শয়তানকে তিনি বললেন যে, তোমার কাজ তো মানুষকে নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা। তুমি আমাকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগালে কেন? শয়তান যারপরনাই হতাশ হয়ে বললো যে, দেখুন, গতকাল আপনার যাতে ঘুম না ভাঙে সেই চেষ্টা করে আপনাকে আরাম দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং তার ফলে আপনি ঠিকই তাহাজ্জুদ পড়তে পারেননি। কিন্তু পরের দিনটি আফসোস আর কান্নাকাটিতে কাটিয়ে দেয়ায় তাহাজ্জুদ পড়ে যে সাওয়াব লাভ করতেন, তার চেয়েও অধিক মর্যাদা লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আজ আবারও যেন সেই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই জন্য আগেভাগে ডেকে দিতে আসলাম।

শয়তান কর্তৃক মুআবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুকে তাহাজ্জুদে ডেকে দেয়ার উদ্দেশ্য ও কারণ যেমন ভিন্ন, একইরকমভাবে এইসব জ্বিনের বাদশাহ নামধারী প্রতারকদের ভারিক্কি গলায় গভীর রাতের এসব ফোনকলে তাহাজ্জুদের কথা মনে করিয়ে দেয়ার পেছনেও থাকে অন্য মতলব, আলাদা ফন্দি ফিকির এবং বিশেষ কায়দা কানূনে অন্যের অর্থ সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার ধান্ধাবাজি। তবে আশ্চর্য্যজনকভাবে একটি দিক থেকে এই দুই ক্ষেত্রে চমৎকার সাযুজ্য রয়েছে। দুইটিই শয়তান। একটি অরিজিনাল শয়তান। দ্বিতীয়টি মনুষ্য প্রজাতির শয়তান। মানব জাতির মধ্যেও যে শয়তান থাকে তার প্রমান স্বয়ং কুরআনুল কারিমেই রয়েছে। সর্বশেষ সূরা নাস এ 'জ্বিন ও মানুষের ভেতর হতে খান্নাস' অর্থাৎ, শয়তান শ্রেণির ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। মানুষের ভেতরেও খান্নাস অর্থাৎ, শয়তান থাকার ব্যাখ্যা মুসনাদে আহমদ এবং নাসায়ীতে বর্ণিত একটি হাদিসেও পাওয়া যায়। সে হাদিসে এসেছে-

আবু যর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আমি রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আবূ যর, নামাজ পড়েছো কি? আমি বললাম, না পড়িনি। তিনি বললেন, ওঠো, নামাজ পড়ো। নির্দেশমত নামাজ পড়ে তাঁর খেদমতে এসে বসলাম। তখন নবী কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আবূ যর! মানুষ শয়তান ও জ্বিন শয়তান হতে আল্লাহ তাআ'লার নিকট আশ্রয় চাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যেও শয়তান হয় না কি? নবী কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, মানুষের মধ্যেও শয়তান হয়। -মুসনাদে আহমদ এবং নাসায়ী

জীবনেও ছিনতাইকারীর কবলে পড়েননি, এমন কাউকে পাওয়া যাবে?

ঢাকায় যারা বসবাস করেন তাদের অনেকেরই জানা আছে, রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় এখনও ছিনতাইকারীদের উৎপাত রীতিমত বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের হাতে খুনখারাবির মত ঘটনাও সাম্প্রতিককালে কম নয়। ছিনতাইয়ে বাধা দিলেই ঘটে বিপত্তি। ছুরি বা চাকু দিয়ে আঘাত করা থেকে শুরু করে বড় ধরণের দুর্ঘটনা অহরহই ঘটতে দেখা যায়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব ছিনতাইকারীদেরও রয়েছে বিভিন্ন দল ও গ্রুপ। রয়েছে তাদের ছিনতাই কাজের নানান কিছিমের ধরণ ও পদ্ধতি। প্রসঙ্গতঃ রাজধানী ঢাকায় এমনই একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয় চলতি ২০২২ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে। একটি কোম্পানির পারচেজ অফিসার হিসেবে কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি কোম্পানির কিছু মালামাল কিনতে ঢাকার নবাবপুর যান। অবশ্য সপ্তাহে বেশ কয়েক দিনই কোম্পানির বিভিন্ন মালামাল কিনতে নবাবপুর তাকে যেতে হয়। তো ঘটনার দিন প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের পরে তিনি একটি রিক্সায় সেগুলো তুলে নিজেও রিক্সায় উঠে বসেন। গন্তব্য কোম্পানির অফিস, বাডডা। জয়কালি মন্দির পেরিয়ে বঙ্গভবনের দিকে যাওয়ার লিঙ্করোডে আসতেই রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামিয়ে বললেন, ভাই একটু নামেন, রিক্সার চাকায় সমস্যা হয়েছে। ঠেলে নিয়ে সামনে গিয়ে ঠিক করাতে হবে। রিক্সাওয়ালার কথা বিশ্বাস করে ভদ্রলোক রিক্সা থেকে নেমে গেলেন এবং রিক্সার পেছন দিকটা ধরে ধরে সামনে চলতে লাগলেন। বঙ্গভবনের দক্ষিণ পাশে সংযোগ সড়কে অর্থাৎ, তিন রাস্তার মোড়ে আসামাত্রই গুলিস্তানগামী রাস্তার বিপরীত (উত্তর) পাশ থেকে হেটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। কোকাকোলার একটি মুখ খোলা বোতল তার হাতে। তা থেকে তিনি পান করছিলেন আর পথ চলছিলেন। লোকটি অনেকটা দৌঁড়ে এসে রিক্সা ধরে ধরে হাটতে থাকা ভদ্রলোকের গায়ে সজোরে এমনভাবে ধাক্কা দিলেন যে, ধাক্কার টাল সামলাতে না পেরে তিনি পড়ে গেলেন এবং তার হাত থেকে রিক্সাটিও ছুটে গেল। ধাক্কা দেয়া লোকটির হাত থেকে কোকের বোতলটিও রাস্তায় ছিটকে পড়ে গেল। তড়িঘড়ি করে উঠে তিনি যখনই রিক্সার পেছনে ছুটতে যাবেন, যাতে রিক্সাটা হারিয়ে না যায়, ঠিক তখনই তাকে বেশ শক্তভাবে জাপটে ধরলেন ধাক্কা দেয়া সেই লোকটি। জাপটে ধরেছেন তো ধরেছেনই। কোনোভাবেই আর ছাড়ছেন না। না ছেড়ে উল্টো তাকে অভিযুক্ত করে বলছেন যে, আপনি আমার কোক ফেলে দিলেন কেন? 'আপনি কোক ফেলে দিলেন কেন?' এই একই কথা বারংবার আওড়ে যাচ্ছিলেন ভদ্রলোক। বলা বাহুল্য তার উদ্দেশ্য, কালক্ষেপন করা, যাতে রিক্সাটা নিয়ে রিক্সাওয়ালা ব্যাটা সটকে পড়তে পারে। তিনি তার উদ্দেশ্যে সফলও হয়েছেন। কারণ, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে তিনি ঠিকই দেখলেন যে, ততক্ষনে রিক্সাটি আর আশেপাশে কোথাও নেই। নিরুপায় হয়ে প্রতিকারের আশায় কাছাকাছি স্থানে দায়িত্বপালনরত পুলিশের কাছে গিয়ে উল্টো তার দু'চার কথা শুনে আসতে হয়েছে। কাছাকাছি দু'টি থানায় গিয়েও তার সামান্য পরিমান লাভ হয়নি। কারণ, প্রথমতঃ নিকটস্থ থানায় গেলে তাকে বলা হয় অন্য থানায় যেতে। পরে পার্শ্ববর্তী অন্য থানায় গিয়ে তিনি জিডি করতে চাইলে তাকে বলা হয়, এই ঘটনায় জিডি নেয়া যাবে না, তাকে বলা হয় মামলা করতে। উপরন্তু তার কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও এই বিষয়ে সামনে আনার জন্য তাকে বলা হয়।

অবস্থা দৃষ্টে প্রতিকারপ্রাপ্তির পরিবর্তে উল্টো নতুন করে যাতে কোন ধরণের হয়রানিতে পড়তে না হয় সে জন্য জিডি কিংবা মামলা কোনটাতেই না গিয়ে শেষমেষ ফিরে যেতেই বাধ্য হন তিনি এবং খোয়া যাওয়া প্রায় লাখ টাকার মালামালের পুরোটাই এর ওর কাছ থেকে ধার দেনা করে নিজেই কিনে অফিসে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। নিজের অফিসে বিষয়টি না জানানোর যুক্তি হিসেবে তার বক্তব্য, ইতোপূর্বে কোম্পানির দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিনতাই বা চুরির কবলে পড়ে তার অফিসের অন্য একাধিক লোকও একইভাবে কিছু মালামাল বিভিন্ন সময়ে হারিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে অফিসে কথা বলে তারা কোন ধরণের সহযোগিতা, সহমর্মিতা বা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় প্রত্যাশিত নূন্যতম ন্যায়ানুগ আচরণ পাননি। তাদের খোয় যাওয়া সেসব মালামালের ক্ষতিপূরণ বরং সম্পূর্ণরূপে তাদেরকেই বহন করতে হয়েছে। কোম্পানি এসবের কোন দায় গ্রহণ তো করেইনি বরং ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার কারণে তাদেরকে তিরষ্কারের মুখেও পড়তে হয়েছে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতেও পড়তে হয়েছে কাউকে কাউকে।

গুটিকয়েক লোককে আইনের আওতায় আনা হলেও অধিকাংশ প্রতারক থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরেইঃ

যা হোক, প্রতারণার পরিধি ও ব্যাপ্তি আজ আর নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন অফলাইন সবখানে এখন প্রতারণা। অনলাইনে অধিক ছাড়ে পণ্য কেনাকাটা করতে গিয়ে অর্থ খুইয়ে দিশেহারা অনেকেই। মাল্টিলেবেল মার্কেটিং বা বহুস্তর পণ্য বিপণনের নামেও দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে ব্যাপক নৈরাজ্য। ভদ্রবেশী সুটেট বুটেড প্রতারকদের অতি লোভের খপ্পড়ে তথাকথিত এসব মার্কেটিং কোম্পানি নামের সাইনবোর্ডের আড়ালে প্রতারকদের কাছে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যুবক, ডেসটিনিসহ প্রতারণায় যুক্ত গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এদের অধঃস্তন শিষ্য, শাগরেদ ও অনুগামী প্রশিক্ষিত হাজার হাজার সাঙ্গপাঙ্গ সারা দেশে নতুন নতুন নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে চলেছেন ঠিকঠিক ভাবেই। তারাও বিভিন্ন কৌশলে নামকাওয়াস্তে এইজাতীয় সেবামূলক(!) প্রতিষ্ঠান খুলে বহাল তবিয়তে প্রতারণার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। কথা হচ্ছে, এদের রুখবে কে? এই প্রবঞ্চকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্বটা মূলতঃ কাদের, সেটাই ভাবনার বিষয়। সাধারণ মানুষ তো প্রতারকচক্রের খপ্পড়ে পড়ে নিত্যই সর্বস্ব হারাচ্ছেন। সর্বশান্ত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষদের বাঁচানোর উপায় কি?

নামে বেনামে নিত্য নতুন প্রতারণার কৌশল ও ধরণঃ

বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ পাবলিক পরিবহনগুলোতে অজ্ঞান পার্টির দৌরত্ব এবং বাড় বাড়ন্তও ইদানিংকালে উদ্বেগজনকভাবে লক্ষনীয়। ছিনতাই পার্টি, টানা পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, মরিচ পার্টিসহ প্রতারণার অতি মহৎ(!) এসব কাজে কত যে দল উপদল এবং পার্টি রয়েছে তার হিসেব করাটাও এখন রীতিমত কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসে ওঠার পরে ভদ্রবেশী যে লোকটি আপনার পাশের আসনে এসে বসলেন, একটু পরে বাস চলতে শুরু করার পরে আপনি সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেই সে যে আপনাকে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে চম্পট দিবে না- এর নিশ্চয়তা কি আমাদের দেশে এখন আর আছে?

টানা পার্টি সগৌরবে টিকে আছেঃ

সড়কে চলন্ত অবস্থায় বাস, মাইক্রোবাস বা অন্যান্য গাড়ির জানালার পাশে বসা যাত্রীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছোঁ মেরে নিয়ে নেয়া, কানের দুল টেনে নিতে গিয়ে নারীদের কান ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়া এই সময়ে এসেও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ছিনতাইয়ের কাজে যুক্ত অপরাধীদের কাছে পুরনো এই পদ্ধতিটি এখনও আগেকার দিনের মত একইরকম উপাদেয় হয়েই রয়ে গেল কি না, কে জানে! সাধারণ মানুষ তো বটেই আমাদের দেশের স্বয়ং মন্ত্রীকেও চলতি পথে পড়তে হয় এই পরিস্থিতিতে! সশস্ত্র গানম্যান সাথে থাকার পরেও গাড়ীতে বসে থাকা মন্ত্রীর হাত থেকে তার দামী মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ছিনতাইকারী! ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশের অনেক স্থানেই এইজাতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা অধিক পরিমানে ঘটতে দেখা যায়। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে শুরু করে টঙ্গী পর্যন্ত রাস্তার একাধিক স্থানে এই ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে বলে পত্র পত্রিকায় সংবাদে জানা যায়। এর বাইরে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, খুলনাসহ অন্যান্য অনেক জেলা শহরে এই জাতীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটার সংবাদও পাওয়া যায়।

'শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই' তারা চাকরি দিতে চান!

আরেক প্রজাতির প্রতারক সক্রিয় দেশে। ভাবসাবে এদেরকে বেশ দরদি টাইপের লোক বলেই মনে হয়। এদের প্রচার-প্রচারণার ধরণ দেখে মনে করা খুবই স্বাভাবিক যে, এরা মানুষের কষ্ট আদৌ সইতেই পারেন না। সে কারণেই বেকার লোকদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার মত অতিব গুরুত্বপূর্ণ কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। দেশ থেকে বেকারত্ব দূরিকরণের মত অতি মহত কাজে যুক্ত থাকতে পারার চেয়ে উত্তম কাজ আর কী হতে পারে? হ্যাঁ, আকর্ষনীয় বেতনে সরকারি বেসরকারি অফিসে বাহারি চাকরির অফার দিয়ে থাকেন তারা। মাত্র এসএসসি বা এইচএসসি অথবা সমমান পাশ যে কেউ ১০,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে ২০,০০০/-, ২৫,০০০/- বা ৩০,০০০/- টাকা মাসিক বেতন পাবেন, এমন চমকপ্রদ ও অতি আকর্ষনীয় বেতন-ভাতাদির বিশাল প্রলোভনে এরা শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত যুবক শ্রেণিকে কুপোকাত করে ফেলেন খুব সহজেই। বাসের জানালার গ্লাসে, রাস্তার পাশের বিদ্যুতের পিলার থেকে শুরু করে কোথায় নেই এদের প্রচার লিফলেট? এদের হাজার হাজার লিফলেট সকলের নজর কাড়ে প্রতিনিয়ত। এদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে 'শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য' কথাটি সবসময়ই থাকে। এরা লোকজনকে চাকরি দিতে এতই আগ্রহী যে, পারলে 'শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য' এর স্থানে 'শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই' লিখতেও ছাড়তেন না। কিন্তু সেটি দিলে লোকজন সন্দেহ করতে পারেন এই চিন্তায়ই হয়তো তা করা থেকে বিরত থাকেন। এই প্রবঞ্চকদের অতি আকর্ষনীয় বেতনের অফার দেখে বিশ্বাস করে যারা তাদের খপ্পড়ে পড়েছেন, তারাই জানেন যে জীবনে অন্ধকার কিভাবে নেমে আসে। তাদের অফিস নামক নির্যাতন সেলে গেলেই কম্ম সারা। এই প্রতারকগণ টাকা পয়সা অনেক বেকার তরুন যুবকের কাছ থেকেই নেয়, জীবনও নিয়ে নেয় কারও কারও।

বাঁচতে হলে পরিহার করতে হবে লোভ, বৃদ্ধি করতে হবে সচেতনতাঃ

সমাজের স্তরে স্তরে এখন নিত্য নতুন প্রতারণার কৌশল। পথে-ঘাটে, হাটে-মাঠে কোথায় নেই এখন প্রতারকদের অবাধ বিচরণ? সমাজদেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে আছে প্রতারকদের নানান চক্র। ছদ্মবেশে ভদ্রলোকের চেহারায় ওৎ পেতে থাকা এসব চক্র নিত্য নতুন রূপ পাল্টায়। কখনও ছিনতাইকারী, কখনও ডাকাত, কখনও ধর্ষক, কখনও অপহরণকারী, কখনও বিকাশ হ্যাকার, কখনও মাল্টিলেবেল মার্কেটিং এর নাম ব্যবহার করে প্রতারণায় যুক্ত হয়ে থাকেন এরা। বহুমাত্রিক রূপপরিগ্রহকারী এই প্রতারকদেরকে চিহ্ণিত করা এখন সময়ের দাবি। এদের খপ্পড়ে পড়া থেকে সাধারণ মানুষদের বাঁচাতে হলে প্রথমেই আমাদের পরিহার করতে হবে লোভ। কোন কিছুতেই আজ আর আমাদের শুকরিয়া নেই। কোন কিছু প্রাপ্তিতে আমরা আজ 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতেও ভুলে গেছি। বেঁচে যে আছি, তার জন্যও সামান্য কৃতজ্ঞতা আমাদের অধিকাংশ লোকেরই নেই। সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরে নতুন একটি জীবন লাভ করলাম, অথচ একটিবার আল্লাহর কাছে এর জন্য শুকরিয়াও জানালাম না! কী অকৃত্জ্ঞ আমরা! এই যে নতুন সকাল, নতুন দিনের নতুন সূর্য, নতুন একটি সময় সর্বোপরি আমার জীবনে সুস্থ, সুন্দর এবং আনন্দময় নতুন একটি দিন - এগুলোর সব তো আজই প্রথম লাভ করলাম। গতরাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগেও তো এসব আমার জানা ছিল না। আমিও এই দিনের সাথে পরিচিত ছিলাম না। যিনি আমাকে এই দিনটির সাথে পরিচিত করালেন সেই রব্বে কারিমের জন্য রাতের আরামের নিদ্রা শেষে সকালবেলা জেগে ওঠার পরে একটিবার তাঁর শুকরিয়া করা উচিত নয় কি? আমরা এগুলো করি না, শুকুরগোজারি আর কৃতজ্ঞতা নেই বলেই আমাদের জীবনে আজ স্বস্তি ও স্থিরতাও নেই। বারাকাহ ও প্রাচুর্য্যও নেই। একটি প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেলে আমরা আরেকটি উপলক্ষ্য তৈরি করি। তার জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করি। নতুন পেরেশানিতে ফেলে দিই নিজেকে। অথচ এমনও দেখা যায় যে, এই কাজটিতে হাত না দিলেও আমার চলতো। আমাদের যা আছে আমরা আরও চাই। আরও চাই। চাওয়ার শেষ নেই। চাহিদার অন্ত নেই। প্রত্যাশার যেন আমাদের সীমা পরিসীমা নেই। এই অসীম অপরিসীম প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়েই আমরা ভুলে যাই বৈধ অবৈধ সকল কিছুর সীমা পরিসীমাও। মিস্টিমুখে কথা বলতে অভ্যস্ত প্রতারকদের চটকদার কথায় জড়িয়ে পড়ি তাদের খপ্পড়ে। তাদের মুখে মাল্টিলেবেল মার্কেটিং করে মাল্টি মিলিওনিয়ার আর বিলিওনিয়ার হওয়ার গল্প শুনি গভীর তন্ময়তায়। অতঃপর আগপাছ না ভেবে, সঠিকভাবে ইসলামী শরিয়তের মানদন্ডে সঠিকতা যাচাইবাছাই না করে একসময় আমরাও পা বাড়িয়ে দিই প্রতারণার এসব বাঁকা পথে।

দ্বিতীয়তঃ প্রয়োজন আমাদের সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সাবধানতা। প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে যাতে এই সচেতনতা কার্যক্রম জোরালো করা যায় সে জন্য সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে প্রতারকদের বিভিন্ন অপকৌশল সম্মন্ধে ধারণা দিতে হবে এবং তাদেরকে সজাগ করে তুলতে হবে। জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রতারণা আর দুর্ণীতির ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক পরিণাম ও পরিণতি জানিয়ে পুরো সমাজকে, পুরো দেশ ও জাতিকে সজাগ করে তুলতে হবে। সেটা করা সম্ভব হলেই এদের থেকে বাঁচার কিছুটা হলেও আশা অন্ততঃ করা যাবে। সর্বোপরি এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার টেকসই কোন উপায় চিন্তা করা যায় না।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:১৯

বিটপি বলেছেন: জ্বিনের বাদশাহ মানে কি? জ্বিনদের কি একজনই বাদশাহ? তাঁদের কি আলাদা আলাদা রাজ্য নেই? নাকি সবাই মিলে এক রাজ্যেই বসবাস করে? আর বাদশাহই যদি হয়, সে একজন সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করবে কেন? তাঁদের কোন অফসিয়াল প্রটোকল নেই? তার যদি যোগাযোগের দরকার পড়ে, সে মানুষের বাদশার সাহায্য নেবে।

৩১ শে আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৩৭

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বিনের বাদশাহ মানে জ্বিন জাতির বড় বা শক্তিশালী জ্বিন। জ্বিনদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা সময়সাপেক্ষ। সংক্ষেপে বললে, পাহাড়-পর্বত, নির্জন স্থান, গর্ত, নালা-নর্দমা এবং জঙ্গলাকীর্ণ নিভৃত দ্বীপ, সাগর ইত্যাদি স্থানগুলোই সাধারণতঃ জ্বিনদের আবাস। এরা সম্মিলিতভাবে গোত্রবদ্ধ হয়ে বসবাস করে, আবার বিচ্ছিন্নভাবেও থাকে। এরা বিভিন্ন প্রাণির রূপ পরিগ্রহ করতে পারে। কুকুর, সাপ বা এই জাতীয় অন্যান্য প্রাণির আকার ধারণ করা অনেক জ্বিন আমাদের সাথেই হয়তো বসবাস করে থাকে, যাদের পরিচয় সঠিকভাবে আমরা জানতে সক্ষম হই না।

আপনার প্রশ্ন অযৌক্তিক নয়, তবে ওদের সুসমন্বিত রাষ্ট্র কাঠামো, নির্দিষ্ট কোন ভূখন্ড বা এলাকা, নিজস্ব সভ্যতা ও স্বকীয় কৃষ্টি কালচার, শৃঙ্খলা এবং আধুনিক নিয়ম কানূনে পরিচালিত কোন পদ্ধতি রয়েছে কি না- এসব বিষয়ে আরও অবহিত হওয়া প্রয়োজন।

তবে একটি কথা, জ্বিনদের বাদশাহ সত্যি সত্যি বাস্তবে থাক আর না থাক, আমাদের দেশের প্রতারক চক্রগুলো মোবাইল ফোন আবিষ্কারের পর থেকে এ পর্যন্ত জ্বিনের বাদশাহ পরিচয়ে যেভাবে গভীর রাতে অসংখ্য মানুষের সাথে ফোনে কথা বলে এসেছে, তাতে করে একজন বা দু'জন নয়, অগণিত জ্বিনের বাদশাহর অস্তিত্ব মানুষের অন্তরে শক্তভাবে স্থান লাভ করেছে বলেই মনে হয়।

আপনার আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। আপনি এই বিষয়ে যাতে জানতে পারেন সে জন্য একটি তথ্য দিতে পারি। জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস নামে বিখ্যাত একটি গ্রন্থ রয়েছে আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহ. রচিত। জ্বিনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে, ইচ্ছে করলে বইটি পড়ে দেখতে পারেন। নিচের লিঙ্ক থেকে আশা করছি এটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন-

জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস

বইটি পাঠ করা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্তাকারে হলেও এই বিষয়ে আপনার একটি পোস্ট আশা করছি। প্রত্যাশা, আপনি পাঠ করবেন এবং অনুরোধ রাখতে চেষ্টা করবেন।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২| ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:০৩

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: অনলাইন, অফলাইন, মিডিয়া ইত্যাদি মাধ্যম থেকে যে সকল প্রতারণার খবর শুনতে পাই তাতে আমার স্বীকার করতেই হয় প্রতারণাটাকে সৃজনশীলতার এক উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে আমাদের দেশের প্রতারক চক্রগুলি। ইদানিং প্রতারণার বিভিন্ন আইডিয়া আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ইম্পোর্ট হচ্ছে অনলাইনের সুবাদে।

বেশ কিছু প্রতারণামূলক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝতে পারলাম তা হচ্ছে - অন্তত ৮০% / ৯০% ক্ষেত্রেই ভিকটিম নিজেই দায়ী। প্রতারকদের আর দোষ দেবো কি, তারা তো শুধু টোপ বা ফাঁদ ফেলে মাছ ধরার জন্য, বোকা মাছগুলোই তা গিলে থাকে বা সে ফাঁদ পা দেয়। আর এর মূল কারন; অসচেতনতা, ইনফরমেশনের অভাব আর লোভ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হয়তো, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধ করা যেতে পারে কিন্তু প্রতারণা কখোনই নয়। যতদিন পর্যন্ত দেশের মানুষ সচেতন না হবে, তথ্য সংকটে ভুগবে, এবং লোভকে সংবারণ না করবে ততদিন প্রতারণা চলতেই থাকবে। মানে আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের দেশটা প্রতারণার একটা উর্বর জায়গা।

৩১ শে আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৪৪

নতুন নকিব বলেছেন:



অনলাইন, অফলাইন, মিডিয়া ইত্যাদি মাধ্যম থেকে যে সকল প্রতারণার খবর শুনতে পাই তাতে আমার স্বীকার করতেই হয় প্রতারণাটাকে সৃজনশীলতার এক উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গেছে আমাদের দেশের প্রতারক চক্রগুলি। ইদানিং প্রতারণার বিভিন্ন আইডিয়া আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ইম্পোর্ট হচ্ছে অনলাইনের সুবাদে।

-আপনার সাথে সহমত। তবে আপনি তো তাদের এই বিশাল ত্যাগকে মূল্যায়ন করলেন বলে মনে হচ্ছে না। আচ্ছা, সমস্যা নেই, সেই কষ্টটুকু না হয় আমিই করে নিচ্ছি- প্রতারণাকে সৃজনশীলতার এক উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ায় আমাদের দেশের প্রতারক চক্রগুলিকে কৃতজ্ঞতার সাথে প্রাণঢালা অভিনন্দন। আফ্রিকার দেশগুলো থেকে ইম্পোর্ট করার জন্যও তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।

বেশ কিছু প্রতারণামূলক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে যা বুঝতে পারলাম তা হচ্ছে - অন্তত ৮০% / ৯০% ক্ষেত্রেই ভিকটিম নিজেই দায়ী। প্রতারকদের আর দোষ দেবো কি, তারা তো শুধু টোপ বা ফাঁদ ফেলে মাছ ধরার জন্য, বোকা মাছগুলোই তা গিলে থাকে বা সে ফাঁদ পা দেয়। আর এর মূল কারন; অসচেতনতা, ইনফরমেশনের অভাব আর লোভ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হয়তো, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধ করা যেতে পারে কিন্তু প্রতারণা কখোনই নয়। যতদিন পর্যন্ত দেশের মানুষ সচেতন না হবে, তথ্য সংকটে ভুগবে, এবং লোভকে সংবারণ না করবে ততদিন প্রতারণা চলতেই থাকবে। মানে আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের দেশটা প্রতারণার একটা উর্বর জায়গা।

-এককথায় চমৎকার বলেছেন। মনের কথাগুলোই বলে দিলেন। বাস্তবতা এমনটাই।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা।

৩| ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:০২

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: চারদিকে শুধু প্রতারণা আর প্রতারণা।

৩১ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:১৮

নতুন নকিব বলেছেন:



হ্যাঁ, অবস্থা দেখে তো তাই মনে হয়। নাম না জানা কবির লেখা ছড়ার নিচের লাইনগুলোই শুধু বারবার মাথার ভেতরে ঘুরপাক খায়-

প্রেমের ফাঁদ পাতা এ বিশ্ব ভূবনে,
কে কোথায় ধরা পড়ে, কে বা তা জানে!

এটাকে হয়তো এখন একটু ঘুরিয়ে এভাবে বললে অযৌক্তিক হবে না-

প্রতারণার ফাঁদ পাতা এ বিশ্ব ভূবনে,
কে কোথায় ধরা খায়, কে বা তা জানে!

ধন্যবাদ ও শুভকামনাসহ।

৪| ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২০

ক্যাঁচাল ভাই বলেছেন:
প্রতারিত হয়েই ব্লগ হতে দূরে আছেন বুঝি? =p~
বেশ অনেকদিন বাদে। তা আছেন কেমন?

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:২৭

নতুন নকিব বলেছেন:



তা আর বলতে হয়! আমাদের দেশের প্রতারণা তো এখন শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে প্রায়। নিত্য নতুন কায়দা কানূনে নিত্য নতুন উদ্ভাবনে প্রতারণায় নতুনত্ব আনয়নে আজ আমাদের জুরি কোথায়! কোথায় নেই এই জিনিষ, বলুন! ব্লগেও কেউ কেউ প্রতারিত হয়ে থাকেন বৈকি! তবে তার ধরণটা এখানে হয়তো একটু ভিন্ন হয়।

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনিও নিশ্চয়ই ভালো আছেন। শুভকামনা জানবেন।

৫| ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:১৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ সমসাময়িক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে
লেখার জন্য। আসলে প্রতরণার ক্ষপ্পর থেকে বাঁচতে হলে
সচেতনাতার কোন বিকল্প নাই।

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৩০

নতুন নকিব বলেছেন:



আসলে প্রতরণার ক্ষপ্পর থেকে বাঁচতে হলে
সচেতনাতার কোন বিকল্প নাই।


-জ্বি, সঠিক বলেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও। সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই এই লেখা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.